খুঁজুন
                               
, ,
           

৫৮ কোটি টাকার দুই সেতুর কাজ বন্ধ দুই বছর, ভোগান্তিতে শরীয়তপুরবাসী

শরীয়তপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
৫৮ কোটি টাকার দুই সেতুর কাজ বন্ধ দুই বছর, ভোগান্তিতে শরীয়তপুরবাসী

শরীয়তপুরে কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। এর মধ্যে গত দুই বছর ধরে সেতু দুটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে জরাজীর্ণ পুরোনো সেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনকে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, চালক ও সাধারণ মানুষ। শরীয়তপুর সদর উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় একটি এবং সেখান থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট এলাকায় অন্য সেতুটি নির্মাণাধীন। শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা আড়াই শতাধিক। সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, এ পথে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করেন।

জরাজীর্ণ সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর শহর থেকে জাজিরার নাওডোবা পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কটির দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। দুই লেনের চেয়েও কম প্রশস্ত এই সড়কটি একসময় পদ্মা নদী পার হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম পথ ছিল। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এর ওপর থাকা পুরোনো সেতু দুটির গুরুত্বও বেড়েছে।

১৯৯১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রেমতলায় ১১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণ করে। একই সময়ে জাজিরার কাজীরহাট এলাকায় নির্মাণ করা হয় ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের আরেকটি সেতু। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ব্যবহারের ফলে সেতু দুটি এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সেতুর মেঝে ও রেলিং থেকে রড বেরিয়ে এসেছে। সরু সেতুতে এক পাশ দিয়ে যানবাহন উঠলে বিপরীত দিক থেকে অন্য যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং প্রায়ই দেখা দেয় যানজট।

কাজীরহাট সেতুতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট যানজট

পুরোনো সেতুর কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন কাজীরহাট এলাকার পথ ব্যবহারকারীরা। শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসের চালক লোকমান হোসেন জানান, প্রতিদিন তিনি একবার যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যান এবং পরে ঢাকা থেকে শরীয়তপুরে ফিরে আসেন। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে শরীয়তপুর থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগার কথা। কিন্তু কাজীরহাট এলাকায় যানজটের কারণে তাঁর প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। লোকমান হোসেন বলেন, কাজীরহাটের পুরোনো সেতু এলাকায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর্যন্ত যানজটে বসে থাকতে হয়। এতে যাত্রীরা বিরক্ত হন এবং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। গোসাইরহাট সদরের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন সপ্তাহে দুই দিন ব্যবসার কাজে ঢাকায় যান। তাঁর অভিজ্ঞতাও একই রকম। তিনি বলেন, ‘ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে বাসে উঠলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে জাজিরার নাওডোবায় পৌঁছানো যায়। তবে কাজীরহাটের পুরোনো সেতু এলাকায় যানজটে অতিরিক্ত ২৫ থেকে ৩০ মিনিট ব্যয় হয়। অবশ্য প্রেমতলা সেতু এলাকায় সাধারণত যানজট হয় না।’

৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প, কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালে

শরীয়তপুর শহর থেকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের নাওডোবা পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে ২০২০ সালে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। ওই প্রকল্পের আওতায় পুরোনো সেতু দুটির স্থলে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সওজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রেমতলায় ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের এবং কাজীরহাটে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের দুটি সেতু নির্মাণের কথা। সেতু দুটির জন্য ব্যয় ধরা হয় ৫৮ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ১ এপ্রিল জামিল ইকবাল লিমিটেড ও মোজাহারুল এন্টারপ্রাইজকে যৌথভাবে নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেতু দুটি চালু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কাজীরহাট সেতুর প্রায় ৬০ শতাংশ এবং প্রেমতলা সেতুর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এরপর প্রায় দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা তিনবার বাড়ানো হয়েছে।

চতুর্থবার সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার সরেজমিনে কাজীরহাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির নির্মাণকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নদীর মধ্যে সেতুর কিছু অংশ নির্মিত হলেও বাকি কাজ এগোয়নি। সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মী নির্মাণসামগ্রী পাহারা দিচ্ছিলেন। অন্যদিকে প্রেমতলা সেতুর মূল কাঠামোর অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে সেতুতে ওঠার সংযোগ সড়ক, রেলিং এবং বিভিন্ন সার্ভিস লাইনের কাজ এখনো বাকি। এসব কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন সেতুটি যান চলাচলের জন্য চালু করা যাচ্ছে না।

ভূমি অধিগ্রহণ ও ব্যয়বৃদ্ধির কারণ দেখাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

সওজ সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত কাজের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে চুক্তিমূল্যের বাইরে আরও ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৫৮ কোটি টাকার চুক্তিমূল্যের বিপরীতে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে ৪৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার বিল তুলে নিয়েছে। তবে বাকি কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবেদন এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী কিংশুক মণ্ডল জানান, করোনাকালে কাজটি তাঁরা পেয়েছিলেন। কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়। এরপর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। কিংশুক মণ্ডল আরও জানান, সেতু দুটিতে কিছু অতিরিক্ত কাজ করতে হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক দফায় নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে। এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সওজের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে বাকি কাজ শেষ করে সেতু দুটি সওজের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দ্রুত কাজ শেষের অপেক্ষায় যাত্রীরা

কীর্তিনাশা নদীর ওপর নতুন সেতু দুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং শরীয়তপুর-জাজিরা সড়কে যান চলাচল সহজ করতে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সেই সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। বর্তমানে পুরোনো সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যানজট নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে কাজীরহাট এলাকায় সরু সেতুর কারণে সময় নষ্ট হচ্ছে ঢাকাগামী যাত্রী ও পরিবহন চালকদের।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ দাবানল, নিহত ৪ সেনা, আহত ৩৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ দাবানল, নিহত ৪  সেনা, আহত ৩৯

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ঘাসে লাগা আগুনে চার সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু সেনাসদস্য। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। আগুনে আহত মোট ৩৯ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটের একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রোববার (১৮ অক্টোবর) কর্মকর্তারা হতাহতের তথ্য জানান।

প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে সামরিক ঘাঁটির একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় ঘাসে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে মাত্র ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে আগুন প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে যায়। আগুনের দ্রুত বিস্তার প্রশিক্ষণরত সেনাসদস্যদের জন্য বড় বিপদ তৈরি করে। এতে চারজনের মৃত্যু হয় এবং আরও ৩৯ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিহত চার সেনার পরিচয় প্রকাশ
এ ঘটনায় নিহত চার সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁরা হলেন সার্জেন্ট মরগান ওং, প্রাইভেট শন ফ্যারেল, প্রাইভেট এইডান গোল্ডিং ও প্রাইভেট হেইডেন লাইকমার্ক।
নিহত সেনাসদস্যদের সম্মানে কানাডাজুড়ে সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এ ঘটনায় শোক প্রকাশের পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

জীবন্ত গোলাবারুদ নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন ৮৫ সেনা
আগুন লাগার সময় ওই এলাকায় ৮৫ জন সেনাসদস্য জীবন্ত গোলাবারুদ ব্যবহার করে উচ্চমাত্রার সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। তাঁরা লাটভিয়ায় দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কানাডার সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে লাটভিয়ায়। ফলে বিদেশে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলা প্রশিক্ষণ এলাকায় এ দুর্ঘটনা দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে আগুনের কারণে প্রশিক্ষণরত সেনাসদস্যদের মধ্যে ঠিক কীভাবে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

আহতদের কয়েক মাস পর্যন্ত চিকিৎসা লাগতে পারে
আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। কারও কারও চিকিৎসা কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। আহত সেনাসদস্যদের এডমন্টন, ওয়েনরাইট, ক্যালগারি ও রেড ডিয়ারের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা ১৯ জনের চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আগুনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত
সামরিক ঘাঁটিতে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে ওই এলাকার তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন না কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে বাইরে থেকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছে, এমন সম্ভাবনাও তাঁরা নাকচ করেছেন।

প্রাথমিকভাবে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে এলেও আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের মাধ্যমে আগুন লাগার পরিস্থিতি এবং প্রাণহানির কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এমএসআইপি/এসএ

যাদের আত্মত্যাগে বিরোধী দলে, তাদের অনুষ্ঠানেই নেই: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
যাদের আত্মত্যাগে বিরোধী দলে, তাদের অনুষ্ঠানেই নেই: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী দলের নেতারা আজ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন উল্লেখ করে তাদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কেবল বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারকে আবার ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করে দিলে তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ইদানীং আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিরোধী দল শুধু বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করছে।’ তিনি বলেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি সেই পুরোনো কালচারেই থেকে যাই, তাহলে দেশ সামনে এগোবে কীভাবে? বিরোধী দল অবশ্যই বিরোধিতা করবে কিন্তু সেটি গঠনমূলক হতে হবে। বিরোধিতা করতে গিয়ে আপনারা যদি স্বৈরাচারকে আবার আসার পথ উন্মুক্ত করে দেন তবে সেটি দেশের জন্য ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না। সেটি যেমন জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে, একইভাবে ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও গাদ্দারি হবে।’

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের নেতাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব থাকতে পারে, মঞ্চে না-ই বসলেন। কিন্তু যাদের আত্মত্যাগ আর আহত হওয়ার কারণে আজ আপনারা বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন, আপনারা যদি সত্যিই জুলাইকে ধারণ করেন তবে এসে শহীদ পরিবারের মানুষগুলোর সঙ্গে তো বসতে পারতেন। কিন্তু আপনাদের তো দেখা যাচ্ছে না।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তাঁর মতে, সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের মতপার্থক্য থাকলেও শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো একটি জাতীয় দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ৮১৩ জন শহীদ জুলাইযোদ্ধার নাম সংরক্ষণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ যেন জাতীয় জীবনে সব সময় স্মরণীয় হয়ে থাকে, সে লক্ষ্যেই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে। শহীদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্যকে একই সূত্রে দেখেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল এক ও অভিন্ন। উভয় সংগ্রামের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের স্বাদ নিয়ে বেঁচে থাকা, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, আগামী প্রজন্ম যেন সুশিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপদ পরিবেশ পায় এবং তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়—এটিও শহীদদের আকাঙ্ক্ষার অংশ ছিল।

প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেখানেই গণতন্ত্র, সেখানেই বিএনপি আছে।’ সরকার গঠনের পর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সহযোগিতার উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, শহীদ ও আহতদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে। সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব না হলেও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের স্বার্থ, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে দ্বিমত পোষণ করার কোনো কারণ নেই।’

সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত থাকতে পারে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই জনগণ প্রতিনিধিদের সংসদে পাঠিয়েছে। সংসদে আলোচনা, যুক্তিতর্ক ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে এসব প্রশ্নের সমাধান হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণ এখন স্থিতিশীলতা ও শান্তি চায়। দেশের অগ্রগতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। তারেক রহমানের ভাষ্য, জনগণ চায় আগামী দিনে তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আরও সুদৃঢ় হোক। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতার পরিবেশ প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

জনসংখ্যা কমছে চীনে, দ্রুত বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা—চাপে পেনশন ও অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
জনসংখ্যা কমছে চীনে, দ্রুত বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা—চাপে পেনশন ও অর্থনীতি

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের জনসংখ্যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ‘অতি-বয়স্ক’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তখন শহরটির মোট বাসিন্দার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স হবে ৬০ বছর বা তার বেশি। এতে বয়স্ক নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, পেনশন ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বেইজিং ডেইলির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বেইজিংয়ে বাড়ছে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বেইজিংয়ে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ছিল ৫২ লাখ ৯০ হাজার। শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই বয়সসীমার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রবীণ মানুষের অনুপাত আরও বাড়বে। ২০৩৫ সালের মধ্যে শহরটি জনসংখ্যাগতভাবে ‘অতি-বয়স্ক’ সমাজে পরিণত হতে পারে। জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক কাঠামোয় এই পরিবর্তন শুধু বেইজিংয়ের জন্য নয়, চীনের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বয়স্কদের সহায়তায় পেনশন বাড়ানোর উদ্যোগ
বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তাঁদের আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বেইজিংয়ের স্থানীয় সরকার। এর অংশ হিসেবে মৌলিক পেনশনের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তবে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলে পেনশন ও অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয়ও বাড়বে। একই সময়ে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে গেলে এসব ব্যয়ের অর্থায়ন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

২০২২ সাল থেকে কমছে চীনের জনসংখ্যা
চীনের জনসংখ্যা ২০২২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে। অন্যদিকে, দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জন্মহার কমে যাওয়া এবং মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির মতো জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ফলে দেশটির বয়সভিত্তিক কাঠামোয় বড় ধরনের রূপান্তর ঘটছে। কর্মজীবন থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবসরে যাওয়ায় পেনশন ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত কমে গেলে উৎপাদন, শ্রমবাজার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ভোগব্যয় বাড়ানো ও সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ
চীনের অর্থনীতির জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়ানো। বয়স্ক মানুষের অনুপাত বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে ভবিষ্যতে ভোগব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে। এতে অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে প্রবীণ নাগরিকদের পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সহায়তায় ব্যয় বাড়লে সরকারি অর্থের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা নীতিনির্ধারকদের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

কম জন্মহারে বদলে যেতে পারে পারিবারিক কাঠামো
জনসংখ্যাবিদ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, জন্মহার দীর্ঘদিন কম থাকলে ভবিষ্যতে পরিবারগুলোর আকার ছোট হয়ে আসতে পারে। এতে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও ব্যয়ের ধরন বদলে যাওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক ভোগব্যয়ের বৃদ্ধিও ধীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেইজিংয়ের সম্ভাব্য ‘অতি-বয়স্ক’ জনসংখ্যার পরিস্থিতি তাই চীনের সামনে একটি দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে। প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা, পেনশন ব্যবস্থার স্থায়িত্ব বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে দেশটিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে আরও কার্যকর সমন্বয় করতে হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এএএন/এসএ