খুঁজুন
                               
, ,
           

মক্কার মসজিদে অপরাধে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
মক্কার মসজিদে অপরাধে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এ তথ্য জানিয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার।

ঘটনাটি সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে এ ঘটনায় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক ও অশালীন কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

গ্রেপ্তার থেকে মৃত্যুদণ্ড, যেভাবে এগোয় বিচারিক প্রক্রিয়া

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে কথিত অপরাধের ঘটনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আদালত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের শরিয়াহ আইনভিত্তিক বিচারব্যবস্থায় ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় এ শাস্তি দেওয়া হয়। তাআজির হলো এমন এক ধরনের শাস্তি, যার ধরন ও মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারকের বিবেচনাধিকার থাকে। তবে এ মামলায় আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ এবং দুই অভিযুক্তের বক্তব্য প্রকাশিত তথ্যে পাওয়া যায়নি।

উচ্চতর আদালতে বহাল থাকার পর কার্যকর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিম্ন আদালতের রায়ের পর উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখে। এরপর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়। সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

সৌদি আরবে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্ত, বিচার এবং উচ্চতর বিচারিক পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে শাস্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই মামলায় সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোর নাম, রায়ের তারিখ এবং রাজকীয় আদেশ জারির সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানাল সৌদি সরকার

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষা এবং আইন কার্যকরের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, পবিত্র স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশটির আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মক্কা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র নগরী। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে যান। এ কারণে মক্কার মসজিদ ও পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষাকে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

প্রবাসীদের জন্য ঘটনাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ নির্মাণ, সেবা, পরিবহন, ব্যবসা ও অন্যান্য খাতে কাজ করেন। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির আইন, ধর্মীয় স্থানের নিয়মকানুন এবং স্থানীয় বিধিবিধান সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এই নির্দিষ্ট মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশিত না হওয়ায় অভিযোগের প্রকৃতি, ঘটনার পরিস্থিতি কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ার সব দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। তাই সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বক্তব্যের বাইরে অতিরিক্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন হবে না।

সব মিলিয়ে, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশিত হলে অভিযোগ ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এসএ

 

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকায়

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪২ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়  ,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে রোগটিতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন মারা যান। মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪২ জনে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৮৭২ জন ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৩১২ জনে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৯৯১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৪৯১ জন। নতুন রোগী ভর্তি ও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার এই পরিসংখ্যান ডেঙ্গু পরিস্থিতির ধারাবাহিক চাপের চিত্র তুলে ধরছে। রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালকে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৮৬৫ জন।অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে ২৬০ জন, খুলনায় ২৩৩ জন, বরিশালে ১৯০ জন, রাজশাহীতে ১৭৩ জন, ময়মনসিংহে ৬৭ জন এবং রংপুরে ৫৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক এই পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে রোগী ভর্তির সংখ্যা অন্য বিভাগগুলোর তুলনায় বেশি দেখা গেছে। তবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সব এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। জ্বর, শরীরব্যথা বা ডেঙ্গুর অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

ওআইসি সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন হুমায়ুন কবির

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ওআইসি সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন হুমায়ুন কবির

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এবারের অধিবেশনে শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সংলাপ ও সংহতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওআইসিভুক্ত বিভিন্ন সদস্যরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সংলাপ ও সংহতিতে গুরুত্ব

এবারের ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের মূল প্রতিপাদ্য—‘শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের প্রসারে সংলাপ ও সংহতি, এই দুটি মৌলিক স্তম্ভ’। এই প্রতিপাদ্যের আওতায় সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সংহতি জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হুমায়ুন কবিরের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ওআইসির বিভিন্ন সদস্যরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন হুমায়ুন কবির। এসব বৈঠকে কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ওআইসি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। সংস্থাটির মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশনে সদস্যরাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশেষ বৈঠকে সহসভাপতিত্ব

রোববার (১৮ অক্টোবর) রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সহসভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর। রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহির বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। এ বিষয়ে বিশেষ বৈঠকে হুমায়ুন কবিরের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে। এবারের অধিবেশনের সঙ্গে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের সভাপতিত্বেও পরিবর্তন এসেছে। তুরস্কের কাছ থেকে ইরাক আগামী এক বছরের জন্য পরিষদের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

লা লিগা সভাপতির পদত্যাগ দাবি রিয়াল মাদ্রিদের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
লা লিগা সভাপতির পদত্যাগ দাবি রিয়াল মাদ্রিদের
স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাসের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। রিয়াল মাদ্রিদের পরিচালনা ও ক্লাবটির নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যক্রমকে নাৎসি জার্মানির প্রচারণার কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেছেন তেবাস। তাঁর এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে লা লিগা সভাপতির অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

শুধু লা লিগার সভাপতির পদ নয়, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) সহসভাপতির পদ থেকেও তেবাসের পদত্যাগ চেয়েছে ক্লাবটি। রিয়াল মাদ্রিদের মতে, তাদের ক্লাব, পরিচালনা পর্ষদ ও গণমাধ্যমকে এভাবে তুলনা করা গভীরভাবে অপমানজনক এবং নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেবাসের অভিযোগ

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন হাভিয়ের তেবাস। তাঁর দাবি, ক্লাবটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ নিজেদের বক্তব্য প্রচারের জন্য একদল মুখপাত্রকে ব্যবহার করে এবং এ ক্ষেত্রে রিয়াল মাদ্রিদ টেলিভিশন (আরএমটিভি) নেতৃত্ব দেয়।

তেবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের প্রচারকৌশলে নিজেদের সুবিধামতো ঘটনা বেছে নেওয়া, একই অভিযোগ বারবার তুলে ধরা, সন্দেহ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব পদ্ধতি নাৎসি জার্মানির প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের ব্যবহৃত প্রচারণার কৌশলগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একই বার্তার পুনরাবৃত্তি, শত্রু তৈরি করা এবং বাস্তব ঘটনাকে নিজেদের বয়ানের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা ছিল সেই প্রচারণার বৈশিষ্ট্য।

তবে পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তেবাস স্পষ্ট করেন, তিনি গোয়েবলসের আদর্শের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের তুলনা করেননি; বরং প্রচারণার কৌশলগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি রিয়াল মাদ্রিদ

তেবাসের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটির মতে, তিনি পরে যে ব্যাখ্যাই দিন না কেন, তাঁর মন্তব্যের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য চরিত্র এতে কমে না।

এক বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদ জানায়, স্প্যানিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি ক্লাব, এর পরিচালনা এবং নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলকে নাৎসি শাসনের প্রচারণার পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করবেন—এটি তাদের কাছে সম্পূর্ণ অসহনীয় ও অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেবাসের এই মন্তব্য রিয়াল মাদ্রিদ, ক্লাবটির সভাপতি এবং এর গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে তাঁর বারবার আক্রমণের আরেকটি উদাহরণ। এ কারণে লা লিগার সভাপতি এবং স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতির পদ থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে ক্লাবটি।

দীর্ঘদিনের বিরোধে নতুন মাত্রা

হাভিয়ের তেবাস ও রিয়াল মাদ্রিদের বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, রেফারিং এবং ইউরোপীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগেও একাধিকবার মতবিরোধ দেখা গেছে।

গত মাসেও রেফারিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলার ঘটনায় রিয়াল মাদ্রিদের সমালোচনা করেছিলেন তেবাস। এ ছাড়া ২০২১ সালে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্পে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও ক্লাবটির সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়।

২০২৫ সালে স্প্যানিশ ফুটবলে রেফারিং নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ওই ঘটনার পর ক্লাবটি সম্পর্কে তেবাস মন্তব্য করেছিলেন, তারা ‘মাথা হারিয়ে ফেলেছে’।

এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবার গোয়েবলসের প্রচারণার কৌশল নিয়ে করা মন্তব্য দুই পক্ষের বিরোধকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

এখন কী হবে তেবাসের ভবিষ্যৎ?

রিয়াল মাদ্রিদ প্রকাশ্যে পদত্যাগ দাবি করলেও তেবাসের পক্ষ থেকে পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্তের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, তাঁর মন্তব্যের পর লা লিগা বা স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই।

তবে ঘটনাটি স্প্যানিশ ফুটবলের প্রশাসনিক নেতৃত্ব, ক্লাবগুলোর সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্পর্ক এবং প্রকাশ্য বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তেবাসের মন্তব্যের প্রতিবাদে রিয়াল মাদ্রিদের কঠোর অবস্থানের পর দুই পক্ষের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো/এএন/এসএ