খুঁজুন
                               
, ,
           

নোবেলজয়ীদের ছবিতে কালো রেখা আর সোনালি আভা কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
নোবেলজয়ীদের ছবিতে কালো রেখা আর সোনালি আভা কেন?

বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর একটি নোবেল। প্রতিবছর এই পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণার অপেক্ষায় থাকে পুরো বিশ্ব। কিন্তু বিজয়ীদের নামের পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ও ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে নোবেল পুরস্কারের পরিচিত অংশ—কালো রেখায় আঁকা মুখ, আর তার পেছনে ঝলমলে সোনালি আভা।

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট, ডিজিটাল আর্কাইভ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মুহূর্তেই তৈরি করা যায় নানা ধরনের প্রতিকৃতি। তাহলে নোবেলজয়ীদের ক্ষেত্রে কেন আলোকচিত্রের বদলে বেছে নেওয়া হয়েছে হাতে আঁকা এই বিশেষ শিল্পরীতি? কেন একই ধরনের রেখা ও সোনালি পটভূমিতে তুলে ধরা হয় বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, চিকিৎসক কিংবা শান্তিতে অবদান রাখা ব্যক্তিদের মুখ?

এর উত্তর শুধু শিল্পীর নান্দনিক পছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংবাদ প্রকাশের বাস্তব প্রয়োজন, একটি স্বতন্ত্র শিল্পভাষার বিকাশ এবং বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি পুরস্কারের নিজস্ব দৃশ্যমান পরিচয় গড়ে তোলার গল্প।

ছবির অভাব থেকেই শুরু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নোবেলজয়ীদের এই বিশেষ প্রতিকৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুইডিশ শিল্পী নিকলাস এলমেহেডের নাম। ২০১২ সালে নোবেল মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, পুরস্কার ঘোষণার মুহূর্তে অনেক বিজয়ীর ভালো মানের ছবি দ্রুত সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। বিজয়ীর নাম প্রকাশের পরপরই সংবাদমাধ্যমকে তাঁর ছবি প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু কোনো গবেষক বা বিজ্ঞানীর উপযুক্ত ছবি সহজে না পাওয়া গেলে খবর প্রকাশে সমস্যা তৈরি হয়। অনলাইনে পাওয়া ছবির মানও সব সময় সংবাদমাধ্যমের ব্যবহারের উপযোগী হয় না।

এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে এলমেহেড হাতে আঁকা প্রতিকৃতি তৈরির পথ বেছে নেন। কালো রেখায় মুখের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলার এই পদ্ধতিতে অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি করা সম্ভব হয় পরিচিতিমূলক ছবি। ফলে দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তৈরি হতে থাকে আলাদা একটি দৃশ্যশৈলী।

একই শৈলীতে কেন তুলে ধরা হয় সব বিজয়ীকে?

নোবেলজয়ীদের প্রত্যেকের কাজ, পরিচিতি ও অর্জন আলাদা। কেউ পদার্থবিজ্ঞানের জটিল সূত্র নিয়ে গবেষণা করেন, কেউ নতুন ওষুধ বা চিকিৎসাপদ্ধতির বিকাশে অবদান রাখেন, কেউ সাহিত্যে নতুন ভাবনার জন্ম দেন, আবার কেউ শান্তি ও মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করেন।

এত বৈচিত্র্যের পরও তাঁদের প্রতিকৃতিতে একটি অভিন্ন শৈলী বজায় রাখা হয়। এর ফলে প্রতিটি ছবি আলাদাভাবে ব্যক্তির পরিচয় বহন করলেও সবগুলো একসঙ্গে নোবেল পুরস্কারের একটি সমন্বিত দৃশ্যমান পরিচয় তৈরি করে।

এটি একধরনের ব্র্যান্ডিংও। কোনো সংবাদে কালো রেখায় আঁকা মুখের সঙ্গে সোনালি আভা দেখা গেলে অনেক দর্শক সহজেই সেটিকে নোবেল পুরস্কারের ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন। বারবার একই ধরনের ছবি ব্যবহারের ফলে এই দৃশ্যশৈলী মানুষের মনে স্থায়ী পরিচিতি পেয়েছে।

কালো রেখার মধ্যেই মুখের পরিচয়

এই প্রতিকৃতির অন্যতম আকর্ষণ হলো এর সরলতা। মুখের প্রতিটি খুঁটিনাটি আলোকচিত্রের মতো ফুটিয়ে তোলার পরিবর্তে শিল্পী গুরুত্ব দেন চোখ, নাক, ঠোঁট, চুল ও মুখের গড়নের মতো প্রধান বৈশিষ্ট্যে।

গাঢ় কালো রেখা ছবিকে দেয় দৃঢ়তা। অপ্রয়োজনীয় রং ও জটিল ছায়া কম থাকায় ছোট আকারেও মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট থাকে। সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট, মোবাইল স্ক্রিন কিংবা সংবাদপত্র—বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই সরলতা কার্যকর।

তবে ছবিগুলোর বিশেষত্ব শুধু সহজে চেনা যায় এমন হওয়া নয়। হাতে আঁকা রেখা প্রতিটি প্রতিকৃতিতে একটি শিল্পিত অনুভূতি যোগ করে। ফলে ছবিগুলো নিছক পরিচিতিমূলক ছবি না থেকে নিজস্ব নান্দনিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিল্পকর্মে পরিণত হয়েছে।

সোনালি আভা এল কীভাবে?

কালো রেখায় আঁকা মুখের সঙ্গে সোনালি রঙের ব্যবহার প্রতিকৃতিগুলোকে আরও স্বতন্ত্র করেছে। তবে বর্তমানের পরিচিত এই রূপ শুরু থেকেই ছিল না।

নোবেল পুরস্কারের ব্র্যান্ড পরিচয়ে সোনালি রঙের গুরুত্ব বাড়ার পর প্রতিকৃতিতেও এর ব্যবহার নতুন মাত্রা পায়। ২০১৮ সাল থেকে এলমেহেড তাঁর প্রতিকৃতিতে আসল গোল্ড ফয়েল বা সোনার পাত ব্যবহার শুরু করেন বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

সোনালি রং নোবেল পদকের ঐতিহ্যের সঙ্গে দৃশ্যগত সম্পর্ক তৈরি করে। কালো রেখার সঙ্গে উজ্জ্বল সোনালি পাতের বৈপরীত্য ছবিকে দেয় আলাদা আকর্ষণ। ফলে প্রতিকৃতিগুলো সাধারণ ছবি থেকে আলাদা হয়ে ওঠে এবং দূর থেকেই সহজে নজরে পড়ে।

এখানে সোনালি আভা শুধু সাজসজ্জার উপাদান নয়; এটি নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা ও পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি দৃশ্যমান সংকেত হিসেবেও কাজ করে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও হাতে আঁকা প্রতিকৃতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে এখন ছবি তৈরি ও সম্পাদনার পদ্ধতি অনেক সহজ হয়েছে। কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েই তৈরি করা যায় নানা ধরনের ডিজিটাল প্রতিকৃতি। এমন সময়ে নোবেলজয়ীদের হাতে আঁকা ছবিগুলো বিশেষভাবে নজর কাড়ে।

এই প্রতিকৃতি তৈরিতে কালো অ্যাক্রিলিক রং ও মার্কার দিয়ে মুখের রেখা আঁকা হয়। এরপর বিশেষ আঠার সাহায্যে যুক্ত করা হয় ধাতব সোনার পাত। অর্থাৎ ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও ছবিগুলোর পেছনে রয়েছে বাস্তব উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা শিল্পকর্ম।

এই হাতে তৈরি বৈশিষ্ট্য ছবিগুলোকে আরও আলাদা করে। একই সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট শৈলী অনুসরণ করেও প্রতিটি মুখের নিজস্বতা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

একটি প্রতিকৃতি, দুটি পরিচয়

নোবেলজয়ীদের এই ছবির দিকে তাকালে দুটি বিষয় একসঙ্গে সামনে আসে। প্রথমত, প্রতিকৃতিটি নির্দিষ্ট একজন মানুষের মুখ ও পরিচয় তুলে ধরে। দ্বিতীয়ত, একই শিল্পরীতির কারণে ছবিটি নোবেল পুরস্কারের বৃহত্তর পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।

এ কারণেই প্রতিকৃতিগুলো শুধু বিজয়ীর ছবি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না; নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা ঘিরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক সংবাদপ্রবাহেরও একটি পরিচিত দৃশ্যমান উপাদান হয়ে উঠেছে।

একসময় দ্রুত ছবি সংগ্রহের সমস্যার সমাধান হিসেবে শুরু হওয়া উদ্যোগ এখন শিল্প, সংবাদ উপস্থাপন ও ব্র্যান্ড পরিচয়ের সমন্বিত উদাহরণ। প্রয়োজন থেকে জন্ম নেওয়া এই শৈলী সময়ের সঙ্গে নিজস্ব ঐতিহ্য তৈরি করেছে।

নোবেলজয়ীদের কালো রেখায় আঁকা মুখ আর সোনালি আভা তাই কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রয়োজন, শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা এবং একটি বিশ্বখ্যাত পুরস্কারকে আলাদা করে চেনানোর দীর্ঘ প্রক্রিয়া। প্রতিবছর বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিকৃতিগুলোও সামনে আসে—আর সেই পরিচিত দৃশ্যই মনে করিয়ে দেয়, কখনো কখনো একটি ছোট সমাধানও সময়ের সঙ্গে বড় ঐতিহ্যে পরিণত হতে পারে।

কালের আলো/জেএন

মওদুদীর মুক্তির দাবিতে উপমহাদেশের আলেমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন: মামুনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
মওদুদীর মুক্তির দাবিতে উপমহাদেশের আলেমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন: মামুনুল হক

কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনের সময় মাওলানা মওদুদীর মুক্তির দাবিতে উপমহাদেশের দেওবন্দি আলেমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।

সম্প্রতি জামিয়াতুত তারবিয়াহ আল ইসলামিয়ায় আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, ‘কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার মাসআলায় মাওলানা মওদুদী সাহেবের ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসনীয় ছিল। তখন কেবল তাঁকে সঙ্গে নিয়েই আন্দোলন করা হয়নি, বরং তাঁর মুক্তির দাবিতে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ গোটা উপমহাদেশের দেওবন্দের সব ওলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে আন্দোলন করেছেন।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও দুঃশাসন থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখেছে। এ অর্জন বাস্তবায়নে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশসহ রাজপথের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অজুহাত ও বাহানা তৈরি করে কেউ যদি জুলাইয়ের অর্জনকে নস্যাৎ করা কিংবা বিভক্ত করার চেষ্টা করে, তবে তা হবে আত্মঘাতী। দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভেনথাম নাভি পিলাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভেনথাম নাভি পিলাই

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক বিচারক নাভেনথাম নাভি পিলাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।

নোবেল কমিটি জানায়, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের সময় ডারবানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তামিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিলাই। পেশাগত জীবনে তিনি আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি অর্জন করেন। জীবনের শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন এবং নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে কাজ করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

সম্প্রতি ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অপরাধ তদন্তে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনে কাজ করেন তিনি। বর্তমানে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যুক্ত রয়েছেন।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, নাভি পিলাইকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এসব আইন শান্তিপূর্ণভাবে সংঘাতের সমাধান এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাঠামো হিসেবে কাজ করে।

এর আগে ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। দেশটিতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের আন্দোলনে ভূমিকার জন্য তাঁকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। অন্যদিকে, ১৯৯৫ সালে ৮৬ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন জোসেফ রোটব্লাট।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ ও ই-কমার্সের প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় রূপান্তরের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ডাক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ তাগিদ দেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিদ্যমান ডাক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স লজিস্টিকস, পার্সেল পরিবহন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ডাক বিভাগের সেবাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, ডাক বিভাগের আধুনিকায়নে তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় ডাক বিভাগের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ছয়টি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—ডিজিটাল ডাকঘর প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত ডাক তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, ই-কমার্স লজিস্টিকস হাব তৈরি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ, তথ্যনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব ডাকব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী ও ডাকসেবাবিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৯ ও ১০ অক্টোবর সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম ছাড়া ডাক বিভাগের সব পর্যায়ের কার্যালয়ে ডাকসেবা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত ও আধুনিক ডাক নেটওয়ার্ক দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি