খুঁজুন
                               
, ,
           

পুলিশিংয়ের নতুন পথরেখায় ৭২ নবীন এএসপি, জনগণের আস্থা অর্জনে গুরুত্ব আইজিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
পুলিশিংয়ের নতুন পথরেখায় ৭২ নবীন এএসপি, জনগণের আস্থা অর্জনে গুরুত্ব আইজিপির

জনআস্থা পুনর্গঠন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব এবং মানবাধিকারের প্রতি সংবেদনশীলতা—পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশ পুলিশের সামনে এখন এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাংলাদেশ মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম। তাঁর মতে, সততা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই আগামী দিনের টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ নির্মাণে পুলিশ অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) যোগদানপূর্ব দিকনির্দেশনামূলক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন।

  • রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ
  • আইন ও বিধি-বিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ
  • মানবাধিকার, নারী, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়াতে হবে সংবেদনশীলতা

আইজিপি বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল জনাকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করছে। পরিবর্তিত এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ পুলিশকেও নতুন পথরেখা নির্মাণ করতে হয়েছে। সেই নতুন পুলিশিংয়ে জনপ্রত্যাশা, মানবাধিকার এবং নারী, শিশু ও বয়স্ক নাগরিকদের প্রতি সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নব উদ্যম ও অঙ্গীকার নিয়ে জনপ্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।’ প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বাহিনীর একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশিং শুধু আইন প্রয়োগ নয়, আস্থার সম্পর্কও
আইজিপির বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পুলিশ-জনগণের সম্পর্ক। তিনি বলেন, পুলিশিং একটি সেবা ও চ্যালেঞ্জ। ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সমাজ ও রাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

নবীন কর্মকর্তাদের ‘ভবিষ্যৎ পুলিশ লিডার’ আখ্যা দিয়ে আইজিপি বলেন, নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের তৈরি করতে হবে। নিত্যনতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইন ও বিধি-বিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং পেশাদারত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখানেই বদলে যাওয়া পুলিশিংয়ের মূল দর্শনটি স্পষ্ট—শুধু অপরাধ দমন নয়, জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করাও পুলিশের দায়িত্ব। ফলে মাঠপর্যায়ের একজন এএসপির আচরণ, সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব পালনের ধরনই ভবিষ্যতে পুলিশের ভাবমূর্তি গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

জনআস্থা অর্জনের অঙ্গীকার নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তাদের
অনুষ্ঠানে নবপদায়িত কয়েকজন কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে তাঁদের প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁরা পেশাদারত্ব বজায় রেখে জনগণকে সেবা দেওয়ার মাধ্যমে জনআস্থা অর্জনের অঙ্গীকার করেন। সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনও জাতির প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্ব পালনের জন্য নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মো. মুশফেকুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) ও নবগঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিটের প্রধান মো. ইকবাল হোসেন এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিআইজি (প্রশাসন) মো. হুমায়ুন কবীর।

৭২ কর্মকর্তার কাঁধে নতুন দায়িত্ব
৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে মোট ৭২ জন কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। এই ৭২ কর্মকর্তাই এখন মাঠপর্যায়ে পুলিশের নতুন মুখ। নিজেদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, মানবিক আচরণ এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দৃঢ়তার মাধ্যমেই আইজিপির দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবে প্রতিফলন ঘটাবেন তাঁরাই। পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় পুলিশকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে। ফলে নতুন এএসপিদের সামনে দায়িত্ব কেবল একটি সরকারি পদে যোগ দেওয়া নয়। এটি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যতের একটি পেশাদার, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক পুলিশিং সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়া। বর্তমান আইজিপি তাই তাদেরকে বাহিনীর একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

আশুলিয়ায় তুলার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড, ছুটে গেল ৪ ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
আশুলিয়ায় তুলার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড, ছুটে গেল ৪ ইউনিট

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি তুলার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জামগড়া এলাকায় এ আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার মামুন হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তুলার গোডাউনে আগুন লাগার খবর পান তারা। খবর পেয়ে জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট কাজ করছিল। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শ্রীপুরে গুলি ছুড়ে প্রাইভেটকার থামিয়ে ৩ কোটি টাকা লুট

গাজীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে গুলি ছুড়ে প্রাইভেটকার থামিয়ে ৩ কোটি টাকা লুট

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিকাশ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে গুলি করে তিন কোটি টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থাপক হিমেল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া প্রাইভেটকারচালক লাল মিয়া ও এরিয়া ম্যানেজার ফরহাদ আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর-গোসিঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় গজারি বনের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাইভেটকারচালক লাল মিয়া ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভালুকা চ্যানেল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বিকাশ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের চার কোটি টাকা তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নরসিংদী থেকে প্রাইভেটকারে করে নেওয়া হচ্ছিল। গাড়িটি শ্রীপুরের কর্ণপুর এলাকায় পৌঁছালে ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি গুলি ছুড়ে গাড়িটির গতিরোধ করেন।

এ সময় হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থাপক হিমেল গুলিবিদ্ধ হন। পরে দুর্বৃত্তরা টাকা ভর্তি তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই দুটি বস্তায় তিন কোটি টাকা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে চালক লাল মিয়া ও এরিয়া ম্যানেজার ফরহাদও আহত হন।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক অনিক সরকার জানান, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, টাকা ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি, দিন শেষে বাংলাদেশের ৩১৭

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি, দিন শেষে বাংলাদেশের ৩১৭

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা পেলেও দিনের দ্বিতীয় ও শেষ সেশনে দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেছেন তানজিদ হাসান। সাদমান ইসলাম করেছেন ৬৭ রান।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিনের শুরুতে তানজিদ ও সাদমানের ব্যাটে দুর্দান্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ১২৪ রান। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৩ রান করেন তানজিদ। অন্যদিকে ১১১ বল মোকাবিলা করে ৭টি চারের সাহায্যে ৬৭ রান করেন সাদমান।

ওপেনিং জুটি ভাঙার পরও ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। মুমিনুল হক করেন ৩৯ রান। একপর্যায়ে ৩ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২২১ রান। কিন্তু এরপর দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ২৯ রান। ফলে ২২১ থেকে ২২৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর লিটন দাসের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে দল। ৮৯ বলে ৫৩ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজ যোগ করেন ২৪ রান। লিটনের হাফসেঞ্চুরিতে তিনশ রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ। তবে সপ্তম উইকেট হিসেবে লিটন আউট হলে আবারও চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।

দিনের খেলা শেষে নাঈম হাসান ১১ এবং তাইজুল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ সেলিম। ৭০ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ৩ উইকেট। ইয়ামিন আহমদজাই ও ইসমত আলম পেয়েছেন ২টি করে উইকেট। অন্য উইকেটটি নিয়েছেন কায়েস আহমেদ।

প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ তিনশ ছাড়ালেও শেষ সেশনে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে পিচে স্পিনারদের টার্ন ও পেসারদের রিভার্স সুইং থাকায় পরের দিন ম্যাচে লড়াই আরও জমে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি