খুঁজুন
                               
, ,
           

শিল্পাঞ্চলে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য, অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
শিল্পাঞ্চলে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য, অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে সেনাবাহিনী

কালের আলো রিপোর্ট:

শ্রমিক অসন্তোষের জের ধরে দফায় দফায় বন্ধ হচ্ছে শিল্পকারখানা। পোশাক শিল্প কারখানায় চলমান অস্থিরতা নিরসনে একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোন না কোন কারণে সেই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর চলমান সংকট ও উত্তরণের পথ নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তা এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। উভয় পক্ষের আশ্বাসে রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশের সব তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা খোলা ছিল। এতে করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করে শিল্পাঞ্চলে।

বিশেষ করে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পোশাক কারখানাগুলোতে এদিন সকাল থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ৩৬টি কারখানা বন্ধ থাকলেও এদিন সেটি কমে ১৮টিতে নেমে এসেছে। এছাড়া সকালে কাজে যোগ দিয়ে ৪-৫টি কারখানায় অসন্তোষ দেখা দিলেও পরে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন। পোশাক শিল্পে চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর নির্দেশে নবম পদাতিক ডিভিশন পুরো বিষয়টিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই সেনাপ্রধান নবম পদাতিক ডিভিশনের মাধ্যমে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সিকিউরিটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। সেনাবাহিনীর দু’টি ব্রিগেড এই টাস্কফোর্স পরিচালনা করছে। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে নিজেদের সচেতনতা ও পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মঈন খান।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আজ এই অঞ্চলে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩(১) ধারায় ১৮টি বন্ধ এবং দুটি কারখানায় সাধারণ ছুটি রয়েছে। এর বাইরে শিল্পাঞ্চলের সব কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। স্বাভাবিক রয়েছে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি। এ ছাড়াও শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অব্যাহত রয়েছে যৌথ বাহিনীর টহল।’

শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞ
গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর চলমান সংকট ও উত্তরণের পথ নিয়ে মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মঈন খান পোশাক শিল্পে অস্থিরতার তিনটি কারণ সনাক্ত করে বলেন, পোশাক শিল্পে চলমান এ অস্থিরতার জন্য মূলত তিনটি কারণ দায়ী। এগুলো হলো বহিরাগতদের আক্রমণ, শ্রমিকদের যৌক্তিক ও অযৌক্তিক দাবির সমন্বয়ে অস্থিরতা ধরে রাখা হচ্ছে; ঝুট ব্যবসার আধিপত্য। তবে বহিরাগতদের আক্রমণ এখন আর এটা হচ্ছে না। আমরা এটি জোর দিয়ে বলতে পারি।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো যৌক্তিক। তবে এ সমস্যার সমাধান না হলে শিল্পের অস্থিরতা নিরসন সম্ভব নয়। এসব সমস্যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ করে সমাধান করতে পারবে না। এটি মালিক-শ্রমিক ও নীতি নির্ধারণী মহল মিলে সমাধান করবেন বলে আমরা আশাবাদী। ইতোমধ্যেই ঝুট ব্যবসা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা দেখছি, নতুন বোতলে পুরনো মদ অবস্থা। অর্থাৎ, মুখ পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন ব্যক্তিবর্গ এসে দাবি দাওয়া দিচ্ছেন আমাদের এ ব্যবসা দিতে হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সম্পৃক্ত হয়ে তাদের দলের লোকজনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এটি সম্পূর্ণভাবে সমাধান সম্ভব।

পোশাক শিল্পকে রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনী
পোশাক শিল্পকে রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন সেনাপ্রধান, এমনটি জানিয়ে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি তুলে ধরেন নিজেদের বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের আদ্যোপান্ত। তিনি বলেন, সম্মানিত সেনাবাহিনী প্রধান আমাকে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। আমরা আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি। যাতে করে গার্মেন্টস শিল্পসহ ওষুধ শিল্প এবং অন্যান্য শিল্প কারখানায় সবগুলো সেক্টরে যেন একটা নিরাপদ পরিস্থিতি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে। গত ৮ আগস্ট আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখানে মোতায়েন হয়েছি। আমাকে সেনাপ্রধান ওইদিন ডেকে বলেন যে তোমার জন্য অনেক দায়িত্ব আছে।

সেনাপ্রধানকে উদ্ধৃত করে জিওসি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন জেলায়, ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। সংখ্যালঘুদের রক্ষায় কাজ করছি। এই রকমের বিভিন্ন কাজ করছি আমরা। কিন্তু এই মুহূর্তে তোমার জন্য সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে তোমাকে এই সেক্টরকে বাঁচাতে হবে। অন্য যত জায়গায় আমরা সাফল্য অর্জন করি না কেন দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড যদি তুমি ধরে রাখতে না পারো তাহলে অন্য যে কোন সেক্টরে যত সফলতা আসুক না কেন কোন লাভ হবে না।’

সেনাপ্রধান নবম পদাতিক ডিভিশনের মাধ্যমে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সিকিউরিটি টাস্কফোর্স করে দিয়েছেন জানিয়ে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মঈন খান বলেন, ‘আমি আমার অধীনস্থ কর্নেল মুহিউদ্দীনকে প্রধান করে দুটি ব্রিগেড তার অধীনস্থ করে দিয়ে গত ৮ আগস্ট থেকে আমরা এই টাস্কফোর্স পরিচালিত করে আসছি। পরবর্তীতে গত ২১ আগস্ট সম্মানিত সেনাপ্রধান তিনি দেশের সকল বিজনেস লিডারদের নিয়ে বসেছিলেন যে আরও কী করা যায়, কীভাবে আমরা আমাদের কর্মকান্ড জোরদার করতে পারি সেজন্য উনি বসেছিলেন এবং সেখান থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পেয়েছিলেন যেগুলো আমাদের বলেছেন আমরা সেগুলো বাস্তবায়িত করেছি। আমরা আপনাদের বুঝাতে চেষ্টা করলাম এই সেক্টরের নিরাপত্তা ও সেক্টরের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা কতটুকু প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং সচেতন।

সেনাবাহিনীর কার্যক্রম ও পরিচালনা পদ্ধতির বিস্তারিত
নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি বলেন, ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সিকিউরিটি টাস্কফোর্স এর অধীনে দু’জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তার দু’টি ব্রিগেড নিয়ে আশুলিয়া, টঙ্গি, গাজীপুর, ভালুকা এসব জায়গায় সব কিছু মিলিয়ে আমরা এখানকার শান্তি শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছি। সঙ্গে আমাদের ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশ, সাধারণ পুলিশ আছে, ৮ প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাব মিলিয়ে আমরা যৌথ বাহিনীর একটি কাঠামো তৈরি করেছি। একেকটি এলাকাতে কতগুলো ইন্ডাষ্ট্রি নিয়ে আমরা একটি ক্লাস্টার তৈরি করেছি। সেই ক্লাস্টারের চারিদিকে ব্যুহ তৈরি করেছি। সেই ব্যুহতে আমাদের সৈনিক মোতায়েন রয়েছে আমাদের এপিসিসহ। আমরা সেখানকার ভেতর-বাইরের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছি।

তিনি বলেন, আমরা দিন-রাত পেট্রোলিং করছি, যাতে করে কেউ ইন্ডাষ্ট্রির আশেপাশে কোন রকম অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে। আমাদের ঢাকা, সাভার ও ময়মনসিংহে ক্যান্টনমেন্টে কুইক রিয়েকশন ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত করে রেখেছি। কয়েকদিন আগে বেক্সিমকোতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর এরকম কিউআরএফগুলো দ্রুত এই শক্তির বাইরে অতিরিক্ত শক্তি হিসাবে প্রেরণ করছি। যাতে করে তাৎক্ষণিকভাবে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারি। এছাড়া এই মিলিটারি লাইন অব অপারেশন্স’র পাশাপাশি আমরা জনসংযোগ করছি। বিভিন্ন জায়গায় রাতে-দিনে যাচ্ছি, মাইকিং করছি। যারা এই সেক্টরের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত ওই এলাকার বাড়িওয়ালা ও দোকানদার তাদেরকে আমরা সেনসেটাইজ করছি। আমরা মিলিটারি লাইন অব অপারেশন্স ও অন্যান্য সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটি পরিবেশ নিয়ে আসতে পারছি। আমাদের সাফল্য হচ্ছে-কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আমরা মেজর কোন বেন্ডালিজম হতে দেইনি। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে এজন্য দু:খ প্রকাশ করছি।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হলে আমরা সেইসব ফ্যাক্টরিতে গিয়ে উভয়ের মধ্যে বনিবনা করছি, মালিকদের উদ্ধার করছি এবং শ্রমিকদের বুঝাচ্ছি। যারা রাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করছি। রাতে তাদের গিয়ে বুঝাচ্ছি, মাইকিং করছি। তাদের আমরা বুঝাতে সক্ষম হচ্ছি। আমরা সম্পূর্ণ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছি। শ্রমিকদের যৌক্তিক ও অযৌক্তিক দাবির ত্রিপক্ষীয় সমাধান না হলে আমরা আরও একটি ব্যাটালিয়ন বা ডিভিশনও যদি এখানে মোতায়েন করি তাহলে এটি ফলপ্রসু হবে না। রাজনৈতিক ও নীতি নির্ধারক মহলের আলোচনার মাধ্যমে আপনারা সমস্যার সমাধান করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

সেনাপ্রধানের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী
যেহেতু সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, তাই আমরা আমাদের শেষ ঘামটুকু দিয়ে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই, দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি। তিনি বলেন, ‘আপনারা না থাকলে আমাদের অর্থনীতি থাকবে না। আপনাদের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয়, আমাদের বেতন হবে না। এই অনুভূতি আমাদের আছে। আমরা মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সহযোগিতা চাই, তাহলে আমাদের কাজগুলো সুন্দর ও সুচারূভাবে করতে পারবো। আমাদের সেনাপ্রধান বলেছেন, এই সরকারকে কোনভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না, যত ধরণের সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন আমাদের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আপনাদের দেওয়া হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় নিয়োগ

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় বড় নিয়োগ, ৮ম শ্রেণি-এসএসসি পাসেও আবেদনের সুযোগ

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় (বিওএফ) ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগে আবেদন চলছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৪২টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপসহকারী কেমিস্ট পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের বেতন স্কেল ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা, যা গ্রেড-১১। সিনিয়র টেকনিশিয়ান পদে ৯ জন, গেইট ইন্সপেক্টর ১ জন এবং সুপারভাইজার পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা এবং এগুলো গ্রেড-১৪-এর পদ।

অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ৮ জন, মেটল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ৪ জন, গোডাউনকিপার ৪ জন এবং ড্রাইভার পদে ৭ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা এবং গ্রেড-১৬।

এ ছাড়া স্কিল্ড টেকনিশিয়ান পদে ৩ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের বেতন স্কেল ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-১৭। টেকনিশিয়ান পদে ১১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে, যার বেতন স্কেল ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা, গ্রেড-১৮।

নিরাপত্তাকর্মী পদে ১ জন, জুনিয়র টেকনিশিয়ান ২২ জন এবং ফায়ারম্যান পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা এবং গ্রেড-১৯।

সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে টেকনিক্যাল হেলপার পদে। এ পদে ৫৩ জন নেওয়া হবে। এ ছাড়া আরদালি পদে ৭ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ৪ জন, লেবার ৩ জন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ২ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদ গ্রেড-২০-এর এবং বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা।

আবেদনের সময় ও ফি

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে। আবেদন করা যাবে ৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

সব পদের জন্য পরীক্ষার ফি ১৬৮ টাকা, যার মধ্যে সার্ভিস চার্জও অন্তর্ভুক্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে।

কালের আলো/এসএ

রোনালদোকে ফেরাতে মরিয়া জেসুস

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
রোনালদোকে ফেরাতে মরিয়া জেসুস

পর্তুগাল জাতীয় দলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ফেরার দরজা খোলা রেখেছেন কোচ জর্জ জেসুস। তবে জাতীয় দলে আবার ফিরবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত রোনালদোকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন পর্তুগালের এই কোচ। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে বেঞ্চে বসে থাকার পর ডেনমার্কের বিপক্ষেও একাদশে থাকবেন না জানতে পেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। এরপর থেকেই তাঁর জাতীয় দল-অধ্যায় নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।

রবিবার (৪ অক্টোবর) রাতে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার প্রসঙ্গে কথা বলেন জেসুস। আল নাসরে এক বছর রোনালদোর সঙ্গে কাজ করা এই কোচ জানান, জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ এখনো তাঁর জন্য রয়েছে। জেসুস বলেন, ‘সে চাইলে জাতীয় দলে ফিরবে। পরেরবার দল ঘোষণার আগে আমরা কথা বলতে পারি। তবে সিদ্ধান্তটা ক্রিসকেই নিতে হবে।’

জাতীয় দলের অধ্যায় কীভাবে শেষ করবেন, সিদ্ধান্ত রোনালদোর

রোনালদো জাতীয় দলের ক্যারিয়ার কীভাবে শেষ করতে চান, সেটিও তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন জেসুস। তিনি বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানোর জাতীয় দলের সময়টা সে যেভাবে চায়, সেভাবেই শেষ করা উচিত। সে কীভাবে শেষ করতে চায়, সেই সিদ্ধান্তও তার।’ রোনালদোকে পর্তুগালের কতটা প্রয়োজন, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন জেসুস। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার দল ঘোষণার সময় আমি বলেছিলাম, “আমার তোমাকে দরকার, আমার তোমাকে দরকার। তুমি খেলো বা না খেলো, তোমাকে আমার কাছে থাকতে হবে।” এখনো আমি একই কথা বলছি।’

নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে, এরপর ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো

২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের দায়িত্ব নেওয়া জেসুসের অধীনে রোনালদোর নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল এবারের ফিফা উইন্ডোতে। ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে রোনালদোকে একাদশে রাখা হলেও নরওয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে রাখা হয়। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে ওয়ার্মআপ করানো হলেও মাঠে নামানো হয়নি। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে স্কোয়াডে থাকার পরও পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে থাকার ঘটনা ২০০৮ সালের পর এই প্রথম রোনালদোর ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

এরপর কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিপক্ষে তাঁকে শুরুতে খেলানো হবে না—জেসুস সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানানোর পরই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো জানান, জাতীয় দল ছাড়ার কারণ ‘সময়মতো’ পর্তুগালের মানুষকে জানাবেন তিনি।

রোনালদোর অনুপস্থিতিতে আলোচনায় রামোস

রোনালদো না থাকায় পর্তুগালের আক্রমণভাগে জায়গা পাকা হয়েছে গনসালো রামোসের। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে তিন ম্যাচে শুরু করে প্রতিটিতেই গোল করেছেন এসি মিলানের এই স্ট্রাইকার। নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের পর পর্তুগালের অধিনায়ক জোয়াও কানসেলো রোনালদোর প্রসঙ্গে বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো আমাদের অধিনায়ক, পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। তাঁর সঙ্গে সবকিছু অবশ্যই ভালোভাবে শেষ হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো চারটি জয়।’ ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেসও রোনালদোর ফেরার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, জাতীয় দলে যে খেলোয়াড়ই আসুক, তাকে স্বাগত জানানো হবে। রোনালদো ফিরলে তাঁকেও দুই হাত বাড়িয়ে গ্রহণ করা হবে।

পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর রেকর্ড

পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে রোনালদোর গোল ১৪৬টি। জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ ও গোল—দুই ক্ষেত্রেই বিশ্ব রেকর্ড তাঁর দখলে। রোনালদোর নেতৃত্বে পর্তুগাল ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দুইবার উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছে। পর্তুগালের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা নভেম্বর মাসে। তখন ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। ফলে সেই সময় রোনালদো জাতীয় দলে ফিরবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ

মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ভোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ভোট

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এবারের কোনো ব্যালটে না থাকলেও তাঁর মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও স্থানীয় আইনসভার কয়েক হাজার পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে বড় লড়াই

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারিও বাড়বে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের দলীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে এবং তাঁর এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়িয়ে ৫১টিতে পৌঁছাতে হবে। দুই দল ৫০-৫০ আসনে আটকে গেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভোটে সিদ্ধান্ত হবে।

প্রতিনিধি পরিষদেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিটি আসনেই দুই বছর পরপর নির্বাচন হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ২২০-২১৫ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। তবে পরে মৃত্যু, পদত্যাগ ও দলবদলের কারণে বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮ জন রিপাবলিকান, ২১৪ জন ডেমোক্র্যাট এবং একজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন। দুটি আসন শূন্য রয়েছে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ২০২৪ সালের ফলাফলের তুলনায় অন্তত তিনটি আসন বাড়াতে হবে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা দুটি আসন হারালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে।

৩৬ অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন

এবার ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া অঙ্গরাজ্য আইনসভার নিয়মিত নির্বাচনে ৬ হাজার ১৩৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দেশের ৯৯টি অঙ্গরাজ্য আইনসভার কক্ষের মধ্যে ৮৮টিতে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জনমত জরিপে পিছিয়ে ট্রাম্প

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। রয়টার্সের এক জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩২ শতাংশ, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন। অন্যদিকে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে মারিস্টের জরিপে তাঁর সমর্থন ৩৯ শতাংশ এবং এনবিসি নিউজের জরিপে ৪১ শতাংশ পাওয়া গেছে।

পিবিএস নিউজ ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বরের জরিপে কংগ্রেস নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থীকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ছিলেন ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার। রিপাবলিকানদের পক্ষে ছিলেন ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটরা ১২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ছিলেন। তাঁদের ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে এবং ৩২ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।

অর্থনীতি নিয়েও অসন্তোষ

এনবিসি নিউজের জরিপে ৫৫ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ট্রাম্পের নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। বিপরীতে ২৬ শতাংশ মনে করেন, তাঁর নীতিগুলো অর্থনীতির জন্য উপকারী হয়েছে। তবে বিভিন্ন জরিপের পদ্ধতি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পার্থক্য থাকায় এসব পরিসংখ্যান সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। তারপরও জরিপগুলোতে এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই যে কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বড় ধরনের সুবিধা এনে দেবে।

রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের আভাস

২০২৫-২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অ্যাড ট্র্যাকিং কোম্পানি অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাবে, এ সময়ে বিজ্ঞাপনে প্রায় ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এই অর্থ ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজ্ঞাপনে ব্যয়ের ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রাইমারি নির্বাচনে ২ হাজার ৪৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যা অন্তত ২০১৪ সালের পর যেকোনো নির্বাচনী চক্রের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কালের আলো/এসএ