খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশ বদলে দিতে তারুণ্যের উৎসবে নব উদ্দীপনা, নতুন বাংলাদেশ গড়ার অনুপ্রেরণা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৫, ৮:২০ অপরাহ্ণ
দেশ বদলে দিতে তারুণ্যের উৎসবে নব উদ্দীপনা, নতুন বাংলাদেশ গড়ার অনুপ্রেরণা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সেদিন এক হয়ে সাম্যের গান গেয়েছিলেন ছাত্র-জনতা। শিশু-কিশোর-তরুণ আর কতশত মানুষের আত্মত্যাগে বাস্তবিক সেই স্বপ্নের দুয়ার খুলেছে সবার সামনে। বিপিএলের হাত ধরে দেশের ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’কে শহর থেকে গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দিতে যুগান্তকারী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস’র লেখা লাইন ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ স্লোগান নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তারুণ্যের উৎসব। ক্রীড়া আর সংস্কৃতির সোপান বেয়ে তারুণ্যে এসেছে জোয়ার।

তারুণ্যের উৎসবে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, কাবাডি কিংবা অন্যান্য স্পোর্টসকে। গোটা জাতি মেতে উঠেছে নতুন উদ্দীপনায়। ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’-এই প্রত্যয় যেন আশা জাগিয়েছে শিশু-কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে সবার মাঝে। শীতের আবহে পুরো দেশের প্রান্তে প্রান্তে জড়িয়ে যাওয়ার সময়টিতে দেশের কিশোর ও তরুণ সমাজকে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকারের যুগান্তকারী এই পদক্ষেপ কার্যত যেন অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে তারুণ্যের সোচ্চার আন্দোলন হিসেবেই রূপ নিয়েছে। স্বপ্নবাজ, উদ্যমী ও অপ্রতিরোধ্য তারুণ্যকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

মাসব্যাপী এই উৎসবে তরুণদের নিয়ে কর্মশালা, স্কেটিং উৎসব, সাইকেল রেইস, গ্রামীণ খেলাধুলা, পিঠা উৎসব, রচনা, চিত্রাঙ্কন, ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট, ভলিবল টুর্নামেন্ট, ফুটবল টুর্নামেন্ট, কারাতে প্রতিযোগিতা, অবস্টেকল রেইসসহ ২৩টি ইভেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। তরুণ-যুবাদের সুকুমারবৃত্তির অনুশীলনসহ সংস্কৃতিবান ও ক্রীড়ামনষ্ক করার পাশাপাশি মাদকের ভয়ঙ্কর থাবামুক্ত করার দৃপ্ত শপথ উচ্চারিত হয়েছে কণ্ঠে কণ্ঠে।

পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে একদিকে দেশপ্রেম, মানবতাবোধ, ন্যায়পরায়ণতা, সৎ আচরণ ও সহমর্মিতাসহ মানবিক গুণাবলি, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিকাশকে করেছে জাগ্রত। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে এই উৎসবের। এসবের মাধ্যমে চিরঞ্জীব হয়ে ওঠেছে ৩৬ জুলাই এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অবিস্মরণীয় স্মৃতি। এর আগে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ এর উদ্বোধনী খামে স্বাক্ষর করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আমাদের বিভিন্ন জেলার প্রতিবেদকের পাঠানো রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ও তরুণ এবং যুব সমাজকে মাদকের থাবা থেকে বাঁচাতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ে মাসব্যাপী তারুণ্যের উৎসব উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উদ্বোধনের প্রথম দিনেই আয়োজন করা হয় মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।

ওইদিন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি মাদকবিরোধী বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে জেলা স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে বেলুন উড়িয়ে তারুণ্য উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রীতি ফুটবল খেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাবেত আলী।

মাসব্যাপী ব্যতিক্রমী এমন আয়োজনে একাত্মতা ঘোষণা করেন স্থানীয়রা। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বক্তব্য রাখেন সৈয়দপুর সেনানিবাস ২৯ বি’র  ল্যাফটেনেন্ট কর্নেল ইউসুফ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক আলী আসলাম হোসেন প্রমুখ।

দেশ গড়ার প্রত্যয় তারুণ্যের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে খাগড়াছড়িতে। বুধবার (০১ জানুয়ারি) সকালে তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও তারুণ্যের প্রতিজ্ঞা খাগড়াছড়ি পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বর ঘুরে আবার কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে পৌরসভার উদ্যোগে খাগড়াছড়ির পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। এই পরিছন্নতা অভিযান কার্যক্রম আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নাজমুন আরা সুলতানাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, তারুণ্যের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘দেশ বদলাই পৃথিবী বদলাই’। তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে। পৌরসভার প্রত্যেক এলাকায় বর্জ্য অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি এলাকাবাসীদের আমরা অনুরোধ জানাব, তারা যেন ময়লা-আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে। নিজেদেরই আবর্জনা ফেলা থেকে সচেতন হতে হবে।’ তিনি খাগড়াছড়িকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে স্থানীয়দের সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান। পরে মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) খাগড়াছড়ি জেলা সদরস্থ পৌর টাউন হল মিলনায়তনে ইয়ুথ সোশ্যাল অর্গানাইজেশন এর উদ্যোগে তারুণ্যের সম্প্রীতি সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি শাহনেওয়াজ সভাপতিত্ব করেন।

মুন্সীগঞ্জ জেলায় ও ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর সদর উপজেলায় মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) উদ্বোধন হয়েছে ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এদিন এই উৎসবের উদ্বোধন করেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত। এসময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, শেরপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মশক নিধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জলাবদ্ধতা নিরসন কর্মসূচি পালন করা হয়। শেরপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে তারুণ্যের উৎসবের এসব কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল আলম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. চাঁন মিয়াসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। শেরপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ প্রতিপাদ্যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গত বুধবার (০১ জানুয়ারি) পৃথক পৃথকভাবে চাঁদপুর, কুমিল্লার তিতাস ও সুনামগঞ্জে তারুণ্যের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষ্যে ওইদিন বিভিন্ন স্থানে র‌্যালি, সভা এবং বেলুন ও পায়রা উড়ানো হয়।

খুলনায় তারুণ্যের উৎসব শুরু হচ্ছে আগামী শুক্রবার (১০ জানুয়ারি)। খুলনা বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে এদিন অনুষ্ঠিত হবে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা, পিঠা উৎসব, অবসটেকল রেইস, স্কেটিং উৎসব, কারাতে প্রতিযোগিতা ও কারাতে শো ও ভলিবল টুর্নামেন্ট। এসব আয়োজন তারুণ্যের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে জানান দিবে। যেখান থেকে সূচনা হবে নতুন এক দিগন্তের।

কালের আলো/এমএএএমকে

ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের  ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ইউরোপে মোতায়েন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাসের একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এসব পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেন।

  • সেনা-অস্ত্র সরানোর পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপে পুনর্মোতায়নের পরিকল্পনা
  • ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
  • সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ নিরাপত্তা সম্পর্কে

বড় আকারের প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা একটি বিকল্পে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এতে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

আরও বড় পরিসরের একটি পরিকল্পনায় প্রায় ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো এখনো সম্ভাব্য বিকল্প; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে না গিয়ে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের কিছু সেনাকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সেনাসংখ্যা কমলেও পূর্ব ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
এই আলোচনা সামনে আসার সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউরোপের কয়েকটি মিত্রদেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের ইরাননীতি নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনাও করেছে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপও আলোচনায় রয়েছে।

জার্মানি ঘিরে বাড়ছে নজর
ইউরোপে সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসে জার্মানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। ইউরোপে থাকা মার্কিন সেনাদের অর্ধেকের বেশি দেশটিতে অবস্থান করছে। এরই মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির খবর এসেছে।

গত বছর রোমানিয়া থেকেও প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করার পর জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসকে অন্তত ২৫ হাজার সেনা একসঙ্গে প্রত্যাহার না করার বিষয়ে রাজি করেছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়া ও ন্যাটোর সমীকরণ
ইউরোপ থেকে বড় পরিসরে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হলে ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব পড়তে পারে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসারের মতে, এতে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে।

তবে প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সেনারা কোথা থেকে এবং কীভাবে সরানো হচ্ছে তার ওপর। পশ্চিম ইউরোপ থেকে সেনা সরিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে পাঠানো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি
সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ওয়াশিংটন দ্রুত ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলে সেনা, বিমান ও অন্যান্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারে। উপস্থিতি কমলে সেই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফলে আসন্ন সিদ্ধান্ত শুধু সেনা প্রত্যাহারের হিসাব নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপনীতি, ন্যাটোর দায়িত্ব বণ্টন এবং রাশিয়াকে ঘিরে জোটের প্রতিরোধ কৌশলে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এম/এএইচ

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে কর্মসূচির নামে দেশকে অস্থিতিশীল করা ও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার দায়ও তাদের নিতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে সংসদের ভেতরে-বাইরে কথা বলার অধিকার রয়েছে। বিরোধী দল কর্মসূচি করুক, এতে আপত্তি নেই। তবে হুমকি-ধমকি, মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের মধ্যে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চের সমালোচনা করেন রিজভী। তাঁর দাবি, যমুনা সেতুর টোল আদায়ের হিসাব অনুযায়ী ওই বহরে প্রায় ৪৫০টি গাড়ি ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশে যখন ডিজেল সরবরাহে সংকট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে, তখন এত গাড়ি নিয়ে লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের বিকল্প প্রস্তাব কী—এ প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দল ভবিষ্যতে সরকারে যেতে পারে, তাই বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তাদেরও পরিকল্পনা জানানো উচিত।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বক্তব্য

রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে শুধু সরকারের একক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, সরকার বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস ও এলএনজি আনার উদ্যোগ নিয়েছে। একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি ঠিক হওয়ায় গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাসে আগুন, বোমাবাজি নিয়েও প্রশ্ন

দেশ অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

একটি ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতের লোক বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে—এমন দাবি করে জামায়াতের আমিরের প্রতিও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের আমিরকে লংমার্চ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী

এক দফার আন্দোলনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এক দফার কথা শুনে বিএনপি গলি দিয়ে পালিয়ে যাবে না কিংবা প্রাচীর টপকে পালাবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৭ বছর ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দলটি আন্দোলন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনও দীর্ঘদিনের সেই আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

বিএনপি ক্ষমতায় আছে ক্ষমতার জোরে নয়, জনগণের শক্তির জোরে—এমন দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

সমাবেশে তিনি পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ হাজার কোটি গাছ লাগানো, হৃদরোগীদের রিংয়ের দাম কমানো এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি 

চার ক্যাটাগরিতে পুলিশ পদক পাচ্ছেন ৯২ সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
চার ক্যাটাগরিতে পুলিশ পদক পাচ্ছেন ৯২ সদস্য

সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ পদক দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে সই করেছেন উপসচিব নাসরিন সুলতানা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পদক দেওয়া হচ্ছে।

চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’।

সাহস ও বীরত্ব, দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদান, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং অন্যান্য উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পদক প্রদান করা হচ্ছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি