শুধু দ্রুতগতির ইন্টারনেট নয়, ৬জিতে বদলে যেতে পারে যোগাযোগব্যবস্থা
মোবাইল যোগাযোগপ্রযুক্তিতে ৫জির বিস্তার এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ষষ্ঠ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ৬জি নিয়ে গবেষণা ও প্রস্তুতি। প্রযুক্তিটি কবে চালু হবে, কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে এবং ৫জির সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়—এসব প্রশ্ন নিয়ে প্রযুক্তি খাতে আগ্রহ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালকে সামনে রেখে ৬জির আন্তর্জাতিক মান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নির্ধারণের কাজ এগিয়ে চলছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান এর আগেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে।
৬জি প্রযুক্তি কী?
৬জি হলো মোবাইল যোগাযোগপ্রযুক্তির ষষ্ঠ প্রজন্ম। ৩জি, ৪জি ও ৫জির ধারাবাহিকতায় এ প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে। তবে ৬জি কেবল ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মাধ্যমে যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সক্ষমতা ও ব্যবহারক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে।
জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ৬জিকে ‘আইএমটি-২০৩০’ নামে অভিহিত করেছে। প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য কার্যক্ষমতা, বৈশিষ্ট্য ও আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণের কাজ এখনো চলমান। ফলে ৬জির চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে সবকিছু বলা সম্ভব নয়।
কেন এখন থেকেই ৬জি নিয়ে প্রস্তুতি?
নতুন প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগপ্রযুক্তি তৈরি করতে গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। এ কারণে ৫জির বিস্তার পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ৬জি নিয়ে কাজ শুরু করেছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো।
ভবিষ্যতে মুঠোফোনের পাশাপাশি গাড়ি, বাসাবাড়ির স্মার্ট যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগের প্রয়োজন আরও বাড়তে পারে। এসব যন্ত্রকে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত রাখার ক্ষেত্রে ৬জি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেটওয়ার্ক দিয়েই শনাক্ত করা যাবে আশপাশের পরিবেশ?
৬জির সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে যোগাযোগের পাশাপাশি পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা। নেটওয়ার্কের বেতার সংকেত কাজে লাগিয়ে আশপাশে মানুষ বা গাড়ির উপস্থিতি শনাক্ত করার মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের সক্ষমতা ভবিষ্যতে স্মার্ট শহর, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন এবং বিভিন্ন বুদ্ধিমান ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে। তবে এসব সুবিধা কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির চূড়ান্ত নকশা, মান নির্ধারণ এবং পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।
কবে চালু হবে ৬জি?
প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ৬জি নেটওয়ার্ক চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টি-মোবাইল ২০২৯ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ৬জি নেটওয়ার্ক চালুর পরিকল্পনা করছে।
তবে কোনো প্রযুক্তির বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হওয়া এবং সেটি সব দেশে সহজলভ্য হওয়া এক বিষয় নয়। ৪জি ও ৫জির মতো ৬জিও ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে উপযুক্ত অবকাঠামো, নেটওয়ার্ক স্থাপন, সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের প্রস্তুতি।
৫জি থাকা অবস্থায় ৬জির গুরুত্ব কতটা?
৫জি প্রযুক্তি উচ্চগতির ইন্টারনেট ও উন্নত সংযোগের সুযোগ তৈরি করলেও ৬জির লক্ষ্য আরও বিস্তৃত। ভবিষ্যতের বিপুলসংখ্যক সংযুক্ত যন্ত্র, উন্নত ডিজিটাল সেবা এবং যোগাযোগ ও পরিবেশ শনাক্তকরণের সমন্বিত ব্যবহারের কথা বিবেচনায় রেখেই প্রযুক্তিটি নিয়ে গবেষণা চলছে।
সব মিলিয়ে, ২০৩০ সালকে কেন্দ্র করে ৬জির আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণের কাজ এগোচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ২০২৯ সাল থেকে বাণিজ্যিক সেবা চালুর পরিকল্পনা করলেও সাধারণ ব্যবহারকারীরা কবে থেকে ব্যাপকভাবে এ প্রযুক্তির সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করবে গবেষণার অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দেশভিত্তিক বাস্তবায়নের ওপর।
সূত্র: রয়টার্স
কালের আলো/এএইচ/এসএ


আপনার মতামত লিখুন
Array