বাব আল-মানদাব ঘিরে হুতিদের তৎপরতা, বড় যুদ্ধের শঙ্কা
ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে বড় আকারের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে ইরান-সমর্থিত হুতিরা অগ্রসর হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। তাদের এই তৎপরতায় বাব আল-মানদাব প্রণালি ঘিরে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সরকার।
কাতারে নিযুক্ত ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূত ও সাবেক সরকারি মুখপাত্র রাজেহ বাদি বুধবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব দাবি করেন।
বাদির অভিযোগ, হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের পাশাপাশি সামুদ্রিক যোগাযোগপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোই এই অভিযানের লক্ষ্য বলে দাবি করেন তিনি।
ইয়েমেনি রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিরা তাইজ প্রদেশের আল-মাখা ও আল-ওয়াজিয়াহ এলাকায় অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের উপকূলঘেঁষা বিস্তৃত পাহাড়ি এলাকাতেও তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।
বাদির দাবি, এসব এলাকা ব্যবহার করে জাহাজে হামলা চালানো এবং লোহিত সাগরের নৌ চলাচল ব্যাহত করা হুতিদের অন্যতম লক্ষ্য।
হুতিদের অগ্রযাত্রার জবাবে ইয়েমেন সরকার আল-জাওফ, মারিব ও আল-বাইদা এলাকায় নতুন করে সামরিক ফ্রন্ট খুলেছে বলেও জানান বাদি। এর ফলে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাদি আরও দাবি করেন, ২০২১ সাল থেকে ইয়েমেন সরকার ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেনি। তার অভিযোগ, হুতিরাই নতুন করে সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছে এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামুদ্রিক যোগাযোগপথে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
হুতিদের তৎপরতার পেছনে ইরানের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ইয়েমেনি রাষ্ট্রদূত। তার দাবি, হুতিদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথে নিজেদের প্রভাব আরও বাড়াতে চাইছে তেহরান।
সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে এর প্রভাব ইয়েমেনের সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাদি। তার মতে, হুতিরা যদি লোহিত সাগরে সামুদ্রিক চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়, তাহলে পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালির সংকটের মতো রূপ নিতে পারে। তবে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাব প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই পথ দিয়ে জ্বালানি, খাদ্য ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা হয়।
ফলে এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে জাহাজ চলাচল, পণ্য পরিবহন ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তবে ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে হুতিদের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array