খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানের দ্বন্দ্বের কল্পকাহিনী; সংঘবদ্ধ অসত্য তথ্যে রাতভর গুজবের মহামারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৪, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানের দ্বন্দ্বের কল্পকাহিনী; সংঘবদ্ধ অসত্য তথ্যে রাতভর গুজবের মহামারি

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

আবারও গুজবের এক রাত পার করলো ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী ও অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া বাংলাদেশ। এবারও গুজব আর অসত্য তথ্যে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড.মুহাম্মদ ইউনূস। সঙ্গে পুনরায় ‘টার্গেট’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দেশপ্রেমিক বাহিনীটি। দেশের সরকারপ্রধান ও সেনাপ্রধানকে ঘিরে কথিত দ্বন্দ্বের কল্পকাহিনী আর অগণিত অপতথ্যে মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) রাতভর সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়ে গেছে গুজবের বন্যা। বিশেষ করে সেদিন রাত ৯টার পর থেকে ‘প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের ‘দ্বন্দ্ব’, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় সেনা সদস্যদের ‘অনুপ্রবেশ’ এবং ড.মুহাম্মদ ইউনূসের সময় ‘ফুরিয়ে আসার’ মত আষাড়ে গল্পের কাহিনী ফেসবুকের সয়লাব হয়ে যায়। এসব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক রকম উত্তেজনা তৈরি হয়।

  • পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে ছড়ানো হয়েছে গুজব
  • অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘রিউমার স্ক্যানার’
  • দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে স্বার্থান্বেষী মহলের অপচেষ্টা
  • সত্যের চেয়ে মিথ্যার কাটতি বেশি; বাস্তবতার চেয়ে গুজবের চল বেশি
  • অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব মিথ্যাচার ও অপপ্রচার

দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য গণমাধ্যমের আদলে ফটোকার্ড বানিয়ে কিংবা ভুল বানানে সংঘবদ্ধ মতলববাজদের অসত্য তথ্যে রাতভর চলে গুজবের মহামারি। অনেকেই বুঝে না বুঝে এসব কার্ড ফেসবুকে পোস্ট ও শেয়ার করেছেন। বুধবার (০৯ অক্টোবর) দিনমান গুজবের আঁতুড় ঘরে রূপ নেয় সোশ্যাল মিডিয়া। শুধু তাই নয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর পাসপোর্ট ফেরতের দাবিতে ইতালির দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকে প্রধান উপদেষ্টার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে সেনা সদস্যদের জড়ো হওয়ার ভিডিও বলে চালিয়ে দেওয়ার দৃশ্য জালিয়াতির নির্লজ্জ কসরতেরও প্রমাণ পেয়েছে ভুয়া খবর, মিথ্যা ও ভুল তথ্য খণ্ডনকারী স্বাধীন বাংলাদেশি ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইট ‘রিউমার স্ক্যানার’। তাঁরা বলেছেন, একটি পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে প্রধান উপদেষ্টার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে সেনা সদস্যরা জড়ো হয়েছেন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন বলে গুজব ছড়ানো হয়েছে। বিষয়টি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। পরে রাতে এ নিয়ে বিস্তারিত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘রিউমার স্ক্যানার’।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংও এমন সব ভুয়া পোস্টকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেছেন, ‘এটা একেবারেই গুজব। সবকিছু ঠিক আছে।’ একই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া গুজব সম্পর্কে উপহাস করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। বুধবার (০৯ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্টে তিনি লিখেন-‘শুধু চেয়ারই না, প্রধান উপদেষ্টাসহ দেশ ছাড়লেন বাকি উপদেষ্টারাও। সোর্স : চালাইদেন।’ কোনো তথ্য যাচাইবাছাই না কওে সোশ্যাল মিডিয়ায় চালিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বুঝাতে গিয়ে তিনি ওই গুরুত্বপূর্ণ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন।

ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দুই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নানা ধরনের গুজব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ফেসবুক-ইউটিউব থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে কখনো কখনো চটকদার স্লোগানে মিথ্যার বেসাতির মাধ্যমে ভুয়া ফটোকার্ড আর মনগড়া গালগপ্পে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে দেদার। কোটা সংস্কার থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেওয়ার পর ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তৎকালীন সরকারের সহিংস ভূমিকায় লাশ আর বারুদের গন্ধে আরও রক্তবন্যা ঠেকাতে ছাত্র-জনতার গৌরবজনক লড়াইয়ের সামষ্টিক চেতনাকে হৃদয়ঙ্গম করে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। হিমালয়সম সাহস নিয়ে তিনি নতুন উষার অভ্যুদয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড.মুহাম্মদ ইউনূস নিজেও সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন কৃতজ্ঞচিত্তে। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, ‘দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে দেশকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করেছে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারও দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বারবার প্রমাণ করেছে তাদের কোন রাজনৈতিক উচ্চভিলাষ নেই। দেশের পক্ষে, দেশের মানুষের পক্ষে তাঁরা নিবেদিতপ্রাণ। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে আপোসহীন। সেনাপ্রধান নিজেও রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বিষয়টি পরিস্কার করেছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এ সরকারকে সফল করতে তাদের সব রকমের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। প্রধান উপদেষ্টা ড.ইউনূস ও তাঁর মধ্যকার সুন্দর ও চমৎকার সম্পর্কের কথাও জানিয়েছেন। মূলত দেশের এ দু’শীর্ষ ব্যক্তিত্বের গভীর হৃদ্যতার মধুরতম প্রকাশ মেনে নিতে না পারা একটি চক্র মিথ্যা-ঊন-অতিরঞ্জিত-বিভ্রান্তিকর তথ্যের পসরা সাজিয়ে গুজবের বিষাক্ত ডালপালা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

দৈনিক সন্ধানী বার্তার প্রধান সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মো.শামসুল আলম খান দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে স্বার্থান্বেষী মহল এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মনে করেন। ইসলামে গুজবের কোনো স্থান নেই এবং এ বিষয়টি ইসলামে খুবই গর্হিত কাজ হিসাবে চিহ্নিত বলেও জানান তিনি। এসব গুজবের পেছনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চেয়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকেই দায়ী করেন এই বিশ্লেষক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ায় কথাটি ঠিক। কিন্তু সামাজিক মাধ্যম তো নিজে নিজে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করে না। সে আধার মাত্র। কোন ব্যক্তিবিশেষ বা গোষ্ঠী গুজব বা অপতথ্য ছড়িয়ে দেয়। এসব ক্ষেত্রে তাঁরা এমন চটকদার শিরোনামের ব্যবহার করে যে দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই। একটি ভিডিও বা ছবি অন্যের তথ্যের গায়ে জুড়ে দিয়ে হাঁসজারু বানানো হয়। বেশিরভাগ সময়েই অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা কোন সম্মানিত মানুষকে অসম্মানিত ও হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে মিথ্যাচার, মানহানি ও অপপ্রচার করা হয়। এসব বিষয়ে আমাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান না থাকার কারণে আমরা বিভ্রান্ত হচ্ছি একদিন-প্রতিদিন। এজন্য আমাদের গণসচেতনতা দরকার। সুতীব্র প্রয়োজন গণনজরদারি।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সত্যের চেয়ে মিথ্যার কাটতি বেশি। বাস্তবতার চেয়ে গুজবের চল বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার ও সেনাবাহিনীকে ঘিরে নেতিবাচক অপতথ্যে জেরবার করার অপপ্রয়াস প্রতিনিয়ত বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে। দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম অ্যাকাউন্ট তৈরি করে মানুষ সেজে গুজব ও মিথ্যা ছড়ানোর কাজও চলছে। প্রত্যেকেই যদি গুজবে বিশ্বাস না করে নিজ নিজ জ্ঞানের মূল্য দিতে পারেন তবেই মঙ্গল। নিজ জ্ঞানই উত্তর দিতে পারে কোনটা গুজব আর কোনটা ঠিক। কাজেই নিজ জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। সেটাই হবে গুজবে কান না দেওয়ার একমাত্র উপায়। নয়তো নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের ‘পণ্ডশ্রম’ কবিতার চিল বারবার আমাদের কান নিয়ে যাবে। একবারও নিজ কান ঠিক জায়গায় আছে কি না, সেটা হাত দিয়ে দেখব না।’

কালের আলো/এমএএএমকে

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি