খুঁজুন
                               
, ,
           

কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ কোথায়?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ  বাংলাদেশ কোথায়?

সাত বছরের মাহিদা আক্তার স্কুলে যাওয়ার বয়সী শিশু। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে তাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত মিলেছে; অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। একই দিনে বাগেরহাটের মোল্লাহাটে সাত বছরের মুসলিমা খাতুনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। এর আগে জামালপুরের মাদারগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিল সাত বছরের মরিয়ম বুশরা।

  • ধর্ষণ-হত্যা-নিখোঁজের ধারাবাহিকতায় ভেঙে পড়ছে সুরক্ষার বলয়
  • প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও রয়ে যাচ্ছে নীরব সহিংসতার বড় অংশ
  • পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সুরক্ষার প্রতিটি স্তরে প্রশ্ন

তিন দিন পর উদ্ধার হয় তার মরদেহ। পুলিশ বলেছে, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে মরদেহ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ঘটনাগুলো আলাদা জেলার, আলাদা পরিবারের। কিন্তু নির্মমতার ধরন প্রায় একই। ভুক্তভোগী শিশু। বয়স সাত। আর তিন ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার স্বাভাবিক বলয় ভেঙে গেছে। প্রশ্নটি তাই ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে—কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ জায়গা কোথায়?

পরিসংখ্যানের আড়ালে শিশুর মুখ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত অন্তত ১১৮ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর কিংবা ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে ১৭ জনকে। শুধু আগস্টেই ৩৬ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অন্তত পাঁচ কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার খবর প্রকাশিত হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিভিন্ন ঘটনায় ৩৬ কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছে।

পরিসংখ্যানগুলো অবশ্য পুরো চিত্র নয়। কারণ এসব তথ্যের বড় অংশই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনা কিংবা সংগৃহীত অভিযোগের ওপর নির্ভরশীল। পরিবার, সামাজিক চাপ, ভয়, প্রভাবশালীদের হুমকি কিংবা ‘সম্মান’ রক্ষার মানসিকতায় অনেক ঘটনা প্রকাশই পায় না। ফলে প্রকাশিত সংখ্যার বাইরে থাকা নীরব সহিংসতার পরিমাণ কত—তার নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই।

নিখোঁজ মানেই নতুন আশঙ্কা
কন্যাশিশুদের নিরাপত্তার সংকট শুধু ধর্ষণ বা হত্যায় সীমাবদ্ধ নয়। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও পরিবারগুলোর জন্য তৈরি করছে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা। মুনঅ্যালার্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সক্রিয় ২৫৪টি নিখোঁজ অ্যালার্টের মধ্যে ৩৭টি কন্যাশিশুর। তাদের পরিবার এখনো অপেক্ষায়। কারও সন্ধান মিলবে কি না, তারা জীবিত আছে কি না—এই অনিশ্চয়তাই হয়ে উঠেছে স্বজনদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে সাত বছরের এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর পরিত্যক্ত ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ বলেছে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল। নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছর বয়সী আমেনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয় ফসলের ক্ষেত থেকে। এসব ঘটনা দেখায়, নিখোঁজের প্রতিটি অভিযোগকে শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করা কতটা জরুরি।

অপরাধের বয়স কমছে, নিরাপত্তা বাড়ছে না
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা, যৌন নিপীড়ন, দৈহিক নির্যাতন, আঘাত, অঙ্গহানি এবং ধর্ষণের পর হত্যার মতো অপরাধ ঘটছে। ভুক্তভোগীদের বয়স পাঁচ থেকে ১৫-১৬ বছর পর্যন্ত। অর্থাৎ যে বয়সে শিশুর প্রধান নিরাপত্তা বলয় হওয়ার কথা পরিবার, স্কুল ও সমাজ—সেই বয়সেই তারা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার লক্ষ্য হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু তদন্তে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, মোবাইলে রিলস ও উত্তেজক কনটেন্ট দেখার প্রবণতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আচরণগত নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি বিকৃত মানসিকতা ও অপরাধপ্রবণতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কোনো প্রযুক্তি বা কনটেন্টকে একক কারণ হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতা বোঝা যাবে না। অপরাধের দায় শেষ পর্যন্ত অপরাধীরই। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষা, সামাজিক পরিবেশ, অনলাইন নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতাগুলোও আলাদা করে দেখতে হবে।

২০২৫-এর চিত্রও ছিল ভয়াবহ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের হিসাব বলছে, ২০২৫ সালে ধর্ষণের শিকার ৭৮৬ জনের মধ্যে ৫৪৩ জনই কন্যাশিশু। ওই বছর ১৭৯ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়, যার মধ্যে ১০৪ জন কন্যাশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩১ জনকে—তাদের মধ্যে ১৮ জন কন্যাশিশু।

একই সময়ে ১৮৮ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন; তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জন কন্যাশিশু। যৌন নিপীড়নের শিকার ১৬৯ জনের ১১২ জনই কন্যাশিশু। সাইবার সহিংসতার শিকারও হয়েছে ছয় কন্যাশিশু। এক বছরের তথ্যই দেখিয়ে দেয়, এটি বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধের ধারাবাহিকতা নয়। বরং শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার একাধিক ধরন একই সঙ্গে সক্রিয়।

নীরবতাই অপরাধীর শক্তি
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. মাখদুমা নার্গিসের মতে, কন্যাশিশু নির্যাতন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর ভাষায়, যৌন সহিংসতার পাশাপাশি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেও শিশুরা হত্যা ও নিখোঁজের শিকার হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক নীরবতা, ভিকটিম ব্লেমিং, প্রভাবশালীদের চাপ এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে।

এই বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—প্রকাশিত ঘটনা আর প্রকৃত ঘটনার মধ্যে ব্যবধান। কোনো শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর পরিবার যদি মামলা করতে ভয় পায়, স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চাপ আসে কিংবা সামাজিক লজ্জার ভয়ে ঘটনা গোপন থাকে, তাহলে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়ে।

নিরাপত্তা শুধু আইনে নয়, প্রয়োগে
কন্যাশিশু সুরক্ষায় দেশে আইন আছে। কিন্তু আইন থাকা আর তার দ্রুত ও কার্যকর প্রয়োগ এক বিষয় নয়। একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ষণের অভিযোগে দ্রুত চিকিৎসা, আলামত সংরক্ষণ, শিশুবান্ধব জিজ্ঞাসাবাদ এবং নির্ভরযোগ্য তদন্ত জরুরি। বিচারপ্রক্রিয়াও হতে হবে দ্রুত ও ভুক্তভোগীবান্ধব।

একই সঙ্গে স্কুল, পাড়া-মহল্লা ও অনলাইন পরিসরে শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা দরকার। অভিভাবকের সচেতনতা যেমন জরুরি, তেমনি শিশুদেরও শেখাতে হবে কোথায়, কীভাবে এবং কার কাছে বিপদের কথা জানাতে হবে। মাহিদা, মুসলিমা, বুশরা কিংবা নিখোঁজ ৩৭ কন্যাশিশু—তাঁরা কোনো পরিসংখ্যানের সংখ্যা নন। প্রত্যেকের ছিল পরিবার, স্বপ্ন, স্কুল, বন্ধুত্ব আর ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পরিবারের নয়। রাষ্ট্র যদি শিশুর জন্য নিরাপদ পথ, নিরাপদ প্রতিষ্ঠান ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে ‘শিশু সুরক্ষা’ শব্দটি কাগজেই থেকে যাবে।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

৫০ মিনিটের ব্যবধানে পূজা চেরীর দুই স্ট্যাটাস

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
৫০ মিনিটের ব্যবধানে পূজা চেরীর দুই স্ট্যাটাস

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই নিজের নানা মুহূর্তের ছবি ও অনুভূতি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরী। এবার মাত্র ৫০ মিনিটের ব্যবধানে দেওয়া দুটি স্ট্যাটাস ঘিরে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। স্ট্যাটাস দুটির সঙ্গে বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করেছেন তিনি। ছবিগুলোতে কমলা রঙের পোশাকে মোহনীয় রূপে দেখা গেছে তাকে।

প্রথম স্ট্যাটাসে পূজা চেরী নিজের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি লেখেন, তিনি যতটা কোমল হয়ে উঠেছেন, ততটাই নিজেকে শক্তিশালী অনুভব করেছেন। স্ট্যাটাসটির ভাষায় নিজের ভেতরের পরিবর্তন ও মানসিক দৃঢ়তার একটি বার্তা ফুটে ওঠে।

এর প্রায় ৫০ মিনিট পর আবারও একটি স্ট্যাটাস দেন এই অভিনেত্রী। সেখানে তিনি লেখেন, ‘প্রতিটি পরিবর্তন প্রকাশ্যে ঘটে না; কিছু পরিবর্তন হাসির আড়ালেই নীরবে ঘটে যায়।’ তার এই কথাতেও নিজের ভেতরের পরিবর্তন ও অনুভূতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

দুটি স্ট্যাটাসের সঙ্গে প্রকাশ করা ছবিতেও ছিল পূজার ভিন্ন এক উপস্থিতি। কমলা রঙের পোশাকে তাকে দেখা যায় মায়াবতী ও মোহনীয় সাজে। কখনো ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে, আবার কখনো অন্যদিকে দৃষ্টি রেখে বিভিন্ন ভঙ্গিতে পোজ দিয়েছেন তিনি। ছবিগুলো প্রকাশের পর ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

পূজার পরপর দেওয়া দুই স্ট্যাটাসের ভাষায় আত্মপরিবর্তন, কোমলতা ও নিজের ভেতরের শক্তির ইঙ্গিত থাকলেও এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের কথা জানাননি অভিনেত্রী। ফলে তার বক্তব্যের প্রকৃত কারণ নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে বর্তমানে উৎসবের আমেজে সময় কাটাচ্ছেন পূজা চেরী। শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে আনন্দ-উৎসব। এর মধ্যেই অভিনেত্রীর নতুন ছবি ও রহস্যময় দুই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে তৈরি করেছে বাড়তি কৌতূহল।

কালের আলো/এসএ

সেরা সাংবাদিকের সম্মাননা পেলেন বাংলানিউজের ৫ সাংবাদিকসহ ১৭ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
সেরা সাংবাদিকের সম্মাননা পেলেন বাংলানিউজের ৫ সাংবাদিকসহ ১৭ জন

বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের ছয়টি গণমাধ্যমের ১৭ সাংবাদিককে ‘জুন ২০২৬-এর সেরা সাংবাদিক’ সম্মাননা দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত সাংবাদিকদের হাতে সম্মাননা স্মারক, প্রশংসাপত্র ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও এবিজির চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী এবং ডিএমডি ও হেড অব এ অ্যান্ড এফ ইমরুল হাসান।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে পুরস্কার পেয়েছেন স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ইলিয়াস সরকার, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ইকরাম-উদ-দৌলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট (স্পোর্টস) আবির রহমান, সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট জিএম মুজিবুর এবং চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মিজানুর রহমান।

কালের কণ্ঠের তিন সাংবাদিক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের তিন সাংবাদিক, ডেইলি সানের তিন সাংবাদিক, নিউজ২৪-এর একজন এবং টি স্পোর্টসের একজন সাংবাদিকও এ সম্মাননা পেয়েছেন।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা, অর্থনীতি, প্রবাসী সেবা, প্রযুক্তি ও সামাজিক সমস্যাবিষয়ক প্রতিবেদন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা গণমাধ্যমের মানোন্নয়ন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং পাঠকের আস্থা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী বলেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা আরও বাড়াতে হবে। সাংবাদিকদের মানসম্মত প্রতিবেদন প্রকাশে উৎসাহিত করতেই এ সম্মাননা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি মাসে নির্বাচিত সাংবাদিকদের অর্থ পুরস্কার ও প্রশংসাপত্র দেওয়া হবে।

বসুন্ধরা গ্রুপের ডিএমডি ইমরুল হাসান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে মানসম্মত প্রতিবেদন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের প্রতিবেদন যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর সম্পাদক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী ও মানসম্মত প্রতিবেদন প্রকাশে উৎসাহিত করতে এ সম্মাননা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ভুল পথে হাঁটলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিরোধিতা করা হবে: গোলাম পরওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
ভুল পথে হাঁটলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিরোধিতা করা হবে: গোলাম পরওয়ার

সরকারকে ভুল পথে না হাঁটার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সরকারের ভালো কাজে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে। তবে কোনো ভুল বা দেশবিরোধী কাজ হলে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিকভাবে তার বিরোধিতা করা হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে মেজর (অব.) বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ দলের কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলে মন্তব্য করছেন। দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে ছিল। চারদলীয় জোট, ১৮ দলীয় জোট ও ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন আন্দোলনেও দুই দল একসঙ্গে রাজপথে ছিল। সে সময় জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলা হয়নি।

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের সময়ও জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনে দুই দল একসঙ্গে অংশ নিয়েছে। তাই সেই রাজনৈতিক ইতিহাস ভুলে গিয়ে জামায়াতকে নতুন করে বিভিন্ন আখ্যা দেওয়ার বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করছে।

তিনি বলেন, জামায়াতকে ১৯৭১ সালের বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হলে এর প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দরের ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়েছে এবং রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি মামলা প্রত্যাহার, রিমান্ড বাতিল ও আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবি জানান।

বিমানবন্দরের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা নাগরিকের অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। লাগেজ, পানি ও ট্রলি না পাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যায় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া অপরাধ হতে পারে না।

আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরানো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তিনি কোনো দুর্ধর্ষ অপরাধী নন; নিজ বাসা থেকেই পুলিশের সঙ্গে এসেছেন। তাই তাকে কেন হেলমেট পরানো হয়েছে, তার জবাব দিতে হবে।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনসহ দলের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট ও মৎস্য ভবন প্রদক্ষিণ করে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি