খুঁজুন
                               
, ,
           

জাল-প্লাস্টিকের ফাঁসে হুমকিতে লেম্বুরবনের জীববৈচিত্র্য

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
জাল-প্লাস্টিকের ফাঁসে হুমকিতে লেম্বুরবনের জীববৈচিত্র্য

কুয়াকাটার লেম্বুরবন সৈকতে সমুদ্রভাঙনের পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালের দূষণ নতুন সংকট তৈরি করেছে। সৈকতের পাশে থাকা গাছগুলোর শিকড় ও কাণ্ডে জড়িয়ে আছে ছেঁড়া জাল ও নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য। এতে একদিকে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে উপকূলীয় ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য।

সমুদ্রের ঢেউ ও স্রোতের টানে লেম্বুরবন সৈকতের বালু সরে যাওয়ায় অনেক গাছের শিকড় উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এসব শিকড়ের ফাঁকে আটকে থাকা প্লাস্টিক ও জালের স্তূপ এবং কাণ্ডে জড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত জাল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয় জেলে সোহেল মাঝি জানান, মাছ ধরার সময় জাল ছিঁড়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে অনেক সময় তা সমুদ্রে থেকে যায়। আবার নৌকা থেকে ফেরার পর ছেঁড়া জাল সৈকত বা আশপাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে রাখার ঘটনাও ঘটে। নির্দিষ্ট স্থানে জাল ও জালের বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা থাকলে জেলেরা সেখানে এসব বর্জ্য জমা দিতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

লেম্বুরবনের ব্যবসায়ী ফারুক বলেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সৈকতে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যও জমছে। এর মধ্যে ছেঁড়া মাছ ধরার জালও দেখা যায়। এসব বর্জ্য সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি গাছপালা ও পরিবেশের ক্ষতি করছে।

পরিবেশকর্মী নজরুল ইসলাম বলেন, সৈকতে ছড়িয়ে থাকা জালের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও প্লাস্টিক ও নাইলনের জাল সহজে নষ্ট হয় না। এসব জালে বন্যপ্রাণী আটকে যেতে পারে এবং পর্যটকদের জন্যও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কুয়াকাটাকে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর বিচ ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজন।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, পরিত্যক্ত, হারিয়ে যাওয়া বা ফেলে দেওয়া মাছ ধরার সরঞ্জামকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘অ্যাব্যান্ডন্ড, লস্ট অর ডিসকার্ডেড ফিশিং গিয়ার’ বা ‘ঘোস্ট গিয়ার’ বলা হয়। এসব জালে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, কচ্ছপ, ডলফিন ও তিমিসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী আটকে মারা যেতে পারে।

তার ভাষ্য, সমুদ্রের তলদেশে আটকে থাকা জাল প্রবাল, সি-গ্রাসসহ বিভিন্ন জলজ আবাসস্থলের ক্ষতি করে। কৃত্রিম উপাদানে তৈরি জাল সহজে পচে না; বরং সময়ের সঙ্গে ভেঙে প্লাস্টিক দূষণ বাড়ায়। হারিয়ে যাওয়া জাল দীর্ঘদিন পানিতে থেকে মাছ ধরতে থাকলে তাকে ‘ঘোস্ট ফিশিং’ বলা হয়, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করে।

বখতিয়ার রহমান বলেন, শুধু সচেতনতা তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। জাল কেনা, ব্যবহার, হারিয়ে গেলে রিপোর্ট, উদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার—পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। জালে মালিক বা নৌকার পরিচয় নম্বর যুক্ত করা, পুরোনো জাল ফেরত দিলে প্রণোদনা দেওয়া এবং কুয়াকাটা, আলীপুর ও মহিপুরে জাল সংগ্রহকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বন বিভাগের লেম্বুরবন বিট কর্মকর্তা আমির হামজা বলেন, উপকূলীয় গাছগুলো মাটি ও বালু ধরে রাখার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ঢেউ ও স্রোতের কারণে বালু সরে গিয়ে গাছের শিকড় উন্মুক্ত হওয়ায় সেগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে। এর সঙ্গে জাল জড়িয়ে থাকলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও টিকে থাকা আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে জাল অপসারণ প্রয়োজন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পরিদর্শক মো. নাজমুল হাসান বলেন, সাগরে মাছ ধরার সময় জাল টেনে তুলতে না পারলে অনেক জেলে তা কেটে দেন। জালে প্যাঁচ লাগলেও কখনো কখনো জাল কেটে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্রোতের সঙ্গে এসব জাল সৈকতে চলে আসে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি সৈকতের সৌন্দর্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, বিষয়টি মহিপুর ও আলীপুর মাছবাজারের গদি মালিকদের অবহিত করা হবে। একই সঙ্গে সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে পৌরসভাকে জানানো হবে। লেম্বুরবন, তিন নদীর মোহনা, কাউয়ারচর ও গঙ্গামতির চরে দায়িত্ব পালনের সময় জেলেদের পরিত্যক্ত জাল না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হবে। এরপরও কেউ শনাক্ত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, সৈকতে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য বর্জ্য পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং এসব জাল অপসারণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সৈকতে যাতে এ ধরনের বর্জ্য না ফেলা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা হবে।

সমুদ্রভাঙনে উন্মুক্ত হয়ে পড়া শিকড় আর তাতে জড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত জাল কুয়াকাটার উপকূলীয় বনাঞ্চলের নাজুক অবস্থারই জানান দিচ্ছে। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পরিত্যক্ত মাছ ধরার জালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না করা গেলে এখানকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় নিয়োগ

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় বড় নিয়োগ, ৮ম শ্রেণি-এসএসসি পাসেও আবেদনের সুযোগ

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় (বিওএফ) ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগে আবেদন চলছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৪২টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপসহকারী কেমিস্ট পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের বেতন স্কেল ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা, যা গ্রেড-১১। সিনিয়র টেকনিশিয়ান পদে ৯ জন, গেইট ইন্সপেক্টর ১ জন এবং সুপারভাইজার পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা এবং এগুলো গ্রেড-১৪-এর পদ।

অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ৮ জন, মেটল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ৪ জন, গোডাউনকিপার ৪ জন এবং ড্রাইভার পদে ৭ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা এবং গ্রেড-১৬।

এ ছাড়া স্কিল্ড টেকনিশিয়ান পদে ৩ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের বেতন স্কেল ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-১৭। টেকনিশিয়ান পদে ১১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে, যার বেতন স্কেল ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা, গ্রেড-১৮।

নিরাপত্তাকর্মী পদে ১ জন, জুনিয়র টেকনিশিয়ান ২২ জন এবং ফায়ারম্যান পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা এবং গ্রেড-১৯।

সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে টেকনিক্যাল হেলপার পদে। এ পদে ৫৩ জন নেওয়া হবে। এ ছাড়া আরদালি পদে ৭ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ৪ জন, লেবার ৩ জন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ২ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদ গ্রেড-২০-এর এবং বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা।

আবেদনের সময় ও ফি

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে। আবেদন করা যাবে ৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

সব পদের জন্য পরীক্ষার ফি ১৬৮ টাকা, যার মধ্যে সার্ভিস চার্জও অন্তর্ভুক্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে।

কালের আলো/এসএ

রোনালদোকে ফেরাতে মরিয়া জেসুস

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
রোনালদোকে ফেরাতে মরিয়া জেসুস

পর্তুগাল জাতীয় দলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ফেরার দরজা খোলা রেখেছেন কোচ জর্জ জেসুস। তবে জাতীয় দলে আবার ফিরবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত রোনালদোকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন পর্তুগালের এই কোচ। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে বেঞ্চে বসে থাকার পর ডেনমার্কের বিপক্ষেও একাদশে থাকবেন না জানতে পেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। এরপর থেকেই তাঁর জাতীয় দল-অধ্যায় নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।

রবিবার (৪ অক্টোবর) রাতে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার প্রসঙ্গে কথা বলেন জেসুস। আল নাসরে এক বছর রোনালদোর সঙ্গে কাজ করা এই কোচ জানান, জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ এখনো তাঁর জন্য রয়েছে। জেসুস বলেন, ‘সে চাইলে জাতীয় দলে ফিরবে। পরেরবার দল ঘোষণার আগে আমরা কথা বলতে পারি। তবে সিদ্ধান্তটা ক্রিসকেই নিতে হবে।’

জাতীয় দলের অধ্যায় কীভাবে শেষ করবেন, সিদ্ধান্ত রোনালদোর

রোনালদো জাতীয় দলের ক্যারিয়ার কীভাবে শেষ করতে চান, সেটিও তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন জেসুস। তিনি বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানোর জাতীয় দলের সময়টা সে যেভাবে চায়, সেভাবেই শেষ করা উচিত। সে কীভাবে শেষ করতে চায়, সেই সিদ্ধান্তও তার।’ রোনালদোকে পর্তুগালের কতটা প্রয়োজন, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন জেসুস। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার দল ঘোষণার সময় আমি বলেছিলাম, “আমার তোমাকে দরকার, আমার তোমাকে দরকার। তুমি খেলো বা না খেলো, তোমাকে আমার কাছে থাকতে হবে।” এখনো আমি একই কথা বলছি।’

নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে, এরপর ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো

২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের দায়িত্ব নেওয়া জেসুসের অধীনে রোনালদোর নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল এবারের ফিফা উইন্ডোতে। ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে রোনালদোকে একাদশে রাখা হলেও নরওয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে রাখা হয়। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে ওয়ার্মআপ করানো হলেও মাঠে নামানো হয়নি। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে স্কোয়াডে থাকার পরও পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে থাকার ঘটনা ২০০৮ সালের পর এই প্রথম রোনালদোর ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

এরপর কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিপক্ষে তাঁকে শুরুতে খেলানো হবে না—জেসুস সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানানোর পরই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো জানান, জাতীয় দল ছাড়ার কারণ ‘সময়মতো’ পর্তুগালের মানুষকে জানাবেন তিনি।

রোনালদোর অনুপস্থিতিতে আলোচনায় রামোস

রোনালদো না থাকায় পর্তুগালের আক্রমণভাগে জায়গা পাকা হয়েছে গনসালো রামোসের। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে তিন ম্যাচে শুরু করে প্রতিটিতেই গোল করেছেন এসি মিলানের এই স্ট্রাইকার। নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের পর পর্তুগালের অধিনায়ক জোয়াও কানসেলো রোনালদোর প্রসঙ্গে বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো আমাদের অধিনায়ক, পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। তাঁর সঙ্গে সবকিছু অবশ্যই ভালোভাবে শেষ হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো চারটি জয়।’ ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেসও রোনালদোর ফেরার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, জাতীয় দলে যে খেলোয়াড়ই আসুক, তাকে স্বাগত জানানো হবে। রোনালদো ফিরলে তাঁকেও দুই হাত বাড়িয়ে গ্রহণ করা হবে।

পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর রেকর্ড

পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে রোনালদোর গোল ১৪৬টি। জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ ও গোল—দুই ক্ষেত্রেই বিশ্ব রেকর্ড তাঁর দখলে। রোনালদোর নেতৃত্বে পর্তুগাল ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দুইবার উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছে। পর্তুগালের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা নভেম্বর মাসে। তখন ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। ফলে সেই সময় রোনালদো জাতীয় দলে ফিরবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ

মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ভোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ভোট

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এবারের কোনো ব্যালটে না থাকলেও তাঁর মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও স্থানীয় আইনসভার কয়েক হাজার পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে বড় লড়াই

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারিও বাড়বে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের দলীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে এবং তাঁর এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়িয়ে ৫১টিতে পৌঁছাতে হবে। দুই দল ৫০-৫০ আসনে আটকে গেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভোটে সিদ্ধান্ত হবে।

প্রতিনিধি পরিষদেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিটি আসনেই দুই বছর পরপর নির্বাচন হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ২২০-২১৫ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। তবে পরে মৃত্যু, পদত্যাগ ও দলবদলের কারণে বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮ জন রিপাবলিকান, ২১৪ জন ডেমোক্র্যাট এবং একজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন। দুটি আসন শূন্য রয়েছে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ২০২৪ সালের ফলাফলের তুলনায় অন্তত তিনটি আসন বাড়াতে হবে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা দুটি আসন হারালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে।

৩৬ অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন

এবার ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া অঙ্গরাজ্য আইনসভার নিয়মিত নির্বাচনে ৬ হাজার ১৩৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দেশের ৯৯টি অঙ্গরাজ্য আইনসভার কক্ষের মধ্যে ৮৮টিতে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জনমত জরিপে পিছিয়ে ট্রাম্প

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। রয়টার্সের এক জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩২ শতাংশ, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন। অন্যদিকে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে মারিস্টের জরিপে তাঁর সমর্থন ৩৯ শতাংশ এবং এনবিসি নিউজের জরিপে ৪১ শতাংশ পাওয়া গেছে।

পিবিএস নিউজ ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বরের জরিপে কংগ্রেস নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থীকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ছিলেন ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার। রিপাবলিকানদের পক্ষে ছিলেন ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটরা ১২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ছিলেন। তাঁদের ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে এবং ৩২ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।

অর্থনীতি নিয়েও অসন্তোষ

এনবিসি নিউজের জরিপে ৫৫ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ট্রাম্পের নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। বিপরীতে ২৬ শতাংশ মনে করেন, তাঁর নীতিগুলো অর্থনীতির জন্য উপকারী হয়েছে। তবে বিভিন্ন জরিপের পদ্ধতি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পার্থক্য থাকায় এসব পরিসংখ্যান সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। তারপরও জরিপগুলোতে এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই যে কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বড় ধরনের সুবিধা এনে দেবে।

রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের আভাস

২০২৫-২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অ্যাড ট্র্যাকিং কোম্পানি অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাবে, এ সময়ে বিজ্ঞাপনে প্রায় ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এই অর্থ ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজ্ঞাপনে ব্যয়ের ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রাইমারি নির্বাচনে ২ হাজার ৪৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যা অন্তত ২০১৪ সালের পর যেকোনো নির্বাচনী চক্রের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কালের আলো/এসএ