খুঁজুন
                               
, ,
           

একটি গাণিতিক ধাঁধার সমাধানেই ভেঙে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা!

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
একটি গাণিতিক ধাঁধার সমাধানেই ভেঙে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা!
গণিতের জগতে এমন কিছু সমস্যা রয়েছে, যেগুলোর সমাধান খুঁজতে বছরের পর বছর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকেরা। এসব সমস্যার কোনোটি সংখ্যা তত্ত্বের গভীর রহস্য উন্মোচনের সঙ্গে যুক্ত, আবার কোনোটি আধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তার ভিত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো বড় সংখ্যাকে তার মৌলিক উৎপাদকে বিশ্লেষণ করা। বিষয়টি সাধারণ গাণিতিক হিসাবের মতো মনে হলেও, অনেক বড় সংখ্যার ক্ষেত্রে এর সমাধান খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন।

এই সমস্যার সমাধান শুধু গণিতবিদদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইন্টারনেটে তথ্যের নিরাপত্তা, অনলাইন ব্যাংকিং, ডিজিটাল লেনদেন এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার মতো বিষয়ও।

ছোট সংখ্যা ভাঙা সহজ, বড় সংখ্যায় কেন কঠিন?

ধরা যাক, একটি সংখ্যা ৯১। কোন দুটি মৌলিক সংখ্যার গুণফল ৯১, তা বের করতে খুব বেশি সময় লাগে না। কারণ, ৭ ও ১৩ গুণ করলে পাওয়া যায় ৯১। অর্থাৎ, ৯১-এর মৌলিক উৎপাদক ৭ ও ১৩।

কিন্তু সংখ্যাটি যদি হয় ১২৫৮৯৪৫৮৬২৮৫, তাহলে কাজটি তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে যায়। সংখ্যাটি কোন কোন মৌলিক সংখ্যার গুণফল, তা খুঁজে বের করতে আরও বেশি হিসাব করতে হতে পারে। আর সংখ্যা যত বড় হয়, উপযুক্ত পদ্ধতি ছাড়া তার মৌলিক উৎপাদক নির্ণয় করা তত জটিল হয়ে উঠতে পারে।

মৌলিক সংখ্যা হলো এমন স্বাভাবিক সংখ্যা, যাকে ১ এবং সেই সংখ্যা ছাড়া অন্য কোনো স্বাভাবিক সংখ্যা দিয়ে নিঃশেষে ভাগ করা যায় না। যেমন ২, ৩, ৫, ৭, ১১ ও ১৩ মৌলিক সংখ্যা। কোনো সংখ্যাকে মৌলিক সংখ্যার গুণফল হিসেবে প্রকাশ করাকে বলা হয় মৌলিক উৎপাদকে বিশ্লেষণ।

ছোট সংখ্যার ক্ষেত্রে এ কাজ সহজ হলেও কয়েক শ অঙ্কের সংখ্যার মৌলিক উৎপাদক নির্ণয় করা অনেক কঠিন হতে পারে। এ ধরনের সংখ্যার ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর পদ্ধতি ব্যবহার করা জরুরি।

এই সমস্যার সমাধান এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

বড় সংখ্যার মৌলিক উৎপাদক নির্ণয়ের সমস্যা আধুনিক ক্রিপ্টোগ্রাফির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। ক্রিপ্টোগ্রাফি হলো তথ্যকে এমনভাবে সুরক্ষিত করার প্রযুক্তি, যাতে অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ সেই তথ্য সহজে বুঝতে বা ব্যবহার করতে না পারে।

ইন্টারনেটে তথ্য আদান-প্রদান, অনলাইন লেনদেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় তথ্য সুরক্ষার জন্য নানা ধরনের ক্রিপ্টোগ্রাফিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে আরএসএ (RSA) নামের বহুল পরিচিত একটি এনক্রিপশন পদ্ধতির নিরাপত্তা বড় সংখ্যার মৌলিক উৎপাদক নির্ণয়ের জটিলতার ওপর নির্ভর করে।

আরএসএ পদ্ধতিতে দুটি বড় মৌলিক সংখ্যার গুণফল ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট ধরনের গণিতভিত্তিক চাবি তৈরি করা হয়। এই গুণফল জানা থাকলেও, সংশ্লিষ্ট মৌলিক সংখ্যা দুটি দ্রুত বের করা কঠিন হওয়াই পদ্ধতিটির নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

তবে সব এনক্রিপশন পদ্ধতি একই নীতিতে কাজ করে না। তাই বড় সংখ্যার উৎপাদক নির্ণয়ের সমস্যা সমাধান হলেই ইন্টারনেটের সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা একসঙ্গে অকার্যকর হয়ে যাবে—এমন সিদ্ধান্ত ঠিক নয়।

সমাধান মিললে কি অনলাইন ব্যাংকিং ঝুঁকিতে পড়বে?

বড় সংখ্যার মৌলিক উৎপাদক দ্রুত বের করার জন্য যদি এমন কোনো কার্যকর পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়, যা প্রচলিত কম্পিউটারেও বাস্তবে ব্যবহার করা সম্ভব, তাহলে আরএসএর মতো কিছু ক্রিপ্টোগ্রাফিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

কারণ, কোনো ব্যবস্থার গোপন চাবি নির্ণয় করা সম্ভব হলে এনক্রিপ্ট করা তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়তে পারে নিরাপদ ওয়েবসাইটে তথ্য আদান-প্রদান, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের কিছু ব্যবস্থায়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, একটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান হলেই পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়বে। ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করবে আবিষ্কৃত পদ্ধতিটি কতটা কার্যকর, কোন ধরনের এনক্রিপশন ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প নিরাপত্তাব্যবস্থায় কত দ্রুত যেতে পারছে—এসব বিষয়ের ওপর।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার কি বদলে দিতে পারে পরিস্থিতি?

প্রচলিত কম্পিউটারে বড় সংখ্যার মৌলিক উৎপাদক বের করা কঠিন হতে পারে। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে, পর্যাপ্ত শক্তিশালী ও ত্রুটিসংশোধন সক্ষম কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে শোরের অ্যালগরিদমের মাধ্যমে বড় সংখ্যার উৎপাদক নির্ণয় করা সম্ভব।

এই কারণে ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে। তবে বর্তমানে বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী পর্যাপ্ত ক্ষমতাসম্পন্ন কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থায় ব্যবহৃত বড় সংখ্যাগুলোকে ব্যাপকভাবে ভেঙে ফেলার সক্ষমতা অর্জন করা হয়েছে—এমন দাবি করা যায় না।

এ ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষকেরা পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি নিয়ে কাজ করছেন। এসব পদ্ধতির লক্ষ্য হলো এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বিরুদ্ধেও নিরাপদ থাকবে।

অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে পুরস্কারও রয়েছে

বড় সংখ্যার মৌলিক উৎপাদক নির্ণয়ের সমস্যা নিয়ে গবেষণা শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার জন্য নয়, গণিতের অগ্রগতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সমস্যার সমাধানে নতুন গাণিতিক পদ্ধতি, অ্যালগরিদম ও কম্পিউটেশনাল কৌশল আবিষ্কারের সুযোগ রয়েছে।

তবে এই সমস্যার সমাধানের জন্য যে কেউ সরাসরি এক লাখ ডলার পুরস্কার পাবেন, এমন দাবি করার আগে নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতা বা পুরস্কার কর্মসূচির শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন। সব অমীমাংসিত গাণিতিক সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট অর্থমূল্যের পুরস্কার থাকে না।

গণিতের এই ধাঁধা তাই একই সঙ্গে কৌতূহলোদ্দীপক ও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট একটি সংখ্যাকে কয়েকটি মৌলিক সংখ্যার গুণফলে ভাঙা সহজ হলেও, বিশাল সংখ্যার ক্ষেত্রে সেই কাজই আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এর সমাধানে অগ্রগতি গণিতের জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের ডিজিটাল নিরাপত্তাব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজনও তৈরি করতে পারে।

কালের আলো/এসএ

জলবায়ু অর্থায়নে কার্যকর বিনিয়োগ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব মঈন খানের, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উন্মুক্ত সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
জলবায়ু অর্থায়নে কার্যকর বিনিয়োগ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব মঈন খানের, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উন্মুক্ত সরকার

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও দেশের মানুষের কল্যাণকে একই উন্নয়ন কাঠামোয় যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা এবং বাস্তবভিত্তিক নীতি প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণে সরকার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বেসরকারি সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত ‘প্যারিস থেকে আন্তালিয়া: প্রকৃতির জন্য জলবায়ু অর্থায়নের পর্যালোচনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে দেশীয় জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

  • জনকল্যাণমুখী নীতি প্রণয়নে সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ গ্রহণে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানালেন মন্ত্রী
  • ঋণের স্বচ্ছ ব্যবহার, উন্নয়ন ও পরিবেশের সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে জলবায়ু সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান জনগণ দ্বারা নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার সুশীল সমাজ এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। আমরা এমন একটি নীতি প্রণয়ন করতে চাই যা সত্যিই দেশের মানুষের কল্যাণে আসবে।’

জলবায়ু অর্থায়নে জনস্বার্থ ও বিশেষজ্ঞ মতামতের গুরুত্ব
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং অর্থায়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি সংলাপে গুরুত্ব পায়। মন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান, সুশীল সমাজের সুপারিশ এবং জনস্বার্থকে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করার গুরুত্ব উঠে আসে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অর্থের সংস্থান যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই অর্থের ব্যবহারও হতে হবে পরিকল্পিত ও জনকল্যাণমুখী। পরিবেশ সুরক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল বিবেচনায় নিয়ে নীতি প্রণয়ন করলে জলবায়ু অর্থায়নকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়।

জলবায়ু সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দায়বদ্ধতার ওপর জোর
বৈশ্বিক জলবায়ু পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ড. মঈন খান জাতিসংঘে পরিবেশবিষয়ক তাঁর ৩৫ বছর আগের একটি ভাষণের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে যেসব মৌলিক বিষয় আলোচনায় এসেছিল, তার মধ্যে দূষণকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নীতিও ছিল। বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অংশ।

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে মনে হয়, আজ আমরা অনুভব করছি যে, ৩৫ বছর আগে আমরা জাতিসংঘে যেসব পরিবেশগত শঙ্কা ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছিলাম, আজও আমরা সেগুলোই পুনর্ব্যক্ত করছি। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে তাদের দায়ভার গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে আমাদের সামগ্রিক বৈশ্বিক পরিবেশ প্রতিনিয়ত সংকটাপন্ন হচ্ছে।’ তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা, অর্থায়ন এবং পরিবেশগত দায়িত্ব পালনের সমন্বয় বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয়ে টেকসই ভবিষ্যৎ
উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিনির্ধারণী বাস্তবতা তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, জনগণ রাস্তাঘাট, অবকাঠামো ও শিল্পের উন্নয়ন প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি জনগণের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্মুক্ত মনোভাবের উল্লেখ করে বলেন, ‘তাঁর উদাহরণ এ দেশের মানুষের জন্য শিক্ষণীয়।’ দেশের মানুষের কল্যাণে কার্যকর নীতি প্রণয়নে পরামর্শ গ্রহণে সরকারের উন্মুক্ত থাকার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে অংশীজনদের মতবিনিময় ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

ঋণের অর্থ সঠিক খাতে বিনিয়োগই উন্নয়নের মূল বিবেচনা
জলবায়ু অর্থায়ন ও জাতীয় ঋণ প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, ঋণ গ্রহণ নিজেই বড় সমস্যা নয়; বরং সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই মূল বিবেচ্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করলেও আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ ঋণগ্রস্ত দরিদ্র দেশের তালিকায় পড়েনি। তাঁর মতে, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশের শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট অর্থনীতির আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে সচল রাখতে সহায়তা করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির পুনর্গঠনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করা হলে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন করা একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল হতে পারে, যদি তা স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়।’ এখানে উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ভাষ্যে। জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অভিযোজনমূলক উদ্যোগে অর্থের পরিকল্পিত ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদি সুফল অর্জনে সহায়ক হতে পারে।

পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা ও স্থানীয় অংশগ্রহণ
প্রকৃতি সংরক্ষণে জনসচেতনতার ভূমিকা তুলে ধরে ড. মঈন খান নেপালের একটি ঐতিহাসিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদাহরণ দেন। তিনি দেখান, জনসচেতনতা ও পরিবেশগত আন্দোলন প্রকৃতি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোকে শুধু তারকা হোটেলের বলরুমে আয়োজিত আলোচনা বা প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংলাপে ড. মঈন খানের বক্তব্যে জলবায়ু অর্থায়ন, স্বচ্ছ বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কালের আলো/এমএএএমকে

ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর প্রাসাদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর প্রাসাদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের অস্থায়ী রাজধানী এডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। তবে হামলার সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী শায়া মোহসেন জিনদানি ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-এরিয়ানি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়।

এর আগে প্রাসাদের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সংবাদদাতারা।

তবে এ হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পঞ্চবটি–মুক্তারপুর দোতলা সড়ক নির্মাণে মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিতে কঠোর মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
পঞ্চবটি–মুক্তারপুর দোতলা সড়ক নির্মাণে মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিতে কঠোর মন্ত্রী

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 82?

পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও নির্মাণের গুণগত মান, স্থায়িত্ব ও নান্দনিকতার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে চান না সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। আধুনিক, টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মাণে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকল্পের চলমান নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে সুরক্ষা দেয়াল ও শাটারিংয়ের কাজের মান যথাযথভাবে বজায় রাখা এবং পার্শ্ববর্তী দেয়ালের ফিনিশিং আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নির্মাণকাজে প্রকৌশলগত উৎকর্ষের পাশাপাশি স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন। তাঁর এ অবস্থান থেকে স্পষ্ট, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি অবকাঠামোর মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • পরিদর্শনে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
  • দোতলা সড়কের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ
  • সুরক্ষা দেয়াল, শাটারিং ও ফিনিশিংয়ের মান নিশ্চিত করার তাগিদ

‘অবকাঠামো নির্মাণে শুধু কাজ সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়’
নির্মাণশৈলী, গুণগত মান ও নান্দনিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্মাণশৈলী একটি দেশের সক্ষমতা ও কারিগরি দক্ষতার পরিচায়ক। তাই অবকাঠামো নির্মাণে শুধু কাজ সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়; এর গুণগত মান, স্থায়িত্ব, সৌন্দর্য ও সামগ্রিক নির্মাণশৈলীও যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।’ মন্ত্রীর এই বক্তব্যে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে মান ও সৌন্দর্যের সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি প্রকল্পের সুরক্ষা দেয়াল ও শাটারিংয়ের কাজের মান যথাযথভাবে বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেয়ালের ফিনিশিং আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এ সময় নির্ধারিত মান অনুসরণ করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। প্রকৌশলগত উৎকর্ষের পাশাপাশি স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ প্রকল্পের সামগ্রিক নির্মাণমান ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের বিষয়টিকে সামনে এনেছে।

ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ, আর্থিক অগ্রগতি ৮২.৮৬ শতাংশ
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮২.৮৬ শতাংশ। প্রকল্পটির আওতায় পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণের পাশাপাশি দোতলা সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের এই অগ্রগতি নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সড়কের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ অঞ্চলে যানবাহন চলাচল আরও সহজ করা এবং যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ মন্ত্রীকে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

নারায়ণগঞ্জ–মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগে বাড়বে গতি
পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক করিডর নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ, নির্বিঘ্ন ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যানজট হ্রাস এবং শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা বৃদ্ধিতেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পণ্য পরিবহনে সময় সাশ্রয় হলে সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ বিবেচনায় পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়কের উন্নয়ন আঞ্চলিক যোগাযোগের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

দোতলা সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যমান যোগাযোগ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর এ উদ্যোগ এ অঞ্চলের পরিবহন চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। প্রকল্পটি চালু হলে সড়ক যোগাযোগের সুবিধা বৃদ্ধি, যাতায়াতের সময় কমানো এবং শিল্পপণ্য পরিবহনে গতি সঞ্চারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা, প্রকৌশলী, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে