আন্তর্জাতিক আইন থেকে মহাবিশ্বের রহস্য—২০২৬ সালের নোবেলজয়ীদের গল্প
বিশ্বের জ্ঞান, মানবতা ও সৃজনশীলতার জগতে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিগুলোর একটি নোবেল পুরস্কার। প্রতিবছর এই পুরস্কারের মাধ্যমে সামনে আসে এমন কিছু মানুষের নাম, যাঁদের গবেষণা, সাহিত্যকর্ম কিংবা মানবাধিকারের পক্ষে দীর্ঘ সংগ্রাম পৃথিবীকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারেও সেই বৈচিত্র্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মহাবিশ্বের গভীর থেকে আসা অতি ক্ষুদ্র কণার সন্ধান, জীবন্ত মস্তিষ্কের কার্যক্রম বোঝার নতুন প্রযুক্তি, রাসায়নিক বিক্রিয়ার জটিল রহস্য উন্মোচন এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে দীর্ঘ লড়াই—বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন এবারের বিজয়ীরা।
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হয়েছে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার। এ সম্মান পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। এর আগে সপ্তাহজুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও সাহিত্যে পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কারের ঘোষণা আসবে ১২ অক্টোবর। ফলে এবারের নোবেল সপ্তাহে এখন পর্যন্ত পাঁচটি বিভাগের বিজয়ীর নাম জানা গেছে।
শান্তিতে নোবেল: আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে নাভি পিল্লাই
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি তাঁকে এ পুরস্কার দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম নেওয়া পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় বর্ণবৈষম্যের সময়। ১৯৬৭ সালে তিনি নাটাল অঞ্চলে আইন পেশায় যুক্ত হওয়া প্রথম নারী হিসেবে পরিচিতি পান এবং পরে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হন। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই, রাজনৈতিক বন্দীদের অধিকার এবং নিপীড়নের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
রুয়ান্ডার গণহত্যাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন পিল্লাই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিচারিক কাজ যৌন সহিংসতা ও গণহত্যার আইনি ব্যাখ্যা বিকাশে ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেও আলোচনায় আসেন তিনি। কমিশনটি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছিল; ইসরায়েল সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে পিল্লাইয়ের নোবেলপ্রাপ্তি আন্তর্জাতিক আইন, যুদ্ধাপরাধের জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে নোবেল কমিটির ঘোষিত কারণ তাঁর শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা—এ পুরস্কারকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
নোবেল কমিটির বক্তব্যের মূল সুর হলো, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন চাপের মুখে, তখন আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি রক্ষার প্রচেষ্টা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবন সেই প্রচেষ্টারই একটি উদাহরণ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল: আলো দিয়ে মস্তিষ্কের কার্যক্রম বোঝার নতুন পথ
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরবিদ্যায় ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-সংবেদনশীল আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস প্রযুক্তির বিকাশে তাঁদের অবদানের জন্য এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।
অপটোজেনেটিকস এমন একটি গবেষণাপদ্ধতি, যার সাহায্যে নির্দিষ্ট আলো ব্যবহার করে জীবন্ত কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা যায়। বিশেষ করে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ কীভাবে কাজ করে, একে অপরের সঙ্গে সংকেত আদান-প্রদান করে এবং আচরণ বা অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই গবেষণার একটি মূল ভিত্তি হলো আলো-সংবেদনশীল প্রোটিন। শৈবালের মতো জীবের মধ্যে পাওয়া কিছু প্রোটিন আলো পেলে আয়ন চলাচলের পথ খুলে দিতে বা বন্ধ করতে পারে। গবেষকেরা এসব প্রোটিনের বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি গড়ে তুলেছেন। এতে গবেষণাগারে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষ সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করে তাদের ভূমিকা বোঝা সম্ভব হয়েছে।
আগে স্নায়ুতন্ত্রের কোনো নির্দিষ্ট অংশের কার্যক্রম এবং আচরণের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বের করা ছিল জটিল কাজ। অপটোজেনেটিকস গবেষকদের সেই প্রক্রিয়া আরও সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ দিয়েছে। স্নায়ুবিজ্ঞান, মস্তিষ্কের রোগ নিয়ে গবেষণা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চিকিৎসাপদ্ধতি উন্নয়নে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব রয়েছে।
তবে এই স্বীকৃতির অর্থ এই নয় যে অপটোজেনেটিকস ইতিমধ্যেই সব স্নায়বিক রোগের চিকিৎসা হয়ে গেছে। বরং মস্তিষ্কের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও গভীর জ্ঞান অর্জন এবং ভবিষ্যতের গবেষণার নতুন পথ তৈরিতে প্রযুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল: দক্ষিণ মেরুর বরফে মহাবিশ্বের অদৃশ্য বার্তাবাহক
২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সিস হালজেন। আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে তাঁর নির্ণায়ক অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের জন্য তাঁকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে।
নিউট্রিনো হলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র উপপরমাণবিক কণা। এদের বৈশিষ্ট্য হলো, সাধারণ পদার্থের সঙ্গে খুব কমই মিথস্ক্রিয়া করে। ফলে বিপুলসংখ্যক নিউট্রিনো পৃথিবী ও আমাদের শরীরের মধ্য দিয়ে চলে গেলেও অধিকাংশ সময় তা শনাক্ত করা যায় না। এই কারণে নিউট্রিনোকে অনেক সময় ‘ভূতুড়ে কণা’ও বলা হয়।
কিন্তু এই কণাগুলো বিজ্ঞানীদের কাছে মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও শক্তিশালী ঘটনাগুলো সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম। নক্ষত্রের বিস্ফোরণ, কৃষ্ণগহ্বরের আশপাশের পরিবেশ এবং অন্য উচ্চশক্তির মহাজাগতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিউট্রিনো গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।
হালজেনের নেতৃত্ব ও দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় দক্ষিণ মেরুর বরফের গভীরে গড়ে ওঠে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে আলো শনাক্তকারী সেন্সর। কোনো নিউট্রিনো বরফের মধ্যে থাকা পদার্থের সঙ্গে বিরলভাবে মিথস্ক্রিয়া করলে যে আলোর ঝলক তৈরি হয়, সেটি শনাক্ত করে বিজ্ঞানীরা কণাটির বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে ধারণা পান।
এই পর্যবেক্ষণব্যবস্থা মহাজাগতিক নিউট্রিনোর গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলেছে। দূরবর্তী মহাবিশ্ব থেকে আসা এসব কণা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু শক্তিশালী ঘটনার খোঁজ পেতে পারেন, যেগুলো প্রচলিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণে সহজে ধরা পড়ে না।
হালজেনের পুরস্কার তাই শুধু একটি যন্ত্র নির্মাণের স্বীকৃতি নয়; এটি মহাবিশ্বকে জানার নতুন পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি। আলোর পরিবর্তে নিউট্রিনোর সংকেত ব্যবহার করে মহাকাশের রহস্য অনুসন্ধানের যে পথ তৈরি হয়েছে, তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এখনও বিস্তৃত।
রসায়নে নোবেল: অণুর আয়নার মতো দুই রূপের রহস্য
২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অঁরি বি. কাগাঁ ও কেনসো সোয়াই। অসমমিত জৈব সংশ্লেষণে অরৈখিক প্রভাব ও স্বয়ং-অনুঘটনের আবিষ্কারের জন্য তাঁদের এ সম্মান দেওয়া হয়েছে। তাঁদের গবেষণা এমন একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করেছে—কেন কোনো কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একই অণুর দুটি আয়না-প্রতিবিম্ব রূপের মধ্যে একটি বেশি তৈরি হয়?
কিছু অণুর গঠন আমাদের দুই হাতের মতো। ডান ও বাম হাত দেখতে কাছাকাছি হলেও একটিকে অন্যটির ওপর পুরোপুরি মেলানো যায় না। রসায়নে এ ধরনের গঠনকে কাইরাল বা কাইরালিটি-সম্পন্ন বলা হয়। একই রাসায়নিক উপাদান থাকলেও অণুর এই দুই রূপ জীবন্ত শরীরে ভিন্ন আচরণ করতে পারে।
জীববিজ্ঞানে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক জৈব অণু, ওষুধ এবং জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত রাসায়নিক যৌগের কার্যকারিতা তাদের ত্রিমাত্রিক গঠনের ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো বিক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত একটি রূপ বেশি পরিমাণে তৈরি করার পদ্ধতি উন্নত করা রসায়নের বড় চ্যালেঞ্জ।
কাগাঁ ও সোয়াইয়ের গবেষণা অসমমিত জৈব সংশ্লেষণে অরৈখিক প্রভাব এবং স্বয়ং-অনুঘটনের ভূমিকা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। স্বয়ং-অনুঘটনের ক্ষেত্রে কোনো বিক্রিয়ার উৎপন্ন পদার্থই সেই বিক্রিয়ার অগ্রগতিতে অনুঘটকের মতো ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে বিক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট রূপ আরও বেশি তৈরি হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
এই মৌলিক ধারণাগুলো ওষুধ তৈরি, জৈব অণুর সংশ্লেষণ এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের কাজ রসায়নবিদদের দেখিয়েছে, অণুর গঠন ও বিক্রিয়ার গতিপ্রকৃতির সূক্ষ্ম সম্পর্ক বুঝতে পারলে কাঙ্ক্ষিত রাসায়নিক ফল অর্জনের নতুন উপায় পাওয়া সম্ভব।
সাহিত্যে নোবেল: অ্যান কারসনের সৃজনশীল লেখালেখির স্বীকৃতি
২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অ্যান কারসন। তাঁর সাহসী ও অভিনব সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে সুইডিশ অ্যাকাডেমি এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
কারসন কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও ধ্রুপদি সাহিত্যের গবেষক হিসেবে পরিচিত। তাঁর লেখায় প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য, দর্শন, প্রেম, স্মৃতি, শোক ও মানুষের অন্তর্জগতের মতো বিষয় নতুন আঙ্গিকে উঠে আসে। কবিতা, গদ্য ও গবেষণামূলক লেখার প্রচলিত সীমানা অতিক্রম করে তিনি নিজস্ব ভাষা ও নির্মাণশৈলী তৈরি করেছেন।
তাঁর কাজের বিশেষত্ব হলো, পুরোনো সাহিত্য ও দর্শনের উপাদানকে সমসাময়িক অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করা। কখনো কবিতা, কখনো প্রবন্ধ, কখনো অনুবাদ কিংবা বিভিন্ন সাহিত্যরীতির মিশ্রণে তিনি পাঠকের সামনে পরিচিত বিষয়কে নতুনভাবে হাজির করেন।
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার শুধু জনপ্রিয়তা বা বই বিক্রির স্বীকৃতি নয়; লেখকের সাহিত্যিক অবদান, সৃজনশীলতা এবং ভাষা ও ভাবনার জগতে তাঁর স্বতন্ত্র অবস্থানকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারসনের পুরস্কার সেই স্বতন্ত্র সাহিত্যভাষা ও প্রচলিত আঙ্গিক নিয়ে তাঁর নিরীক্ষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
অর্থনীতিতে নোবেল: ঘোষণা আসছে ১২ অক্টোবর
২০২৬ সালের নোবেল সপ্তাহের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা বাকি রয়েছে অর্থনীতিতে। ১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
এই পুরস্কারটি আলফ্রেড নোবেলের মূল উইলে উল্লিখিত পাঁচটি নোবেল পুরস্কারের অংশ ছিল না। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সেরিজেস রিক্সব্যাংক, তাদের ৩০০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অর্থনীতিতে এ স্মারক পুরস্কার চালু করে। পরের বছর থেকে এটি দেওয়া শুরু হয়।
অর্থনীতিতে পুরস্কারটি সাধারণত এমন গবেষণাকে স্বীকৃতি দেয়, যা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কার্যক্রম, বাজার, দারিদ্র্য, বৈষম্য, কর্মসংস্থান কিংবা মানুষের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নতুন ধারণা দেয়। তবে ২০২৬ সালের বিজয়ীর নাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এ বিভাগে কারা পুরস্কার পাচ্ছেন, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
নোবেল পুরস্কারের পেছনের ইতিহাস
সুইডিশ উদ্ভাবক, প্রকৌশলী ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালের উইল থেকে নোবেল পুরস্কারের যাত্রা শুরু। তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদের আয় থেকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। প্রথম পুরস্কারগুলো দেওয়া হয় ১৯০১ সালে।
পরবর্তীকালে অর্থনীতিতে স্মারক পুরস্কার যুক্ত হয়। তবে গণিত, ইতিহাস বা সাংবাদিকতার মতো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের জন্য আলাদা নোবেল পুরস্কার নেই। নোবেল পুরস্কারের নির্দিষ্ট বিভাগগুলোতেই সংশ্লিষ্ট কমিটি ও প্রতিষ্ঠান বিজয়ী নির্বাচন করে।
২০২৬ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন প্রতিটি বিভাগে পুরস্কারের অর্থমূল্য বাড়িয়ে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা নির্ধারণ করেছে। পুরস্কারজয়ীরা পদক, সনদ ও অর্থমূল্য পান। আনুষ্ঠানিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যা আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী।
পাঁচ বিভাগে পাঁচ ধরনের অবদান, সামনে অর্থনীতির ঘোষণা
২০২৬ সালের নোবেলজয়ীদের কাজের ক্ষেত্র আলাদা হলেও একটি বিষয় তাঁদের এক জায়গায় যুক্ত করেছে—মানুষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়ানো। নাভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পক্ষে কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন; ডেইসেরথ, হেগেম্যান ও নাগেলের গবেষণা জীবন্ত মস্তিষ্কের কার্যক্রম বোঝার নতুন পথ তৈরি করেছে; হালজেন মহাবিশ্বের দূরবর্তী উৎস থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্তের গবেষণায় অবদান রেখেছেন; কাগাঁ ও সোয়াই রাসায়নিক বিক্রিয়ার মৌলিক রহস্য উন্মোচনে কাজ করেছেন; আর অ্যান কারসন সাহিত্যে নিজের স্বতন্ত্র সৃজনশীল ভাষার জন্য সম্মানিত হয়েছেন।
নোবেল পুরস্কারের গুরুত্ব শুধু বিজয়ীদের নাম ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়। এসব স্বীকৃতি একই সঙ্গে তুলে ধরে, মানবসমাজ কোন প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছে, কোন গবেষণাকে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে এবং ন্যায়বিচার ও সৃজনশীলতার কোন প্রচেষ্টাকে বিশ্বজুড়ে মূল্য দেওয়া হচ্ছে।
এবারের নোবেল সপ্তাহের শেষ বড় ঘোষণা অর্থনীতিতে। ১২ অক্টোবর সেই নাম জানা গেলে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের সব বিভাগের বিজয়ীদের তালিকা পূর্ণ হবে।
কালের আলো/জেএন

আপনার মতামত লিখুন
Array