খুঁজুন
                               
, ,
           

শাহজালালে দুই চীনা নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার ‘অপতথ্য’; এভসেককে ‘বিতর্কিত’ করতেই কী এমন ‘অপপ্রচার’?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
শাহজালালে দুই চীনা নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার ‘অপতথ্য’; এভসেককে ‘বিতর্কিত’ করতেই কী এমন ‘অপপ্রচার’?

রাইসুল ইসলাম খান, কালের আলো:

পারিবারিক সম্মতিতেই চীনা নাগরিক মে পেনগাইকে বিয়ে করেন বাংলাদেশী মালিনা মারাক (১৯)। গত ২৬ অক্টোবর তাদের একত্রে দেশত্যাগের কথা ছিল। কিন্তু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চায়না ইস্টার্ন ফ্লাইটে উড়াল দেওয়ার আগে মন ঘুরে যায় মালিনার। চীনে যেতে মন সায় না দেওয়ায় কাঁদতে শুরু করেন। দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে ছুটে যান আকস্মিক বিমান বন্দরে উপস্থিত রানী আক্তার। তিনি উত্তরার একটি চাইনিজ কোম্পানির পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পুরো ঘটনা শুনে এই নারী কথা বলেন মালিনার সঙ্গে। ডিপারচার এলাকায় চায়না ইস্টার্ন ফ্লাইটের চেক-ইন কাউন্টারের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন সিভিল এভিয়েশন নিয়ন্ত্রিত এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)।

দু’চীনা নাগরিক মে পেনগাই (পাসপোর্ট নম্বর ঊগ৪৪৮৩৭০৯) ও তিয়ান জেংওয়েনকে (পাসপোর্ট নম্বর ঊঔ৪৩৭৪২৯৯) এবং বাংলাদেশি দুই তরুণী মালিনা মারাক (পাসপোর্ট নম্বর অ১৪৭৬৬৮৮৯) ও ২৬ বছর বয়সী রানী আক্তার (পাসপোর্ট নম্বর অ১৫২৭১৮৪৪) কে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে যান। ঘটনার নিরিখে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রথমে বিমান বন্দরের বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট ও ইমিগ্রেশন পুলিশের দ্বারস্থ হয় এভসেক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশে সোপর্দ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এপিবিএন বিষয়টি মানবপাচার অপরাধ সংক্রান্ত হওয়ায় এভসেকের সদস্যদের মানবপাচার সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন। এরপর সিআইডির মানবপাচার সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা মালিনা মারাককে বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ ঘটনায় তাকে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। কিন্তু এতেই বেঁকে বসেন ওই নারী।

  • ডেটলাইন ২৬ অক্টোবর
  • সেই মালিনা মারাককে সিআইডির মানবপাচার সেলের বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ
  • পারিবারিকভাবেই বিষয়টির আপোস রফার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন মালিনা
  • এভসেক’র হাতে মালিনা ও পেনগাই’র বিয়ের কাবিননামা সংরক্ষিত
  • মালিনার পাশাপাশি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন বোনের স্বামীর টিউপল সাংমাও

কোন রকম মামলা মোকদ্দমায় না জড়িয়ে পারিবারিকভাবেই বিষয়টির আপোস রফার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন মালিনা। এরপর এভসেক দুই চীনা নাগরিক ও বাংলাদেশি দুই তরুণীকে এপিবিএন অফিসে জিম্মায় রাখে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যার নম্বর ৩৩৮, তারিখ ২৬/১০/২০২৪)। পরে তাদেরকে এভসেক’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। এভসেক’র পক্ষ থেকে মালিনা মারাক এর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় মালিকানা মারাক এর বোনের স্বামী টিউপল সাংমা’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনিও মামলা করতে অপারগতা প্রকাশ করে একটি লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর ওইদিন রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশি ও চীনা যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়ার পর সবাই আগমনী ক্যানোপি-২ দিয়ে টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের বাইরে চলে যান। মালিনা ও মে পেনগাই এর বিয়ের কাবিননামা সংরক্ষিত রয়েছে এভসেক’র হাতে।

পুরো ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কার্যত দুই নারীকে চীনে পাচারের চেষ্টার খবরটি নিছক প্রোপাগাণ্ডা। শুধুমাত্র সিভিল এভিয়েশন নিয়ন্ত্রিত এভিয়েশন সিকিউরিটিকে (এভসেক) বিতর্কিত করতেই দুই চীনা নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার অপপ্রচার চলছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। এ বিষয়ে এভসেকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশে আপত্তি জানিয়ে কালের আলোকে বলেন, ‘ওইদিনের ঘটনার সঙ্গে মানব পাচারের কোন সম্পৃক্ততা নেই। মূলত এভসেক’র সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমরা আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছি।’

একই সূত্র বলছে, বিভিন্নভাবে এই ঘটনায় দু’জন নারীকে পাচারের কথা বলা হলেও প্রকৃত অর্থে মালিনা মারাকের সঙ্গে রানী আক্তারের কোন পূর্ব পরিচয় ছিল না। তিনি সেদিন চায়না ইস্টার্ন ফ্লাইটের চেক-ইন কাউন্টারের সামনে এসেছিলেন মূলত একটি চাইনিজ কোম্পানির কর্মরতদের বিদায় জানাতে। মালিনা মারাকের কান্নার ঘটনা অবলোকন করে পরিস্থিতি জানতে তিনি তাঁর কাছে এগিয়ে যান। এ সম্পর্কিত পুরো বিষয়াদি মালিনার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা আছে। এই বক্তব্য এভসেক’র হাতে রয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের সবচেয়ে বড় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সিভিল এভিয়েশন নিয়ন্ত্রিত এভিয়েশন সিকিউরিটিকে (এভসেক) দেওয়ার পর থেকেই চলছে একের পর এক ষড়যন্ত্র। যাত্রীদের লাগেজ হারিয়ে যাওয়া, লাগেজ ভাঙা এবং লাগেজ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগাসহ নানা ধরনের ভোগান্তির দীর্ঘদিনের অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে বিমানবন্দরটি খোলনলচে নিজেদের পাল্টে ফেলে যাত্রীদের মনজয় করে ইতিবাচক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করলেও ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা চলমান পরিবর্তনের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে ভেতরে-বাইরে অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে। এর মাধ্যমে তাঁরা প্রতিনিয়ত ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

জানা যায়, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ (এপিবিএন) গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর স্বেচ্ছায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরকে অরক্ষিত রেখে চলে যায়। বিমানবন্দরটির সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় প্রায় ৬ ঘণ্টা শাহজালালে সেদিন বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ থাকে। পরে শাহজালালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিমান বাহিনীকে দায়িত্ব পালনে অনুরোধ জানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বিমান বাহিনী ও এভসেক’র যৌথ প্রয়াসে শাহজালাল বিমান বন্দরের অনিয়ম, দুর্নীতি, পদে পদে হয়রানিসহ ইত্যাকার অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মানোন্নয়ন ঘটে যাত্রীসেবার। নিশ্চিত হয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এতে করে বিমান বাহিনী ও বেবিচক যাত্রীদের প্রশংসায় ভাসলেও মাথাব্যাথা শুরু হয়েছে একটি পক্ষের। তাঁরা নন ইস্যুকে ইস্যু করে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ঘোলাটে দেখাতে ঘৃণ্য কায়দায় বেসুমার অপতথ্যে পরিবর্তনের পথযাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপতৎপরতা শুরু করেছে।

তবে এসব বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুইঁয়া কালের আলোকে বলেন, ‘বিশ্বের সব বিমানবন্দরই এভিয়েশন সিকিউরিটির আওতায়। হযতর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। আমরা এভসেক’র সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দিয়েছি। বর্তমানে এভসেকের প্রায় দেড় হাজার সদস্য রয়েছে। আমরা সদস্য আরও বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মতো সদস্য থাকবে। তখন এয়ারসাইট ও আউটার সাইট সবদিকেই এভসেকের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানেও এখানে দায়িত্ব পালনে কোন রকম সমস্যা হচ্ছে না। সবাই সম্মিলিতভাবেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। সবার প্রচেষ্টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিবর্তন এখন দৃশ্যমান।’

কালের আলো/আরআই/এমকে

ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের  ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ইউরোপে মোতায়েন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাসের একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এসব পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেন।

  • সেনা-অস্ত্র সরানোর পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপে পুনর্মোতায়নের পরিকল্পনা
  • ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
  • সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ নিরাপত্তা সম্পর্কে

বড় আকারের প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা একটি বিকল্পে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এতে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

আরও বড় পরিসরের একটি পরিকল্পনায় প্রায় ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো এখনো সম্ভাব্য বিকল্প; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে না গিয়ে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের কিছু সেনাকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সেনাসংখ্যা কমলেও পূর্ব ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
এই আলোচনা সামনে আসার সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউরোপের কয়েকটি মিত্রদেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের ইরাননীতি নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনাও করেছে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপও আলোচনায় রয়েছে।

জার্মানি ঘিরে বাড়ছে নজর
ইউরোপে সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসে জার্মানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। ইউরোপে থাকা মার্কিন সেনাদের অর্ধেকের বেশি দেশটিতে অবস্থান করছে। এরই মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির খবর এসেছে।

গত বছর রোমানিয়া থেকেও প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করার পর জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসকে অন্তত ২৫ হাজার সেনা একসঙ্গে প্রত্যাহার না করার বিষয়ে রাজি করেছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়া ও ন্যাটোর সমীকরণ
ইউরোপ থেকে বড় পরিসরে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হলে ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব পড়তে পারে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসারের মতে, এতে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে।

তবে প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সেনারা কোথা থেকে এবং কীভাবে সরানো হচ্ছে তার ওপর। পশ্চিম ইউরোপ থেকে সেনা সরিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে পাঠানো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি
সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ওয়াশিংটন দ্রুত ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলে সেনা, বিমান ও অন্যান্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারে। উপস্থিতি কমলে সেই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফলে আসন্ন সিদ্ধান্ত শুধু সেনা প্রত্যাহারের হিসাব নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপনীতি, ন্যাটোর দায়িত্ব বণ্টন এবং রাশিয়াকে ঘিরে জোটের প্রতিরোধ কৌশলে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এম/এএইচ

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে কর্মসূচির নামে দেশকে অস্থিতিশীল করা ও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার দায়ও তাদের নিতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে সংসদের ভেতরে-বাইরে কথা বলার অধিকার রয়েছে। বিরোধী দল কর্মসূচি করুক, এতে আপত্তি নেই। তবে হুমকি-ধমকি, মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের মধ্যে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চের সমালোচনা করেন রিজভী। তাঁর দাবি, যমুনা সেতুর টোল আদায়ের হিসাব অনুযায়ী ওই বহরে প্রায় ৪৫০টি গাড়ি ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশে যখন ডিজেল সরবরাহে সংকট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে, তখন এত গাড়ি নিয়ে লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের বিকল্প প্রস্তাব কী—এ প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দল ভবিষ্যতে সরকারে যেতে পারে, তাই বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তাদেরও পরিকল্পনা জানানো উচিত।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বক্তব্য

রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে শুধু সরকারের একক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, সরকার বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস ও এলএনজি আনার উদ্যোগ নিয়েছে। একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি ঠিক হওয়ায় গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাসে আগুন, বোমাবাজি নিয়েও প্রশ্ন

দেশ অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

একটি ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতের লোক বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে—এমন দাবি করে জামায়াতের আমিরের প্রতিও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের আমিরকে লংমার্চ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী

এক দফার আন্দোলনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এক দফার কথা শুনে বিএনপি গলি দিয়ে পালিয়ে যাবে না কিংবা প্রাচীর টপকে পালাবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৭ বছর ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দলটি আন্দোলন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনও দীর্ঘদিনের সেই আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

বিএনপি ক্ষমতায় আছে ক্ষমতার জোরে নয়, জনগণের শক্তির জোরে—এমন দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

সমাবেশে তিনি পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ হাজার কোটি গাছ লাগানো, হৃদরোগীদের রিংয়ের দাম কমানো এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি 

চার ক্যাটাগরিতে পুলিশ পদক পাচ্ছেন ৯২ সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
চার ক্যাটাগরিতে পুলিশ পদক পাচ্ছেন ৯২ সদস্য

সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ পদক দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে সই করেছেন উপসচিব নাসরিন সুলতানা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পদক দেওয়া হচ্ছে।

চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’।

সাহস ও বীরত্ব, দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদান, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং অন্যান্য উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পদক প্রদান করা হচ্ছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি