খুঁজুন
                               
, ,
           

শুধু দ্রুতগতির ইন্টারনেট নয়, ৬জিতে বদলে যেতে পারে যোগাযোগব্যবস্থা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
শুধু দ্রুতগতির ইন্টারনেট নয়, ৬জিতে বদলে যেতে পারে যোগাযোগব্যবস্থা

মোবাইল যোগাযোগপ্রযুক্তিতে ৫জির বিস্তার এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ষষ্ঠ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ৬জি নিয়ে গবেষণা ও প্রস্তুতি। প্রযুক্তিটি কবে চালু হবে, কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে এবং ৫জির সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়—এসব প্রশ্ন নিয়ে প্রযুক্তি খাতে আগ্রহ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালকে সামনে রেখে ৬জির আন্তর্জাতিক মান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নির্ধারণের কাজ এগিয়ে চলছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান এর আগেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে।

৬জি প্রযুক্তি কী?

৬জি হলো মোবাইল যোগাযোগপ্রযুক্তির ষষ্ঠ প্রজন্ম। ৩জি, ৪জি ও ৫জির ধারাবাহিকতায় এ প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে। তবে ৬জি কেবল ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মাধ্যমে যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সক্ষমতা ও ব্যবহারক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে।

জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ৬জিকে ‘আইএমটি-২০৩০’ নামে অভিহিত করেছে। প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য কার্যক্ষমতা, বৈশিষ্ট্য ও আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণের কাজ এখনো চলমান। ফলে ৬জির চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে সবকিছু বলা সম্ভব নয়।

কেন এখন থেকেই ৬জি নিয়ে প্রস্তুতি?

নতুন প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগপ্রযুক্তি তৈরি করতে গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। এ কারণে ৫জির বিস্তার পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ৬জি নিয়ে কাজ শুরু করেছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো।

ভবিষ্যতে মুঠোফোনের পাশাপাশি গাড়ি, বাসাবাড়ির স্মার্ট যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগের প্রয়োজন আরও বাড়তে পারে। এসব যন্ত্রকে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত রাখার ক্ষেত্রে ৬জি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নেটওয়ার্ক দিয়েই শনাক্ত করা যাবে আশপাশের পরিবেশ?

৬জির সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে যোগাযোগের পাশাপাশি পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা। নেটওয়ার্কের বেতার সংকেত কাজে লাগিয়ে আশপাশে মানুষ বা গাড়ির উপস্থিতি শনাক্ত করার মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের সক্ষমতা ভবিষ্যতে স্মার্ট শহর, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন এবং বিভিন্ন বুদ্ধিমান ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে। তবে এসব সুবিধা কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির চূড়ান্ত নকশা, মান নির্ধারণ এবং পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।

কবে চালু হবে ৬জি?

প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ৬জি নেটওয়ার্ক চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টি-মোবাইল ২০২৯ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ৬জি নেটওয়ার্ক চালুর পরিকল্পনা করছে।

তবে কোনো প্রযুক্তির বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হওয়া এবং সেটি সব দেশে সহজলভ্য হওয়া এক বিষয় নয়। ৪জি ও ৫জির মতো ৬জিও ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে উপযুক্ত অবকাঠামো, নেটওয়ার্ক স্থাপন, সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের প্রস্তুতি।

৫জি থাকা অবস্থায় ৬জির গুরুত্ব কতটা?

৫জি প্রযুক্তি উচ্চগতির ইন্টারনেট ও উন্নত সংযোগের সুযোগ তৈরি করলেও ৬জির লক্ষ্য আরও বিস্তৃত। ভবিষ্যতের বিপুলসংখ্যক সংযুক্ত যন্ত্র, উন্নত ডিজিটাল সেবা এবং যোগাযোগ ও পরিবেশ শনাক্তকরণের সমন্বিত ব্যবহারের কথা বিবেচনায় রেখেই প্রযুক্তিটি নিয়ে গবেষণা চলছে।

সব মিলিয়ে, ২০৩০ সালকে কেন্দ্র করে ৬জির আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণের কাজ এগোচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ২০২৯ সাল থেকে বাণিজ্যিক সেবা চালুর পরিকল্পনা করলেও সাধারণ ব্যবহারকারীরা কবে থেকে ব্যাপকভাবে এ প্রযুক্তির সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করবে গবেষণার অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দেশভিত্তিক বাস্তবায়নের ওপর।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এএইচ/এসএ

 

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ছাড়াই করা যাবে কল

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ছাড়াই করা যাবে কল

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সুবিধা নিয়ে এসেছে মেটা। এখন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট না থাকলেও এই প্ল্যাটফর্মের কলিং সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। নতুন ‘গেস্ট কলিং’ সুবিধার মাধ্যমে অ্যাকাউন্টধারীরা কলের লিংক তৈরি করে অন্যদের আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন। আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকেই সেই লিংকে প্রবেশ করে কলে যুক্ত হতে পারবেন।

মেটা জানিয়েছে, নতুন এই সুবিধার ফলে সহকর্মী, সহপাঠী কিংবা শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা আরও সহজ হবে। যাঁদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নেই, তাঁরাও আমন্ত্রণ পেলে ব্যক্তিগত ও গ্রুপ কলে অংশ নিতে পারবেন। এ জন্য তাঁদের আলাদা করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে না।

অ্যাকাউন্ট ছাড়াই কীভাবে কলে যুক্ত হবেন?

গেস্ট কলিং সুবিধা ব্যবহার করতে হোয়াটসঅ্যাপের ‘কলস’ ট্যাবে গিয়ে ‘+’ আইকনে চাপ দিতে হবে। এরপর একটি কল লিংক তৈরি করে যাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চান, তাঁদের কাছে পাঠাতে হবে।

আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা কম্পিউটারের ব্রাউজারে লিংকটি খুলে নিজের নাম লিখে কলে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানাতে পারবেন। তবে কলের আয়োজক অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা কলে প্রবেশ করতে পারবেন না। গেস্ট হিসেবে সর্বোচ্চ ৩২ জনের অংশগ্রহণে ব্যক্তিগত বা গ্রুপ কল করা যাবে।

এ সুবিধায় একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—কল লিংক তৈরি করতে হলে অবশ্যই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। অর্থাৎ, অ্যাকাউন্ট ছাড়া ব্যবহারকারীরা কলে যোগ দিতে পারবেন, কিন্তু নিজেরা কল লিংক তৈরি করতে পারবেন না।

গেস্টদের জন্য থাকছে নিরাপত্তাব্যবস্থা

গেস্ট কলিং সুবিধায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো গেস্ট সরাসরি কলে প্রবেশ করতে পারবেন না; আয়োজকের অনুমোদন নিতে হবে। অনুমতি পাওয়ার আগপর্যন্ত তাঁরা অপেক্ষমাণ কক্ষে থাকবেন। প্রয়োজনে আয়োজক যেকোনো সময় কোনো গেস্টকে কল থেকে সরিয়ে দিতে পারবেন।

এ ছাড়া গেস্টরা কলের অন্য অংশগ্রহণকারীদের ফোন নম্বর দেখতে পারবেন না। তাঁরা কলের মধ্যে বার্তা পাঠাতে কিংবা সরাসরি অন্য কাউকে আমন্ত্রণ জানাতেও পারবেন না।

মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, গেস্ট কলেও বিনা মূল্যে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা থাকবে। ফলে কলের কথোপকথন সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা বজায় থাকবে। এ ছাড়া কলের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে না।

স্ক্রিন শেয়ারিং ও ইমোজি ব্যবহারের সুযোগ

গেস্ট হিসেবে কলে যোগ দিলেও বেশ কিছু প্রয়োজনীয় সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটারের স্ক্রিন শেয়ার করে অন্যদের সঙ্গে কাজ করা বা কোনো নথি পর্যালোচনা করা।

এ ছাড়া থাম্বস-আপ বা হার্টের মতো ইমোজির মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো এবং কথা বলার জন্য হাত তোলার সুবিধাও থাকবে। ফলে অনলাইন ক্লাস, দলীয় আলোচনা কিংবা কর্মক্ষেত্রের ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে এ সুবিধা কাজে লাগতে পারে।

গুগল ও আউটলুক ক্যালেন্ডার থেকেও করা যাবে কল

গেস্ট কলিংয়ের পাশাপাশি চলতি বছরের শেষ দিকে নতুন ক্যালেন্ডার ইন্টিগ্রেশন চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছে মেটা। এর মাধ্যমে গুগল ক্যালেন্ডার বা আউটলুক ক্যালেন্ডার থেকেই সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ কল তৈরি করা যাবে।

এ জন্য ব্যবহারকারীদের হোয়াটসঅ্যাপ প্লাগইন ইনস্টল করে নিজেদের অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করতে হবে। এরপর ক্যালেন্ডারে কোনো অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ তৈরি করার সময় হোয়াটসঅ্যাপ কলের লিংক যুক্ত করা যাবে। আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থাকুক বা না থাকুক, সেই লিংকের মাধ্যমে কলে যোগ দিতে পারবেন।

মেটা জানিয়েছে, চলতি বছরে হোয়াটসঅ্যাপের কলিং সুবিধায় যেসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে, নতুন গেস্ট কলিং ও ক্যালেন্ডার ইন্টিগ্রেশন তারই অংশ। এসব সুবিধার লক্ষ্য হলো, ব্যবহারকারীরা যেন বিভিন্ন ডিভাইস ও পরিস্থিতিতে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন।

কালের আলো/এএন/এসএ

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু, অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর বার্তা তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু, অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর বার্তা তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তিনি বলেছেন, এ কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী নির্বাচন ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। যোগ্য পরিবার চিহ্নিত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ফলে ফ্যামিলি কার্ড পেতে কারও কাছে তদবির করার প্রয়োজন নেই।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কাদিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যা বলেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করেন।’

  • বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বাছাই হবে উপকারভোগী
  • কার্ডের নামে টাকা দাবি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি ইয়াসের খান চৌধুরীর

বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই হবে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য সংগ্রহের জন্য সরকারিভাবে প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবার চিহ্নিত করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো যোগ্য পরিবার যাতে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর সুস্পষ্ট বার্তা সুবিধাভোগী নির্বাচনে তদবিরের পরিবর্তে তথ্যের যথার্থতা ও যাচাই-বাছাই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়।

কার্ডের জন্য টাকা দাবি করলে ব্যবস্থা
ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে কেউ টাকা চাইলে তাঁকে টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। সরকারি সহায়তার সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করা এ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের পরিচয় যাচাই এবং সংগৃহীত তথ্যের যথাযথ পর্যালোচনা নিশ্চিত করা গেলে প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।

মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন কার্ডধারীরা
প্রতিমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ডধারীরা প্রতি মাসে সরকারের পক্ষ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে এ অর্থ দেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ অর্থ দিয়ে নারীরা চিকিৎসা, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা ও নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। কর্মসূচিটির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এনামুল কাদির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু পল্লব রায়, বিএনপি নেতা আবুল খায়ের বাবুল এবং পৌর বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুজ্জামান ভূঁইয়া মনিসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক নারী ও পুরুষও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

দেশজুড়ে অবৈধ ক্লিনিকে সাঁড়াশি অভিযান, বন্ধ ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
দেশজুড়ে অবৈধ ক্লিনিকে সাঁড়াশি অভিযান, বন্ধ ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে সারাদেশে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান এবং সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে সারাদেশে প্রায় ৫ হাজার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে লাইসেন্সবিহীন ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০০টি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সেবার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতি, ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ চালু রাখা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সরকারি ওষুধের যথাযথ বিতরণ এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সেবার মান বাড়ানোর জন্যও কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমার স্পষ্ট নির্দেশনা হলো, দেশের কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো দালাল থাকবে না, কোনো রোগী হয়রানির শিকার হবে না। আমি প্রতিদিন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমার লক্ষ্য একটাই—গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই মানসম্মত, হয়রানিমুক্ত ও মানবিক চিকিৎসাসেবা পান।”

তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে শুধু প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না; আইন অনুযায়ী দায়ীদের জরিমানা ও কারাদণ্ডও দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সারাদেশে অভিযান, জরিমানা ও কারাদণ্ড

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে একাধিক প্রতিষ্ঠান সিলগালা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্যাথলজি বিভাগ, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সাতটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মানিকগঞ্জের সিংগাইর ও পৌর এলাকায় পাঁচটি এবং খুলনায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর পল্টনে অনুমোদন ছাড়া বিদেশগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার অভিযোগে হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে সারাদেশে ৮৮টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়।

খুলনা বিভাগের পাইকগাছায় বাঁকা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের মালিক গৌতম সরকারকে ভুয়া চিকিৎসক সেজে রোগী দেখার দায়ে ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বটিয়াঘাটায় ডিজিটাল ক্লিনিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়; জরিমানা অনাদায়ে ৩০ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয় এবং ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ‘আমাদের হাসপাতালে’ সনদবিহীন চিকিৎসক শরিফুল ইসলামকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঝিনাইদহ ও গোপালগঞ্জে রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তিকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে চিহ্নিত করে তিন মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার তথ্যও জানানো হয়েছে। ময়মনসিংহ নগরীতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের তিনজনকে সাত থেকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ফাতেমা ক্লিনিক ও নিরাময় ক্লিনিককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি রিজিয়া ক্লিনিক এবং গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট সেবা ক্লিনিক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দালাল চক্রের সাত সদস্যকেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নাটোরে লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা তৈরি ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নজরদারি জোরদার

সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগীদের হয়রানি বন্ধেও তদারকি চলছে।

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীরা যাতে দালালের মাধ্যমে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীর সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইয়েদুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের নির্দেশনায় জেলায় অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স এবং জনবলের বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কাজ করছে অধিদপ্তর। অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মান বৃদ্ধি এবং সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জনবান্ধব করাও এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা, ওষুধ সরবরাহ এবং রোগীদের হয়রানিমুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি চলছে। মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান, নিয়মিত তদারকি এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পথ আরও সহজ হবে। তবে এ উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা এবং সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করার ওপর।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি