খুঁজুন
                               
, ,
           

শাহজালালে দুই চীনা নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার ‘অপতথ্য’; এভসেককে ‘বিতর্কিত’ করতেই কী এমন ‘অপপ্রচার’?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
শাহজালালে দুই চীনা নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার ‘অপতথ্য’; এভসেককে ‘বিতর্কিত’ করতেই কী এমন ‘অপপ্রচার’?

রাইসুল ইসলাম খান, কালের আলো:

পারিবারিক সম্মতিতেই চীনা নাগরিক মে পেনগাইকে বিয়ে করেন বাংলাদেশী মালিনা মারাক (১৯)। গত ২৬ অক্টোবর তাদের একত্রে দেশত্যাগের কথা ছিল। কিন্তু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চায়না ইস্টার্ন ফ্লাইটে উড়াল দেওয়ার আগে মন ঘুরে যায় মালিনার। চীনে যেতে মন সায় না দেওয়ায় কাঁদতে শুরু করেন। দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে ছুটে যান আকস্মিক বিমান বন্দরে উপস্থিত রানী আক্তার। তিনি উত্তরার একটি চাইনিজ কোম্পানির পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পুরো ঘটনা শুনে এই নারী কথা বলেন মালিনার সঙ্গে। ডিপারচার এলাকায় চায়না ইস্টার্ন ফ্লাইটের চেক-ইন কাউন্টারের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন সিভিল এভিয়েশন নিয়ন্ত্রিত এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)।

দু’চীনা নাগরিক মে পেনগাই (পাসপোর্ট নম্বর ঊগ৪৪৮৩৭০৯) ও তিয়ান জেংওয়েনকে (পাসপোর্ট নম্বর ঊঔ৪৩৭৪২৯৯) এবং বাংলাদেশি দুই তরুণী মালিনা মারাক (পাসপোর্ট নম্বর অ১৪৭৬৬৮৮৯) ও ২৬ বছর বয়সী রানী আক্তার (পাসপোর্ট নম্বর অ১৫২৭১৮৪৪) কে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে যান। ঘটনার নিরিখে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রথমে বিমান বন্দরের বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট ও ইমিগ্রেশন পুলিশের দ্বারস্থ হয় এভসেক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশে সোপর্দ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এপিবিএন বিষয়টি মানবপাচার অপরাধ সংক্রান্ত হওয়ায় এভসেকের সদস্যদের মানবপাচার সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন। এরপর সিআইডির মানবপাচার সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা মালিনা মারাককে বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ ঘটনায় তাকে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। কিন্তু এতেই বেঁকে বসেন ওই নারী।

  • ডেটলাইন ২৬ অক্টোবর
  • সেই মালিনা মারাককে সিআইডির মানবপাচার সেলের বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ
  • পারিবারিকভাবেই বিষয়টির আপোস রফার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন মালিনা
  • এভসেক’র হাতে মালিনা ও পেনগাই’র বিয়ের কাবিননামা সংরক্ষিত
  • মালিনার পাশাপাশি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন বোনের স্বামীর টিউপল সাংমাও

কোন রকম মামলা মোকদ্দমায় না জড়িয়ে পারিবারিকভাবেই বিষয়টির আপোস রফার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন মালিনা। এরপর এভসেক দুই চীনা নাগরিক ও বাংলাদেশি দুই তরুণীকে এপিবিএন অফিসে জিম্মায় রাখে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যার নম্বর ৩৩৮, তারিখ ২৬/১০/২০২৪)। পরে তাদেরকে এভসেক’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। এভসেক’র পক্ষ থেকে মালিনা মারাক এর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় মালিকানা মারাক এর বোনের স্বামী টিউপল সাংমা’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনিও মামলা করতে অপারগতা প্রকাশ করে একটি লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর ওইদিন রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশি ও চীনা যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়ার পর সবাই আগমনী ক্যানোপি-২ দিয়ে টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের বাইরে চলে যান। মালিনা ও মে পেনগাই এর বিয়ের কাবিননামা সংরক্ষিত রয়েছে এভসেক’র হাতে।

পুরো ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কার্যত দুই নারীকে চীনে পাচারের চেষ্টার খবরটি নিছক প্রোপাগাণ্ডা। শুধুমাত্র সিভিল এভিয়েশন নিয়ন্ত্রিত এভিয়েশন সিকিউরিটিকে (এভসেক) বিতর্কিত করতেই দুই চীনা নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার অপপ্রচার চলছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। এ বিষয়ে এভসেকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশে আপত্তি জানিয়ে কালের আলোকে বলেন, ‘ওইদিনের ঘটনার সঙ্গে মানব পাচারের কোন সম্পৃক্ততা নেই। মূলত এভসেক’র সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমরা আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছি।’

একই সূত্র বলছে, বিভিন্নভাবে এই ঘটনায় দু’জন নারীকে পাচারের কথা বলা হলেও প্রকৃত অর্থে মালিনা মারাকের সঙ্গে রানী আক্তারের কোন পূর্ব পরিচয় ছিল না। তিনি সেদিন চায়না ইস্টার্ন ফ্লাইটের চেক-ইন কাউন্টারের সামনে এসেছিলেন মূলত একটি চাইনিজ কোম্পানির কর্মরতদের বিদায় জানাতে। মালিনা মারাকের কান্নার ঘটনা অবলোকন করে পরিস্থিতি জানতে তিনি তাঁর কাছে এগিয়ে যান। এ সম্পর্কিত পুরো বিষয়াদি মালিনার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা আছে। এই বক্তব্য এভসেক’র হাতে রয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের সবচেয়ে বড় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সিভিল এভিয়েশন নিয়ন্ত্রিত এভিয়েশন সিকিউরিটিকে (এভসেক) দেওয়ার পর থেকেই চলছে একের পর এক ষড়যন্ত্র। যাত্রীদের লাগেজ হারিয়ে যাওয়া, লাগেজ ভাঙা এবং লাগেজ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগাসহ নানা ধরনের ভোগান্তির দীর্ঘদিনের অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে বিমানবন্দরটি খোলনলচে নিজেদের পাল্টে ফেলে যাত্রীদের মনজয় করে ইতিবাচক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করলেও ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা চলমান পরিবর্তনের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে ভেতরে-বাইরে অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে। এর মাধ্যমে তাঁরা প্রতিনিয়ত ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

জানা যায়, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ (এপিবিএন) গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর স্বেচ্ছায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরকে অরক্ষিত রেখে চলে যায়। বিমানবন্দরটির সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় প্রায় ৬ ঘণ্টা শাহজালালে সেদিন বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ থাকে। পরে শাহজালালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিমান বাহিনীকে দায়িত্ব পালনে অনুরোধ জানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বিমান বাহিনী ও এভসেক’র যৌথ প্রয়াসে শাহজালাল বিমান বন্দরের অনিয়ম, দুর্নীতি, পদে পদে হয়রানিসহ ইত্যাকার অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মানোন্নয়ন ঘটে যাত্রীসেবার। নিশ্চিত হয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এতে করে বিমান বাহিনী ও বেবিচক যাত্রীদের প্রশংসায় ভাসলেও মাথাব্যাথা শুরু হয়েছে একটি পক্ষের। তাঁরা নন ইস্যুকে ইস্যু করে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ঘোলাটে দেখাতে ঘৃণ্য কায়দায় বেসুমার অপতথ্যে পরিবর্তনের পথযাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপতৎপরতা শুরু করেছে।

তবে এসব বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুইঁয়া কালের আলোকে বলেন, ‘বিশ্বের সব বিমানবন্দরই এভিয়েশন সিকিউরিটির আওতায়। হযতর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। আমরা এভসেক’র সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দিয়েছি। বর্তমানে এভসেকের প্রায় দেড় হাজার সদস্য রয়েছে। আমরা সদস্য আরও বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মতো সদস্য থাকবে। তখন এয়ারসাইট ও আউটার সাইট সবদিকেই এভসেকের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানেও এখানে দায়িত্ব পালনে কোন রকম সমস্যা হচ্ছে না। সবাই সম্মিলিতভাবেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। সবার প্রচেষ্টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিবর্তন এখন দৃশ্যমান।’

কালের আলো/আরআই/এমকে

সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও চড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রীষ্মকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামে তার প্রভাব পড়েনি। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারে। অধিকাংশ মাছ ও মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তালতলা ও আগারগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে বর্তমানে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২০ টাকা বেশি। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পেঁপে ও আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। বটবটি ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক হালি লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি ধনেপাতা কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮৯০ থেকে ২০০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্য মাছের মধ্যে চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও সবজির বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচও বেড়ে গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বার্থে বিশেষ এই অভিযান নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অভিযানের আওতায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি