খুঁজুন
                               
, ,
           

মুক্তিযুদ্ধে খালেদা জিয়ার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার মূল্যায়ন হয়নি আজও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
মুক্তিযুদ্ধে খালেদা জিয়ার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার মূল্যায়ন হয়নি আজও

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

অনেক পরিচয়ে পরিচিত তিনি। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দেশের সবচেয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক দলের চেয়ারপার্সন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী এবং তাঁর আজীবনের ছায়াসঙ্গী। তবে সব পরিচয় ছাপিয়ে ২০২২ সালের ২৫ মার্চ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেন। প্রায় ৪১ বছর যাবত দেশের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া বেগম জিয়াকে নিয়ে দলটির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সেই সময় সমালোচনায় মেতেছিলেন শাসক দলটির নেতারা। তবে প্রকৃত অর্থেই ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সহ-অধিনায়ক মেজর জিয়ার অনুপস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সেন্ট্রাল অর্ডিনেন্স ডিপো (কোড) বা ‘কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগার’ থেকে ১৭ বেলুচ সৈন্যদের অস্ত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। এরই মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে অস্ত্রহীন হওয়া থেকে রক্ষা করেছিলেন। সেদিনের ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় অবশ্যই প্রতীয়মান হয় দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা তিনিই।

এই ঘটনাটিকেই প্রায় আড়াই বছর আগে নিজের জবানীতে তুলে এনেছিলেন বিএনপি মহাসচিব। ওইদিন তিনি আরও বলেছিলেন-‘যে নেত্রী (খালেদা জিয়া) একজন গৃহবধূ ছিলেন। প্রথম জিয়াউর রহমান সাহেবের বিদ্রোহের পর তাঁর স্ত্রী, তিনি সেদিন যখন সোয়াত জাহাজের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন পাকিস্তানি কমান্ডার আমাদের অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার সোহরাব হোসেনসহ সেনাবাহিনীর সৈনিকদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা করছিল। সেই সময় খালেদা জিয়া প্রথম বলেছিলেন, “তোমরা অস্ত্র সমর্পণ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না জিয়াউর রহমান ফিরে আসেন।” এ-ই দিয়ে তাঁর শুরু।’ তবে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই বেগম জিয়ার এমন বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার মূল্যায়ন হয়নি এখনও।

একই ঘটনার প্রমাণ মেলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) সৈয়দ আবু ব্কর সিদ্দিক’র মন্তব্যেও। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র খণ্ড-৯ এর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সেন্ট্রাল অর্ডিনেন্স ডিপোর (কোড) কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগারের পাহারায় ছিলেন হাবিলদার কাদের ও তৎকালীন সিপাহী পরবর্তীতে হাবিলদার নুরুল হক। এ সময় ১৭ বেলুচ-এর একটি দল আসে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ষোলশহরস্থ ‘কোডে’। তারা চট্টগ্রাম সেনানিবাসসহ তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের অন্যান্য সেনানিবাসের বাঙালি ইউনিটের অস্ত্র ‘আর আর ৭৭ ও ৭৬ (রাইফেলের রেঞ্জ ৭৭ ও ৭৬ মিটার) পশ্চিমা ইউনিটে জমা করার আদেশ পালনের জন্য এসেছেন বলে উল্লেখ করেন।’

এ ঘটনার নেপথ্যে কলকাঠি নাড়েন লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুর রশিদ জানজুয়া। মূলত তাঁর নির্দেশেই ১৭ বেলুচ থেকে সৈনিকরা এই অস্ত্রাগারের অস্ত্র নিয়ে যেতে আসলে হাবিলদার কাদের’র নির্দেশে নুরুল হক ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড মেজর জিয়ার বাসায় আদেশ আনতে ছুটে যান। এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক মেজর (অব.) সৈয়দ আবু ব্কর সিদ্দিক আরও বলেন, ‘ওইদিন মেজর জিয়া বাসায় ছিলেন না। তখন বেগম জিয়া পুরো ঘটনাটি জানতে চান। ঘটনা শোনার পর তিনি সাফ সাফ জানিয়ে দেন ‘মেজর জিয়ার হুকুম ছাড়া একটা সুইও ষোলশহর থেকে বাইরে যাবে না।’ নূরুল হক ‘কোডে’ ফিরে কাদেরকে ম্যাডামের নির্দেশের কথা জানালে তিনি (কাদের) সতর্ক হয়ে যান। ততক্ষণে বেলুচের সৈন্যরা ‘৭৬ ও ৭৭ আর আর রাইফেল’ তাদের গাড়িতে তুলে ফেলেছে দেখে হাবিলদার কাদের বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে বেলুচ সৈন্যদের গাড়িতে গুলি করার উদ্যোগ নেয়। বেগতিক পরিস্থিতিতে বেলুচের সৈন্যরা সব অস্ত্র রেখে যেতে বাধ্য হয়।’ অস্ত্র সরানোর জন্য লে. কর্নেল জানজুয়ার হুকুম ছিল, কমান্ডিং অফিসারের এই হুকুমও সেদিন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশের কাছে অগ্রাহ্য হয়ে যায় বলে সাবেক এই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জানান।

প্রায় আড়াই বছর আগের দেওয়া বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে যেদিন শহীদ জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন, সেদিন বেগম জিয়া সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে তারেক জিয়া ও কোকোকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। পাক বাহিনী ভেতরে ঢুকে পড়ায় সেনাবাহিনীর বাঙালি সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে অনুমতি নিতে গিয়েছিল কী করবে- সেটি জানার জন্য। সেদিন তিনি (বেগম খালেদা জিয়া) সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘তোমরা অধিনায়কের অনুমতি ছাড়া কেউ আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি সেদিন সেনাবাহিনীকে না বলার মধ্য দিয়ে শিশু সন্তানদের নিয়ে চট্রগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে পাকবাহিনীর কাছে ধরা পড়েন। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্দী ছিলেন বেগম জিয়া। বন্দিদশায় তিনি (বেগম খালেদা জিয়া) মক্তিযুদ্ধকালীন পুরোটা সময় মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেছেন।’

মুক্তিযুদ্ধে কারারুদ্ধ ছিলেন সাড়ে ৫ মাস
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৬ মে দু’শিশু পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন বেগম খালেদা জিয়া। প্রথমে প্রয়াত বোন খুরশীদ জাহান হকের বাসায় ওঠেন। এরপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁর অবস্থান জেনে ফেললে ভূতত্ব জরিপ অধিদপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর এস কে আবদুল্লাহর সিদ্ধেশ্বরীর বাসায় থাকতে শুরু করেন। ২ জুলাই ভোরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে আটকের আগে পর্যন্ত ওই বাড়িতেই ছিলেন বেগম জিয়া। তিনি সব সময় বাড়ির অন্দরেই থাকতেন। ওই সময় খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের বর্ণনা দিয়ে প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ তাঁর রচিত ‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি’ শীর্ষক গ্রন্থে লিখেছেন- ‘১৯৭১ সালের ২ জুলাই বেগম খালেদা জিয়াকে সিদ্ধেশ্বরীর এস কে আবদুল্লার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হলো। তিনি সব সময় ভেতরেই থাকতেন এবং বাইরে বেরুতেন না। যেদিন তাকে আটক করা হয়, সেদিন খুব ভোরে বাড়ির বাগান দেখতে বেরিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।’ তিনি আরও লিখেছেন- ‘আটকের পর খালেদা জিয়া ও তার দুই শিশু সন্তানকে পুরাতন সংসদ ভবনের একটি কক্ষে রাখা হয়। এরপর সেখান থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে একটি বাড়িতে নেওয়া হয়। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সেখানেই তাকে আটকে রাখা হয়।’

বেগম জিয়ার গ্রেপ্তার সম্পর্কে আরেকটি বর্ণনা মিলেছে ১৯৯১ সালের আগস্টে প্রকাশিত দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ রচিত ‘নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া’ শীর্ষক বইয়ে। সেখানে খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান পিনোর একটি বক্তব্য রয়েছে। মায়ের গ্রেপ্তার বিষয়ে তারেক রহমানের ভাষ্য,- ‘ইঞ্জিনিয়ার চাচার বাড়িতে আমরা বেশ কিছুদিন ছিলাম। তারা আমাদের বেশ যত্ন করতেন। আম্মু ঘরের ভেতর থেকে খুব বের হতেন না। গ্রেপ্তারের দিন আম্মু ইঞ্জিনিয়ার (আবদুল্লাহ) চাচার বাড়ির বাগানটিতে হাঁটছিলেন- এমন সময় পাক আর্মির জিপ এসে বাড়ি ঘেরাও করলো। এরপর আম্মু, আমরা দু’ভাই, আবদুল্লাহ সাহেব, মজিবুর রহমানের চোখ বাঁধলো। আমরা ভয় পেয়েছিলাম। কিন্ত কাঁদিনি।’

আবদাল আহমেদ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ‘১৬ই ডিসেম্বর দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয় হয়। খালেদা জিয়া সাড়ে পাঁচ মাস ক্যান্টনমেন্টে বন্দি থাকার পর ১৬ই ডিসেম্বর সকালে মুক্তি পান। সকালে দুই ছেলেকে নিয়ে একটি জিপে করে তাকে তার চাচা শ্বশুরের পুরানা পল্টনের বাসায় নিয়ে আসা হয়।’

১৬ ডিসেম্বর বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার পর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের বিষয়ে সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ তার বইয়ে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানি আর্মি আত্মসমর্পণ করার পর খালেদা জিয়া ও দুই পুত্রকে ঢাকা থেকে বিমানে সিলেটের শমসেরনগরে নেওয়া হয়। জিয়াউর রহমানের অনুরোধে জেনারেল অরোরা সে ব্যবস্থা করেন। শমসেরনগর বিমানবন্দরে মেজর চৌধুরী খালেকুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন অলি আহমেদ তাদের রিসিভ করে স্থানীয় একটি রেস্ট হাউজে নিয়ে যান। শমসেরনগরে খুব অল্প সময় থেকে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে চলে যান খালেদা জিয়া ও তাদের দুই সন্তান।’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনসঙ্গী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের পরও একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। বিগত সরকারের সময়ে ফরমায়েশি রায়ে তাকে সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষ মুক্তি পান। তারপর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে পুরোপুরি মুক্তিলাভ করেন। নিজের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনেও সততা, মহানুভবতা, উদারতা ও আদর্শের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। গণতন্ত্র ফেরাতে তাঁর অনবদ্য সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার অনেক অজানা অধ্যায় সম্পর্কে এখন জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশপ্রেমে আপোসহীন বেগম জিয়ার জীবনচর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

কালের আলো/আরআই/ওয়াইএ/এমকে

সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি : শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি : শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মেয়াদের কার্যক্রম শুরু করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত শক্তি হলো তাঁর সুস্পষ্ট পরিকল্পনায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের আগে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ এর মাধ্যমে জাতির সামনে যে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন, সম্প্রতি ব্রিটেনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যের সূচনায় আই হ্যাভ এ প্ল্যান বলে পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বের সাথে মিলিয়ে একই ভাষায় কথা বলেছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আপন, ঢাকা’র উদ্যোগে মহাত্মা ভেগাই হালদারের আবির্ভাব ও তিরোধান উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “একটু আগে দেখলাম ব্রিটেনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলেছেন। শুনে মনে হয়েছে, পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বের যে দর্শন তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, সেই একই ভাষায় জনগণের কাছে ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়ক যখন জাতির সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন, তখন জনগণ সেই পরিকল্পনার মধ্যেই দেশের ভবিষ্যৎ দেখতে পায় এবং সেই নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখে। বাংলাদেশের মানুষও তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এ ঘোষিত রাষ্ট্রচিন্তা ও কর্মপরিকল্পনার প্রতি বিশ্বাস রেখেই তাঁকে এবং তাঁর দলকে বিপুল সমর্থন দিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হলো ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতিসত্তা ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা।

মাহাত্মা ভেগাই হালদারও অনুরূপ মানবিক মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা প্রচার করে গিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে এবং বিভাজনের রাজনীতির কোনো স্থান এখানে হবে না।

তিনি বলেন, যারা একক ধর্ম, একক সংস্কৃতি বা একদলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তারা প্রকৃতির নিয়ম, মানবতা ও সভ্যতার বিরোধী।  বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আপন, ঢাকার সভাপতি শচীন্দ্র নাথ হালদার।

কালের আলো/এম/এএইচ

কাবাডিতে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা, জাইমা রহমানের উচ্ছ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
কাবাডিতে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা, জাইমা রহমানের উচ্ছ্বাস

ঘরের মাঠে নেপাল জাতীয় নারী কাবাডি দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজটা দারুণভাবেই শুরু করল বাংলাদেশ। শুক্রবার(১৭ জুলাই) ঢাকার জাতীয় কাবাডি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৩৪-২৪ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে ১-০ তে লিড নিল স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের এই জয়ের ম্যাচে বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান।

ম্যাচের শুরু থেকেই নেপালিদের ওপর আগ্রাসী মেজাজ নিয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। কৌশলী আক্রমণ ও রক্ষণভাগে অটুট থেকে প্রথমার্ধেই ১৪-১০ পয়েন্টের লিড নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন স্বাগতিক মেয়েরা। দ্বিতীয়ার্ধে নেপাল ম্যাচে ফেরার জোর চেষ্টা চালালেও আর পেরে উঠেনি। শেষ পর্যন্ত ১০ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক শ্রাবণী মল্লিক।

ম্যাচটি বাড়তি মাত্রা পেয়েছিল প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমানের উপস্থিতিতে। ম্যাচের শুরুতে দুই দলের খেলোয়াড়দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন তিনি। এরপর ভিআইপি বক্সের গাম্ভীর্য ছাপিয়ে এক পর্যায়ে তিনি নিচে নেমে এসে সাধারণ দর্শকের মতোই দাঁড়িয়ে পুরো খেলা উপভোগ করেন।

ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেছেন তিনি। খেলা শেষে তিনি নিজেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের কাছে ডাকেন। তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং দলের সাফল্যের অংশীদার হয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সেলফি তুলতে দেখা যায় তাকে। জাইমা রহমানের এমন আন্তরিকতা খেলোয়াড়দের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

এর আগে সিরিজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, কাবাডি আমাদের জাতীয় খেলা এবং সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য আমাদের ক্রীড়া ঐতিহ্যের গর্ব। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার এই সিরিজ দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া) আমেনা বেগম, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগসহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাঠের জয় এবং গ্যালারির বাড়তি উৎসাহ সব মিলিয়ে কাবাডি স্টেডিয়ামে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। বাংলাদেশের মেয়েরা তাদের এই জয়যাত্রা পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে পারবে বলেই প্রত্যাশা দর্শকদের।

কালের আলো/এসএকে