খুঁজুন
                               
, ,
           

পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে সৌরশক্তি

রাঙ্গামাটি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ
পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে সৌরশক্তি

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে জলবিদ্যুতের পাশাপাশি সৌরশক্তি থেকেও উৎপাদিত হচ্ছে বিদ্যুৎ। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা পাহাড়ি জমিতে স্থাপিত কর্ণফুলী সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিয়মিত যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। গত প্রায় সাত বছরে কেন্দ্রটি থেকে ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, অব্যবহৃত জমিকে কাজে লাগিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের এ উদ্যোগ দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

পরিত্যক্ত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

কাপ্তাই বাঁধের পাশে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রায় ২২ একর পরিত্যক্ত জমি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ছিল। সেই জমির মধ্যে ১৯ একর জায়গায় ২০১৯ সালে স্থাপন করা হয় কর্ণফুলী সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কেন্দ্রটির উৎপাদনক্ষমতা ৭ মেগাওয়াট। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১১১ কোটি টাকা।

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালুর পর থেকে উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে আগে অব্যবহৃত থাকা জমি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পদ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

সাত বছরে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

কেন্দ্রটি থেকে গত প্রায় সাত বছরে ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এর বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি অব্যবহৃত জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্যতম সুবিধা হলো পরিচালনায় তুলনামূলক কম জনবল প্রয়োজন হয়। সৌর প্যানেল পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই এর প্রধান কাজ। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন কিছুটা কমে যেতে পারে। তা সত্ত্বেও এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না।

কম পরিচালন ব্যয়ে উৎপাদনের সম্ভাবনা

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বেশ লাভজনক। এটি পরিচালনায় জনবল ও ব্যয় তুলনামূলক কম। নিয়মিত সৌর প্যানেল পরিষ্কার রাখাই মূল রক্ষণাবেক্ষণের কাজ।

তিনি জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয় না। পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পর সৌরশক্তিতে নতুন সংযোজন

কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, ১৯৬২ সালে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ৫৭ বছর পর ৭ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। পরিত্যক্ত জমির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ প্রকল্প সৌরশক্তির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের নতুন উৎস তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হচ্ছে। এতে অব্যবহৃত জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগও বাড়ছে।

উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে দুটি উদ্যোগ

কাপ্তাইয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে দুটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর মধ্যে বিদ্যমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদনক্ষমতা আরও ১ মেগাওয়াট বাড়ানোর কাজ চলছে। এতে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে।

পাশাপাশি কাপ্তাই উপজেলার ইটভাটা এলাকায় ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ওই অঞ্চলে সৌরশক্তিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিসর আরও বাড়বে।

পাহাড়ি অঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে উপযোগী ও অব্যবহৃত জমি চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা গেলে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে যে জমি দীর্ঘদিন কোনো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না, সেখানে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের প্রকল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে জমির উপযোগিতা, আবহাওয়া, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদন ব্যয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বাবা হারিয়েছেন আড়াই বছরেই, মায়ের সংগ্রামে শরিফুলের বিসিএস জয়

খুলনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
বাবা হারিয়েছেন আড়াই বছরেই, মায়ের সংগ্রামে শরিফুলের বিসিএস জয়

বাবা মারা যান যখন তাঁর বয়স মাত্র আড়াই বছর। তিন সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েন মা আমেনা বেগম। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করেছেন, কখনো বিলে মাছ ধরেছেন। সংসারের অভাব মেটাতে ছুটেছেন বাড়ি থেকে ১৫-২০ কিলোমিটার দূরেও। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আইলায় ভেঙে যায় ঘরবাড়ি। তবু সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন ছাড়েননি তিনি। মায়ের সেই সংগ্রাম আর নিজের অধ্যবসায়কে সঙ্গী করে একসময় গ্রামের কলেজ থেকে সুযোগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। পড়াশোনা শেষে যোগ দেন জনতা ব্যাংকে। চাকরির পাশাপাশি চালিয়ে যান বিসিএসের প্রস্তুতি। অবশেষে ৪৫তম বিসিএসে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন খুলনার কয়রা উপজেলার বামিয়া গ্রামের মো. শরিফুল ইসলাম। শরিফুলের এই অর্জন কেবল একটি চাকরি পাওয়ার গল্প নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একজন মায়ের দীর্ঘদিনের আত্মত্যাগ, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই এবং সন্তানের স্বপ্ন পূরণে অবিচল থাকার কাহিনি।

আড়াই বছর বয়সে বাবাকে হারানো

শরিফুল ইসলামের বাবা তফেজ উদ্দীন পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রি। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। তখন শরিফুলের বয়স মাত্র আড়াই বছর। স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন আমেনা বেগম। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৪-২৫ বছর। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নতুন করে সংসার গড়ার সুযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে সন্তানদের বড় করে তোলা এবং তাদের শিক্ষিত করাকেই জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নেন। শুরুর দিকে শরিফুলদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর নানা। নাতিদের খাবারের ব্যবস্থা করতে সপ্তাহে একবার বাজার করে দিতেন। মেয়ের নামে এক বিঘা জমিও লিখে দিয়েছিলেন। সেই সহযোগিতা পরিবারটির বেঁচে থাকার লড়াইয়ে কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। কিন্তু ২০০৯ সালের দিকে নানার মৃত্যুর পর সেই আশ্রয়ও হারিয়ে যায়। সংসারের দায়িত্ব আরও বেশি করে এসে পড়ে আমেনা বেগমের কাঁধে।

আইলায় ভেঙে যায় ঘর, থেমে থাকেনি লড়াই

২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে তাঁদের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। পানির মধ্যে উঁচু তক্তার ওপর খাট রেখে দিন কাটাতে হয়েছে তাঁদের। ২০১২ সাল পর্যন্ত নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় পরিবারটিকে। সংসার চালাতে আমেনা বেগম কখনো বিলে মাছ ধরেছেন, কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করেছেন। জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ি থেকে ১৫-২০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ৪০ দিনের কর্মসূচিতেও কাজ করেছেন। একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ—সবকিছু সামলাতে গিয়ে প্রতিদিনই তাঁকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু অভাবের কারণে সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক, তা চাননি তিনি। মায়ের এই নিরন্তর সংগ্রামই ধীরে ধীরে শরিফুলের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনে। ছোটবেলায় পড়াশোনায় খুব একটা মনোযোগী না থাকলেও একসময় তিনি বুঝতে পারেন, নিজের জীবন বদলানোর অন্যতম পথ শিক্ষা।

অষ্টম শ্রেণি থেকেই বদলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

শরিফুল জানান, ছোটবেলায় পড়াশোনার প্রতি তাঁর খুব বেশি আগ্রহ ছিল না। তবে অষ্টম শ্রেণির শেষ দিকে তিনি পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মায়ের কষ্ট এবং পরিবারের আর্থিক সংকট তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। এ সময় বড় ভাইয়ের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনাও তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়। ধীরে ধীরে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ বাড়ান তিনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ২০১৩ সালে বামিয়া এমএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন শরিফুল। ফল ভালো হলেও আর্থিক সংকট তাঁর পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শহরের সরকারি কলেজে পড়ার সুযোগ না পেয়ে ভর্তি হন কয়রার খান সাহেব কোমর উদ্দীন ডিগ্রি কলেজে। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করতে থাকেন। নিজের লক্ষ্য পূরণে প্রতিদিন ১৪-১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি।

গ্রামের কলেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

অভাব-অনটনকে সঙ্গী করেই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেছিলেন শরিফুল। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বড় সাফল্য আসে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়। ভর্তি পরীক্ষায় ৮১ দশমিক ২৫ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় ৩৪৪তম স্থান অর্জন করেন তিনি। সুযোগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়ার। গ্রামের একটি কলেজ থেকে পড়াশোনা করে দেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ তাঁর জীবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে। তবে ঢাকায় পড়াশোনার খরচ চালানো সহজ ছিল না। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিজের খরচের বড় একটি অংশ জোগাতে টিউশনি করতে হয়েছে তাঁকে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র এবং যেসব পরিবারের সন্তানদের তিনি পড়াতেন, তাঁদের কাছ থেকেও সহযোগিতা পেয়েছেন শরিফুল। নানা মানুষের সহায়তা ও নিজের পরিশ্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি।

জনতা ব্যাংকের চাকরির পাশাপাশি বিসিএস প্রস্তুতি

পড়াশোনা শেষ করে ২০২৪ সালে জনতা ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন শরিফুল ইসলাম। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি তিনি। কর্মব্যস্ততার মধ্যেই চালিয়ে যান প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন মা আমেনা বেগম, বড় ভাই এবং স্ত্রী রাবিনা সুলতানা। পরিবারের সমর্থন তাঁকে লক্ষ্য ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। প্রথম দুটি বিসিএসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না এলেও হাল ছাড়েননি শরিফুল। ধারাবাহিক চেষ্টা চালিয়ে যান। পরে ৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। ৪০তম বিসিএসেও উত্তীর্ণ হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অবশেষে ৪৫তম বিসিএসে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যান শরিফুল। তাঁর এ অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং পরিবারের নিরন্তর সমর্থন।

শুধু নিজের নয়, অন্য শিক্ষার্থীদের স্বপ্নও পূরণ করতে চান

শরিফুল মনে করেন, আর্থিক সংকট ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ে। যোগ্যতা ও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে অনেকে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পায় না। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝেছেন, একজন শিক্ষার্থীর এগিয়ে যাওয়ার পথে আর্থিক সহায়তা, পরিবারের সমর্থন এবং সঠিক দিকনির্দেশনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবিষ্যতে তাঁর মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চান তিনি। শরিফুলের লক্ষ্য, শুধু নিজের সাফল্যে থেমে না থেকে অন্যদেরও স্বপ্নপূরণে সহযোগিতা করা। কোনো শিক্ষার্থী যেন কেবল অভাবের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য না হয়—এমন পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চান তিনি।

মায়ের সংগ্রামের সার্থকতা

যে মা একসময় সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে অন্যের বাড়িতে কাজ করেছেন, বিলে মাছ ধরেছেন, দূরে গিয়ে শ্রম দিয়েছেন—আজ তাঁর সেই সন্তান বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। শরিফুলের এ সাফল্য আমেনা বেগমের দীর্ঘ সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে এই গল্পে শুধু সাফল্যের আনন্দ নেই; আছে দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রিয়জন হারানো এবং বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা। প্রতিটি বাধার মধ্যেও মা ও ছেলে নিজেদের স্বপ্ন আঁকড়ে রেখেছেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

জাতীয় দলে ফিরতে চান জাহানারা, ফিরতে হলে মানতে হবে যে শর্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
জাতীয় দলে ফিরতে চান জাহানারা, ফিরতে হলে মানতে হবে যে শর্ত
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও পেসার জাহানারা আলম আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামতে চান। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকা এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার জাতীয় দলে ফেরার আগ্রহ জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে দলে ফিরতে হলে তাঁকে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে।

ফেরার আগ্রহ জানালেন জাহানারা

জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ২০২৪ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলেছিলেন জাহানারা। এরপর থেকে তাঁকে আর লাল-সবুজ জার্সিতে দেখা যায়নি। এবার আবারও জাতীয় দলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই পেসার।

বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে জাহানারার যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জাতীয় দলে ফেরার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাহানারার ফিটনেস ও মাঠের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে।

ফিটনেস পরীক্ষা ও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার শর্ত

জাহানারার জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, ‘হ্যাঁ, সে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে নির্বাচকরা আছেন, সবাই দেখবেন সে ফিট আছে কি না। ফিটনেস টেস্টে তাকে উত্তীর্ণ হতে হবে।’

তিনি আরও জানান, জাতীয় দলে ফেরার পরবর্তী ধাপে যেতে হলে জাহানারাকে দেশে এসে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে হবে। সেখানে তাঁর পারফরম্যান্স ও শারীরিক সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবেন নির্বাচকেরা।

রফিকুল ইসলাম বাবুর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলা এবং জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলেই জাহানারাকে দলে ফেরানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণে বিরতি

দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন জাহানারা। তবে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণ দেখিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় দল থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার কথা বিসিবিকে জানিয়েছিলেন তিনি।

এরপর একই বছরের শেষদিকে দলের টিম ম্যানেজমেন্টের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে আলোচনায় আসেন এই ক্রিকেটার। পরবর্তী সময়ে বিসিবি নিজস্ব স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জাহানারার পরিসংখ্যান

২০১১ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় জাহানারা আলমের। এরপর বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে ৪৮টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ৬০টি উইকেট শিকার করেন তিনি। অভিজ্ঞ এই পেসার দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বোলিং বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এদিকে, সামনে নারী ক্রিকেটারদের নিয়ে বেশ কয়েকটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির। এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলে ফেরার জন্য নিজের প্রস্তুতি ও সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে জাহানারাকে।

জাতীয় দলে ফেরার সিদ্ধান্ত এখন মাঠের পারফরম্যান্সে

বিসিবির বক্তব্য অনুযায়ী, জাহানারার জন্য জাতীয় দলের দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়। তবে ফেরার পথ নির্ভর করছে তাঁর ফিটনেস, ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণ এবং পারফরম্যান্সের ওপর। কোন ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলবেন, সে সিদ্ধান্তও তাঁকেই নিতে হবে।

দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফেরার এই প্রচেষ্টায় জাহানারা কতটা সফল হন, তা নির্ধারণ করবে তাঁর মাঠের পারফরম্যান্স ও নির্বাচকদের মূল্যায়ন।

কালের আলো/এএইচ/এস এ

মেসির দুই রেকর্ডে হালান্ড-এমবাপ্পের থাবা, কে ভাঙলেন কোন কীর্তি?

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
মেসির দুই রেকর্ডে হালান্ড-এমবাপ্পের থাবা, কে ভাঙলেন কোন কীর্তি?
সময়ের সেরা ফুটবলারদের আলোচনায় লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পাশাপাশি এখন নিয়মিত উচ্চারিত হয় কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডের নাম। গোল করার ধারাবাহিকতা ও রেকর্ড গড়ার ক্ষমতায় নিজেদের আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন এই দুই তারকা। এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক রাতেই নতুন ইতিহাস গড়লেন হালান্ড ও এমবাপ্পে। তাঁদের কীর্তিতে পেছনে পড়ে গেছে আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসির দুটি রেকর্ড।
৬০ ম্যাচে ৬১ গোল, হালান্ডের অবিশ্বাস্য কীর্তি
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে প্যারিস সাঁ জার্মেইয়ের (পিএসজি) বিপক্ষে জোড়া গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। দল ৪-২ গোলে হেরে গেলেও ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

এই দুই গোলের সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১। আর এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তাঁর লেগেছে মাত্র ৬০ ম্যাচ। এর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে দ্রুততম ৬০ গোল করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর আগে লিওনেল মেসি ৮০ ম্যাচে ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।

বয়সের হিসাবেও মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন হালান্ড। ২৬ বছর ৮৫ দিন বয়সে ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন নরওয়েজীয় এই স্ট্রাইকার। মেসির ক্ষেত্রে বয়সটি ছিল ২৬ বছর ৮৬ দিন। অর্থাৎ, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে মেসিকে পেছনে ফেলেছেন হালান্ড।

১০০ ম্যাচে সবচেয়ে কম বয়সী এমবাপ্পে

একই রাতে আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। এএস রোমার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাঁর শততম উপস্থিতি। আর এই মাইলফলকে পৌঁছানোর পথে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

এমবাপ্পের বয়স তখন ২৭ বছর ২৯৮ দিন। এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন মেসি, যিনি ২৮ বছর ৮৪ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।

শুধু শততম ম্যাচ খেলেই থামেননি এমবাপ্পে। রোমার বিপক্ষে গোল করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের গোলসংখ্যা ৭২-এ নিয়ে গেছেন তিনি। এতে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় রাউল গঞ্জালেজকে পেছনে ফেলে এককভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন ফরাসি তারকা।

রোমার মাঠে রিয়ালের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন

ব্যক্তিগত রেকর্ডের রাতটি দলীয়ভাবেও স্মরণীয় হয়ে থাকল এমবাপ্পের জন্য। রোমার মাঠে একপর্যায়ে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

শেষ আট মিনিটে তিনটি গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় রিয়াল। এমবাপ্পের গোলের পাশাপাশি শেষ মুহূর্তের আক্রমণাত্মক ফুটবল ম্যাচটিকে নাটকীয় করে তোলে। ফলে শততম ম্যাচে ব্যক্তিগত রেকর্ডের সঙ্গে জয়ও উদ্‌যাপন করতে পেরেছেন ফরাসি তারকা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গোলদাতাদের তালিকায় এমবাপ্পের অগ্রগতি

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ৭২। এই গোলসংখ্যা তাঁকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে তুলে দিয়েছে। তাঁর পেছনে নেমে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা রাউল গঞ্জালেজ, যাঁর গোলসংখ্যা ৭১।

এ তালিকায় এমবাপ্পের সামনে রয়েছেন আরও চার কিংবদন্তি। শীর্ষে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ১৪১ গোল নিয়ে। দ্বিতীয় স্থানে মেসি, তাঁর গোল ১২৯টি। এরপর রবার্ট লেভানদোভস্কির ১০৯ এবং করিম বেনজেমার ৯০ গোল।

এমবাপ্পের সামনে এখন লক্ষ্য আরও ওপরে ওঠা। বয়স ও পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আগামী মৌসুমগুলোতে গোলের এই ব্যবধান কমানোর সুযোগ থাকবে তাঁর সামনে।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে হালান্ডের নতুন রেকর্ড

পিএসজির বিপক্ষে জোড়া গোলের মাধ্যমে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন হালান্ড। সিটির হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৩৮, যা এসেছে মাত্র ৪১ ম্যাচে।

এর আগে ক্লাবটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরোর দখলে। তিনি ৬৪ ম্যাচে ৩৬ গোল করেছিলেন। হালান্ড তুলনামূলক কম ম্যাচেই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন।

তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের রাতেও দলীয়ভাবে হতাশ হতে হয়েছে সিটিকে। নিজেদের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরে যায় তারা। প্রথমার্ধে তিন গোল হজম করার পর বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল সিটি। হালান্ডের জোড়া গোলও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি।

মেসির রেকর্ডে চাপ, নতুন প্রজন্মের উত্থান

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বহু বছর ধরে গোল ও ম্যাচসংক্রান্ত নানা রেকর্ডের মালিক ছিলেন মেসি। কিন্তু হালান্ড ও এমবাপ্পের মতো নতুন প্রজন্মের তারকারা একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে সেই রেকর্ডগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছেন।

হালান্ডের ক্ষেত্রে গোল করার অসাধারণ গতি তাঁকে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, এমবাপ্পে অল্প বয়সেই শততম ম্যাচ খেলার পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন।

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের বাইরেও তাঁদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে দলকে শিরোপা জেতানো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো প্রতিযোগিতায় গোলের রেকর্ড যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি শেষ পর্যন্ত ট্রফি জেতার সাফল্যও নির্ধারণ করবে তাঁদের উত্তরাধিকার।

কালের আলো/এএন/এস এ