খুঁজুন
                               
, ,
           

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে প্রাণ গেল ২৭ শিশুর, আহত ১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে প্রাণ গেল ২৭ শিশুর, আহত ১৯
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পেশোয়ার শহরে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২৭ জন শিক্ষার্থী ও একজন নারী শিক্ষক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৯ জন। দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে উদ্ধার অভিযান এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

আফ্রিদি আবাদে স্কুল ভবন ধস, শ্রেণিকক্ষে ছিল শিক্ষার্থীরা

পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় অবস্থিত আল খায়ের নামের বেসরকারি স্কুলটির ছাদ ধসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির সংবাদমাধ্যম ডনকে জানান, ছাদ ধসে পড়ার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করছিল। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছান। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শিক্ষার্থী ও অন্যদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৪০ জনকে উদ্ধার, অভিযান চলছে

উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফাইজি জানান, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি জীবিতদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম ডনকে জানান, এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ হয়েছে। আহত ১৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

তিন মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেন এক অভিভাবক

দুর্ঘটনার পর সন্তানদের খোঁজে স্কুলে ছুটে যান অভিভাবকেরা। তাঁদেরই একজন সামিউল্লাহ। ডনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, স্কুলের ছাদ ধসের খবর পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে আট বছরের কম বয়সী তিনটি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেন তিনি।

সামিউল্লাহ বলেন, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি বাড়ি থেকে ফোন পান। এর প্রায় ১০ মিনিট পর, সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁর ছয় সন্তান ওই স্কুলে পড়ে।

স্কুল ভবনের অবস্থা দেখে নিজের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথাও জানান তিনি। সামিউল্লাহ বলেন, ‘ভবনটি দেখে আমার মনে হয়েছিল, আমার ছেলেও মারা গেছে।’

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্বজনদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

ছাদধসের কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দুর্ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং কী কারণে স্কুলটির ছাদ ধসে পড়েছে, তা খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

পাশাপাশি আহত শিশুদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাঁদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের পাশাপাশি ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শিশুদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ইসহাক দারের

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

ইসহাক দার বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাদের এমন প্রতিটি মৃত্যু পুরো দেশের জন্যই এক দুঃখজনক ঘটনা।’

তিনি আরও বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

স্কুল ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

পেশোয়ারের এ দুর্ঘটনায় একসঙ্গে এত শিক্ষার্থীর প্রাণহানি পাকিস্তানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে স্কুল ভবনের নির্মাণমান, ছাদের স্থায়িত্ব, নিয়মিত পরিদর্শন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

তবে স্কুলটির ছাদ ঠিক কী কারণে ধসে পড়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

দিনে গরম, ভোরে কুয়াশা—পঞ্চগড়ে বদলে যাচ্ছে আবহাওয়ার চিত্র

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
দিনে গরম, ভোরে কুয়াশা—পঞ্চগড়ে বদলে যাচ্ছে আবহাওয়ার চিত্র

আশ্বিনের শেষবেলা। বাংলা পঞ্জিকার হিসাবে কার্তিকের আগমন আর মাত্র দু-এক দিনের অপেক্ষা। এরই মধ্যে দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে অনুভূত হতে শুরু করেছে শীতের আগমনী বার্তা। ভোরের আকাশে মেঘের আনাগোনার বদলে এখন চারপাশ ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশায়। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর উত্তরের হিমেল বাতাস জানান দিচ্ছে, ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে ঋতুর রূপ।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে। সূর্যের আলো ফুটলেও সকাল সাতটা পর্যন্ত অনেক জায়গায় দৃশ্যমানতা ছিল কম। মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস ও স্থানীয় যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। ভোরের এই কুয়াশা প্রকৃতিতে শীতের আবহ তৈরি করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও নিয়ে এসেছে পরিবর্তনের আভাস।

ভোরে তাপমাত্রা ১৯.১ ডিগ্রি, দিনে থাকছে গরম

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ দিনের বেলা রোদের তেজ থাকলেও রাত গভীর হওয়ার পর থেকে ভোর পর্যন্ত আবহাওয়ায় অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের দিকে আগের মতো গরম অনুভূত হচ্ছে না। অনেকের এখন আর ফ্যান চালানোর প্রয়োজন পড়ছে না। মধ্যরাতের পর হালকা কাঁথা কিংবা পাতলা কম্বল গায়ে জড়াতে হচ্ছে। বিশেষ করে ভোরে উত্তরের দিক থেকে বয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস শীতের উপস্থিতি আরও স্পষ্ট করে তুলছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার এই পার্থক্য পঞ্চগড়ের আবহাওয়ায় মৌসুমি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ভোরে তাপমাত্রা কমে যাওয়া ও কুয়াশা দেখা দিলেও দিনের বেলা গরমের অনুভূতি এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

শীতের আগমন সবার আগে অনুভূত হয় পঞ্চগড়ে

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে শীতের প্রভাব তুলনামূলক আগে অনুভূত হয়। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া এলাকায় শীতের মৌসুমে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার নজির রয়েছে। এ কারণে পঞ্চগড়কে প্রায়ই বাংলাদেশের ‘শীতের রাজধানী’ বলা হয়। তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরসংলগ্ন অঞ্চল হিমালয়ঘেঁষা ভৌগোলিক পরিবেশের কাছাকাছি অবস্থিত। ভারতের শিলিগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের মতো এলাকাও এ অঞ্চলের তুলনামূলক কাছাকাছি। উত্তরের ভৌগোলিক অবস্থান এবং শীতল বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে পঞ্চগড়ে শীতের অনুভূতি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকার আগেই দেখা দিতে পারে।

শীতের মৌসুমে তেঁতুলিয়ার নাম বিশেষভাবে আলোচনায় আসে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে। অতীতের রেকর্ডও এর প্রমাণ দেয়। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল বলে আবহাওয়া-সংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

কুয়াশার সকালে বদলে যাচ্ছে জনজীবন

পঞ্চগড়ের ভোরের কুয়াশা শুধু প্রকৃতির দৃশ্যপটই বদলে দিচ্ছে না, কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাতেও যোগ করছে শীতের নতুন অনুভূতি। কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে পাথরশ্রমিকদের হালকা গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে নদীতে নামতে দেখা গেছে। অন্যদিকে চা-শ্রমিকেরা শিশিরভেজা সবুজ চা-পাতার মধ্যে কাজ করছেন। রিকশাচালক, কৃষক ও দিনমজুরদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের জন্য ভোরের ঠান্ডা বাতাস বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে। দিনের কাজ শুরু করার আগেই তাঁদের অনেককে গায়ে অতিরিক্ত কাপড় জড়াতে হচ্ছে। তবে দিনের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডার অনুভূতি কমে আসছে। স্থানীয়দের কাছে এই আবহাওয়া একদিকে যেমন শীতের আগমনের আনন্দ নিয়ে এসেছে, অন্যদিকে সামনে তাপমাত্রা আরও কমলে দৈনন্দিন কাজ ও জীবনযাত্রায় বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনে ঋতুচক্রের পরিচিত রূপে পরিবর্তন

গত কয়েক বছরে পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। এবার বর্ষা মৌসুমেও ভোরের দিকে কুয়াশা দেখা যাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঋতুভেদে তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার পরিচিত ধরনে পরিবর্তন মানুষের নজরে আসছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন এবং বিভিন্ন আবহাওয়াগত প্রক্রিয়া তাপমাত্রার ওঠানামায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট দিনে কুয়াশা বা তাপমাত্রার পরিবর্তনকে শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হিসেবে নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার তথ্য ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয়তায় তৈরি হচ্ছে শীতের আবহ

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয়তার কারণে এ অঞ্চলে শীতের আবহ তৈরি হয়েছে। ভোরে কুয়াশা দেখা দিলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে যাচ্ছে। ভোরের তাপমাত্রা ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি নেমে আসাকে ঋতু পরিবর্তনের একটি লক্ষণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তাপমাত্রা, কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা আগামী দিনগুলোতে কেমন থাকবে, তা নির্ভর করবে আবহাওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর।

শীতের অপেক্ষায় উত্তরের জনপদ

আশ্বিনের বিদায়বেলায় পঞ্চগড়ের ভোরে কুয়াশার উপস্থিতি যেন শীতের আগমনের নীরব ঘোষণা। শিশিরভেজা ঘাস, হিমেল বাতাস আর কুয়াশায় ঢাকা মহাসড়ক—সব মিলিয়ে উত্তরের জনপদে তৈরি হয়েছে শীতের প্রাথমিক আবহ। এখনো দিনের বেলায় রোদের তেজ রয়েছে। কিন্তু রাত গভীর হলে ও ভোরের দিকে ঠান্ডা বাড়ছে। কার্তিকের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে এই আবহ আরও কীভাবে বদলায়, সেদিকেই নজর থাকবে স্থানীয় বাসিন্দাদের। হিমালয়ঘেঁষা পঞ্চগড়ে শীতের প্রস্তুতি তাই শুরু হয়ে গেছে প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মেই।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিসা খান

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিসা খান
ইংল্যান্ড নারী জাতীয় কাবাডি দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণী আনিসা খান। ব্যবসা ও টেলিভিশনের জগতে পরিচিতি অর্জনের পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব নিয়ে আলোচনায় এসেছেন মৌলভীবাজারের পারিবারিক শিকড় থাকা এই তরুণী। আগামী ২৩ অক্টোবর ভারতের আহমেদাবাদে শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ড দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা তাঁর।

আনিসা নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধিনায়ক হওয়ার খবর জানিয়েছেন। তাঁর বাবা ইয়াওর খানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আনিসা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন একটি খেলা হিসেবে কাবাডি শেখার মধ্য দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা তাঁকে আজ জাতীয় দলের নেতৃত্বের জায়গায় নিয়ে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাবাডি থেকে জাতীয় দলের অধিনায়ক

অধিনায়ক হওয়ার আনন্দ প্রকাশ করে আনিসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক হয়েছি। ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাবাডি সোসাইটিতে যোগ দেওয়ার সময় এই খেলায় আমি ছিলাম সম্পূর্ণ নতুন। কখনো কল্পনাও করিনি, নতুন একটি খেলা শেখার সিদ্ধান্ত আমাকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে আসবে।’

আনিসার এই বক্তব্যে উঠে এসেছে কাবাডিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলার গল্প। বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলেন তিনি। একপর্যায়ে জায়গা করে নেন ইংল্যান্ড নারী জাতীয় দলে। ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান বিচ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপেও ইংল্যান্ডের দলে ছিলেন তিনি।

এবার জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো নতুন অর্জন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দলের নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর জন্য যেমন গর্বের, তেমনি নিজের দক্ষতা ও নেতৃত্বের সামর্থ্য প্রমাণেরও বড় সুযোগ।

মৌলভীবাজারের রাজনগরে আনিসার পারিবারিক শিকড়

আনিসা খানের পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার আকুয়া গ্রামে। তাঁর বাবা ইয়াওর খান ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে প্রথমে রেস্তোরাঁ ব্যবসায় যুক্ত হন তিনি। পরে আবাসন ব্যবসায়ও নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

ইয়াওর খান যুক্তরাজ্যে পরিচিত ব্যবসায়ী এবং ‘এশিয়ান কারি অ্যাওয়ার্ডস’-এর প্রতিষ্ঠাতা। চার ভাই-বোনের মধ্যে আনিসা সবার ছোট। যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠলেও তাঁর পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর নতুন দায়িত্বের খবর তাই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

এলএসইতে পড়াশোনা, অ্যাকসেঞ্চারে চাকরি

কাবাডির পাশাপাশি পড়াশোনা ও পেশাগত জীবনেও এগিয়েছেন আনিসা। তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (এলএসই) থেকে ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। পরে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চারে কাজ করেন।

চাকরির পাশাপাশি নিজের ব্যবসা গড়ে তোলার আগ্রহ থেকে করোনা মহামারির সময় খাবারের ব্যবসা ‘বোম্বে পিৎজা’ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পেশাগত দায়িত্ব, ব্যবসা পরিচালনা এবং খেলাধুলা—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন আনিসা।

তাঁর জীবনযাত্রার এই বৈচিত্র্যই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা, করপোরেট চাকরি, উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ এবং আন্তর্জাতিক কাবাডি—ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি।

‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ রানারআপ হয়ে পরিচিতি

২০২৫ সালে বিবিসি ওয়ানের জনপ্রিয় ব্যবসাভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ অংশ নিয়ে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক পরিচিতি পান আনিসা। ব্রিটিশ ব্যবসায়ী লর্ড অ্যালান সুগারের আড়াই লাখ পাউন্ডের ব্যবসায়িক বিনিয়োগ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় রানারআপ হন তিনি।

এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, উদ্যোক্তা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পান আনিসা। টেলিভিশনের পর্দায় পরিচিতি বাড়লেও কাবাডির প্রতি তাঁর আগ্রহ কমেনি।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আনিসা জানিয়েছেন, এলএসইতে পড়াশোনা শেষ করা, অ্যাকসেঞ্চারে চাকরি, বোম্বে পিৎজা প্রতিষ্ঠা এবং ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ অংশ নেওয়ার মতো নানা অভিজ্ঞতার মধ্যেও কাবাডি তাঁর জীবনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

১৪ দেশের প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেবেন আনিসা

আগামী ২৩ অক্টোবর ভারতের আহমেদাবাদে শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ড নারী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা আনিসার। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডসহ ১৪টি দেশের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে এটি তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দলের খেলোয়াড়দের সমন্বয়, কৌশল বাস্তবায়ন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে তাঁকে।

মৌলভীবাজারের পারিবারিক শিকড় থেকে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও টেলিভিশন জগৎ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক কাবাডির নেতৃত্ব—আনিসা খানের পথচলা নানা অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। এবার কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর নেতৃত্বে ইংল্যান্ড দল কেমন পারফরম্যান্স করে, সেদিকেই থাকবে ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর।

কালের আলো/জেএন/এসএ

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের তাগিদ বিমানমন্ত্রীর

জামালপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের তাগিদ বিমানমন্ত্রীর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অপতথ্য মোকাবিলায় গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমানে কিছু নিষিদ্ধ গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অপতথ্যের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। তিনি দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে সংবাদমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বিএনপি সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করার রাজনীতি করে উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করছে। তবে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন। দেশের জনশক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত।” এই ৪০ কোটি হাত দেশের জন্য কাজ করলে অচিরেই বাংলাদেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বহির্বিশ্বে বর্তমান সরকারের যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাৎ হয়েছে। ওই সাক্ষাতে ট্রাম্প বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বলেও জানান তিনিশারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মচারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। কিশোর-কিশোরীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সরকারি সহায়তা ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অসহায় ও দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক দেওয়া হয়। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি