খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

শাহজালালে দুই চীনা নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার ‘অপতথ্য’; এভসেককে ‘বিতর্কিত’ করতেই কী এমন ‘অপপ্রচার’?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
শাহজালালে দুই চীনা নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার ‘অপতথ্য’; এভসেককে ‘বিতর্কিত’ করতেই কী এমন ‘অপপ্রচার’?

রাইসুল ইসলাম খান, কালের আলো:

পারিবারিক সম্মতিতেই চীনা নাগরিক মে পেনগাইকে বিয়ে করেন বাংলাদেশী মালিনা মারাক (১৯)। গত ২৬ অক্টোবর তাদের একত্রে দেশত্যাগের কথা ছিল। কিন্তু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চায়না ইস্টার্ন ফ্লাইটে উড়াল দেওয়ার আগে মন ঘুরে যায় মালিনার। চীনে যেতে মন সায় না দেওয়ায় কাঁদতে শুরু করেন। দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে ছুটে যান আকস্মিক বিমান বন্দরে উপস্থিত রানী আক্তার। তিনি উত্তরার একটি চাইনিজ কোম্পানির পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পুরো ঘটনা শুনে এই নারী কথা বলেন মালিনার সঙ্গে। ডিপারচার এলাকায় চায়না ইস্টার্ন ফ্লাইটের চেক-ইন কাউন্টারের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন সিভিল এভিয়েশন নিয়ন্ত্রিত এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)।

দু’চীনা নাগরিক মে পেনগাই (পাসপোর্ট নম্বর ঊগ৪৪৮৩৭০৯) ও তিয়ান জেংওয়েনকে (পাসপোর্ট নম্বর ঊঔ৪৩৭৪২৯৯) এবং বাংলাদেশি দুই তরুণী মালিনা মারাক (পাসপোর্ট নম্বর অ১৪৭৬৬৮৮৯) ও ২৬ বছর বয়সী রানী আক্তার (পাসপোর্ট নম্বর অ১৫২৭১৮৪৪) কে নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে যান। ঘটনার নিরিখে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রথমে বিমান বন্দরের বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট ও ইমিগ্রেশন পুলিশের দ্বারস্থ হয় এভসেক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশে সোপর্দ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এপিবিএন বিষয়টি মানবপাচার অপরাধ সংক্রান্ত হওয়ায় এভসেকের সদস্যদের মানবপাচার সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন। এরপর সিআইডির মানবপাচার সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা মালিনা মারাককে বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ ঘটনায় তাকে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। কিন্তু এতেই বেঁকে বসেন ওই নারী।

  • ডেটলাইন ২৬ অক্টোবর
  • সেই মালিনা মারাককে সিআইডির মানবপাচার সেলের বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ
  • পারিবারিকভাবেই বিষয়টির আপোস রফার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন মালিনা
  • এভসেক’র হাতে মালিনা ও পেনগাই’র বিয়ের কাবিননামা সংরক্ষিত
  • মালিনার পাশাপাশি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন বোনের স্বামীর টিউপল সাংমাও

কোন রকম মামলা মোকদ্দমায় না জড়িয়ে পারিবারিকভাবেই বিষয়টির আপোস রফার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন মালিনা। এরপর এভসেক দুই চীনা নাগরিক ও বাংলাদেশি দুই তরুণীকে এপিবিএন অফিসে জিম্মায় রাখে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যার নম্বর ৩৩৮, তারিখ ২৬/১০/২০২৪)। পরে তাদেরকে এভসেক’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। এভসেক’র পক্ষ থেকে মালিনা মারাক এর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় মালিকানা মারাক এর বোনের স্বামী টিউপল সাংমা’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনিও মামলা করতে অপারগতা প্রকাশ করে একটি লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর ওইদিন রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশি ও চীনা যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়ার পর সবাই আগমনী ক্যানোপি-২ দিয়ে টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের বাইরে চলে যান। মালিনা ও মে পেনগাই এর বিয়ের কাবিননামা সংরক্ষিত রয়েছে এভসেক’র হাতে।

পুরো ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কার্যত দুই নারীকে চীনে পাচারের চেষ্টার খবরটি নিছক প্রোপাগাণ্ডা। শুধুমাত্র সিভিল এভিয়েশন নিয়ন্ত্রিত এভিয়েশন সিকিউরিটিকে (এভসেক) বিতর্কিত করতেই দুই চীনা নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার অপপ্রচার চলছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। এ বিষয়ে এভসেকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশে আপত্তি জানিয়ে কালের আলোকে বলেন, ‘ওইদিনের ঘটনার সঙ্গে মানব পাচারের কোন সম্পৃক্ততা নেই। মূলত এভসেক’র সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমরা আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছি।’

একই সূত্র বলছে, বিভিন্নভাবে এই ঘটনায় দু’জন নারীকে পাচারের কথা বলা হলেও প্রকৃত অর্থে মালিনা মারাকের সঙ্গে রানী আক্তারের কোন পূর্ব পরিচয় ছিল না। তিনি সেদিন চায়না ইস্টার্ন ফ্লাইটের চেক-ইন কাউন্টারের সামনে এসেছিলেন মূলত একটি চাইনিজ কোম্পানির কর্মরতদের বিদায় জানাতে। মালিনা মারাকের কান্নার ঘটনা অবলোকন করে পরিস্থিতি জানতে তিনি তাঁর কাছে এগিয়ে যান। এ সম্পর্কিত পুরো বিষয়াদি মালিনার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা আছে। এই বক্তব্য এভসেক’র হাতে রয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের সবচেয়ে বড় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সিভিল এভিয়েশন নিয়ন্ত্রিত এভিয়েশন সিকিউরিটিকে (এভসেক) দেওয়ার পর থেকেই চলছে একের পর এক ষড়যন্ত্র। যাত্রীদের লাগেজ হারিয়ে যাওয়া, লাগেজ ভাঙা এবং লাগেজ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগাসহ নানা ধরনের ভোগান্তির দীর্ঘদিনের অভিযোগের অবসান ঘটিয়ে বিমানবন্দরটি খোলনলচে নিজেদের পাল্টে ফেলে যাত্রীদের মনজয় করে ইতিবাচক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করলেও ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা চলমান পরিবর্তনের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে ভেতরে-বাইরে অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে। এর মাধ্যমে তাঁরা প্রতিনিয়ত ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

জানা যায়, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ (এপিবিএন) গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর স্বেচ্ছায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরকে অরক্ষিত রেখে চলে যায়। বিমানবন্দরটির সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় প্রায় ৬ ঘণ্টা শাহজালালে সেদিন বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ থাকে। পরে শাহজালালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিমান বাহিনীকে দায়িত্ব পালনে অনুরোধ জানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বিমান বাহিনী ও এভসেক’র যৌথ প্রয়াসে শাহজালাল বিমান বন্দরের অনিয়ম, দুর্নীতি, পদে পদে হয়রানিসহ ইত্যাকার অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মানোন্নয়ন ঘটে যাত্রীসেবার। নিশ্চিত হয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এতে করে বিমান বাহিনী ও বেবিচক যাত্রীদের প্রশংসায় ভাসলেও মাথাব্যাথা শুরু হয়েছে একটি পক্ষের। তাঁরা নন ইস্যুকে ইস্যু করে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ঘোলাটে দেখাতে ঘৃণ্য কায়দায় বেসুমার অপতথ্যে পরিবর্তনের পথযাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপতৎপরতা শুরু করেছে।

তবে এসব বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুইঁয়া কালের আলোকে বলেন, ‘বিশ্বের সব বিমানবন্দরই এভিয়েশন সিকিউরিটির আওতায়। হযতর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। আমরা এভসেক’র সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দিয়েছি। বর্তমানে এভসেকের প্রায় দেড় হাজার সদস্য রয়েছে। আমরা সদস্য আরও বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মতো সদস্য থাকবে। তখন এয়ারসাইট ও আউটার সাইট সবদিকেই এভসেকের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানেও এখানে দায়িত্ব পালনে কোন রকম সমস্যা হচ্ছে না। সবাই সম্মিলিতভাবেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। সবার প্রচেষ্টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিবর্তন এখন দৃশ্যমান।’

কালের আলো/আরআই/এমকে

এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি: স্পিকার

ভোলা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি: স্পিকার

‘এমন কোনো লোভ ছিল না, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ভারতে পলাতক) আমাকে দেখাননি। আমি যদি তার কথা শুনতাম, তাহলে তার পরেই আমার অবস্থান হতো’ বলে মন্তব্য করেছেন-জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ভোলার সার্কিট হাউসে জেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, আমার বয়স ৮০ বছর হয়ে গেছে এখন আর এগুলো করার সময় নেই।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘জেনারেল জিয়াউর রহমানের অধীনে আমি যুদ্ধ করেছি এবং বেগম জিয়া আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমি জেনারেল জিয়া ও বেগম জিয়ার প্রতি সব সময় অনুগত ছিলাম। আমি এই দলের (বিএনপি) অনেক সিনিয়র ছিলাম। কিন্তু সবাই আমাকে ক্রস করে ওপরে চলে গেছে এবং আমার আগে স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছে।’

স্পিকার বলেন, ‘একমাত্র ড. মোশাররফ হোসেন ছাড়া সবার সিনিয়র ছিলাম আমি। তা-ও স্থায়ী কমিটিতে স্থান হয়নি। আমি এগুলো নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি। আমার নজর ছিল এলাকা থেকে জনগণ যাতে ভোট দেয়, আমি যেন জাতীয় সংসদে যেতে পারি। এবারও ভোট দেওয়ার পর লোকজন আশা করেছিল আমি যেন একটা প্ল্যাগ নিয়ে আসতে পারি। আল্লাহর রহমতে দুই দুইটা প্ল্যাগ নিয়ে এসেছি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কাছে। তার সঙ্গে আমি জীবনে কথা বলেছি দুই দিন। এ ছাড়া কোনো দিন টেলিফোন হয়নি, দেখাও হয়নি, কথাও হয়নি। কিন্তু তিনি আমাকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদে অভিহিত করেছেন। এ জন্য আমি তার কাছে ও আমার দল বিএনপির কাছে খুবই কৃতজ্ঞ।’

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রাইসুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

 

রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা—তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
কালের আলো/এসআর/ এএএন 

ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে’।

আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবরোধের নামে জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক চুরি চালিয়ে যাচ্ছে’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই কারণে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যতদিন না ইরান থেকে জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে তাদের গন্তব্যে যাতায়াতের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালির অবস্থা কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আগের মতোই থাকবে।’

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না। এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।’

বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তেহরান নৌপথটি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও ইচ্ছা উভয়ই প্রদর্শন করেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতিকে বিপন্ন করেছে।

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দীর্ঘ প্রায় ছয় সপ্তাহ পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছিল ইরান। ওই দিন বিকেলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক ঘোষণায় জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকালে প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় মাত্র এক দিনের মাথায় ফের বন্ধ করে দিলো তেহরান।

কালের আলো/এসআর/ এএএন