খুঁজুন
                               
, ,
           

হরমুজ প্রণালীতে মাইনের আঘাতে সুপারট্যাংকারে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালীতে মাইনের আঘাতে সুপারট্যাংকারে আগুন
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীতে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দুই মিলিয়ন বা ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি সুপারট্যাংকার সমুদ্রের তলদেশে পাতা মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। তাদের দাবি, ইরানের নির্ধারিত নিয়মের বাইরে একটি পথ ব্যবহার করে প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির একটি বিবৃতি উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানি বাহিনীর অভিযোগ, ট্যাংকারটি নিজেদের ট্র্যাকিং ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। তবে জাহাজটির নাম, মালিকানা, পতাকাবাহী দেশ, হতাহতের সংখ্যা এবং তেলের চালানের চূড়ান্ত অবস্থা সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত স্পষ্ট নয়। ইরানের এই দাবিগুলোও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক সপ্তাহে এ অঞ্চলে জাহাজে হামলার একাধিক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার তথ্যও জানিয়েছে সংস্থাটি।

মাইনের আঘাত ও বিস্ফোরণের দাবি আইআরজিসির

তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ‘অননুমোদিত’ পথ ব্যবহার করে অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় তেলবাহী সুপারট্যাংকারটিতে সামুদ্রিক মাইনের আঘাত লাগে বলে দাবি করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আঘাতের পর জাহাজটিতে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়।

আইআরজিসির অভিযোগ, জাহাজটি তার ট্র্যাকিং ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তায় ইরানের নিয়মকানুন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলেও দাবি করেছে ইরানি বাহিনী। তবে জাহাজটির পরিচয় এবং ঘটনার স্বাধীন তদন্তসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সামনে না আসায় এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

ইরানের নৌবাহিনী এ ঘটনার পর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ‘হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে।’ ইরানি বাহিনী আরও বলেছে, মার্কিন সমর্থনের ওপর নির্ভর করে যারা ইরানের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘন করবে, তাদের ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ আরোপের অবস্থান আবারও সামনে এসেছে। তবে আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলের বাস্তব পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর অনুমোদন এবং ঘটনার দায় নির্ধারণের জন্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।

ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানের গণমাধ্যম

এদিকে ইরান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। আইআরজিসির সরবরাহ করা ওই ফুটেজে হরমুজ প্রণালীতে একটি সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও আগুনের দৃশ্য দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কোনো ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হওয়া মানেই তাতে দেখানো ঘটনার সব বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া নয়। ভিডিওটির ধারণের সময়, সুনির্দিষ্ট অবস্থান, জাহাজটির পরিচয় এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আলাদাভাবে যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন। ফলে ইরানি কর্তৃপক্ষের বর্ণনার পাশাপাশি নিরপেক্ষ সূত্রের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জাহাজটিতে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল থাকার দাবি সত্য হলে ঘটনাটি শুধু সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং জ্বালানি পরিবহন, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে তেলের চালান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, কতটা তেল ছড়িয়ে পড়েছে কিংবা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না—এসব বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য নেই।

এক সপ্তাহে ১২টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত ইউকেএমটিওর

হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের জলসীমায় জাহাজের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা ইউকেএমটিও তাদের সাম্প্রতিক সাপ্তাহিক পর্যালোচনায় ১২টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত পর্যালোচনা অনুযায়ী, এর মধ্যে ১০টি ঘটনা হরমুজ প্রণালীতে, একটি পারস্য উপসাগরে এবং আরেকটি ওমান উপসাগরে ঘটেছে।

সংস্থাটির তথ্যে আক্রান্ত জাহাজগুলোর পরিণতি সম্পর্কেও বিভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ছয়টি জাহাজ তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখতে পেরেছে অথবা বন্দরে পৌঁছেছে। একটি জাহাজ সাগরে ডুবে গেছে এবং দুটি জাহাজ সম্পূর্ণ অকেজো ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। বাকি তিনটি ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা চূড়ান্ত পরিণতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সংশ্লিষ্ট সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে সব ঘটনার ধরন, হামলার পদ্ধতি এবং দায়ী পক্ষ সম্পর্কে একই মাত্রার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রতিটি ঘটনাকে একই ধরনের হামলা হিসেবে বিবেচনা না করে পৃথকভাবে যাচাই করা জরুরি।

হামলার প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সমস্যায় সংস্থাটি

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, এ অঞ্চলে হামলার প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করতে তারা সমস্যায় পড়ছে। কারণ, আক্রান্ত জাহাজগুলোর অনেকেই তাদের ওপর হামলার তথ্য সংস্থাটিকে জানাতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। অন্য উৎস থেকে পাওয়া তথ্যও সব সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এ ধরনের তথ্যঘাটতি পরিস্থিতি মূল্যায়নকে জটিল করে তোলে। কোনো জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার পর সেটি কোথায় গেছে, কী পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়েছে কিংবা যাত্রা চালিয়ে যেতে পেরেছে কি না—এসব তথ্য সময়মতো না পাওয়া গেলে সামগ্রিক ঝুঁকি নিরূপণ কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণে ইউকেএমটিওর নথিভুক্ত হামলার সংখ্যা এবং বাস্তবে সংঘটিত মোট ঘটনার সংখ্যা এক নাও হতে পারে। সংস্থাটির সতর্কতার অর্থ হলো, তাদের প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের পাশাপাশি আরও কিছু ঘটনা অজানা বা অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় জাহাজ চলাচল কমেছে ৭০ শতাংশ

ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ কম। অর্থাৎ, সংঘাতের আগের স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল অনেকটাই সীমিত রয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচলের যে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে, তা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ফলে সমুদ্রপথে চলাচল কতটা স্বাভাবিক হয়েছে কিংবা পরিস্থিতির উন্নতি কতখানি—তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তথ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার পেছনে নিরাপত্তাঝুঁকি, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা, চলাচলসংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের মতো বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রতিটি কারণের প্রভাব কতটা, তা নির্ধারণে আরও নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী

হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। এ কারণে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকে না; আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহনব্যয়েও চাপ তৈরি হতে পারে।

প্রণালীতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হয়। প্রয়োজনে যাত্রাপথ, সময়সূচি ও বীমাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এতে পরিবহনব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তেল ও অন্যান্য পণ্য নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

তবে একটি জাহাজে হামলার খবর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কতটা বাড়বে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এর জন্য সামগ্রিক সরবরাহ পরিস্থিতি, অন্যান্য সমুদ্রপথের অবস্থা, উৎপাদক দেশগুলোর সিদ্ধান্ত এবং বাজারের প্রতিক্রিয়াসহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করতে হয়।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও তেল সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালীতে সুপারট্যাংকারে মাইন আঘাতের দাবি এবং ইউকেএমটিওর নথিভুক্ত হামলার তথ্য মিলিয়ে অঞ্চলটির সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বহনকারী জাহাজ আক্রান্ত হলে সম্ভাব্য মানবিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে আসে।

তবে সুপারট্যাংকারটির পরিচয়, হতাহতের সংখ্যা, আগুনের পরিণতি এবং হামলার স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিবরণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পূর্ণ চিত্র পাওয়া কঠিন। একইভাবে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ইরানি বাহিনীর বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তব জাহাজ চলাচলের তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আক্রান্ত জাহাজটির অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। পরিস্থিতির পরবর্তী পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/এএন/এসএ

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান

বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাপানি বিনিয়োগকারীরা। এ বিনিয়োগের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে জাপানি প্রতিনিধিদলকে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শনের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

সভায় পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশ। এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো বৈচিত্র্যময় সম্পদ। সুন্দরবন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এবং সিলেটের চা-বাগানসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের পর্যটন খাতে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়। এ খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করতে সরকার আগ্রহী।

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে জাপান দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশেও জাপানি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণকে সরকার স্বাগত জানাবে। বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সরকার এমন অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়, যাতে উভয় পক্ষই লাভবান হয়। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে কাজ করতে আগ্রহী সরকার।

সভায় জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে তাঁদের আন্তরিকতার কথা জানান। তাঁরা দেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। এ সময় প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিনিয়োগকারীদের এ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হলে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ ছাড়া জাপানি প্রতিনিধিদলের দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এর মাধ্যমে পর্যটন খাতে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরির পথ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যটনসেবার মান বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চাকরির পরীক্ষায় পুড়ছে বেকারের সঞ্চয়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
চাকরির পরীক্ষায় পুড়ছে বেকারের সঞ্চয়

নিজস্ব আয় নেই, চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই—তবু চাকরির লড়াইয়ে টিকে থাকতে বারবার টাকা খরচ করতে হচ্ছে লাখো তরুণকে। একেকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন ফি, পরীক্ষায় অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় আসা, থাকা-খাওয়া—সব মিলিয়ে বেকার জীবনে বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে উঠেছে চাকরির পরীক্ষা। প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, ব্যয়ের চাপও তত বাড়ছে। ফলে মেধা ও যোগ্যতার লড়াইয়ে নামার আগেই অনেক প্রার্থীকে লড়তে হচ্ছে অর্থের সংকটের সঙ্গে।

লালমনিরহাটের নাহিদা হাসানের অভিজ্ঞতা সেই সংকটেরই প্রতিচ্ছবি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষ করে এখন পরিবারের সঙ্গে থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রায়ই আসতে হয় ঢাকায়। সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের একটি তৃতীয় শ্রেণির পদের পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া-আসা ও খাওয়া-দাওয়া মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে সাড়ে তিন হাজার টাকা। সামনে আরও কয়েকটি পরীক্ষা। সেগুলো দিতে আবারও আলাদা সময়ে ঢাকায় আসতে হবে। অর্থাৎ চাকরি পাওয়ার আগেই শুধু পরীক্ষায় অংশ নিতে তাকে গুনতে হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

  • একাধিক নিয়োগে আবেদন ও বারবার ঢাকায় যাতায়াতে বাড়ছে ব্যয়
  • হিমশিম খাচ্ছেন আয়হীন তরুণেরা; নিয়োগব্যবস্থায় সংস্কারের প্রশ্ন
  • প্রার্থীবান্ধব নিয়োগব্যবস্থার দাবি

নাহিদার মতো দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য চাকরিপ্রার্থীকে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। যাদের নিয়মিত আয় নেই, তাদের জন্য প্রতিটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মানে নতুন করে অর্থের সংস্থান করা। একাধিক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ আলাদা হওয়ায় বারবার যাতায়াতের খরচও বহন করতে হয়। আবেদন ফি ও প্রস্তুতির ব্যয়ের সঙ্গে এই বাড়তি চাপ দীর্ঘদিন বেকার থাকা তরুণদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২৪ হাজার। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী ২০ লাখ ৩২ হাজার। এই বিপুলসংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বাড়তি ব্যয় এখন গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়।

এক পদের বিপরীতে হাজারো প্রতিদ্বন্দ্বী
চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতার চিত্রও উদ্বেগজনক। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১ হাজার ৪৮৫টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ২১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি। অর্থাৎ প্রতি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রায় ১ হাজার ৪৩০ জন। ৫০তম বিসিএসের ২ হাজার ১৫০টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার প্রার্থী। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার জন।

এমন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একজন প্রার্থীকে একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হয়, দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিতে হয়। অথচ চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। আবেদন থেকে পরীক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অর্থ ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগের সুযোগ না পাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। যাদের পারিবারিক আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তাদের জন্য এই লড়াই আরও কঠিন।

আবেদন ফি নিয়েও প্রশ্ন
সরকারি চাকরির আবেদন ফি পুনর্নির্ধারণ করে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে বিসিএস পরীক্ষা ছাড়া বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদ এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন ফি পদভেদে ৫০ থেকে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে কয়েকশ থেকে এক হাজার টাকার বেশি আবেদন ফি দিতে হচ্ছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও তুলনামূলক বেশি ফি নেওয়ার নজির রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষকের দুটি পদের জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে ফি ২০০ থেকে ৬০০ টাকা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পদভেদে আবেদন ফি রাখা হয়েছে ৪০০ ও ৫০০ টাকা।

সুনামগঞ্জের রাজিব দের অভিযোগ, আবেদন করতেই যখন কয়েকশ থেকে হাজার টাকার বেশি খরচ হয়, তখন পরীক্ষায় অংশ নিতে যাতায়াতের জন্য আরও দুই থেকে তিন হাজার টাকা ব্যয় করা অনেক বেকারের পক্ষেই কঠিন। তার প্রশ্ন, আয়হীন তরুণদের চাকরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এত ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হবে কেন?

সমাধান কি বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা?
ঢাকাকেন্দ্রিক নিয়োগ পরীক্ষার কারণে রাজধানীর বাইরে থাকা প্রার্থীদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজধানীতে প্রার্থীদের অতিরিক্ত সমাগমও চাপ বাড়াচ্ছে। অথচ বিসিএসের প্রিলিমিনারি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বিভাগীয় শহরগুলোয় আয়োজনের নজির রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাও একাধিক কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান মনে করেন, বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ঝুঁকি থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তার মতে, লাখ লাখ প্রার্থীর ঢাকায় আসায় তাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি রাজধানীর ওপরও চাপ বাড়ছে।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম খানও বেকারদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, শিক্ষাকে সেবা হিসেবে বিবেচনা করা হলে শিক্ষাজীবন শেষে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।

চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা আয়োজন, আবেদন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো গেলে তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। এতে দূরবর্তী জেলা থেকে বারবার ঢাকায় আসার প্রয়োজনও কমবে।

চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা থাকবেই। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সামর্থ্য যদি অর্থের ওপর নির্ভর করে, তাহলে যোগ্যতার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন। বেকার তরুণদের কাছে চাকরির পরীক্ষা এখন শুধু মেধা যাচাইয়ের ধাপ নয়, অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্যেরও পরীক্ষা। এই বাস্তবতা বদলাতে নিয়োগব্যবস্থাকে আরও সাশ্রয়ী, বিকেন্দ্রীকৃত ও প্রার্থীবান্ধব করার বিকল্প নেই।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

৫০ দেশের তারকার তালিকায় শাকিব খান, অবস্থান কত নম্বরে?

বিনোদন ডেস্ক; কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
৫০ দেশের তারকার তালিকায় শাকিব খান, অবস্থান কত নম্বরে?

হলিউডের বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রশিল্পে জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের স্বাক্ষর রেখেছেন বহু তারকা। তাঁদের নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ার্তা ইকোনোমি’র প্রকাশিত একটি তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। বিশ্বের ৫০ দেশের চলচ্চিত্র তারকাদের নিয়ে তৈরি এই তালিকায় তাঁর অবস্থান ২৫তম।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বিভিন্ন দেশের পরিচিত ও প্রভাবশালী অভিনেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় শাকিব খানের পাশাপাশি রয়েছেন ভারতের শাহরুখ খান, হংকংয়ের জ্যাকি চ্যান, যুক্তরাষ্ট্রের টম হ্যাঙ্কস এবং কানাডীয় অভিনেতা কিয়ানু রিভসের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত তারকারা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে এই তালিকায় শাকিব খানের অন্তর্ভুক্তি ঢালিউডের তারকাদের আন্তর্জাতিক পরিচিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

বিশ্বতারকাদের তালিকায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি
ওয়ার্তা ইকোনোমির তালিকায় বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের জনপ্রিয় অভিনেতাদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে আরও রয়েছেন হংকংয়ের ব্রুস লি, পাকিস্তানের ফাওয়াদ খান এবং তুরস্কের বুরাক ওজচিভিত। স্পেন, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের তারকারাও রয়েছেন তালিকাটিতে।

শাহরুখ খান, জ্যাকি চ্যান ও কিয়ানু রিভসের মতো পরিচিত নামের সঙ্গে একই তালিকায় শাকিব খানের উপস্থিতি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য উল্লেখযোগ্য। তবে তালিকাটি তৈরির ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, প্রভাব কিংবা অন্য কোন মানদণ্ডকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে ঢালিউডে শাকিবের রাজত্ব
দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন শাকিব খান। বাণিজ্যিকভাবে সফল একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ঢালিউডের অন্যতম প্রধান তারকায় পরিণত হয়েছেন। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে তাঁর অভিনীত সিনেমা মুক্তি পেলে দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা যায়। বড় পর্দায় তাঁর উপস্থিতি এবং বাণিজ্যিক সাফল্য দেশের চলচ্চিত্রশিল্পে তাঁর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলা সিনেমা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাকিব খানের অভিনীত সিনেমা দেশের বাইরেও মুক্তি পাচ্ছে। প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা সিনেমার দর্শক বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে এতে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তারকাদের নিয়ে প্রকাশিত তালিকায় শাকিব খানের অবস্থান তাই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের আন্তর্জাতিক পরিচিতি নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে একটি তালিকায় স্থান পাওয়াকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত পরিমাপ হিসেবে দেখার আগে এর নির্বাচনী মানদণ্ড ও মূল্যায়নপদ্ধতি বিবেচনা করা জরুরি।

কালের আলো/এমডিএইচ/এসএ