খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

শিল্পাঞ্চলে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য, অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
শিল্পাঞ্চলে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য, অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে সেনাবাহিনী

কালের আলো রিপোর্ট:

শ্রমিক অসন্তোষের জের ধরে দফায় দফায় বন্ধ হচ্ছে শিল্পকারখানা। পোশাক শিল্প কারখানায় চলমান অস্থিরতা নিরসনে একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোন না কোন কারণে সেই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর চলমান সংকট ও উত্তরণের পথ নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তা এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। উভয় পক্ষের আশ্বাসে রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশের সব তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা খোলা ছিল। এতে করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করে শিল্পাঞ্চলে।

বিশেষ করে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পোশাক কারখানাগুলোতে এদিন সকাল থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ৩৬টি কারখানা বন্ধ থাকলেও এদিন সেটি কমে ১৮টিতে নেমে এসেছে। এছাড়া সকালে কাজে যোগ দিয়ে ৪-৫টি কারখানায় অসন্তোষ দেখা দিলেও পরে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন। পোশাক শিল্পে চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর নির্দেশে নবম পদাতিক ডিভিশন পুরো বিষয়টিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই সেনাপ্রধান নবম পদাতিক ডিভিশনের মাধ্যমে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সিকিউরিটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। সেনাবাহিনীর দু’টি ব্রিগেড এই টাস্কফোর্স পরিচালনা করছে। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে নিজেদের সচেতনতা ও পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মঈন খান।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আজ এই অঞ্চলে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩(১) ধারায় ১৮টি বন্ধ এবং দুটি কারখানায় সাধারণ ছুটি রয়েছে। এর বাইরে শিল্পাঞ্চলের সব কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। স্বাভাবিক রয়েছে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি। এ ছাড়াও শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অব্যাহত রয়েছে যৌথ বাহিনীর টহল।’

শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞ
গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর চলমান সংকট ও উত্তরণের পথ নিয়ে মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মঈন খান পোশাক শিল্পে অস্থিরতার তিনটি কারণ সনাক্ত করে বলেন, পোশাক শিল্পে চলমান এ অস্থিরতার জন্য মূলত তিনটি কারণ দায়ী। এগুলো হলো বহিরাগতদের আক্রমণ, শ্রমিকদের যৌক্তিক ও অযৌক্তিক দাবির সমন্বয়ে অস্থিরতা ধরে রাখা হচ্ছে; ঝুট ব্যবসার আধিপত্য। তবে বহিরাগতদের আক্রমণ এখন আর এটা হচ্ছে না। আমরা এটি জোর দিয়ে বলতে পারি।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো যৌক্তিক। তবে এ সমস্যার সমাধান না হলে শিল্পের অস্থিরতা নিরসন সম্ভব নয়। এসব সমস্যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ করে সমাধান করতে পারবে না। এটি মালিক-শ্রমিক ও নীতি নির্ধারণী মহল মিলে সমাধান করবেন বলে আমরা আশাবাদী। ইতোমধ্যেই ঝুট ব্যবসা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা দেখছি, নতুন বোতলে পুরনো মদ অবস্থা। অর্থাৎ, মুখ পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন ব্যক্তিবর্গ এসে দাবি দাওয়া দিচ্ছেন আমাদের এ ব্যবসা দিতে হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সম্পৃক্ত হয়ে তাদের দলের লোকজনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এটি সম্পূর্ণভাবে সমাধান সম্ভব।

পোশাক শিল্পকে রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনী
পোশাক শিল্পকে রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন সেনাপ্রধান, এমনটি জানিয়ে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি তুলে ধরেন নিজেদের বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের আদ্যোপান্ত। তিনি বলেন, সম্মানিত সেনাবাহিনী প্রধান আমাকে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। আমরা আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি। যাতে করে গার্মেন্টস শিল্পসহ ওষুধ শিল্প এবং অন্যান্য শিল্প কারখানায় সবগুলো সেক্টরে যেন একটা নিরাপদ পরিস্থিতি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে। গত ৮ আগস্ট আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখানে মোতায়েন হয়েছি। আমাকে সেনাপ্রধান ওইদিন ডেকে বলেন যে তোমার জন্য অনেক দায়িত্ব আছে।

সেনাপ্রধানকে উদ্ধৃত করে জিওসি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন জেলায়, ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। সংখ্যালঘুদের রক্ষায় কাজ করছি। এই রকমের বিভিন্ন কাজ করছি আমরা। কিন্তু এই মুহূর্তে তোমার জন্য সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে তোমাকে এই সেক্টরকে বাঁচাতে হবে। অন্য যত জায়গায় আমরা সাফল্য অর্জন করি না কেন দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড যদি তুমি ধরে রাখতে না পারো তাহলে অন্য যে কোন সেক্টরে যত সফলতা আসুক না কেন কোন লাভ হবে না।’

সেনাপ্রধান নবম পদাতিক ডিভিশনের মাধ্যমে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সিকিউরিটি টাস্কফোর্স করে দিয়েছেন জানিয়ে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মঈন খান বলেন, ‘আমি আমার অধীনস্থ কর্নেল মুহিউদ্দীনকে প্রধান করে দুটি ব্রিগেড তার অধীনস্থ করে দিয়ে গত ৮ আগস্ট থেকে আমরা এই টাস্কফোর্স পরিচালিত করে আসছি। পরবর্তীতে গত ২১ আগস্ট সম্মানিত সেনাপ্রধান তিনি দেশের সকল বিজনেস লিডারদের নিয়ে বসেছিলেন যে আরও কী করা যায়, কীভাবে আমরা আমাদের কর্মকান্ড জোরদার করতে পারি সেজন্য উনি বসেছিলেন এবং সেখান থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পেয়েছিলেন যেগুলো আমাদের বলেছেন আমরা সেগুলো বাস্তবায়িত করেছি। আমরা আপনাদের বুঝাতে চেষ্টা করলাম এই সেক্টরের নিরাপত্তা ও সেক্টরের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা কতটুকু প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং সচেতন।

সেনাবাহিনীর কার্যক্রম ও পরিচালনা পদ্ধতির বিস্তারিত
নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি বলেন, ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সিকিউরিটি টাস্কফোর্স এর অধীনে দু’জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তার দু’টি ব্রিগেড নিয়ে আশুলিয়া, টঙ্গি, গাজীপুর, ভালুকা এসব জায়গায় সব কিছু মিলিয়ে আমরা এখানকার শান্তি শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছি। সঙ্গে আমাদের ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশ, সাধারণ পুলিশ আছে, ৮ প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাব মিলিয়ে আমরা যৌথ বাহিনীর একটি কাঠামো তৈরি করেছি। একেকটি এলাকাতে কতগুলো ইন্ডাষ্ট্রি নিয়ে আমরা একটি ক্লাস্টার তৈরি করেছি। সেই ক্লাস্টারের চারিদিকে ব্যুহ তৈরি করেছি। সেই ব্যুহতে আমাদের সৈনিক মোতায়েন রয়েছে আমাদের এপিসিসহ। আমরা সেখানকার ভেতর-বাইরের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছি।

তিনি বলেন, আমরা দিন-রাত পেট্রোলিং করছি, যাতে করে কেউ ইন্ডাষ্ট্রির আশেপাশে কোন রকম অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে। আমাদের ঢাকা, সাভার ও ময়মনসিংহে ক্যান্টনমেন্টে কুইক রিয়েকশন ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত করে রেখেছি। কয়েকদিন আগে বেক্সিমকোতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর এরকম কিউআরএফগুলো দ্রুত এই শক্তির বাইরে অতিরিক্ত শক্তি হিসাবে প্রেরণ করছি। যাতে করে তাৎক্ষণিকভাবে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারি। এছাড়া এই মিলিটারি লাইন অব অপারেশন্স’র পাশাপাশি আমরা জনসংযোগ করছি। বিভিন্ন জায়গায় রাতে-দিনে যাচ্ছি, মাইকিং করছি। যারা এই সেক্টরের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত ওই এলাকার বাড়িওয়ালা ও দোকানদার তাদেরকে আমরা সেনসেটাইজ করছি। আমরা মিলিটারি লাইন অব অপারেশন্স ও অন্যান্য সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটি পরিবেশ নিয়ে আসতে পারছি। আমাদের সাফল্য হচ্ছে-কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আমরা মেজর কোন বেন্ডালিজম হতে দেইনি। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে এজন্য দু:খ প্রকাশ করছি।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হলে আমরা সেইসব ফ্যাক্টরিতে গিয়ে উভয়ের মধ্যে বনিবনা করছি, মালিকদের উদ্ধার করছি এবং শ্রমিকদের বুঝাচ্ছি। যারা রাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করছি। রাতে তাদের গিয়ে বুঝাচ্ছি, মাইকিং করছি। তাদের আমরা বুঝাতে সক্ষম হচ্ছি। আমরা সম্পূর্ণ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছি। শ্রমিকদের যৌক্তিক ও অযৌক্তিক দাবির ত্রিপক্ষীয় সমাধান না হলে আমরা আরও একটি ব্যাটালিয়ন বা ডিভিশনও যদি এখানে মোতায়েন করি তাহলে এটি ফলপ্রসু হবে না। রাজনৈতিক ও নীতি নির্ধারক মহলের আলোচনার মাধ্যমে আপনারা সমস্যার সমাধান করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

সেনাপ্রধানের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী
যেহেতু সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, তাই আমরা আমাদের শেষ ঘামটুকু দিয়ে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই, দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি। তিনি বলেন, ‘আপনারা না থাকলে আমাদের অর্থনীতি থাকবে না। আপনাদের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয়, আমাদের বেতন হবে না। এই অনুভূতি আমাদের আছে। আমরা মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সহযোগিতা চাই, তাহলে আমাদের কাজগুলো সুন্দর ও সুচারূভাবে করতে পারবো। আমাদের সেনাপ্রধান বলেছেন, এই সরকারকে কোনভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না, যত ধরণের সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন আমাদের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আপনাদের দেওয়া হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী সিল্ক শুধু রাজশাহীর নয়, এটি সারা বাংলাদেশের সম্পদ এবং আমাদের ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে আধুনিকায়ন এবং এর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রেশম শিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং একে আরও উন্নত করার রূপরেখা তৈরি করতে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই বোর্ডের উন্নয়নে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই শিল্পকে আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে রেশমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও উৎপাদন তলানিতে। এ প্রসঙ্গে শরীফুল আলম জানান, দেশে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে; তবে এর প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয় কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া বা পিছিয়ে পড়ার কারণেই মূলত এই পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে।

এই সংকট কাটাতে পলু চাষ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বৃদ্ধিতে গবেষণার ওপর সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

রেশম শিল্পের প্রাণ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী কারিগর বা ‘বোসনি’দের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এই দক্ষ কারিগরদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি রয়েছেন। বয়সের কারণে তাদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বোসনিদের পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা না গেলে এই শিল্পের ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে এবং সিল্কের প্রসার ঘটাতে নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। চীন ও জাপানের মতো বড় দেশগুলোতে দেশীয় সিল্ক পণ্যের বাজার তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব শিগগিরই সমন্বিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে, পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে বোর্ডের সার্বিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশাসহ রেশম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কালের আলো/ইএম

জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে রাজধানীর জিয়া সরণি খালকে যুক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জিয়া সরণি খাল, কোনাপাড়া খাল ও কুতুবখালী খাল পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়া সরণি নাম হওয়ায় মানুষের কল্যাণে এই খাল নিয়ে কিছুই করেনি অবৈধ সরকার। আপাতত সিটি করপোরেশনের অর্থে খালটিতে অবৈধ স্থাপনাসহ সব কাজ চলছে।

সব খাল দখলমুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত হয় বিএনপি সরকার। যেহেতু বিনাভোটে নির্বাচিত হইনি সেক্ষেত্রে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কাজ করা হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি সরকার। গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষি সেচ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় চলবে এই কর্মসূচি।

কালের আলো/এসএকে

সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সারাদেশের মতো সিরাজগঞ্জে বেড়েছে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে ১৭ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।

হামের টিকা দেওয়ার আগেই এ রোগে অধিকাংশ শিশুরা আক্রান্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবক ও স্বজনেরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য বিভাগের।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, চলতি মাসের ২৯ মার্চ থেকে হাম রোগী কাউন্ট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। এসব রোগী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ৭০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

বর্তমানে মনসুর আলী মেডিকেলে ১৫ জন, সদর জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, উল্লাপাড়ায় ২ জন ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি রয়েছে। এদিকে, সারাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শহীদ এম মনসুর আলী হাসপাতালেও খোলা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম সিরাজগঞ্জে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ইএম