খুঁজুন
                               
, ,
           

মুচি-ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে অপরাধের খোঁজ, কেন খুন হলেন আলিফ?

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
মুচি-ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে অপরাধের খোঁজ, কেন খুন হলেন আলিফ?

কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা, আবার কখনো মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন সীমান্ত এলাকায়। উদ্দেশ্য ছিল মাদক কারবার, চোরাচালান ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা। অনুসন্ধানী সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির সম্পর্কে এমন তথ্য জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মী ও স্থানীয় সূত্রগুলো। অপরাধের তথ্য প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার পর গুলিতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এখন তাঁর শেষ অনুসন্ধান এবং সম্ভাব্য শত্রুদের নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

হত্যার আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলিফ লিখেছিলেন, ‘আগামীকাল চাঞ্চল্যকর অপরাধের গডফাদারের তথ্য-প্রমাণ……’। কিন্তু সেই তথ্য আর প্রকাশ করা হয়নি। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গুলিতে তাঁর মৃত্যুর পর প্রশ্ন উঠেছে, কোন অপরাধের তথ্য সামনে আনতে যাচ্ছিলেন তিনি? তাঁর অনুসন্ধান কি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত ছিল?

মাদক কারবার, সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের পাশাপাশি কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়কে ঘিরে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশি পরিচয়ে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে আলিফ হত্যার সরাসরি কোনো যোগসূত্র এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হত্যার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা নির্ধারণে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

ছদ্মবেশে তথ্য সংগ্রহ করতেন আলিফ

সহকর্মী ও স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা সীমান্ত অঞ্চলে মাদক কারবার, চোরাচালান এবং অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন আলিফ। অপরাধচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পেতে তিনি কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা, এমনকি মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ছদ্মবেশ ধারণ করতেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। আলিফের মৃত্যুর আগে তাঁর ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের ফেসবুক পেজেও অপরাধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিত ছিল। হত্যার আগের দিন দেওয়া পোস্টটি এ কারণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সহকর্মীদের মতে, পোস্টে উল্লেখ করা ‘অপরাধের গডফাদার’ এবং অপ্রকাশিত তথ্যের বিষয়বস্তু শনাক্ত করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে

এ ক্ষেত্রে আলিফের ব্যবহৃত মুঠোফোন, কললিস্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা, ব্যক্তিগত নোট এবং সংরক্ষিত প্রতিবেদন পরীক্ষা করে তাঁর শেষ অনুসন্ধানের সূত্র পাওয়া যেতে পারে। তবে এসব তথ্যের কোনোটি এখন পর্যন্ত হত্যার কারণ বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করে না।

আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিক আলিফ

পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের দাবি, অপরাধ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির কারণে আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জানুয়ারিতে দুর্গাপুর পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকায় এবং নভেম্বরে সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাটে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এসব হামলার সঙ্গে তাঁর সাংবাদিকতার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে আগের ঘটনাগুলো এবং হত্যার আগে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ঘোষণা—দুটিকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের মতে, শুধু সরাসরি হামলাকারীকে শনাক্ত করলেই হবে না; আলিফের আগের অনুসন্ধান, তাঁর ওপর হামলার ঘটনাগুলো এবং হত্যার আগে-পরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। আগের হামলার ঘটনায় কোনো মামলা বা তদন্ত হয়ে থাকলে তার নথিও বর্তমান তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রোহিঙ্গাদের এনআইডি তৈরির অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন

আলিফ হত্যার আগে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়কে কেন্দ্র করে পাঁচজন রোহিঙ্গা নাগরিকের ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি তৈরির চেষ্টার অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের ঠিকানা হিসেবে রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নথিপত্র যাচাইয়ের সময় কিছু অসংগতি পাওয়া যায়।

এর আগে একই নির্বাচন কার্যালয়ে রোহিঙ্গা নাগরিকের এনআইডি তৈরির অভিযোগে কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল। আলিফের ফেসবুক পেজে তাঁর মৃত্যুর আগে রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনে ভুয়া তথ্য ব্যবহারের বিষয়ে অনুসন্ধানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে অবৈধ বালু ব্যবসা ও পাথর উত্তোলন নিয়েও পোস্ট করেছিলেন তিনি।

জাতীয় পরিচয়পত্রের অপব্যবহারের প্রভাব ভোটার নিবন্ধনের বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে। ব্যাংক হিসাব খোলা, মুঠোফোনের সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট তৈরি এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণে পরিচয়পত্র ব্যবহৃত হয়। ফলে ভুয়া পরিচয়ে এনআইডি তৈরির অভিযোগের সত্যতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্বাচন কার্যালয়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে আলিফের হত্যাকাণ্ডের কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে—এমন প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের পাশাপাশি কারা আবেদন করেছেন, কীভাবে নথি যাচাই হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় কারও অনিয়ম ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পুরোনো তথ্যও আলোচনায়

সীমান্ত অপরাধ ও রোহিঙ্গাদের পরিচয়সংক্রান্ত অভিযোগের আলোচনায় কয়েক বছর আগের একটি মাদক মামলার তথ্যও সামনে এসেছে। নেত্রকোনা সদরের কে-গাতি ইউনিয়নের চুয়ারকান্দা গ্রামের ইলিয়াস কাদের বাবুলের বিরুদ্ধে অতীতে মাদকসংক্রান্ত মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।

২০২২ সালের মে মাসে ময়মনসিংহে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক অভিযানে বাবুল, তাঁর রোহিঙ্গা স্ত্রী রোজিনা বেগমসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, মাদক ব্যবসার সুবিধা নিতে বাবুল ওই নারীকে বিয়ে করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও আত্মীয়দের মাধ্যমে টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে ময়মনসিংহে সরবরাহ করা হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছিল।

বর্তমানে বাবুলকে ঘিরে যেসব অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে, তার মধ্যে রোহিঙ্গা স্ত্রী ও তাঁর আত্মীয়দের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা এবং স্থানীয় পরিচয় ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পরিচয়পত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। তবে অতীতের মাদক মামলার তথ্য কিংবা এসব অভিযোগের কোনোটিই আলিফ হত্যার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে না। এ কারণে পৃথক অভিযোগ ও ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র আছে কি না, তা অনুমানের ভিত্তিতে নির্ধারণ না করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি।

হত্যার পরিকল্পনায় কারা, তদন্তে সেই প্রশ্ন

সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনায় মাঠপর্যায়ের হামলাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সহকর্মীদের মতে, শুধু গুলি চালানো ব্যক্তিকে শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; হত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা, অর্থের জোগান এবং ঘটনার আগে-পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে পুলিশ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আলিফের সহকর্মীরা বলছেন, তাঁর শেষ অনুসন্ধান, আগের হামলার ঘটনা এবং হত্যার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা দরকার। তাঁদের মতে, আলিফ কোন তথ্য প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন, তাঁর অনুসন্ধানের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন এবং আগের হামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের এনআইডি তৈরির অভিযোগ, মাদক সরবরাহ ও সীমান্ত অপরাধের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

গ্রেপ্তার আসামির এক দিনের রিমান্ড

এদিকে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বর এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়া এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুর্গাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আলিফ। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর শরীরে ছয়টি গুলির আঘাত ছিল। ঘটনার পর শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকার পুরোনো সিনেমা হলের পাশ থেকে সাজিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমশের আলীর ছেলে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুর্গাপুরে পুলিশের উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলাতেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ বলেন, সাংবাদিক আলিফ হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পরিবার

আলিফের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। অন্যদিকে তাঁর সহকর্মীরা অপেক্ষা করছেন, তদন্তে তাঁর শেষ অনুসন্ধানের বিষয়বস্তু এবং হত্যার পেছনের কারণ স্পষ্ট হবে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে সরাসরি হামলাকারীর পাশাপাশি সম্ভাব্য পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে আলিফের আগের ওপর হামলার ঘটনাগুলো, তাঁর শেষ পোস্ট এবং অপ্রকাশিত অনুসন্ধানের তথ্য যাচাই করলে তদন্তে নতুন সূত্র মিলতে পারে। তবে মাদক কারবার, চোরাচালান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন কিংবা রোহিঙ্গাদের এনআইডি তৈরির অভিযোগ—কোনটির সঙ্গে আলিফ হত্যার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ওপর।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

দুর্গাপূজায় বাঙালি সাজে নজর কাড়লেন আলিয়া ভাট

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় বাঙালি সাজে নজর কাড়লেন আলিয়া ভাট

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট এবার দুর্গাপূজার সাজে মুগ্ধ করেছেন ভক্তদের। গাঢ় গোলাপি শাড়ি, নীল ব্লাউজ ও সোনালি গয়নায় বাঙালি নারীর ঐতিহ্যবাহী সাজে হাজির হয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধনে অভিনেত্রীর এই উৎসবের সাজ সামাজিক মাধ্যমে ও বিনোদন অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও মহানবমী উদ্‌যাপন উপলক্ষে মুম্বাইয়ের ৮০তম নর্থ বম্বে সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে যান আলিয়া। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অয়ন মুখার্জি। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অভিনেত্রীর পোশাক ও সাজসজ্জা ছিল সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে।

গোলাপি শাড়িতে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া


এদিন আলিয়ার পরনে ছিল উজ্জ্বল ফুশিয়া গোলাপি রঙের শাড়ি। শাড়িতে সোনালি গোটাপট্টির কাজ তার সাজে যোগ করেছে আভিজাত্য। বাঙালি কায়দায় শাড়ি পরেছিলেন অভিনেত্রী। কাঁধে সুন্দরভাবে সাজানো আঁচলে ফুটে উঠেছিল শাড়ির নকশা ও পোশাকের সৌন্দর্য। গোলাপি শাড়ির সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করে ফিরোজা-নীল রঙের ব্লাউজ বেছে নেন আলিয়া। ব্লাউজের গোলাকার গলার নকশা ও ছোট পাফ স্লিভ তার সাজে এনেছে ভিন্নমাত্রা। পেছনের সোনালি কারুকাজও ছিল নজরকাড়া।

সোনালি গয়না ও ফুলের খোঁপায় পূর্ণতা
শাড়ির সঙ্গে আলিয়া পরেছিলেন সোনালি ঝুমকা, হাতে একাধিক সোনালি চুড়ি এবং আঙুলে নকশাদার আংটি। কানের গয়নার সঙ্গে মানানসই ইয়ার চেইন তার সাজে যোগ করেছে বাড়তি আকর্ষণ। চুলে মাঝখানে সিঁথি করে পরিপাটি খোঁপা বেঁধেছিলেন অভিনেত্রী। সেই খোঁপায় ছিল রঙিন ফুলের সাজ। কপালে ছোট্ট টিপ, হালকা চোখের মেকআপ, স্বাভাবিক ত্বকের সাজ এবং মৃদু রঙের লিপস্টিকে পূর্ণতা পেয়েছে তার উৎসবের লুক। ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাজের সঙ্গে আধুনিক রঙের সমন্বয় আলিয়ার উপস্থিতিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। সব মিলিয়ে পূজামণ্ডপে তার এই সাজ ভক্তদের নজর কেড়েছে।

নতুন সিনেমা নিয়েও ব্যস্ত আলিয়া
উৎসবের আমেজের পাশাপাশি অভিনয় নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন আলিয়া ভাট। পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন রণবীর কাপুর ও ভিকি কৌশল। বহুল প্রতীক্ষিত এই চলচ্চিত্রটি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের মধ্যেই দুর্গাপূজায় আলিয়ার বাঙালি সাজ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

কালের আলো/এসএআর/এসএ

নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান ড্যান লিন বরখাস্ত

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান ড্যান লিন বরখাস্ত

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগে নেতৃত্বের পরিবর্তন এসেছে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় তিন বছরের মাথায় বিভাগটির প্রধান ড্যান লিনকে বরখাস্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাই ও শীর্ষ পর্যায়ে রদবদলের ধারাবাহিকতায় তার বিদায়ের খবর সামনে এসেছে। বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক সূত্র ড্যান লিনের দায়িত্ব হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সপ্তাহান্তের শুরুতে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার নিজের দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল তার।

এক সপ্তাহে বড় পরিবর্তন নেটফ্লিক্সে
নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক হাজার কর্মী চাকরি হারান। একই সময়ে নেটফ্লিক্সের প্রধান কনটেন্ট কর্মকর্তা বেলা বাজরিয়াকে বরখাস্ত করার খবরও আলোচনায় আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একের পর এক কর্মী ছাঁটাই ও শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে চলচ্চিত্র বিভাগের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পেছনে নির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ড্যান লিনের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন?
ড্যান লিনের জায়গায় কে দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়ে নেটফ্লিক্স এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের চলচ্চিত্র বিভাগের সাবেক প্রধান মাইক ডি লুকা ও পাম অ্যাবডির নেটফ্লিক্সে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে তাদের যোগদানের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রযোজক হিসেবে সফল ক্যারিয়ার ড্যান লিনের
২০২৪ সালে নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড্যান লিন। এর আগে তিনি নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রাইডব্যাক পরিচালনা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘লেগো’ চলচ্চিত্র সিরিজ, স্টিফেন কিংয়ের উপন্যাস অবলম্বনে ‘ইট’ এবং ‘শার্লক হোমস’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। নেটফ্লিক্সে দায়িত্ব পালনকালে ৮৮টি চলচ্চিত্রের অনুমোদন দেওয়া কিংবা স্বত্ব সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ড্যান লিন। গত জুনে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানিয়েছিলেন। তার দায়িত্ব পালনকালে প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হওয়া উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘এমিলিয়া পেরেজ’, ‘এপেক্স’, ‘হিয়ার কামস দ্য ফ্লাড’ এবং ‘দ্য ফার্দার মিস-অ্যাডভেঞ্চারস অব ক্লিফ বুথ’।

চলচ্চিত্র বিভাগের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আগ্রহ
ড্যান লিনের বিদায়ের পর নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগে কনটেন্ট নির্বাচন, চলচ্চিত্র নির্মাণে বিনিয়োগ এবং নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নতুন নেতৃত্বের নাম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের পরই চলচ্চিত্র বিভাগে পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সূত্র: এনপিবি নিউজ; ভ্যারাইটি; নিউইয়র্ক টাইমস

কালের আলো/জেএন/এসএ

ইশরাককে পুনর্বহাল না করলে শহীদ পরিবার থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
ইশরাককে পুনর্বহাল না করলে শহীদ পরিবার থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের দাবি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা। তাকে পুনর্বহাল করা সম্ভব না হলে শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে যোগ্য, শিক্ষিত ও নিষ্ঠাবান কাউকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জুলাই যোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন, শহীদ রমিজুদ্দিনের বাবা উকিল বুলবুল আহমেদ, যাত্রাবাড়ীর কাজলার শহীদ ইমাম হাসান তাইমের বন্ধু মোহাম্মদ আহাদ হোসেন, শহীদ নূর হোসেনের মা নুরন্নাহার চিনু, শহীদ মোহাম্মদ নাসির হোসেনের ভাই হুমায়ুন, শহীদ সাইদুল ইসলাম ইয়াসিনের মা মনজিলা বেগম এবং আহত জুলাই যোদ্ধা এ কে এম ওবায়দুল হকসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। তবে এসব কার্যক্রমের বড় একটি অংশ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এমন একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রয়োজন, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেন এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের সমস্যাগুলো উপলব্ধি করেন।

জুলাই যোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ইশরাক হোসেনকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তা সম্ভব না হলে শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে যোগ্য কাউকে প্রতিমন্ত্রী করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এখনো অনেক আহত যোদ্ধা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অনেকে নিজ খরচে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে আসা আহতদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া অনেক আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যের গেজেটভুক্তি এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়নি।

আহত জুলাই যোদ্ধা এ কে এম ওবায়দুল হক বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে। আহতদের অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন। তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের মধ্য থেকে এমন একজন শিক্ষিত, মার্জিত ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেন এবং তাদের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নন; তারা রাষ্ট্রের সম্পদ। তাদের যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র ও সনদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, শহীদ পরিবারগুলোর ন্যায্য দাবি পূরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি