খুঁজুন
                               
, ,
           

হংকংয়ে পোশাকের বাইরে পাট-চামড়া-ফল রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
হংকংয়ে পোশাকের বাইরে পাট-চামড়া-ফল রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ

হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাজা ফল, পাট ও চামড়াজাত পণ্যসহ উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হংকং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সামিটের সাইডলাইনে হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এইচকেটিডিসি) নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪১৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ হংকং থেকে ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে এবং রপ্তানি করেছে ১০৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি সামান্য বেড়ে ১০৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সরাসরি প্রবেশ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

বৈঠকে আম, কাঁঠাল ও লেবুসহ বাংলাদেশের প্রিমিয়াম মানের তাজা ফল হংকংয়ের সুপারমার্কেট ও বড় আমদানিকারকদের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ ও ম্যাচমেকিং আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে ভর্তুকিযুক্ত বা বিনামূল্যে প্রদর্শনী স্টল, ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট অব অরিজিন চালু, শুল্ক প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং যৌথ শিপিং ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের আগ্রহও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হংকংকে দক্ষিণ চীন ও গ্রেটার বে এরিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।

এইচকেটিডিসির নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চং বাংলাদেশের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

বৈঠক শেষে এইচকেটিডিসির একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আকাশের ৭২ রানে ব্র্যাকের বিপক্ষে স্কলার্সের দাপট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
আকাশের ৭২ রানে ব্র্যাকের বিপক্ষে স্কলার্সের দাপট

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্কলার্স। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২১৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে দলটি। জবাবে স্কলার্সের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ব্র্যাক। ১৮.৫ ওভারে ১০৬ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। ফলে ১০৭ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্কলার্স।

আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসের পর প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল স্কলার্স। দুই ওপেনার আকাশ ও রাকিব আহমেদের ব্যাটে বড় সংগ্রহের ভিত পায় দলটি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ব্র্যাকের বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেন আকাশ। দলীয় ৯১ রানে আউট হওয়ার আগে মাত্র ২৮ বলে ৭২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ২৫৭.১৪ স্ট্রাইকরেটের এই ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং স্কলার্সকে দ্রুত বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেয়।অন্য প্রান্তে সমান কার্যকর ছিলেন রাকিব আহমেদ। তিনি ৪০ বলে ৬৩ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৫টি ছক্কা। দুই ওপেনারের অর্ধশতকে স্কলার্সের ব্যাটিংয়ে গতি আসে এবং বড় সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি হয়।

ব্র্যাকের হয়ে দেবজ্যোতি ও নাফিস দুটি করে উইকেট নেন। তবে তাঁদের বোলিং স্কলার্সের রানের গতি পুরোপুরি থামাতে পারেনি। নির্ধারিত ইনিংস শেষে ৬ উইকেটে ২১৫ রান সংগ্রহ করে স্কলার্স। ২১৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। স্কলার্সের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।দ্বিতীয় ওভারেই কোনো রান না করে ফিরে যান ওপেনার অয়ন। এরপর ৯ রান করে আউট হন আকাশ। দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া ব্র্যাকের বিপর্যয় আরও বাড়ে তাজওয়ার, অর্ক ও জারিফুলের বিদায়ে। তিনজনই শূন্য রানে ফেরেন, তাও মাত্র তিন বলের ব্যবধানে। এরপর রাফিন ২ রান করে আউট হলে মাত্র ৩৯ রানেই ষষ্ঠ উইকেট হারায় ব্র্যাক।

একপর্যায়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের শঙ্কা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে দলটির সামনে। স্কলার্সের বোলাররা লাইন-লেংথ ধরে রেখে ব্র্যাকের ব্যাটারদের স্বাভাবিক খেলায় বাধা দেন। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে দেবজ্যোতি ও রোহান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে তাঁদের এই প্রচেষ্টা দলকে বড় পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি।

রোহান ২৬ বলে ২৯ রান করে রানআউট হন। পরে দেবজ্যোতিও ২৬ বলে ৩২ রান করে একইভাবে রানআউটের শিকার হন। তাঁদের বিদায়ের পর ব্র্যাকের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার পথে এগোয়। আজমাইন শূন্য রানে বোল্ড হলে নবম উইকেট হারায় দলটি। এরপর ১৮.৫ ওভারে নাফিসের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ১০৬ রানে শেষ হয় ব্র্যাকের ইনিংস। স্কলার্সের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে মিতব্যয়ী ছিলেন মেহেদী। মাত্র ৩ রান খরচায় দুটি উইকেট নিয়ে ব্র্যাকের ব্যাটিং লাইনআপে চাপ তৈরি করেন তিনি। এ ছাড়া মিরাজ, আকাশ, রাকিব আহমেদ ও ইমরান একটি করে উইকেট পান। দুই ওপেনারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ এবং বোলারদের কার্যকর পারফরম্যান্স—দুই মিলিয়ে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে ব্র্যাকের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নেয় স্কলার্স।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

গুলশানের ‘কিংফিশার’ বারে গোপন বেজমেন্টে মিলল কোটি টাকার বিদেশি মদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
গুলশানের ‘কিংফিশার’ বারে গোপন বেজমেন্টে মিলল কোটি টাকার বিদেশি মদ!

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে ‘কিংফিশার’ বার ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৮২৭ লিটার বিদেশি মদ ও ৫৩৩ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়। রেস্তোরাঁটির ভেতরে মাছ ও স্টেকের বিজ্ঞাপনসংবলিত একটি বিলবোর্ডের আড়ালে পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত গোপন বেজমেন্টের সন্ধান পান কর্মকর্তারা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আইডিবি ভবনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভি আহমেদ। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে এসব মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়।

বিলবোর্ডের পেছনে গোপন কক্ষ, ছিল সিসিটিভি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা
অভিযান চলাকালে রেস্তোরাঁর দৃশ্যমান তাকগুলোতে গ্রাহকের সংখ্যার তুলনায় বেশি পরিমাণ মদ দেখতে পান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এতে সন্দেহ হলে রেস্তোরাঁর ভূগর্ভস্থ সিঁড়ি ও বারের ভেতরের অংশে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে সন্ধান মেলে একটি গোপন বেজমেন্টের।
বেজমেন্টে প্রবেশের দরজাটি মাছ ও স্টেকের বিজ্ঞাপনসংবলিত একটি বিলবোর্ড দিয়ে আড়াল করা ছিল। দরজাটি স্ক্রু দিয়ে আটকানো ছিল। সেখানে ছিল পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সিসিটিভি ক্যামেরা।

কর্মকর্তারা বিলবোর্ড সরিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করলে ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং অভিযানে অসহযোগিতা করেন বলে জানানো হয়। পরে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করে দরজা ভেঙে গোপন কক্ষে প্রবেশ করেন যৌথ অভিযানের কর্মকর্তারা।

জব্দ ৮২৭ লিটার বিদেশি মদ, বাজারমূল্য প্রায় চার কোটি টাকা
গোপন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ মদ উদ্ধার করা হয়। এসব মদ মজুতের পক্ষে সংশ্লিষ্টরা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
জব্দ করা মদের মধ্যে রয়েছে ভ্যাট ৬৯, চিভাস, ব্ল্যাক লেবেল, রেড লেবেল, জ্যাক ড্যানিয়েলস, গোল্ড লেবেল, রয়্যাল চ্যালেঞ্জ ও অ্যাবসলুট ভদকাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৮২৭ লিটার বিদেশি মদ। এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য চার কোটি ৯৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া হান্টারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৫৩৩ লিটার বিদেশি বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক রাজস্ব হিসাব অনুযায়ী, সব মিলিয়ে জব্দ করা মদ ও বিয়ারের চালানের আনুমানিক মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা।

এনবিআরের চার দপ্তরের যৌথ অভিযান
রিজভি আহমেদ জানান, গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাই করে এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর এনবিআরের নির্দেশে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে এনবিআরের চারটি দপ্তর—সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অভিযানে এসআরবিসহ প্রায় সাত থেকে আটটি নিরাপত্তা দল সার্বক্ষণিক সহায়তা দেয়।

রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, বৈধ আমদানি এবং শুল্ক-কর পরিশোধের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় জব্দ করা পণ্যের উৎস, আমদানি প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে বিদেশি মদ ও বিয়ার মজুত এবং এর মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনার মুস্তবা ইসতিয়াক আহমদ, মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক ইমাম গাজ্জালী, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের সহকারী পরিচালক মহিবউল ইসলাম এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী আল মাসুম।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি

জ্বালানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন তারেক রহমান

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
জ্বালানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন তারেক রহমান

দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেইসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জাইকা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও জাইকার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান বৃদ্ধিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব’, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠা, কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের জ্বালানি চাহিদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের মতো এবারও জাইকার কাছে বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়।

জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দুই দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি