খুঁজুন
                               
, ,
           

স্টারলিংক নিয়ে মুখোমুখি মাস্ক-ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
স্টারলিংক নিয়ে মুখোমুখি মাস্ক-ভারত

ভারতের বিশাল বাজারে প্রবেশের অপেক্ষায় ইলন মাস্কের স্টারলিংক। প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাওয়ার পরও দেশটিতে বাণিজ্যিক সেবা চালু করতে পারছে না স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি। আর এই বিলম্ব নিয়েই এবার সরাসরি মুখোমুখি হয়েছে স্টারলিংক ও ভারত সরকার।

স্পেসএক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছেন, ভারতের কিছু ‘অলিগার্ক’ ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের একচেটিয়া ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশ ঠেকিয়ে দিচ্ছে। তবে তার এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি।

ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দাবি, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার জন্য দেশটিতে একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আটকে রাখার সুযোগ নেই; বরং লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব কোম্পানিকেই একই ধরনের নিরাপত্তা যাচাই ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে।

মাস্কের অভিযোগ, ‘একচেটিয়া ব্যবসা’ রক্ষায় বাধা

বুধবার (৭ অক্টোবর)  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইলন মাস্ক প্রশ্ন তোলেন, ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে কারা বাধা দিচ্ছে। তার অভিযোগ, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ‘অলিগার্ক’ নিজেদের একচেটিয়া ব্যবসায়িক প্রভাব বজায় রাখার স্বার্থে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছেন। মাস্কের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারতের বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—স্টারলিংককে আলাদাভাবে আটকে রাখা হচ্ছে না।

পাল্টা জবাব দিল ভারত

মাস্কের অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হয়। বর্তমানে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলছে। অর্থাৎ, ভারতের দাবি—স্টারলিংকের জন্য আলাদা কোনো বাধা তৈরি করা হয়নি; বরং দেশটির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্য দিয়েই এগোতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

তিন প্রতিষ্ঠান পেয়েছে লাইসেন্স

ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা চালুর দৌড়ে বর্তমানে তিনটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক, ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের মালিকানাধীন জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস। এ ছাড়া জেফ বেজোসের অ্যামাজন লিও-ও লাইসেন্সের অপেক্ষায় রয়েছে। ভারতীয় মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, লাইসেন্স পাওয়া তিন প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে প্রায় একই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে। নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে অপেক্ষায় স্টারলিংক

স্টারলিংক ভারতে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেয়েছে এক বছরেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু এখনো দেশটিতে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ভারতে সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় অংশ ইতোমধ্যে প্রস্তুত।

ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬-এ স্পেসএক্সের স্টারলিংক বিজনেস অপারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার জানান, ভারতে ইতোমধ্যে ২০টি গেটওয়ে সাইট স্থাপন করা হয়েছে। এসব সাইটে রয়েছে শত শত অ্যান্টেনা। শুধু অবকাঠামো নয়, ভারতীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশটির ভেতরেই সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করেছে স্টারলিংক।

তাহলে আটকে আছে কোথায়?

স্টারলিংকের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরুর পথে এখন মূল বাধা হিসেবে সামনে এসেছে নিরাপত্তা যাচাই ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের প্রক্রিয়া। ভারত বলছে, প্রক্রিয়াটি সব লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সমান। আর মাস্কের অভিযোগ—প্রভাবশালী ব্যবসায়িক স্বার্থ স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা তৈরি করছে। এই দুই বিপরীত বক্তব্যের মধ্যেই ভারতের প্রায় দেড়শ কোটি মানুষের বিশাল বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ এখনো অনিশ্চিত।

সামনে বড় বাজার, তাই লড়াইটাও বড়

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বৈশ্বিক বাজারে ভারতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে দেখা হয়। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইটভিত্তিক সেবার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারতের নিরাপত্তা, তথ্য সংরক্ষণ ও স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর অবস্থান স্টারলিংকের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রশ্ন এখন একটাই—মাস্কের অভিযোগের পর কি দ্রুত মিলবে স্টারলিংকের চূড়ান্ত অনুমোদন, নাকি ভারতের কঠোর নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ায় আরও দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানটিকে?

কালের আলো/জেএন

চার্জে দিনে সাড়ে ৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
চার্জে দিনে সাড়ে ৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অননুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট। বর্তমানে ঢাকায় আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে, প্রতিটি অটোরিকশা চার্জে দৈনিক ৮ থেকে ১২ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। সে হিসাবে সর্বনিম্ন হিসাবেও এসব যান চার্জ দিতে প্রতিদিন প্রায় ৯৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন, যার মূল্য প্রায় ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

এই বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহারের বড় অংশ হচ্ছে অনুমোদিত চার্জিং স্টেশনের বাইরে। রাজধানীতে প্রায় ৪৮ হাজার অবৈধ চার্জিং স্টেশন রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসবের অনেকগুলো গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকা, সরু গলি ও টিনশেড গ্যারেজে। কোথাও আবাসিক মিটারের সংযোগে বাণিজ্যিকভাবে রিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার ঘটনাও ধরা পড়েছে।

  • ঢাকায় ১০–১২ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা
  • ৪৮ হাজার অবৈধ চার্জিং স্টেশন
  • আবাসিক মিটারে বাণিজ্য
  • অভিযানের পরও থামছে না অনিয়ম

রাজধানীর মুগদা, মান্ডা, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর ও রায়েরবাজারের কয়েকটি গ্যারেজ ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। কয়েকটি গ্যারেজে বৈদ্যুতিক যান চার্জিংয়ের জন্য আলাদা মিটার থাকলেও তা ব্যবহার না করে আবাসিক সংযোগে রিকশা চার্জ দেওয়ার তথ্য মিলেছে। তেজগাঁওয়ে বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে সংযোগ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ঘটনাও ধরা পড়েছে।

অটোরিকশার এই অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং শুধু বিদ্যুৎ চুরি ও রাজস্ব ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি চার্জ দেওয়ায় স্থানীয় ট্রান্সফরমার ও বিতরণ লাইনে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি এসব গ্যারেজকে ঘিরে মাদক কেনাবেচা, সেবন, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ফলে স্বল্প দূরত্বে কম ভাড়ার জনপ্রিয় বাহনটি এখন নগরের বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ তৈরি করেছে।

১২ লাখ অটোরিকশা, নেই নির্ভরযোগ্য হিসাব
রাজধানীতে ঠিক কতটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে, তার হালনাগাদ ও নির্ভুল সরকারি পরিসংখ্যান নেই। বিআরটিএর হিসাব উদ্ধৃত করে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় চলছে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ। তবে কোন এলাকায় কতটি রিকশা চলছে, কতটি গ্যারেজে চার্জ হচ্ছে, কতটি নিবন্ধিত বা বৈধ—এসব তথ্য এক জায়গায় নেই।

ফলে যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত রুট ঠিক করা কিংবা চার্জিং অবকাঠামোর প্রয়োজন নির্ধারণ—কোনোটিই নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে করা যাচ্ছে না। ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির নেতারা দাবি করছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানীতে অটোরিকশার সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। তাঁদের হিসাবে, আগে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ রিকশা থাকলেও এখন তা ১০ থেকে ১২ লাখে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিদিন ৯৬ লাখ ইউনিটের হিসাব
বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জে দৈনিক ৮ থেকে ১২ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। ১২ লাখ রিকশার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৮ ইউনিট ধরলেও প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ৯৬ লাখ ইউনিট। এর মূল্য প্রায় ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এটি মোট সম্ভাব্য ব্যবহারের হিসাব; এর সবটাই যে অবৈধভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। তবে বৈধ ও অবৈধ—দুই ধরনের চার্জিং মিলিয়ে এই বিপুল চাহিদা যে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে, তা স্পষ্ট।

জাতীয় সংসদে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অনুরূপ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করছে। অবৈধ ও অনানুষ্ঠানিকভাবে চার্জ দেওয়ার কারণে সরকারের বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

বৈধ স্টেশন ৩,৩০০, অবৈধ প্রায় ৪৮ হাজার
চার্জিং ব্যবস্থার চিত্রে সবচেয়ে বড় অসামঞ্জস্য দেখা যায় অনুমোদিত ও অননুমোদিত স্টেশনের সংখ্যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, রাজধানীতে প্রায় ৪৮ হাজার অবৈধ চার্জিং স্টেশন চলছে। বিপরীতে সারা দেশে বৈধ চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৩০০।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গ্যারেজ ব্যবসার সঙ্গে চার্জিং ব্যবসা একীভূত হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্যারেজে রিকশা রাখার পাশাপাশি সেখানেই ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। ফলে আলাদা চার্জিং অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে আবাসিক বা অন্য ধরনের সংযোগ ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

মুগদা, মান্ডা ও তেজগাঁওয়ের কয়েকটি গ্যারেজে দেখা গেছে, বৈদ্যুতিক যান চার্জিংয়ের জন্য পৃথক মিটার থাকলেও মালিকেরা আবাসিক সংযোগে বেশি রিকশা চার্জ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এতে অনুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যবহারের তুলনায় কম খরচে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়।

মিটার আছে, ব্যবহার নেই
মান্ডা এলাকার এক গ্যারেজ মালিক জানান, বিদ্যুতের বিল বাড়ার আগে তাঁর গ্যারেজে ৩০ থেকে ৩৫টি রিকশা চার্জ হতো। তখন মাসে বিদ্যুৎ বিল আসত ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। পরে রিকশার সংখ্যা কমিয়ে প্রায় ২০টি করা হলেও মাসিক খরচ দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা। গ্যারেজে কোন মিটার কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে চাননি।

লালবাগের আরেক গ্যারেজ মালিকের ভাষ্য, আগে ১৬৫টি রিকশা চার্জে মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা বিদ্যুৎ খরচ হতো। এখন রিকশা কমে ৭০টিতে দাঁড়ালেও বিল আসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। গ্যারেজ মালিকদের দেওয়া এসব হিসাব বিচ্ছিন্ন। তবে এগুলো থেকে মিটারভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহার ও প্রকৃত চার্জিংয়ের মধ্যে সমন্বিত নজরদারির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।

কোথাও হুক, কোথাও আবাসিক লাইন
সম্প্রতি তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ চার্জিংয়ের ঘটনা পাওয়া গেছে। তেজগাঁওয়ে বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়ে। মোহাম্মদপুরের একটি আবাসিক এলাকায় টিনশেড গ্যারেজে প্রায় ৩০টি রিকশা আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করে চার্জ দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

রায়েরবাজার বালুরমাঠ এলাকায় সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, র‌্যাব ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা যৌথ অভিযান চালান। ছয়টি গ্যারেজের মধ্যে চারটিতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায় এবং সেগুলো বিচ্ছিন্ন করা হয়। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজার, ঢাকা উদ্যান, বসিলা, বেড়িবাঁধ, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, মিরপুর, পল্লবী, উত্তরা, বাড্ডা, নতুনবাজার, আফতাবনগর, মুগদা, মান্ডা ও যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশার গ্যারেজ ও চার্জিং পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

গ্যারেজ ঘিরে বাড়ছে অপরাধের অভিযোগ

বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনিয়মের পাশাপাশি গ্যারেজগুলোকে ঘিরে অপরাধের অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ সূত্রের ভাষ্য, গ্যারেজকেন্দ্রিক মাদক কেনাবেচা ও সেবনের ঘটনা নতুন নয়। চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে এসব স্থানের যোগসূত্রও পাওয়া যায়। ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্যারেজকেন্দ্রিক মাদক মামলার সংখ্যা বেশি। এসব এলাকায় ভ্রাম্যমাণ অপরাধীদের আনাগোনাও থাকে। কেউ অপরাধ করার পর গ্যারেজে অবস্থান নিতে পারে সহজে। গ্যারেজগুলোর অবস্থানও এ ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক গ্যারেজ আবাসিক ভবনের নিচে, টিনশেড ঘরে, দোকানের পাশে কিংবা সরু গলির ভেতরে। সেখানে রিকশা রাখা, চার্জ দেওয়া ও মানুষের যাতায়াত—সবকিছু একই জায়গায় হওয়ায় নিয়মিত নজরদারি কঠিন।

অগ্নিঝুঁকিও কম নয়
একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ফলে অগ্নিঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সরু গলি বা আবাসিক ভবনের ভেতরে অপর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক অবকাঠামোয় একাধিক ব্যাটারি চার্জ হলে শর্টসার্কিট ও অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা থাকে। এর সঙ্গে রয়েছে পুরোনো সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি সংরক্ষণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের ঝুঁকি। ব্যবহৃত ব্যাটারি যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। অর্থাৎ একটি অনিয়ন্ত্রিত গ্যারেজে বিদ্যুৎ চুরি বা বিল ফাঁকির পাশাপাশি অগ্নি ও পরিবেশগত ঝুঁকিও জমা হচ্ছে।

অভিযান হচ্ছে, কিন্তু থামছে না
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক মাসে গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে শতাধিক অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নতুন করে যাতে এসব গ্যারেজে সংযোগ দেওয়া না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান জানান, কয়েক মাস ধরে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্যারেজগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অবৈধ সংযোগ, আবাসিক লাইনে বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ চুরির বিষয়গুলোতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে অভিযান-পরবর্তী পরিস্থিতিই এখন বড় প্রশ্ন। কোনো একটি গ্যারেজের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর সেখানে আবার নতুন সংযোগ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত নজরদারির আওতায় না থাকলে অনিয়ম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা কঠিন।

নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে গ্যারেজও
সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জোনভিত্তিক আলাদা রঙ, ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ও কিউআর কোড রাখার কথা রয়েছে। কিউআর কোডের মাধ্যমে মালিক ও চালকের তথ্য জানা যাবে। খসড়া নীতিতে নিবন্ধন, চালকের লাইসেন্স, নির্ধারিত রুট, অনুমোদিত নকশা, নিরাপদ যন্ত্রাংশ ও বৈধ চার্জিং স্টেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগ কার্যকর হলে রিকশার প্রকৃত সংখ্যা ও চলাচলের এলাকা সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি হতে পারে। কিন্তু চার্জিং ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে শুধু রিকশার নিবন্ধন দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রতিটি অনুমোদিত গ্যারেজে কতটি রিকশা চার্জ হবে, কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, কোন মিটারে সেই ব্যবহার রেকর্ড হচ্ছে এবং বিলের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব তথ্যও নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

প্রয়োজন সমন্বিত ব্যবস্থাপনা
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ঢাকার পরিবহনব্যবস্থার বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। স্বল্প দূরত্বে কম ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগের কারণে যাত্রীদের কাছে এর চাহিদা রয়েছে। একই সঙ্গে এই খাতে যুক্ত রয়েছে বিপুলসংখ্যক চালক ও মালিকের জীবিকা। তাই হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সমস্যাটি মূলত নিয়ন্ত্রণের। রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ, নিবন্ধন, রুট ব্যবস্থাপনা, গ্যারেজের অনুমোদন, চার্জিং স্টেশনের লাইসেন্স এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব—সবকিছুকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।

কালের আলো/এমএসআই/এমকে

বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার সরাসরি ফ্লাইট ও অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার সরাসরি ফ্লাইট ও অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ভিসা ও ভ্রমণ প্রক্রিয়া সহজ করা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তা। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সংযোগ সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতে গ্যাস ও তেল সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা। বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়া বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে আরও বেশি ইন্দোনেশীয় কোম্পানির ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা পুনরায় চালু এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, পর্যটন, শিক্ষা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশে ইন্দোনেশীয় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে পোশাক, পাট, কৃষিপণ্য ও পাম অয়েলের বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি হালাল পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করা হয়। একই সঙ্গে বহুমাত্রিক সহযোগিতা জোরদার এবং দুই দেশের অভিন্ন মুসলিম ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত প্রকাশ করে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিস লিসতিওওয়াতী এবং ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবুল হাসান মৃধাসহ প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরির অর্থায়নে নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ
কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরির অর্থায়নে নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থায়ন ও এ-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে সংগঠনটির প্রধান নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির অনুসন্ধানে কেএনএফের ৪০ হাজার সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম তৈরির ফ্যাব্রিক ও সেলাই বাবদ মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এসব তথ্য জানান।

মামলার আসামিরা হলেন কেএনএফের প্রধান নাথানা লনচেও ওরফে নাথান বম (৪৯), মংহলাসিন মারমা ওরফে মং (৩৮), নিয়াজ হায়দার (৩৯), মো. গোলাম আজম (৪৭), সাহেদুল ইসলাম (২৭), মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (৫৮), জামালুল ইসলাম (৪৫), মো. তৌহিদুল ইসলাম (৩৮) ও মো. মতিউর রহমান (৪৩)।

সিআইডি জানায়, ২০২৫ সালের ১৮ মে রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি বিশেষ দল বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেএনএফের পোশাক তৈরির সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহরের ছোটপুল এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি গোডাউন ও একটি গার্মেন্টস কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২০ হাজার ৩০০ সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ কেএনএফ ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে গোডাউন থেকে ১১ হাজার ২০০ সেট এবং কারখানা থেকে ৯ হাজার ১০০ সেট ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়। প্রতিটি সেটে ছিল একটি শার্ট ও একটি প্যান্ট।

এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। পরে ইউনিফর্ম তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি।

সিআইডির অনুসন্ধানে ব্যাংক হিসাব, চেক, নগদ অর্থ প্রদান, ক্রয়াদেশ, ব্যবসায়িক পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ফ্যাব্রিক তৈরি ও ইউনিফর্ম সেলাইয়ের জন্য মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।

সিআইডির দাবি, কেএনএফের প্রতিনিধি হিসেবে মংহলাসিন মারমা প্রথমে নিয়াজ হায়দার এবং পরে তার মাধ্যমে গোলাম আজমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তারা ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেএনএফের ইউনিফর্মের ক্যামোফ্লেজ প্রিন্টের ফ্যাব্রিক তৈরির ব্যবস্থা করেন।

সিআইডি জানায়, ফ্যাব্রিক তৈরির জন্য ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডকে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪০ হাজার সেট শার্ট-প্যান্ট সেলাইয়ের জন্য রিংভো অ্যাপারেলস, এনএন ফ্যাশন ও নূর ফ্যাশনকে মোট ৭২ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

সিআইডির ভাষ্য, অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনায় কেএনএফের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নাথান বমের নির্দেশনায় মংহলাসিন মারমাসহ অন্য আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে সংগঠনটির জন্য বিপুল পরিমাণ ইউনিফর্ম তৈরির উদ্যোগ ও অর্থায়ন করেন—এমন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রমে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থের হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

এ ঘটনায় ৭ অক্টোবর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা নম্বর-১৩ দায়ের করা হয়। মামলায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, মামলাটির তদন্তে কেএনএফের কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য অর্থের উৎস ও প্রবাহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেন এবং এ আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি