খুঁজুন
                               
, ,
           

গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে গতি, ময়মনসিংহ সদরে উদ্বোধন ১১ প্রকল্প

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে গতি, ময়মনসিংহ সদরে উদ্বোধন ১১ প্রকল্প

গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ কমানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নে ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করেন। এ সময় উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। গ্রামীণ জনপদে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার এ উদ্যোগকে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • সড়ক, কালভার্ট, ড্রেন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে গুরুত্ব
  • সড়ক, কালভার্ট, ড্রেন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে গুরুত্ব
  • নানা উদ্যোগ উদ্বোধন করলেন এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ
  • সুফল পাওয়ার প্রত্যাশায় স্থানীয় বাসিন্দারা

সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ
উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর বড় অংশই গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনাপাড়া রফিকুলের বাড়ি থেকে ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত সড়ক, চরখরিচা ঈদগাহ মাঠ থেকে পীরবাড়ী সড়ক ও কালভার্ট এবং খাজা মাঈন উদ্দিনের বাড়ি থেকে আজিজুল হকের বাড়ি পর্যন্ত প্রধান সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সিরতা বাজারের দক্ষিণ পাড়া সড়ক, চরভাবানীপুর পশ্চিমপাড়া মসজিদ থেকে মাহবুব আলমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা এবং চরখরিচা মেইন রোড থেকে মামুনের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক সংস্কার করা হবে। চরখরিচায় আইন উদ্দীনের বাড়ির পাকা সড়কে হাফ-সলিং এবং চরসিরতা হাজী সুলতান মহিলা মাদরাসার পাকা রাস্তা থেকে দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়ক সলিংয়ের কাজও রয়েছে এ তালিকায়।

পাশাপাশি খালেরপার থেকে কইট্রার মোড় পর্যন্ত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে চলাচলের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং স্থানীয় বাজারের সঙ্গে যোগাযোগেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।

শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ
যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রীদের জন্য নামাজখানা নির্মাণ এবং জামিয়া শাহমুদিয়া চরখরিচা মাদরাসার আসবাবপত্র সংস্কার প্রকল্প এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নত করার ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য নামাজখানা নির্মাণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের ধর্মীয় অনুশীলনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।

উন্নয়ন কার্যক্রমে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা
এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হওয়া। গ্রামীণ সড়ক সংস্কার থেকে শুরু করে ড্রেন নির্মাণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুবিধা সম্প্রসারণ—প্রতিটি উদ্যোগই স্থানীয় পর্যায়ে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা বহন করে। প্রকল্পগুলো যথাযথ মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা গেলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করতে পারবেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এসব অবকাঠামো এলাকার টেকসই উন্নয়নেও অবদান রাখবে।

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান
উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের কর্মসূচি শেষে বিকেলে চরসিরতা বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

সভায় তিনি আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে একটি চক্র অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে প্রতিটি এলাকার পূজামণ্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং উৎসবের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সম্ভাবনাময় গ্রামীণ জনপদ
চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নে একসঙ্গে ১১টি প্রকল্প উদ্বোধন স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশনের সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সংস্কারের মতো কার্যক্রম গ্রামীণ জনপদের অগ্রযাত্রায় সহায়ক হতে পারে।

উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রকল্পগুলোর মানসম্মত বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং স্থানীয় চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগগুলো শুধু অবকাঠামোগত পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা এবং স্থানীয় উন্নয়নের গতি বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে।

কর্মসূচিতে কোতোয়ালি বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল আহম্মেদ, সদস্যসচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহম্মেদ শামীমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ওয়াইএ/এমএএএমকে

জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাট সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাটে কলা চাষ করে এবার বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বৈরী আবহাওয়ায় জমিতে কলা নষ্ট হওয়া, অপরিপক্ব অবস্থায় ফল পেকে যাওয়া, গাছের পাতা মরে যাওয়া এবং কলায় কালো দাগ দেখা দেওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। অন্যদিকে উৎপাদিত কলা বিক্রি করতে গিয়েও মিলছে না প্রত্যাশিত দাম। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার বাজার দুর্গাদহ হাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়া ও যানজটের কারণে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

কৃষকদের অভিযোগ, কলা চাষে ক্ষতির মুখে পড়লেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা তাঁরা পাচ্ছেন না। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, নিরাপদ কলা উৎপাদন এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাজার সম্প্রসারণ ও যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকছে কলা, গাছের পাতাও মরে যাচ্ছে

জয়পুরহাট সদর উপজেলার আউশগাড়া মহল্লার বাসিন্দা গোলাম ফারুক। পুলিশের চাকরি শেষ করে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলার আবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বাগানে কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। পাশাপাশি গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

গোলাম ফারুক বলেন, এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলা চাষ করেছিলেন। কিন্তু কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন তিনি। একই এলাকার কৃষক সাজ্জাদ হোসেন ও আব্দুল হামিদ ধারদেনা করে কয়েক বিঘা জমিতে চিনি চম্পা জাতের কলা চাষ করেছেন। তাঁদের বাগানে ফলন ভালো হলেও কলায় কালো দাগ দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও কলাসহ গাছ ভেঙে পড়ায় আরও ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। এই দুই কৃষকের অভিযোগ, এবার কলা চাষ করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

দুর্গাদহ হাটে দুই ঘাউড় কলার দাম মাত্র ৬০০ টাকা

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের দুর্গাদহ বাজার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার হাট হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, পাইকার ও ব্যবসায়ীরা এখানে কলা কেনাবেচা করতে আসেন। তবে এবার বাজারে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় কলার দাম নিয়ে হতাশায় পড়েছেন চাষিরা।

ছাওয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন সাইকেলে করে দুই ঘাউড় কলা নিয়ে এসেছিলেন দুর্গাদহ বাজারে। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় তাঁর দুই ঘাউড় কলার দাম উঠেছে মাত্র ৬০০ টাকা। অথচ অন্য সময়ে একই পরিমাণ কলার দাম অন্তত এক হাজার টাকা হতো বলে জানান তিনি। মোজাম্মেল হোসেনের মতো বাজারে আসা অন্যান্য কলাচাষি, পাইকার, আড়তদার, ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বাজারটি ছোট পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় দূরদূরান্তের জেলা থেকে আগের মতো পাইকাররা আসছেন না। ফলে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কলা বিক্রি করতেও সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।

অপরিকল্পিত দোকানপাটে যানজট, সংকুচিত বাজারের পরিসর

দুর্গাদহ বাজারে বেচাকেনার সমস্যার পাশাপাশি যানজটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট গড়ে ওঠায় প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হয় এবং পণ্য আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের পরিসর বাড়ানো গেলে দূরবর্তী এলাকা থেকে পাইকারদের আসা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে যানজট কমানো গেলে কলা পরিবহন ও কেনাবেচার পরিবেশও উন্নত হবে। বাজার সম্প্রসারণের অভাবে সম্ভাবনাময় এই হাটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

চলতি অর্থবছরে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৮১৭ হেক্টর

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজু আলম সরকার জানান, চলতি অর্থবছরে জেলায় ৮১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৭০৫ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে।

জেলার মধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়। এ ছাড়া পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে কলার আবাদ করা হয়ে থাকে। কৃষকরা যেন মানসম্মত ও নিরাপদ কলা উৎপাদন করতে পারেন, সে জন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মনজু আলম সরকার। কলার অন্যতম ক্ষতিকর শত্রু ফ্রুট ফ্লাই বা পোকার আক্রমণ থেকে ফল রক্ষায় ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সিগাটোকা ও পানামা রোগের মতো ক্ষতিকর রোগবালাই থেকে বাগান সুরক্ষায় উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

দুর্গাদহ বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রশাসনের

দুর্গাদহ বাজারের সমস্যা সমাধান ও পরিসর বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরিকল্পিত দোকানপাটের কারণে বাজারটিতে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি বাজারটিকে আরও আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন সাপেক্ষে স্থানীয় চান্দিনা ভিটি ও তোহা বাজার অক্ষুণ্ণ রেখে আশপাশের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে হাট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং বেচাকেনা আরও সহজ হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৫৩.২৫ মেট্রিক টন

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটে প্রতি হেক্টর জমিতে কলার গড় ফলন প্রায় ৫৩ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কলা সরবরাহের মাধ্যমে এ ফসল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে। তবে জমিতে রোগবালাই ও আবহাওয়াজনিত ক্ষতি এবং বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার সমস্যা অব্যাহত থাকলে চাষিদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উৎপাদন পর্যায়ে কৃষি পরামর্শ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কলার বাজার সম্প্রসারণ, পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করা এবং দূরবর্তী পাইকারদের আকৃষ্ট করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১২৬টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি রুটের ৫৯টি এবং ট্রানজিট রুটের ৬৭টি ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইনসের পাশাপাশি সাতটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এ পরিস্থিতির আওতায় পড়েছে। সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্থগিত হয়েছে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। এ সংস্থার ১৯টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।

সরাসরি রুটের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাঁদের নির্দিষ্ট তারিখে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াত কিংবা অন্য কোনো জরুরি কাজ রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটও স্থগিত হয়েছে। বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিগোর ২৪টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে।

ট্রানজিট রুটে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যেসব যাত্রী অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। একটি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটে পৌঁছানো নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে অনেক যাত্রীকে নতুন করে ভ্রমণসূচি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতে পারে। সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের রুটেই ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী এ পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ফ্লাইট স্থগিত থাকায় যাত্রীরা কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ফ্লাইটের সময়সূচি, টিকিটের কার্যকারিতা এবং সংযোগকারী ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়েও তাঁদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে তথ্য জানতে হচ্ছে। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ সময়সূচি ও টিকিটের অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রানজিটে ভ্রমণকারীদের সংযোগকারী ফ্লাইটের সময়সূচি ও পরিবর্তিত বুকিংয়ের বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

ডিসেম্বরে চালুর লক্ষ্য, পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কের টোল নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
ডিসেম্বরে চালুর লক্ষ্য, পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কের টোল নির্ধারণ

পঞ্চবটি থেকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়কের টোল হার নির্ধারণ করেছে সরকার। যানবাহনের ধরন ও চলাচলের রুট অনুযায়ী এ সড়কে টোল দিতে হবে ২০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। নির্ধারিত হারে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাক ও ট্রেইলারের টোল আলাদা করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে পঞ্চবটি থেকে চর সৈয়দপুর এবং পঞ্চবটি থেকে কাশীপুর—এই দুই রুটে বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনের জন্য টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পঞ্চবটি থেকে চর সৈয়দপুর রুটে মোটরসাইকেলের টোল ৪০ টাকা। একই যানবাহনের জন্য পঞ্চবটি থেকে কাশীপুর রুটে দিতে হবে ২০ টাকা। সিএনজিচালিত তিন চাকার যানবাহনের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৫০ ও ৩০ টাকা।  ও জিপের ক্ষেত্রে চর সৈয়দপুর রুটে টোল ১০০ টাকা এবং কাশীপুর রুটে ৫০ টাকা। মাইক্রোবাস ও পিকআপের জন্য দুই রুটে টোল দিতে হবে যথাক্রমে ১৫০ ও ১০০ টাকা। মিনিবাসের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ ও ১২৫ টাকা।

৩১ বা তার বেশি আসনের বাসের জন্য পঞ্চবটি-চর সৈয়দপুর রুটে ৩০০ টাকা এবং পঞ্চবটি-কাশীপুর রুটে ১৫০ টাকা টোল দিতে হবে। ছয় চাকার ট্রাকের ক্ষেত্রে টোল যথাক্রমে ৪০০ ও ২০০ টাকা। ১০ চাকার ট্রাকের জন্য নির্ধারিত টোল ৬০০ ও ৪০০ টাকা। প্রজ্ঞাপনে সবচেয়ে বেশি টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ট্রেইলারের জন্য। পঞ্চবটি থেকে চর সৈয়দপুর রুটে ট্রেইলারের টোল ৮০০ টাকা এবং পঞ্চবটি থেকে কাশীপুর রুটে ৫০০ টাকা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কটি উন্মুক্ত করার তারিখ থেকে নির্ধারিত টোল কার্যকর হবে। অর্থাৎ টোলের হার নির্ধারণ করা হলেও সড়কটি চালুর তারিখের সঙ্গে এর কার্যকারিতা যুক্ত থাকবে। গত ১৫ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের চলমান কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি চালু হবে বলে জানান।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এর ভৌত অগ্রগতি ছিল ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। একই সময়ে আর্থিক অগ্রগতি ছিল ৮২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় এটি চালু হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের যানজট কমানো এবং শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে গতি বাড়াতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রকল্প চালুর পর এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে নির্ধারিত টোল কার্যকর হবে সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি