খুঁজুন
                               
, ,
           

মানুষের হয়ে দর–কষাকষি করবে এআই এজেন্ট আইনি ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
মানুষের হয়ে দর–কষাকষি করবে এআই এজেন্ট আইনি ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ

মানুষের হয়ে পণ্যের দাম নিয়ে দর–কষাকষি, গ্রাহকের অভিযোগের সমাধান কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে বেশি বেতনের প্রস্তাব আদায় করতে পারবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট। ভবিষ্যতে এসব কাজের জন্য মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণও কমে আসতে পারে। তবে এআই এজেন্টকে মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করানোর ক্ষেত্রে আইনি ও নৈতিক সীমা কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এআই প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক এ ধরনের প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও ঝুঁকি খতিয়ে দেখতে আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

মানুষের প্রতিনিধি হয়ে চুক্তি নিয়ে আলোচনা
এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির ফলে এমন একটি ব্যবস্থার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যেখানে এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর–কষাকষি করতে পারবে। এমনকি এক এআই এজেন্ট অন্য এআই এজেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিজ নিজ ব্যবহারকারীর স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করতে পারে। এতে পণ্য কেনাবেচা, চাকরির বেতন নির্ধারণ, বাড়িভাড়ার চুক্তি কিংবা গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তির মতো কাজে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যবহারকারীকে প্রতিটি ধাপে সরাসরি অংশ নিতে না হলেও চলতে পারে। তবে এআই এজেন্ট কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে এবং কোন পর্যায়ে মানুষের অনুমতি নিতে হবে, তা নির্ধারণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

পরীক্ষায় দর–কষাকষিতে সাফল্য এআইয়ের
অ্যানথ্রপিক গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতির আদলে তৈরি বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে এআই এজেন্টের দর–কষাকষির সক্ষমতা যাচাই করেছে তারা। পরীক্ষায় কর্মীরা একটি ভার্চ্যুয়াল বাজারে এআই এজেন্ট ব্যবহার করে বই কেনাবেচা করেন। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, কঠোরভাবে দর–কষাকষি করার নির্দেশনা পাওয়া এআই এজেন্টগুলো তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো চুক্তি করতে পেরেছে। অন্যদিকে সহযোগিতামূলক আচরণে অভ্যস্ত এজেন্টগুলো কখনো কখনো নিজেদের কম পছন্দের বই গ্রহণ করেছে, যাতে লেনদেনে অংশ নেওয়া সবাই কিছু না কিছু সুবিধা পায়। এ পরীক্ষার ফলাফল ইঙ্গিত দেয়, এআই এজেন্টের আচরণ অনেকাংশে নির্ভর করতে পারে তাকে কী ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে তার ওপর। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সব পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমঝোতা তৈরির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অন্য এআইকে বিভ্রান্ত করে তথ্য আদায়ের ঝুঁকি
এআই এজেন্টের দর–কষাকষির সক্ষমতার পাশাপাশি এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও গবেষণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক মিশেল ভাকারো এআই এজেন্টগুলোর মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি দর–কষাকষি নিয়ে গবেষণা করেছেন। এসব পরীক্ষায় চাকরির প্রস্তাব, বাড়িভাড়ার চুক্তিসহ বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এআই এজেন্ট প্রম্পট ইনজেকশনের মতো কৌশল ব্যবহার করে অন্য এজেন্টকে বিভ্রান্ত করতে পারে। এমনকি অন্য এজেন্টের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য বের করে নেওয়ার চেষ্টাও করতে পারে। প্রম্পট ইনজেকশন হলো এমন একটি কৌশল, যার মাধ্যমে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে এআই ব্যবস্থাকে তার নির্ধারিত কাজের বাইরে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু করতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। দর–কষাকষির সময় এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হলে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

এআইয়ের সুবিধা কি সবাই সমানভাবে পাবে?
এআই এজেন্টের সহায়তায় সাধারণ মানুষও পেশাদার পরামর্শকের সাহায্য ছাড়াই নিজেদের জন্য ভালো চুক্তি আদায়ের সুযোগ পেতে পারেন। চাকরির বেতন নিয়ে আলোচনা, বাড়িভাড়ার শর্ত নির্ধারণ কিংবা পণ্যের দাম কমানোর মতো কাজে এটি বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে। তবে এ সুবিধা সবার জন্য সমানভাবে সহজলভ্য হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেলগুলো যদি মূলত ধনী ব্যক্তি ও বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাগালে থাকে, তাহলে দর–কষাকষিতে তারাই বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। বিপরীতে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষ ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় আরও অসুবিধায় পড়তে পারে। এ কারণে এআই এজেন্টের বিস্তার একদিকে দর–কষাকষির সুযোগ বাড়ালেও অন্যদিকে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এআই এজেন্টের জন্য প্রয়োজন আইনি কাঠামো
বর্তমানে মানুষের হয়ে দর–কষাকষি ও লেনদেন পরিচালনাকারী এআই এজেন্টের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট আইনি ও নীতিগত কাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে এ ধরনের এজেন্টের ক্ষমতা ও দায়িত্বের সীমা নির্ধারণ জরুরি হয়ে উঠছে। কোন পরিস্থিতিতে এআই এজেন্ট নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, কখন সমঝোতায় পৌঁছাবে এবং কখন ব্যবহারকারীর অনুমতি বা সহায়তা চাইবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এআই এজেন্ট ভুল তথ্য দিলে, গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে কিংবা ব্যবহারকারীর স্বার্থবিরোধী চুক্তি করলে দায় কার ওপর বর্তাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এআই প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পারে। তবে প্রযুক্তিটির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যেন নতুন ধরনের প্রতারণা, বৈষম্য কিংবা আইনি জটিলতা তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করাও জরুরি। ভবিষ্যতে এআই এজেন্টের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও ব্যবহারকারীর সুরক্ষার বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাবে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

কালের আলো/জেএন/এসএ

লাল সিঁদুরে রাঙা মুখ, বিদায়ের অশ্রু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
লাল সিঁদুরে রাঙা মুখ, বিদায়ের অশ্রু

ঢাকের বোল, শঙ্খের ধ্বনি আর উলুধ্বনিতে চারপাশ মুখর। কারও মুখ সিঁদুরে রাঙা, কারও চোখে বিদায়ের অশ্রু। আনন্দ আর বিষাদের এমন মায়াবী মেলবন্ধনের মধ্য দিয়েই বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা। পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা, উৎসব আর মিলনমেলার পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।

দেবীকে শেষবারের মতো প্রণাম জানাতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভিড় করেন ভক্তরা। দশমীর আনুষ্ঠানিকতা, দেবীবরণ ও সিঁদুর খেলা ঘিরে মণ্ডপগুলোতে ছিল উৎসবের আমেজ। তবে বিদায়ের মুহূর্ত ঘনিয়ে আসতেই আনন্দের আড়ালে অনুভূত হয় বিচ্ছেদের বেদনা।

  • ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বুড়িগঙ্গার ঘাট—দেবীবরণ
  • সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনে শেষ শারদীয় দুর্গোৎসব
  • দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়ে আগামী বছরের অপেক্ষায় ভক্তরা

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিশেষ পূজা ও অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তরা ধূপ, দীপ, বেলপাতা ও নানা পূজাসামগ্রী দিয়ে দেবীর চরণে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন করেন। প্রার্থনায় উঠে আসে পরিবার-পরিজনের মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য, দেশ ও জাতির শান্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রত্যাশা।

সিঁদুরে রাঙা উৎসব, চোখে বিদায়ের জল
পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন হয় দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জন। এরপর শুরু হয় দেবীবরণ ও ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা। বিবাহিত নারীরা দেবী দুর্গার কপাল ও চরণে সিঁদুর ছুঁইয়ে প্রণাম করেন। পান ও মিষ্টি নিবেদনের মধ্য দিয়ে জানান বিদায়ী শ্রদ্ধা।

পরে একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন তাঁরা। কারও মুখে হাসি, কারও চোখে জল—লাল সিঁদুরে রাঙা মন্দির প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আবেগের এক অনন্য দৃশ্যপট। উৎসবের শেষ দিনের এই আচার ঘিরে নারীদের মধ্যে দেখা যায় আন্তরিকতা, শুভকামনা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির প্রকাশ। ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি তাপস কুমার পাল জানান, দশমীর পূজা ও অঞ্জলি শেষে নিয়ম অনুযায়ী দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে শাস্ত্রীয় পূজার সমাপ্তি হয়। এরপর ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুকুরে ঘট বিসর্জন দেওয়া হয় এবং সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় সিঁদুর খেলা।

তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সপ্তমীতে চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে প্রতিমায় দেবীর উপস্থিতি আহ্বান করা হয়। আর দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে। সিঁদুর খেলা বিজয়া দশমীর একটি ঐতিহ্যবাহী আচার, যার সঙ্গে স্বামীর দীর্ঘায়ু ও পরিবারের কল্যাণ কামনার বিশ্বাস জড়িয়ে আছে।

ঢাকের তালে শোভাযাত্রা, গন্তব্য ওয়াইজঘাট
মন্দিরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে শুরু হয় বিজয়া শোভাযাত্রা। ঢাকের বাদ্য আর ভক্তদের জয়ধ্বনিতে মুখর শোভাযাত্রা বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটের দিকে এগিয়ে যায়।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় অংশ নেন অসংখ্য ভক্ত। নদীঘাটে পৌঁছে ধর্মীয় আচার মেনে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। জলে প্রতিমা বিলীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আয়োজন। বিসর্জনের সময় অনেক ভক্তকে দেবীর উদ্দেশে প্রণাম জানাতে এবং আগামী বছর আবার ফিরে আসার প্রার্থনা করতে দেখা যায়। তাঁদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা কৈলাসে ফিরে গেলেও তাঁর আশীর্বাদ ও কল্যাণের প্রত্যাশা থেকে যায় মানুষের মনে।

রাজধানীতে ২৫৮ মণ্ডপে দুর্গোৎসব
সনাতন পঞ্জিকা ও উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাজধানীতে ২৫৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ঢাকার নির্ধারিত ১১টি ঘাটে ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পাঁচ দিনের এই উৎসবকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপে পূজা, অঞ্জলি, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সেই ব্যস্ততা ও আনন্দের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।

বিদায়ের সুরে আগামী বছরের প্রতীক্ষা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসে, দুর্গাপূজা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। দেবী দুর্গার আগমন মানুষের মনে জাগায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, কল্যাণ ও ন্যায়ের প্রত্যাশা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মণ্ডপের আলো নিভলেও ভক্তদের মনে রয়ে যায় উৎসবের স্মৃতি। সিঁদুরের রং মুছে যাবে, ঢাকের আওয়াজ থেমে যাবে, কিন্তু দেবীকে ঘিরে প্রার্থনা ও বিশ্বাস থেকে যাবে অটুট। তাই বিজয়া দশমী শুধু বিদায়ের দিন নয়, এটি আবার ফিরে পাওয়ার আশারও দিন। বিষাদমাখা কণ্ঠে ভক্তদের প্রার্থনা—আগামী বছর আবার এসো মা, শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে।

কালের আলো/জেএন/এমকে

জলপাই-আমলকীতে হেমন্তের ঘ্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
জলপাই-আমলকীতে হেমন্তের ঘ্রাণ

শৈশবের চেনা স্বাদ, গ্রামবাংলার স্মৃতি আর টক-মিষ্টি ফলের আকর্ষণ—সব মিলিয়ে হেমন্তের শুরুতেই জমে উঠেছে রাজধানীর দেশি ফলের বাজার। জলপাই, আমলকী, আমড়া, কদবেল, চালতা, পানিফল, জাম্বুরা ও কামরাঙাসহ নানা মৌসুমি ফলে রঙিন হয়ে উঠেছে যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারের ফলের দোকান। পছন্দের ফল কিনতে বাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে ফলের সমারোহে খুশি হলেও দামের ক্ষেত্রে হিসাব কষতে হচ্ছে অনেককে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর এই দুই বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানে দোকানে সাজানো দেশি ফলের পসরা। কেউ পরিবারের জন্য কিনছেন কয়েক ধরনের ফল, কেউ আবার দীর্ঘদিন পর পরিচিত ফলের দেখা পেয়ে কিনছেন নিজের পছন্দে। সারা বছর সহজে না পাওয়া এসব ফলের প্রতি বাড়তি টান তৈরি হয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।

  • রাজধানীর বাজারে ফিরেছে গ্রামবাংলার চেনা ফল
  • হেমন্তের শুরুতে যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারে দেশি ফলের বাহার
  • শৈশবের স্মৃতি আর স্বাদের টানে ক্রেতা, দামে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

৬০ টাকার জলপাই, ১০০ টাকার আমলকী
বাজারে প্রতি কেজি জলপাই বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। আমলকীর দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পাকা আমড়া ৮০ টাকা এবং কাঁচা আমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। পানিফল মিলছে ৪০ টাকায়, জাম্বুরা ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং পেঁপে ৬০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া কদবেল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেয়ারা ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কামরাঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি চালতার দাম ৫ টাকা। আনারস কিনতে খরচ হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, আর প্রতিটি তাল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। ফলের দামে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য এক রকম নয়। কারও কাছে দাম মোটামুটি সহনীয়, আবার কারও মতে, কিছু ফলের দাম বেশি। তাই পছন্দ থাকলেও অনেকে কিনছেন পরিমাণ বুঝে, কেউবা একাধিক দোকানে দাম যাচাই করে নিচ্ছেন সিদ্ধান্ত।

ফলের টানে ফিরছে গ্রামের স্মৃতি
রাজধানীর ব্যস্ত জীবনে গ্রামের পরিচিত অনেক ফলই সারা বছর সহজে মেলে না। মৌসুমে বাজারে এসব ফলের দেখা মিললে তাই স্বাদের পাশাপাশি ফিরে আসে পুরোনো দিনের স্মৃতি। যাত্রাবাড়ীর ক্রেতা সাব্বির বলেন, জলপাই, আমলকী, আমড়া ও কদবেল সারা বছর পাওয়া যায় না। বাজারে এসব ফল উঠলে কিনতে ইচ্ছা করে। দাম কিছুটা বেশি হলেও পরিবারের জন্য অল্প করে কেনেন তিনি। আরেক ক্রেতা জানান, গ্রামে থাকতে এসব ফল সহজেই পাওয়া যেত। এখন রাজধানীতে সব সময় পাওয়া যায় না বলে বাজারে এলে কিনতে মন চায়। তবে কেনার আগে কয়েকটি দোকানে দাম যাচাই করেন তিনি।

সরবরাহ কমলেই বাড়ে দামের চাপ
বিক্রেতাদের মতে, ফলের দাম নির্ভর করে সরবরাহ, আকার, মান ও সংগ্রহস্থলের ওপর। বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কিছুটা কমে, আর সরবরাহ কমলে বাড়তে পারে। মৌসুমি অনেক ফল অল্প সময়ের জন্য পাওয়া যায় বলে এ সময় চাহিদাও থাকে। শ্যামবাজারের বিক্রেতা রবিউল আলম বলেন, মৌসুমি ফলের চাহিদা থাকলেও বেশি দামে সবাই কিনতে চান না। কেউ অল্প করে কেনেন, কেউ পরিবারের জন্য কয়েক ধরনের ফল নেন। ফলের মান ও সরবরাহ অনুযায়ী দাম নির্ধারিত হয়।

আরেক বিক্রেতা কামরুল হাসান বলেন, মৌসুমি ফলের স্থায়িত্ব কম। দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সময়মতো বিক্রি করতে হয়। এ কারণে ফলের বেচাকেনায় সরবরাহ ও চাহিদার পাশাপাশি পচনশীলতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

ফলের সমারোহে স্বাদ, পুষ্টি ও ঐতিহ্য
মৌসুমি দেশি ফলের আবেদন শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিতেও। ফলভেদে এতে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও খাদ্যআঁশ। সুষম খাদ্যাভ্যাসে নানা ধরনের ফল রাখার গুরুত্বও রয়েছে।

তবে রাজধানীর বাজারে এই ফলের সমারোহ স্রেফ কেনাবেচার চিত্র নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতি ও স্মৃতির সম্পর্কও। টক জলপাই, কষযুক্ত আমলকী কিংবা স্বতন্ত্র স্বাদের কদবেল—পরিচিত এসব ফল অনেকের কাছেই ফিরিয়ে আনে ফেলে আসা দিনের কথা। হেমন্তের শুরুতে তাই দেশি ফলের পসরা ঘিরে রাজধানীর বাজারে তৈরি হয়েছে বাড়তি আকর্ষণ। পছন্দের ফল কেনার আগ্রহ আছে, তবে সেই আগ্রহের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে দামের হিসাব। সাধ্য অনুযায়ী কেনাকাটার মধ্য দিয়েই মৌসুমি ফলের স্বাদ নিচ্ছেন নগরবাসী।

কালের আলো/এএএন/এমকে 

ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, আটক ছাত্রলীগ নেতা

আদালত প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, আটক ছাত্রলীগ নেতা

রাজধানীর মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণ করার অভিযোগে তানভীর জোমাদ্দার নামে ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) তাঁকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। আটক তানভীর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার মিরপুর-১০ এলাকায় দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে থাকেন তানভীর। একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ারও চেষ্টা করেন।

ঘটনাটি একটি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে শনাক্ত করতে তৎপর হয় পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার তাঁকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, ভিডিওতে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে তাঁকে আটকের সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি