খুঁজুন
                               
, ,
           

এখনও পলাতক ৯০০ বন্দি, স্থবির পদোন্নতিতে গতিশীলতা আনতে চান কারা মহাপরিদর্শক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
এখনও পলাতক ৯০০ বন্দি, স্থবির পদোন্নতিতে গতিশীলতা আনতে চান কারা মহাপরিদর্শক

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দেশের কারাগারগুলোতে শুরু হয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। অনেক কারাগারে বন্দি আসামিরা বিদ্রোহ করে। অরাজক পরিস্থিতিতে কারাগার থেকে পালিয়ে যান ২ হাজারের অধিক বন্দি। তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পাওয়া বন্দিসহ বিচারাধীন মামলার আসামিরা ছিলেন। এখন পর্যন্ত ৯০০ বন্দি পলাতক রয়েছে। হামলায় কারাগার থেকে লুট হয়েছিল ৯৪টি অস্ত্র। অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যেই ৬৫টি অস্ত্র উদ্ধার হলেও উদ্ধারের বাকী রয়েছে আরও ২৯টি অস্ত্র। হামলা ও ভাঙচুরের মুখে পড়ে মোট ১৭টি কারাগার। তবে সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় কারা বিভাগ অদম্য সাহসিকতার সঙ্গে দেশের অন্যান্য কারাগারগুলো সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়।

কঠিন বাস্তবতায় কারাগারে শৃঙ্খলা ফেরাতে কারা মহাপরিদর্শক পদে পরিবর্তন আনার পর এবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের কারাগারসমূহ। কারা নিরাপত্তার হালহকিকত ও নানাবিধ গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে সামগ্রিক বিষয়াদি নিয়ে কথা বলেছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বকশিবাজারের কারা অধিদপ্তওে প্রায় ঘন্টাব্যাপী এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

  • কারাগারকে সেবাগ্রহণকারীদের আস্থাভাজন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়
  • যারা রেয়াত পাওয়ার যোগ্য, তাদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে
  • এখন পর্যন্ত মোট ৭০ জন জঙ্গি পলাতক
  • কারাগারে নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতরা চিহ্নিত
  • মাদকাসক্ত কেউ কারা বিভাগে চাকরি করতে পারবে না
  • ৩৭ জন এমপি-মন্ত্রী কারাগারে, ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন ৯ জন

এর আগে গত রবিবার (১১ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে কারা মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস কর্মকর্তা সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। প্রথমেই তিনি দেশের কারাগারগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে মনোনিবেশ করেন। বিপুল প্রত্যাশাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কাজ শুরু করেন এবং কারাগারগুলোকে প্রকৃত অর্থেই সংশোধনাগারে রূপান্তরিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে জোর দেন। প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা প্রণয়নসহ দক্ষতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পদায়নে গ্রহণ করেন নানামুখী পদক্ষেপ। গণমাধ্যমের সঙ্গে মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আলাপে তিনি উপস্থাপন করেন যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত। সোজা-সাপ্টা জবাব দিয়েছেন নানা প্রশ্নেরও।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখন পর্যন্ত মোট ৩৭ জন এমপি-মন্ত্রী গ্রেপ্তার হয়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন। এদের মধ্যে ৯ জনকে কারাগারে ডিভিশন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর এখন পর্যন্ত কারাগার থেকে সাধারণ মানুষসহ কতজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বের হয়ে এসেছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এ রকম আলোচিত মোট ৪৩ জন বন্দি এখন পর্যন্ত কারাগার থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান, কারা উপ মহাপরিদর্শক মনির আহমেদসহ উর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৯০০ বন্দি এখনও পলাতক
ব্রিফিংয়ে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটার পরে দেশের কয়েকটি কারাগারে বিশৃঙ্খলা-বিদ্রোহ করে বন্দিরা। বিভিন্ন কারাগারসহ কোনো কোনোটিতে হামলা চালানো হয় বাইরে থেকে। এ পরিস্থিতিতে ২ হাজারের বেশি বন্দি পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন, বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পাওয়া বন্দিসহ বিচারাধীন মামলার আসামিরা রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৯০০ বন্দি পলাতক রয়েছে।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের পট পরিবর্তনের সময়কালে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। বাংলাদেশের কারা অধিদপ্তর এর ব্যতিক্রম ছিল না। বেশ কয়েকটি কারাগারে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং প্রায় দুই হাজারের অধিক বন্দি কারাগার থেকে পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত অনেক বন্দিদের গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি দুই একজন আসামি ফিরেও এসেছে। ৯০০ বন্দি এখনও পলাতক রয়েছে।

আইজি প্রিজন্স বলেন, কয়েকটি কারাগার থেকে গোলা-বারুদ লুটের ঘটনাও ঘটে এবং কয়েকটি কারাগারে পালানোর সময় কয়েকজন বন্দির মৃত্যুসহ অনেক কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষী গুরুতর আহত হন। অগ্নিসংযোগ এবং ব্যাপক ভাঙচুরের ফলে দুটি কারাগারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। অনেক কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় কারা বিভাগ অদম্য সাহসিকতার সঙ্গে অন্যান্য কারাগারগুলো সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়।

তিনি বলেন, পরবর্তী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া অধিকাংশ বন্দিকেই কারাগারে ফেরত নিয়ে আসা সম্ভব হয়। এর মধ্যে কিছু বন্দি নিজ ইচ্ছায় এবং বাকিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়। এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে কারাগারের লুট হওয়ায় অস্ত্র ও গোলাবারুদের উল্লেখযোগ্য অংশও উদ্ধার করা হয়েছে, অবশিষ্টগুলো উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

কারাগারকে সেবাগ্রহণকারীদের আস্থাভাজন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়
কারাগারকে সেবাগ্রহণকারীদের আস্থাভাজন হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, কারাগারকে প্রকৃত সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা প্রণয়নসহ দক্ষতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পদায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন পূর্বক স্থবির পদোন্নতির ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনায়নসহ জনবল বৃদ্ধির ন্যায় ন্যায্য দাবিগুলোর বিষয়ে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে যথাযথ তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এক্ষেত্রে কারা বিভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করছে যে, এখন থেকে কারা বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুততার সঙ্গে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কারাগারে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে আমরাও আমাদের মতো করে তদন্ত করছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই বিষয়ে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

যারা রেয়াত পাওয়ার যোগ্য, তাদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে
ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যেসব বন্দিরা সাজাভোগ করেছেন, তারা রেয়াত পেতে পেতে মুক্তি পেতে পারেন। যখন তারা মুক্তির আওতায় চলে আসেন, তখন তারা মুক্তি পেতে পারেন। যারা মুক্তির আওতায় চলে আসেন, তাদের বিষয়ে প্রস্তাবনা আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠাই। পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বেটিংয়ের পর চূড়ান্তভাবে যদি মাফ করতে হয় সেটি রাষ্ট্রপতি করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে মাফ করার অধিকার রাষ্ট্রপতির। তবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রধান উপদেষ্টাও পারেন। এ রকম অনেক বন্দিদের বিষয়ে প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আছে। এই বিষয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করছি। এই বিষয়ে অতি শিগগিরই একটি বৈঠকের প্রস্তাবনা আছে। যারা অক্ষম চলাফেরা করতে পারে না, অথবা যারা রেয়াত পাওয়ার যোগ্য, তাদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে।

এখন পর্যন্ত মোট ৭০ জন জঙ্গি পলাতক রয়েছে
পলাতক বন্দিদের মধ্যে জঙ্গি কতজন রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত নয়জন জঙ্গি পালিয়েছে। এছাড়া, বিচারাধীন মামলার অনেক জঙ্গি পালিয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৭০ জন জঙ্গি পলাতক রয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক বন্দিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরে কারা মহাপরিদর্শক আরও বলেন, সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি পালিয়ে ছিল মোট ৯৮ জন। এদের মধ্যে অনেককে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪২ হাজার, বন্দি ৫০ হাজারেরও বেশি
বর্তমানে দেশের সব কারাগারের ধারণক্ষমতা কত ও বর্তমানে কতজন বন্দি রয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোতাহের হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশের সব কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪২ হাজারেরও কিছু বেশি। এই মুহূর্তে আমাদের কারাগারে আছে ৫০ হাজারেরও বেশি বন্দি।

কারাগারে নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতরা চিহ্নিত, চলছে অভ্যন্তরীণ তদন্ত
কারাগারে নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানান কারা মহাপরিদর্শক। তিনি এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘যেসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মোটা দাগে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে আমি অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নিচ্ছি। এ বিষয়ে কিছু ব্যবস্থা শিগগিরই দেখা যাবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে সৎ কর্মকর্তাদের আমরা পদায়ন করছি। লম্বা সময় ধরে কিছু লোক একই জায়গায় কাজ করছিল, তাদের সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

ক্ষোভের বহি:প্রকাশেই কারাগারে হামলা
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন কারাগারে হামলা হয়েছে। এ সময় সাধারণ মানুষদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। এরা আসলে কারা ছিল? কারা কর্তৃপক্ষ তাদের চিহ্নিত করেছে কিনা, এমনটি জানতে চাওয়া হয় কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এর কাছে। এ সময় তিনি বলেন, ‘তাদের শনাক্ত করার জন্য আমরা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য নিচ্ছি। ৫ আগস্টের পরে যারা হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতেও হামলা হয়েছিল। কারাগার যেহেতু একটি ক্ষোভের জায়গা ছিল, এরই বহিঃপ্রকাশ এসব হামলা। তিনি আরও বলেন, যেসব কারাগারে বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, আমরা প্রতিটিতেই মামলা করেছি। মামলায় আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে আসামি করতে পারিনি। কারণ পরিস্থিতি যেহেতু ভিন্ন ছিল। অজ্ঞাতনামা আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে মূলত মামলা করা হয়েছে। ৮টি কারাগারে বিশৃঙ্খলার দায়ে মোট ৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। আমাদের ৫টি কারাগার থেকে বন্দিরা পালিয়েছে, সে সংক্রান্ত ৫টি মামলা হয়েছে। সবমিলিয়ে আমাদের ১৭টি কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

মাদকাসক্ত কেউ কারা বিভাগে চাকরি করতে পারবে না
গণমাধ্যমের প্রশ্নে ওঠে আসে কারাগারের কর্মকর্তাদের ডোপ টেস্টের বিষয়টিও। এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক সাফ সাফ জানিয়ে দেন, মাদকাসক্ত কেউ কারা বিভাগে চাকরিরত অবস্থায় থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘আমি যোগদান করার পর মাদকের বিষয়ে ব্যাপক অভিযোগ পাচ্ছি। আসলে এই বিষয়ে আমরা শঙ্কিত। মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ বন্দিদের বিষয়ে যেমন পাচ্ছি, তেমনি কারারক্ষী এবং কারা কর্মকর্তাদের বিষয়েও পাচ্ছি। এই বিষয়ে আমাদের সবচেয়ে আশঙ্কার জায়গাটি হলো যে, এটিকে আমরা খুঁজে কীভাবে বের করব। কারাগারে যেন মাদক না ঢুকতে পারে, সেই বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’

জুলাই ও আগস্টে আন্দোলনের ঘটনায় কোন বন্দি নেই
জুলাই ও আগস্টে আন্দোলন চলাকালে যারা গ্রেপ্তার হয়েছিল, তাদের মধ্যে কতজন বন্দি এখনো কারাগারে আছে, আর কতজন জামিন পেয়েছে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন চলার সময় যেই ধরনের মামলা হয়েছিল এবং গ্রেপ্তার হয়েছিল এ ধরনের বন্দি এখন আমাদের কাছে নেই। সবাই জামিন প্রাপ্ত হয়ে গেছেন এবং জামিনে বের হয়েছেন। আন্দোলনের কতজন বন্দি জামিনে বের হয়ে গেছে তার সঠিক সংখ্যাটা বলা মুশকিল। তবে, সেই সময় আমাদের বন্দি সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার, এখন তা ৫৫ হাজার। তাহলে বলা যায় ওই সময় এসব মামলায় গ্রেপ্তার প্রায় ১৫ হাজার বন্দি ধীরে ধীরে জামিন পেয়ে বের হয়েছেন।’

কারাগারে মোট বিদেশি বন্দি ১৪৩
বিভিন্ন সময় দেখা যায়, বিদেশি বন্দিরা সাজা ভোগ করার পরও অনেকে কারাগারে থেকে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইজি প্রিজন্স বলেন, ‘বিদেশি বন্দিদের সাজা শেষ হয়ে গেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পরে আমরা তাদের ডি-পোর্ট করি। এখন আমাদের কারাগারে মোট ১৪৩ জন বিদেশি বন্দি রয়েছে। আমরা যদি ক্লিয়ারেন্স পাই, তাহলে আমরা তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।’

২৮ মন্ত্রী-এমপি’র ডিভিশনের বিষয়ে পর্যালোচনা
গত ৫ আগস্টের পরে যেসব মন্ত্রী এবং এমপিরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তারা কারাগারে কোনো ডিভিশন পাচ্ছেন কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি গেজেটেড অফিসাররা কারাগারে আসলে ডিভিশন পেয়ে যান। বাকি যারা বিশিষ্ট ব্যক্তি বা এমপি-মন্ত্রী আছেন, তারা আবেদন করবেন অথবা এ বিষয়ে আদালত বললে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আর যাদের বিষয়ে আদালত বলবে না, তারা যদি আবেদন করেন, তখন সে আবেদনটি আমরা ডিসির কাছে পাঠাবো। ডিসি যদি অনুমতি দেন তাহলে আমরা তাদের ডিভিশন দিতে পারব। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের কাছে বিশেষ বন্দি (এমপি-মন্ত্রী) মোট ৩৭ জন… তাদের মধ্যে নয়জন ডিভিশন পাচ্ছেন। আর বাকী ২৮ জনের বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় নিয়োগ

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় বড় নিয়োগ, ৮ম শ্রেণি-এসএসসি পাসেও আবেদনের সুযোগ

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় (বিওএফ) ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগে আবেদন চলছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৪২টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপসহকারী কেমিস্ট পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের বেতন স্কেল ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা, যা গ্রেড-১১। সিনিয়র টেকনিশিয়ান পদে ৯ জন, গেইট ইন্সপেক্টর ১ জন এবং সুপারভাইজার পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা এবং এগুলো গ্রেড-১৪-এর পদ।

অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ৮ জন, মেটল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ৪ জন, গোডাউনকিপার ৪ জন এবং ড্রাইভার পদে ৭ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা এবং গ্রেড-১৬।

এ ছাড়া স্কিল্ড টেকনিশিয়ান পদে ৩ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের বেতন স্কেল ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-১৭। টেকনিশিয়ান পদে ১১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে, যার বেতন স্কেল ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা, গ্রেড-১৮।

নিরাপত্তাকর্মী পদে ১ জন, জুনিয়র টেকনিশিয়ান ২২ জন এবং ফায়ারম্যান পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা এবং গ্রেড-১৯।

সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে টেকনিক্যাল হেলপার পদে। এ পদে ৫৩ জন নেওয়া হবে। এ ছাড়া আরদালি পদে ৭ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ৪ জন, লেবার ৩ জন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ২ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদ গ্রেড-২০-এর এবং বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা।

আবেদনের সময় ও ফি

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে। আবেদন করা যাবে ৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

সব পদের জন্য পরীক্ষার ফি ১৬৮ টাকা, যার মধ্যে সার্ভিস চার্জও অন্তর্ভুক্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে।

কালের আলো/এসএ

রোনালদোকে ফেরাতে মরিয়া জেসুস

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
রোনালদোকে ফেরাতে মরিয়া জেসুস

পর্তুগাল জাতীয় দলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ফেরার দরজা খোলা রেখেছেন কোচ জর্জ জেসুস। তবে জাতীয় দলে আবার ফিরবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত রোনালদোকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন পর্তুগালের এই কোচ। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে বেঞ্চে বসে থাকার পর ডেনমার্কের বিপক্ষেও একাদশে থাকবেন না জানতে পেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। এরপর থেকেই তাঁর জাতীয় দল-অধ্যায় নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।

রবিবার (৪ অক্টোবর) রাতে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার প্রসঙ্গে কথা বলেন জেসুস। আল নাসরে এক বছর রোনালদোর সঙ্গে কাজ করা এই কোচ জানান, জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ এখনো তাঁর জন্য রয়েছে। জেসুস বলেন, ‘সে চাইলে জাতীয় দলে ফিরবে। পরেরবার দল ঘোষণার আগে আমরা কথা বলতে পারি। তবে সিদ্ধান্তটা ক্রিসকেই নিতে হবে।’

জাতীয় দলের অধ্যায় কীভাবে শেষ করবেন, সিদ্ধান্ত রোনালদোর

রোনালদো জাতীয় দলের ক্যারিয়ার কীভাবে শেষ করতে চান, সেটিও তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন জেসুস। তিনি বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানোর জাতীয় দলের সময়টা সে যেভাবে চায়, সেভাবেই শেষ করা উচিত। সে কীভাবে শেষ করতে চায়, সেই সিদ্ধান্তও তার।’ রোনালদোকে পর্তুগালের কতটা প্রয়োজন, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন জেসুস। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার দল ঘোষণার সময় আমি বলেছিলাম, “আমার তোমাকে দরকার, আমার তোমাকে দরকার। তুমি খেলো বা না খেলো, তোমাকে আমার কাছে থাকতে হবে।” এখনো আমি একই কথা বলছি।’

নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে, এরপর ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো

২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের দায়িত্ব নেওয়া জেসুসের অধীনে রোনালদোর নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল এবারের ফিফা উইন্ডোতে। ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে রোনালদোকে একাদশে রাখা হলেও নরওয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে রাখা হয়। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে ওয়ার্মআপ করানো হলেও মাঠে নামানো হয়নি। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে স্কোয়াডে থাকার পরও পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে থাকার ঘটনা ২০০৮ সালের পর এই প্রথম রোনালদোর ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

এরপর কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিপক্ষে তাঁকে শুরুতে খেলানো হবে না—জেসুস সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানানোর পরই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো জানান, জাতীয় দল ছাড়ার কারণ ‘সময়মতো’ পর্তুগালের মানুষকে জানাবেন তিনি।

রোনালদোর অনুপস্থিতিতে আলোচনায় রামোস

রোনালদো না থাকায় পর্তুগালের আক্রমণভাগে জায়গা পাকা হয়েছে গনসালো রামোসের। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে তিন ম্যাচে শুরু করে প্রতিটিতেই গোল করেছেন এসি মিলানের এই স্ট্রাইকার। নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের পর পর্তুগালের অধিনায়ক জোয়াও কানসেলো রোনালদোর প্রসঙ্গে বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো আমাদের অধিনায়ক, পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। তাঁর সঙ্গে সবকিছু অবশ্যই ভালোভাবে শেষ হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো চারটি জয়।’ ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেসও রোনালদোর ফেরার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, জাতীয় দলে যে খেলোয়াড়ই আসুক, তাকে স্বাগত জানানো হবে। রোনালদো ফিরলে তাঁকেও দুই হাত বাড়িয়ে গ্রহণ করা হবে।

পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর রেকর্ড

পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে রোনালদোর গোল ১৪৬টি। জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ ও গোল—দুই ক্ষেত্রেই বিশ্ব রেকর্ড তাঁর দখলে। রোনালদোর নেতৃত্বে পর্তুগাল ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দুইবার উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছে। পর্তুগালের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা নভেম্বর মাসে। তখন ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। ফলে সেই সময় রোনালদো জাতীয় দলে ফিরবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ

মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ভোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ভোট

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এবারের কোনো ব্যালটে না থাকলেও তাঁর মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও স্থানীয় আইনসভার কয়েক হাজার পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে বড় লড়াই

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারিও বাড়বে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের দলীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে এবং তাঁর এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়িয়ে ৫১টিতে পৌঁছাতে হবে। দুই দল ৫০-৫০ আসনে আটকে গেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভোটে সিদ্ধান্ত হবে।

প্রতিনিধি পরিষদেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিটি আসনেই দুই বছর পরপর নির্বাচন হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ২২০-২১৫ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। তবে পরে মৃত্যু, পদত্যাগ ও দলবদলের কারণে বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮ জন রিপাবলিকান, ২১৪ জন ডেমোক্র্যাট এবং একজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন। দুটি আসন শূন্য রয়েছে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ২০২৪ সালের ফলাফলের তুলনায় অন্তত তিনটি আসন বাড়াতে হবে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা দুটি আসন হারালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে।

৩৬ অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন

এবার ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া অঙ্গরাজ্য আইনসভার নিয়মিত নির্বাচনে ৬ হাজার ১৩৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দেশের ৯৯টি অঙ্গরাজ্য আইনসভার কক্ষের মধ্যে ৮৮টিতে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জনমত জরিপে পিছিয়ে ট্রাম্প

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। রয়টার্সের এক জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩২ শতাংশ, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন। অন্যদিকে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে মারিস্টের জরিপে তাঁর সমর্থন ৩৯ শতাংশ এবং এনবিসি নিউজের জরিপে ৪১ শতাংশ পাওয়া গেছে।

পিবিএস নিউজ ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বরের জরিপে কংগ্রেস নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থীকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ছিলেন ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার। রিপাবলিকানদের পক্ষে ছিলেন ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটরা ১২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ছিলেন। তাঁদের ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে এবং ৩২ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।

অর্থনীতি নিয়েও অসন্তোষ

এনবিসি নিউজের জরিপে ৫৫ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ট্রাম্পের নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। বিপরীতে ২৬ শতাংশ মনে করেন, তাঁর নীতিগুলো অর্থনীতির জন্য উপকারী হয়েছে। তবে বিভিন্ন জরিপের পদ্ধতি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পার্থক্য থাকায় এসব পরিসংখ্যান সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। তারপরও জরিপগুলোতে এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই যে কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বড় ধরনের সুবিধা এনে দেবে।

রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের আভাস

২০২৫-২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অ্যাড ট্র্যাকিং কোম্পানি অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাবে, এ সময়ে বিজ্ঞাপনে প্রায় ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এই অর্থ ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজ্ঞাপনে ব্যয়ের ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রাইমারি নির্বাচনে ২ হাজার ৪৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যা অন্তত ২০১৪ সালের পর যেকোনো নির্বাচনী চক্রের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কালের আলো/এসএ