ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি পরিবহনপথে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করে। রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯৬ দশমিক ২৪ ডলারে ওঠে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। বর্তমানে ওই পথে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান সম্প্রতি ১০টি জাহাজে হামলার দাবি করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এসব পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হুথি হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুতও কমছে। রয়টার্সের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম রয়েছে। কিছু দেশ বিকল্প ও গোপন পরিবহনপথ ব্যবহার করে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখলেও সামগ্রিক সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (EIA) তাদের সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯১ ডলার হতে পারে। তবে এই পূর্বাভাসের হিসাব ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল। ফলে এরপর সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার প্রভাব এতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
EIA বলছে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে। বছরের শেষ পর্যন্ত মজুত কমতে থাকায় তেলের দাম তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ধীরে ধীরে বাড়বে—এমন প্রত্যাশাও করেছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বাধা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হয়ে তেলের দামে নতুন করে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (EIA)
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array