খুঁজুন
                               
, ,
           

হারিয়ে যাচ্ছে শহরের কাক, নীরব হচ্ছে চেনা নগরজীবন

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাচ্ছে শহরের কাক, নীরব হচ্ছে চেনা নগরজীবন

একসময় ভোরের ঘুম ভাঙত কাকের ডাকে। ছাদের কার্নিশে, বৈদ্যুতিক তারে, পুরোনো গাছের ডালে কিংবা বাড়ির উঠানে দেখা মিলত কালো পালকের চিরচেনা পাখিটির। দুপুরের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভেসে আসত ‘কা-কা’ শব্দ। কখনো বিরক্তির কারণ, কখনো নিঃসঙ্গ দুপুরের সঙ্গী—কাক ছিল শহুরে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ সেই পরিচিত দৃশ্য ও শব্দ এখন অনেক জায়গাতেই যেন অতীতের স্মৃতি। কংক্রিটের বিস্তারে বদলে যাওয়া শহরে প্রশ্ন উঠছে, কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে কাকেরা?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে শুধু একটি পাখির অনুপস্থিতি নয়, বরং বদলে যাওয়া নগরজীবন, সংকুচিত সবুজ, আবাসস্থলের সংকট এবং মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির ক্রমশ দূরত্ব তৈরি হওয়ার চিত্র সামনে আসে। যে শহর একসময় কাকের সঙ্গে সহাবস্থানে অভ্যস্ত ছিল, সেই শহরেই এখন পাখিটির অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

কাকের ডাকে জড়িয়ে ছিল শৈশবের শহর
শহরের পুরোনো দিনের স্মৃতিতে কাকের উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। সকালে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি, ছুটির দিনের অলস দুপুর, ছাদের রোদে শুকাতে দেওয়া কাপড় কিংবা বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা খাবার—সবকিছুর সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে ছিল কাক।

মা যখন ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন, বাইরে তখন কাকের ডাক শোনা যেত। স্কুল থেকে ফিরে জানালা দিয়ে তাকালে দেখা মিলত ছাদের কার্নিশে বসে থাকা কয়েকটি কাকের। বাড়ির কেউ খাবার ফেললে মুহূর্তেই সেখানে হাজির হতো তারা। কখনো কাপড়ের ওপর বসে বিরক্ত করত, কখনো আবার দল বেঁধে উড়ে যেত এক ছাদ থেকে অন্য ছাদে। এসব দৃশ্যের মধ্যে আলাদা কোনো বিস্ময় ছিল না। কারণ, কাক ছিল শহরের স্বাভাবিক বাসিন্দা। তাদের উপস্থিতি এতটাই পরিচিত ছিল যে অনুপস্থিতি নিয়ে ভাবার প্রয়োজন পড়ত না।

কিন্তু সময় বদলেছে। বদলেছে বাড়িঘর, মানুষের জীবনযাপন ও শহরের শব্দ। সেই পরিবর্তনের ভিড়ে কাকের ডাকও যেন ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে যাচ্ছে। কোথাও এখনো তাদের দেখা মেলে, তবে অনেকের স্মৃতিতে থাকা সেই সর্বত্র উপস্থিতির দৃশ্য আর আগের মতো চোখে পড়ে না।

গাছ কমেছে, সংকুচিত হয়েছে পাখির আবাস
শহরে কাকের উপস্থিতি কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আবাসস্থলের পরিবর্তন। একসময় পাড়া-মহল্লায় ছিল বড় বড় গাছ, পুরোনো বাড়ির কার্নিশ, খোলা ছাদ এবং পাখির বাসা তৈরির উপযোগী নানা জায়গা। নগরায়ণের বিস্তারে এসব জায়গার অনেকগুলোই হারিয়ে যাচ্ছে। একতলা কিংবা দোতলা বাড়ির জায়গায় তৈরি হচ্ছে বহুতল ভবন। বাড়ছে সড়ক, পার্কিংয়ের জায়গা ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনে অনেক এলাকায় গাছপালাও কমে যাচ্ছে। ফলে পাখিদের আশ্রয়, বিশ্রাম এবং বাসা তৈরির উপযোগী জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।

কাক তুলনামূলকভাবে অভিযোজনক্ষম পাখি। মানুষের বসতির কাছাকাছি থেকেও তারা খাবার সংগ্রহ করতে পারে, গাছ কিংবা ভবনের বিভিন্ন অংশে আশ্রয় নিতে পারে। তবে অভিযোজনক্ষমতা থাকলেই যে সব ধরনের নগর পরিবর্তনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব, তা নয়। নিরাপদ বাসা, উপযুক্ত খাদ্য এবং বিশ্রামের জায়গার অভাব তাদের বসতি বদলে দিতে পারে। শহরের গাছ কমে যাওয়ার অর্থ তাই শুধু ছায়া হারানো নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যায় অসংখ্য পাখি ও ক্ষুদ্র প্রাণীর আবাসের সুযোগও।

পরিচ্ছন্ন শহর, কিন্তু খাবার কোথায়?
কাকের জীবনযাপনের সঙ্গে মানুষের ফেলে দেওয়া খাবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাসাবাড়ি, বাজার, খাবারের দোকান এবং উন্মুক্ত বর্জ্যস্থল থেকে তারা খাবার সংগ্রহ করে। এ কারণে কাককে শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পাখি হিসেবেও দেখা হয়।

কিন্তু নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এলে তাদের খাদ্য সংগ্রহের সুযোগও বদলে যেতে পারে। আবর্জনা ঢেকে রাখা, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য সংরক্ষণ এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ফলে কাকের জন্য সহজলভ্য খাবার কমে যেতে পারে। এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—পরিচ্ছন্নতা অবশ্যই জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয়। শহরকে অপরিচ্ছন্ন রেখে পাখিদের খাবারের ব্যবস্থা করার কোনো যুক্তি নেই। বরং প্রয়োজন এমন নগর ব্যবস্থাপনা, যেখানে বর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হবে, একই সঙ্গে গাছপালা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক আবাসও সংরক্ষিত থাকবে।

খাদ্যের সহজলভ্যতা কমে গেলে কাক অন্য এলাকায় চলে যেতে পারে কিংবা বিকল্প খাদ্যের সন্ধানে তাদের আচরণ বদলাতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট শহরে কাক কমে যাওয়ার পেছনে খাদ্যসংকট কতটা দায়ী, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রয়োজন।

শব্দের শহরে হারিয়ে যায় পাখির ডাক
শহরের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো অবিরাম শব্দ। যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজ, জেনারেটর, শিল্পকারখানা ও মানুষের কোলাহল মিলিয়ে নগরজীবনে শব্দের বিরাম খুব কম। পাখিদের যোগাযোগ, সঙ্গী খোঁজা এবং বিপদের সংকেত দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত শব্দ তাদের যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। শব্দদূষণ বিভিন্ন পাখির আচরণ ও আবাস নির্বাচনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

কাকের ক্ষেত্রেও নগরের শব্দের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু শব্দদূষণের কারণেই শহর থেকে কাক হারিয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য নির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন। আবাসস্থল, খাদ্যের প্রাপ্যতা, প্রজননের সাফল্য এবং পরিবেশগত অন্যান্য পরিবর্তনের সঙ্গে বিষয়টি মিলিয়ে দেখতে হবে। শহর যত বেশি যান্ত্রিক হয়ে উঠছে, ততই প্রকৃতির স্বাভাবিক শব্দগুলো যেন চাপা পড়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন মানুষের অনুভূতিতেও প্রভাব ফেলে। একসময় যে শব্দকে বিরক্তিকর মনে হতো, তার অনুপস্থিতিই এখন কারও কারও মনে শূন্যতা তৈরি করছে।

কাক কমে যাওয়া কি পরিবেশের সতর্কবার্তা?
কাক কেবল পরিচিত একটি পাখি নয়; নগর বাস্তুতন্ত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে। তারা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে এবং মৃত প্রাণী ও জৈব বর্জ্য খেয়ে পরিবেশে পচনশীল উপাদান অপসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তারা খাদ্যজালেরও অংশ। তবে কাকের সংখ্যা কমে গেলে পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে—এমন দাবি করার আগে প্রমাণ প্রয়োজন। কোনো এলাকায় কাকের প্রকৃত সংখ্যা কমেছে কি না, নাকি তাদের চলাচলের স্থান পরিবর্তিত হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পাখি গণনা, বাসা ও প্রজননের তথ্য সংগ্রহ এবং খাদ্য ও আবাসস্থলের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। পরিবেশবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিত উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। কাকের উপস্থিতি নিয়ে মানুষের স্মৃতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্মৃতি দিয়ে একা কোনো প্রজাতির সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। প্রয়োজন পর্যবেক্ষণ, তথ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা।

কাক ফিরিয়ে আনতে শহরকে কি নতুন করে ভাবতে হবে?
নগর উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়া নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শহর গড়ে তোলাই হতে পারে কার্যকর পথ। পুরোনো গাছ সংরক্ষণ, নতুন গাছ লাগানো, ছাদবাগান ও সবুজ জায়গা বাড়ানো এবং পাখির নিরাপদ আবাস বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে, যাতে খাবারের উচ্ছিষ্ট যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশও দূষিত না হয়। কীটনাশক ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কমানো এবং পাখিদের প্রজননস্থল সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

শহরের কোন এলাকায় কাকের উপস্থিতি কমছে, কোথায় তারা এখনো নিয়মিত আসে এবং কী ধরনের পরিবেশে তাদের দেখা বেশি মেলে—এসব তথ্য সংগ্রহ করা গেলে পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে। নাগরিকদেরও পাখি পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে যুক্ত করা যেতে পারে। কাককে ভালোবাসতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানকারী একটি প্রজাতির জন্য শহরে উপযুক্ত পরিবেশ রাখা প্রকৃতি সংরক্ষণেরই অংশ।

কাকের ডাক কি ফিরবে শহরে?
শহর বদলাবে, নতুন ভবন উঠবে, সড়ক বাড়বে, মানুষের জীবনযাপনও পরিবর্তিত হবে। কিন্তু সেই পরিবর্তনের মধ্যে প্রকৃতির জন্য কতটুকু জায়গা থাকবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। কাকের ডাক হয়তো একসময় অনেকের কাছে ছিল বিরক্তির, আবার কারও কাছে ছিল শৈশবের পরিচিত শব্দ। আজ সেই ডাক কম শোনা গেলে স্মৃতির পাশাপাশি সামনে আসে পরিবেশের প্রশ্নও। যে শহর একসময় পাখির সঙ্গে নিজের দৈনন্দিন জীবন ভাগ করে নিত, সেখানে পাখিদের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে কি না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।

কাকেরা কি সত্যিই শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছে, নাকি শহরের ভেতরেই তাদের পরিচিত আবাস ও খাদ্য সংগ্রহের জায়গা বদলে যাচ্ছে? নিশ্চিত উত্তর পেতে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—শহরকে শুধু মানুষের বসবাসের উপযোগী করলেই চলবে না, সেখানে অন্য প্রাণীর অস্তিত্বের সুযোগও রাখতে হবে। হয়তো কোনো এক ভোরে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আবার শোনা যাবে সেই পরিচিত ‘কা-কা’ ডাক। তখন সেটি শুধু একটি পাখির শব্দ থাকবে না; মনে করিয়ে দেবে, কংক্রিটের শহরেও প্রকৃতির জন্য জায়গা রাখা সম্ভব।

কারণ, শহর শুধু ভবন, সড়ক আর মানুষের সমষ্টি নয়। শহরের প্রাণ আছে তার গাছপালা, পাখি, আলো-বাতাস এবং মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সহাবস্থানে। কাকের অনুপস্থিতি সেই সহাবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবারই একটি উপলক্ষ।

কালের আলো/জেএন/এসএ

ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, আটক ছাত্রলীগ নেতা

আদালত প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, আটক ছাত্রলীগ নেতা

রাজধানীর মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণ করার অভিযোগে তানভীর জোমাদ্দার নামে ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) তাঁকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। আটক তানভীর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার মিরপুর-১০ এলাকায় দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে থাকেন তানভীর। একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ারও চেষ্টা করেন।

ঘটনাটি একটি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে শনাক্ত করতে তৎপর হয় পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার তাঁকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, ভিডিওতে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে তাঁকে আটকের সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

নিজেদের মাঠে বরিশালকে উড়িয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ রাজশাহীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
নিজেদের মাঠে বরিশালকে উড়িয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ রাজশাহীর

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) তৃতীয় রাউন্ডে নিজেদের মাঠে বরিশাল বিভাগকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে রাজশাহী বিভাগ। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ দিনে মধ্যাহ্নভোজের আগেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

এর আগে প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম ও দ্বিতীয় ম্যাচে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ড্র করেছিল রাজশাহী। তৃতীয় রাউন্ডে জয়ের পর ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দলটি। ৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে খুলনা বিভাগ।

ম্যাচের চতুর্থ দিন আগের দিনের ৫ উইকেটে ২৪৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বরিশাল। তবে রাজশাহীর বোলার শফিকুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৫ রান যোগ করতেই বাকি ৫ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায় বরিশাল। তাদের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২৭৪ রানে। ফলে জয়ের জন্য রাজশাহীর লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪৭ রান।

বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ ৯১ রান করেন জাওয়াদ আবরার। এ ছাড়া হাফিজুর রহমান ৩৯ ও আব্দুল্লাহ ৩৪ রান করেন। রাজশাহীর হয়ে শফিকুল ৭৩ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। সানজামুল ইসলাম নেন ২ উইকেট, খরচ করেন ১০২ রান।

৪৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজশাহী। দলীয় ১ রানে ব্যক্তিগত ১ রান করে আউট হন উদ্বোধনী ব্যাটার সোহান। এরপর প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করা নাঈম আহমেদও ব্যক্তিগত ৮ রানে ফিরে যান।

তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি অধিনায়ক প্রীতম কুমার ও সাব্বির হোসেন। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে মাত্র ২ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রাজশাহী। সাব্বির ২৩ এবং অধিনায়ক প্রীতম ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ২০২ রান করে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় রাজশাহীর নাঈম আহমেদ নির্বাচিত হন ম্যাচসেরা। আগামী ২৪ অক্টোবর একই মাঠে ঢাকা বিভাগের মুখোমুখি হবে রাজশাহী বিভাগ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

তিনশ’ ফিটের বাড়িতে নিয়মিত ডিজে পার্টি, নিবন্ধন ফি ৬০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
তিনশ’ ফিটের বাড়িতে নিয়মিত ডিজে পার্টি, নিবন্ধন ফি ৬০০ টাকা

রাজধানীর তিনশ’ ফিট এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া একটি বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। ২০২৫ সাল থেকে বাড়িটিতে এসব আয়োজন চলছিল। অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাড়িটিতে ডিজে পার্টির আগে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হতো। নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্ধারিত ফি দিয়ে এসব আয়োজনে অংশ নেওয়া যেত। প্রায় দুই বছর ধরে সেখানে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে পার্টির আয়োজন চলছিল।

ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, পার্টিতে অংশ নিতে অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসতেন। ঘটনার দিন বাড়িটির নিচে ২২টি গাড়ি রাখা ছিল। পুলিশ অভিযান চালানোর সময় বাড়িটির ভেতর সিসার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। ভবনটিতে মোট পাঁচটি কক্ষ ছিল বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং ব্যাংকার ছিলেন। অভিযানকালে বাড়িটি থেকে পাঁচ বোতল মদ, কুশ ও ইয়াবা উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

ডিসি ইলিয়াস কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘এয়ারবিএনবি’ ও ‘ট্রাভেলা’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন করা হতো। নিবন্ধনের জন্য জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো।

আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের এক মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও ১৫ দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও তিন দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি