খুঁজুন
                               
, ,
           

তিন মাসে দুই বিশ্বকাপ, স্পেনের হাতে আরও এক শিরোপা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
তিন মাসে দুই বিশ্বকাপ, স্পেনের হাতে আরও এক শিরোপা

একটা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আরেকটা—শিরোপার মঞ্চে যেন থামছেই না স্পেন। বয়সভিত্তিক ফুটবল থেকে শুরু করে সিনিয়র পর্যায়, ফিফার একের পর এক বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিচ্ছে দেশটির নারী ও পুরুষ দল। সর্বশেষ সেই তালিকায় যোগ হলো অনূর্ধ্ব–২০ নারী বিশ্বকাপের শিরোপা।

রোববার রাতে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ফাইনালে উত্তর কোরিয়াকে টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে হারিয়ে অনূর্ধ্ব–২০ নারী বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দল গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে স্পেনের গোলকিপার লাইয়া লোপেজের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে শিরোপা নিশ্চিত হয়।

টাইব্রেকারে নায়ক লাইয়া লোপেজ

ফাইনালের ১২০ মিনিটে দুই দলের কেউই গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই বেড়েছে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত শিরোপা নির্ধারণে দুই দলকে যেতে হয় টাইব্রেকারে।

সেখানে স্পেনের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গোলকিপার লাইয়া লোপেজ। তার নৈপুণ্যে ৪–৩ ব্যবধানে উত্তর কোরিয়াকে হারিয়ে ট্রফি নিশ্চিত করে স্পেন।

ফাইনালের ১২০ মিনিটে গোল না হলেও টাইব্রেকারের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল নাটকীয়। শেষ শটের পরই উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেনের খেলোয়াড়েরা। অন্যদিকে হতাশায় মাঠ ছাড়তে হয় উত্তর কোরিয়ার মেয়েদের।

অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় শিরোপা

এই জয় স্পেনের জন্য অনূর্ধ্ব–২০ নারী বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা। এর আগে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।

তবে শুধু অনূর্ধ্ব–২০ পর্যায়েই নয়, বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলেও গত কয়েক বছরে স্পেনের আধিপত্য স্পষ্ট। ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব–২০ নারী বিশ্বকাপ জেতার একই বছরে অনূর্ধ্ব–১৭ নারী বিশ্বকাপও জিতেছিল স্পেন।

এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে, সিনিয়র নারী বিশ্বকাপের ট্রফিও নিজেদের করে নেয় স্পেন।

অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে অনূর্ধ্ব–১৭, অনূর্ধ্ব–২০ এবং সিনিয়র—নারী ফুটবলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়ে স্পেন।

যে ট্রফিটা হাতছাড়া হয়েছিল

স্পেনের সামনে ২০২৪ সালে আরও বিরল একটি কীর্তি গড়ার সুযোগ এসেছিল। অনূর্ধ্ব–১৭ নারী বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারলে নারী ফুটবলের সব ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিই তাদের দখলে চলে আসত।

কিন্তু সেই আসরের ফাইনালে উত্তর কোরিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায় স্পেন। ফলে অধরা থেকে যায় সেই কীর্তি।

দুই বছর পর সেই উত্তর কোরিয়াকেই আবার ফাইনালে পেল স্পেন। এবার অবশ্য গল্পটা হয়েছে পুরোপুরি ভিন্ন। আবারও ম্যাচ গড়িয়েছে টাইব্রেকারে, কিন্তু এবার জয় পেয়েছে স্পেনই।

তিন মাসে দুই বিশ্বকাপ

স্পেনের সাম্প্রতিক সাফল্যের আরেকটি চমকপ্রদ দিক হলো সময়ের ব্যবধান। মাত্র তিন মাসের মধ্যে দুটি ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছে দেশটি।

জুলাইয়ে নিউ জার্সিতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সিনিয়র পুরুষ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল স্পেন। সেই শিরোপার উৎসব শেষ হওয়ার আগেই এবার পোল্যান্ডে অনূর্ধ্ব–২০ নারী বিশ্বকাপের ট্রফিও উঠল স্পেনের হাতে।

ফলে সিনিয়র পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরও এখন স্পেনের দখলে।

বয়সভিত্তিক ফুটবলেও স্পেনের আধিপত্য

স্পেনের এই সাফল্যকে শুধু একটি টুর্নামেন্টের জয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা ফুটবল কাঠামোর ফল হিসেবেও এই ধারাবাহিক সাফল্যকে দেখা হচ্ছে।

অনূর্ধ্ব–১৭ থেকে অনূর্ধ্ব–২০ হয়ে সিনিয়র পর্যায়ে খেলোয়াড় উঠে আসার পথটি স্পেনের নারী ফুটবলে বেশ কার্যকরভাবে কাজ করছে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় দলের পর্যায়েও সাফল্যের ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।

২০২২ সালে অনূর্ধ্ব–১৭ ও অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপ জয়, ২০২৩ সালে সিনিয়র নারী বিশ্বকাপ জয় এবং এবার আবার অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপ—সব মিলিয়ে গত কয়েক বছরে স্পেনের নারী ফুটবলের সাফল্যের তালিকা বেশ সমৃদ্ধ।

একই প্রতিপক্ষ, বদলে গেল ফল

এই ফাইনালের আরেকটি বিশেষত্ব উত্তর কোরিয়া। ২০২৪ সালে যে দল স্পেনের স্বপ্ন ভেঙেছিল টাইব্রেকারে, এবার সেই দলকেই একই পদ্ধতিতে হারিয়ে ট্রফি জিতেছে স্পেন।

ফলে আগের হতাশার এক ধরনের জবাবও যেন দেওয়া হলো মাঠেই। তবে ম্যাচের ১২০ মিনিটে দুই দলের কেউ গোল করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে টাইব্রেকারে।

সেখানে নিজেদের স্নায়ু ধরে রেখে গুরুত্বপূর্ণ শটগুলো কাজে লাগিয়েছে স্পেন। গোলকিপার লাইয়া লোপেজের পারফরম্যান্সও হয়ে উঠেছে শিরোপা জয়ের অন্যতম বড় কারণ।

থামছে না স্পেনের শিরোপাযাত্রা

সিনিয়র থেকে বয়সভিত্তিক—ফিফার বিশ্বকাপ মঞ্চে স্পেনের সাফল্যের তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। একদিকে সিনিয়র পুরুষ দলের বিশ্বকাপ জয়, অন্যদিকে নারী ফুটবলের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ধারাবাহিক শিরোপা—সব মিলিয়ে স্পেনের ফুটবলে এখন চলছে সাফল্যের সময়।

আর এবার উত্তর কোরিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে অনূর্ধ্ব–২০ নারী বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে সেই তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি ট্রফি।

এক বিশ্বকাপের উৎসব শেষ হওয়ার আগেই আরেক বিশ্বকাপের শিরোপা—স্পেনের ফুটবলে যেন এখন এটাই নতুন বাস্তবতা।

কালের আলো/জেএন

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নিষিদ্ধ হচ্ছে মদ-জুয়া ও বেটিংয়ের বিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নিষিদ্ধ হচ্ছে মদ-জুয়া ও বেটিংয়ের বিল

শরিয়াহসম্মত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট সেবা চালুর লক্ষ্যে ‘ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মদ, জুয়া, নাইটক্লাবসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ খাতে লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ (আইবিআরপিডি) থেকে জারি করা সার্কুলারে নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে সার্কুলারটি পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ইসলামি ব্যাংকিং সেবা দেওয়া যেকোনো তফসিলি ব্যাংক টাকায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডুয়াল কারেন্সি কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদিত ডিলার হতে হবে।

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নগদ উত্তোলন বা বিলম্বে পরিশোধযোগ্য দায় ‘কার্দে হাসান’ বা সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে। গ্রাহককে কেবল মূল অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ব্যাংক কার্ড ইস্যু, নেটওয়ার্ক সুবিধা, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের মতো নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ‘উজরাহ’ বা সেবা ফি নিতে পারবে।

তবে এসব ফি বকেয়া স্থিতি, ক্রেডিট সীমা কিংবা বিলম্বের সময়ের সঙ্গে বাড়ানো যাবে না। প্রচলিত সুদের হারের সঙ্গেও কোনো ফি যুক্ত করা যাবে না।

নীতিমালায় ব্যাংকগুলোকে ফি ও চার্জ তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঋণের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু ফিতে মুনাফার উপাদান থাকতে পারবে। অন্যদিকে ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত ফি কেবল প্রকৃত প্রত্যক্ষ ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বকেয়া স্থিতি, বিলম্বের সময় বা ক্রেডিট সীমার ভিত্তিতে বাড়ে—এমন ফি নেওয়া যাবে না।

গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে চুক্তির সময় নির্ধারিত একটি অর্থ দান হিসেবে দেওয়ার অঙ্গীকার করতে পারবেন। এ অর্থ ব্যাংকের আয় হিসেবে দেখানো যাবে না; পুরো অর্থই দাতব্য খাতে দিতে হবে।

এ ছাড়া মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্যবহারের মাধ্যমে অনুমোদন পর্যায়েই নিষিদ্ধ খাতের লেনদেন বন্ধ করতে হবে। নীতিমালায় মদ ও মদজাতীয় পণ্য, জুয়া ও ক্যাসিনো, বেটিং, নাইটক্লাব ও বার, তামাকজাত পণ্য, শুকরের মাংস ও অ-হালাল মাংস, অশ্লীল কনটেন্ট, ক্রিপ্টো ট্রেডিং, জ্যোতিষ ও ভাগ্য গণনার মতো খাতকে নিষিদ্ধ তালিকায় রাখা হয়েছে।

এই তালিকা অন্তত বছরে একবার পর্যালোচনা করতে হবে। কোনো ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির (এসএসসি) আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন

তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন আলোচনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে সফরের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশ নতুন করে সফরের সময়সূচি নির্ধারণে আলোচনা করছে। আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে আলোচনা আরও গতি পেতে পারে।

তবে সফরটি শেষ পর্যন্ত হবে কি না, তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। সেটি হলো ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের জন্মদিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানানো এবং মোদির দ্রুত জবাব দেওয়ার ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক যোগাযোগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে সম্ভাব্য সফরের তারিখ দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

এদিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকায় সাম্প্রতিক সফর নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর তার ঢাকায় আসার খবর প্রকাশ পেলেও ভারত বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি।

নতুন বাংলাদেশি হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়ামের নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণকেও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নভেম্বরের সম্ভাব্য সফরটি শেষ পর্যন্ত কোন তারিখে এবং কী কর্মসূচিতে হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর প্রাণহানি, পাশাপাশি চিতায় দাহ

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর প্রাণহানি, পাশাপাশি চিতায় দাহ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রীরও মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে তিনি রেললাইনে গিয়ে প্রাণ হারান। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে। মৃত দম্পতি হলেন—মালিগাঁও গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্যবালা বর্মণ। হরেন্দ্রনাথ স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। তার স্ত্রী নিত্যবালাও স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত ধর্মীয় কাজে যুক্ত থাকতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ। স্বামীর মৃত্যুর পর নিত্যবালা গভীরভাবে শোকাহত হয়ে পড়েন। তিনি দীর্ঘ সময় স্বামীর মরদেহের পাশে বসে ছিলেন।

ভোরের দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান নিত্যবালা। সকালে তাকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা মালিগাঁও এলাকায় রেললাইনের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের ধারণা, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পারিবারিক শ্মশানে হরেন্দ্রনাথ ও নিত্যবালার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পাশাপাশি দুটি চিতায় সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

হরেন্দ্রনাথের ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তার মৃত্যুর পর মা সারা রাত বাবার শিয়রে বসে কেঁদেছেন। সকালে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে রেললাইনে তার মরদেহ পাওয়া যায়।’

প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে ওই দম্পতির মধ্যে গভীর ভালোবাসা ছিল। স্বামীর মৃত্যুর শোক নিত্যবালা সহ্য করতে পারেননি বলে ধারণা করছেন তারা।

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানানোর আগেই মরদেহের সৎকার সম্পন্ন করেছেন। রেললাইনে মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি