খুঁজুন
                               
, ,
           

দক্ষিণ সুদানে ‘বিপদের বন্ধু’ বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বৈশ্বিক শান্তি-স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নৌবাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ সুদানে ‘বিপদের বন্ধু’ বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বৈশ্বিক শান্তি-স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নৌবাহিনী প্রধান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে আফ্রিকার ভয়ঙ্কর এক দেশ দক্ষিণ সুদান। ২০১১ সালের ৯ জুলাই পূর্ব আফ্রিকার স্বাধীন দেশ হিসেবে জন্ম নেওয়া দেশটি শুরু থেকেই অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ভেঙে পড়ে অর্থনীতিও। অশান্ত দেশটিতে শান্তি ফেরাতে নিরলসভাবে কাজ করছে জাতিসংঘ। আর প্রতি মুহুর্তে চোরা বুলেট, বিদ্রোহীদের হঠাৎ হামলা কিংবা বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। মিশনটিতে অসীম সাহসিকতা আর বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। ফলত দক্ষিণ সুদানের বাসিন্দাদের ‘বিপদের বন্ধু’ হয়ে ওঠেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

শান্তি প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে মানবিক সাহায্য, রসদ, ওষুধ ও জ্বালানীসহ বিভিন্ন সামগ্রী পৌঁছে দিতে অপরিহার্য এক নাম বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফোর্স মেরিন ইউনিট। নৌবাহিনীর সদস্যরা পেশাদারি মনোভাব, কর্তব্যপরায়ণতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে স্থাপন করেছে অনন্য এক নজির। নিজ বাহিনীর সদস্যদের বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞ পরিদর্শন করতে দক্ষিণ সুদান সফর করছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। দক্ষিণ সুদান সফরকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)’-এ নিয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট’ এর সদস্যদের তিনি এই প্রতিশ্রুতির কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

নৌবাহিনী নির্ভীকচিত্তে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে জাতিসংঘেরও
২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধে যখন উত্তাল দক্ষিণ সুদান তখন জাতিসংঘের রসদবাহী নৌযানটি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে পড়ে। এরপর জাতিসংঘ বিশেষায়িত একটি বাহিনীর অনুভব করে। তারপর থেকেই নীল নদ পাড়ি দিয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী, জ্বালানি, ওষুধপত্র ও মানবিক সাহায্য বহনকারী বার্জসমূহের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে চলেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফোর্স মেরিন ইউনিট। সফলতার সঙ্গেই হাজারো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চলেছে বছরের পর বছর। একই সঙ্গে দক্ষিণ সুদানে লড়াইরত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শান্তি স্থাপন ও যোগাযোগ বাড়াতে কঠিন এবং বিপদজনক পরিস্থিতিতেও অদম্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী। যেখানে কাজ করতে ভয় উন্নত বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী। কিন্তু সেখানে কর্মদক্ষতায় স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তাঁরা। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হামলার ঝুঁকি ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে হার না মেনে তাঁরা নির্ভীকচিত্তে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে জাতিসংঘেরও।

  • নৌবাহিনী নির্ভীকচিত্তে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে জাতিসংঘেরও
  • দক্ষিণ সুদানে উজ্জ্বল ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গড়তে বিশেষ ভূমিকায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী
  • দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের জন্য বয়ে আনছে গৌরব ও সম্মান

দক্ষিণ সুদানে উজ্জ্বল ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গড়তে বিশেষ ভূমিকায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী
দক্ষিণ সুদান সফরকালে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)’-এ নিয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট’ এর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, ‘২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট এই মিশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। যা দক্ষিণ সুদানের জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরেছে।

নৌবাহিনীর সদস্যরা সুদানের প্রত্যন্ত এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী, জ্বালানী, ওষুধপত্র ও মানবিক সাহায্য বহনকারী বার্জসমূহের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা বিধান করে। সেই সঙ্গে নৌপথে জলদস্যুতা পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনির্বাপণে স্থানীয় জনগণকে সহায়তা প্রদান এবং আহত সামরিক-অসামরিক ব্যক্তিদের উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ ডুবুরি সহায়তা প্রদানের কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত মেরিন ইউনিট ছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অনেক কর্মকর্তা ও নাবিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পর্যবেক্ষক, স্টাফ অফিসার এবং কন্টিনজেন্ট সদস্য হিসেবে গর্বের সঙ্গে কাজ করছেন। শান্তি, নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা ও মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর গৃহীত কার্যক্রম দক্ষিণ সুদানের জন্য একটি উজ্জ্বল ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।’

দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের জন্য বয়ে আনছে গৌরব ও সম্মান
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন এবং অনন্য সুনাম অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন নৌবাহিনী প্রধান। এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘এরই ফলে ২০১০ সালে, লেবাননের ভূ-মধ্যসাগরে জাতিসংঘ মেরিটাইম টাস্ক ফোর্সের আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুইটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ বানৌজা সংগ্রাম লেবাননে নিয়োজিত থেকে দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনছে। নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অধীনে আরও জাহাজ এবং বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জাতিসংঘের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে এবং বিশ্ব মানবতার উন্নয়নে অবদান রাখতে নৌবাহিনী সদা সচেষ্ট।’ তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত সশস্ত্র বাহিনী এবং বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দক্ষিণ সুদানের জনগণের প্রতি শুভকামনা জানান।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এর আগে দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফোর্স মেরিন ইউনিটের একটি চৌকস দল নৌবাহিনী প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। তিনি গার্ড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। দক্ষিণ সুদানে অবস্থানকালে নৌবাহিনী প্রধান ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদানে নিয়োজিত সেক্রেটারি জেনারেল এর বিশেষ প্রতিনিধি (এসআরএসজি), সাউথ সুদানের চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্স (সিডিএফ), ফোর্স কমান্ডার এবং পরিচালক মিশন সাপোর্ট (ডিএমএস) এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া নৌবাহিনী প্রধান এই মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (ব্যানসেক) পরিদর্শন ও সেখানে কর্মরত শান্তিরক্ষী সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

‘ভলিউম’ থেকে ‘ভ্যালু’তে যেতে চায় পোশাক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
‘ভলিউম’ থেকে ‘ভ্যালু’তে যেতে চায় পোশাক খাত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি এখনো মূলত মৌলিক বা ‘বেসিক’ পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। টি-শার্ট, প্যান্ট, সোয়েটার, ইননারওয়্যার ও শিশুদের পোশাকের মতো পণ্যের রপ্তানি বেশি হলেও তুলনামূলক উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের অংশ এখনো সীমিত। ফলে বিশ্ববাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা পোশাক খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ক্যালেন্ডার বছর ২০২৫-এর পোশাক রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৩৮.৮২৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। একই সময়ে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) ইপিবি ও আইটিসির ট্রেড ম্যাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তুলনা করেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৭৬.৯৪ শতাংশই বেসিক ক্যাটাগরির পণ্য। অন্যদিকে বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে এসব পণ্যের অংশ ৬১.৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়ি বেসিক পণ্যের ওপর প্রায় ১৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি নির্ভরশীল।

প্যান্ট ও টি-শার্টে বেশি নির্ভরতা

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় অংশ বটমওয়্যারের। মোট রপ্তানির ৩৩.৬৮ শতাংশ আসে প্যান্টজাতীয় পোশাক থেকে। বিশ্ববাজারে এ ধরনের পণ্যের অংশ ২১.৬৮ শতাংশ। একইভাবে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ১৮.৬৪ শতাংশ আসে টি-শার্ট থেকে, যেখানে বিশ্ববাজারে এ হার ১০.০৯ শতাংশ।

তবে ছোট অ্যাক্সেসরিজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিপরীত। বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে এ ধরনের পণ্যের অংশ ৭.৫২ শতাংশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িতে তা মাত্র ০.৩৫ শতাংশ।

বেসিক ও উচ্চমূল্যের পণ্যের মাঝামাঝি ‘সেমি-বেসিক’ ক্যাটাগরির শার্ট ও ব্লাউজ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ১০.৩৩ শতাংশ অবদান রাখে। বিশ্ববাজারে এ হার ৭.৩৮ শতাংশ।

উচ্চমূল্যের পোশাকে বড় ব্যবধান

আউটারওয়্যার, ড্রেস, টেকনিক্যাল ওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও স্যুট—এই পাঁচ ধরনের পণ্যকে উন্নত বা ‘অ্যাডভান্সড’ ক্যাটাগরিতে ধরা হয়েছে। এসব পণ্যের সম্মিলিত অংশ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে মাত্র ৯.৩৫ শতাংশ। অথচ বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে এ ধরনের পণ্যের অংশ ৩০.৪৬ শতাংশ।

সবচেয়ে বড় ব্যবধান আউটারওয়্যারে। বিশ্ববাজারে মোট পোশাক রপ্তানির ১৩.৪৫ শতাংশ আসে এ ক্যাটাগরি থেকে। বাংলাদেশে এ হার মাত্র ৩.৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরেই বেসিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। টি-শার্ট, প্যান্ট ও সোয়েটারের মতো পণ্যে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বেশি হলেও বিশ্ববাজারের চাহিদা দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।

তার মতে, শুধু একই ধরনের পণ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে। আউটারওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার, টেকনিক্যাল ওয়্যার, ড্রেস ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পোশাকে বাংলাদেশের বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বেশি পরিমাণ পোশাক রপ্তানি নয়, বরং বেশি মূল্য সংযোজন করা। এজন্য পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি সিনথেটিক ও নন-কটন পোশাক, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, স্পোর্টসওয়্যারসহ বিশেষায়িত পণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

মহিউদ্দিন রুবেলের ভাষায়, পোশাক খাতের কৌশল এখন ‘ভলিউম’ থেকে ‘ভ্যালু’র দিকে নেওয়া প্রয়োজন। উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজারে অবস্থান শক্ত করতে পারলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও বেশি রপ্তানি আয় করা সম্ভব হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ও বিভিন্ন এইচএস-৬ পণ্যের হিসাবের মধ্যে ৩.৩৮ শতাংশ বা প্রায় ১.৩১৩ বিলিয়ন ডলারের একটি অংশের পূর্ণ মিল পাওয়া যায়নি। বিএভির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি ইপিবির দুই ও ছয় ডিজিটের হিসাবের মধ্যকার একটি ব্যবধান। বিশ্ববাজারের ক্ষেত্রে এ ব্যবধান প্রায় ০.৫৯ শতাংশ, যা মূলত রাউন্ডিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সরকারি বাসা বরাদ্দে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া বন্ধ, আবেদন অনলাইনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
সরকারি বাসা বরাদ্দে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া বন্ধ, আবেদন অনলাইনে

অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের আওতাধীন বাসা বরাদ্দের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বাসা বরাদ্দে অনিয়ম ও দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনলাইন পদ্ধতিতে সরকারি বাসার জন্য আবেদন করার কথা জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি বাসাগুলো পর্যায়ক্রমে অনলাইন ব্যবস্থায় বরাদ্দ দেওয়া হবে।

আবাসন সংকটে ভোগান্তি

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর তুলনায় সরকারি বাসার সংখ্যা খুবই কম। বর্তমানে রাজধানীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজারের কিছু বেশি। বিপরীতে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের সব শ্রেণি মিলিয়ে বাসা বরাদ্দের সক্ষমতা ১৯ হাজার ৯১টি। অর্থাৎ মোট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাত্র ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশকে সরকারি বাসা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে পরিদপ্তরের।

এই সীমিত আবাসনের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাসা পেতে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আজিমপুর, মতিঝিল ও ইস্কাটন এলাকায় চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

পরিদপ্তর সূত্র জানায়, আজিমপুর এলাকায় মাসে গড়ে ৮ থেকে ১০টি বাসা খালি হয়। অথচ এসব বাসার বিপরীতে গড়ে ৭০০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। ফলে একটি বাসা খালি হওয়ার পর তা বরাদ্দ পেতে আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।

দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি বাসার সংখ্যা কম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। বাসা বরাদ্দে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে সিন্ডিকেটটি বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের আরও অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের পথে না গেলে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত বাসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

২০২০ সালেই তৈরি হয়েছিল অনলাইন সক্ষমতা

সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২০ সালেই অনলাইন বা ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় বাসা বরাদ্দ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছিল। তবে নানা চাপ ও অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে এতদিন এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইন পদ্ধতি চালু হলে আবেদন, যাচাই ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে। একই সঙ্গে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুযোগ কমে আসবে এবং দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যও কমবে বলে তারা আশা করছেন।

গ্রেডভিত্তিক বাসা বরাদ্দ

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অধীনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন গ্রেড অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির বাসা রয়েছে। এর মধ্যে সচিব ভবনে গ্রেড-১ ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ১১৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

গ্রেড-৩ তথা যুগ্ম সচিব ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য সুপিরিয়র শ্রেণিতে রয়েছে ৫৫৪টি বাসা। গ্রেড-৫ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য এফ শ্রেণিতে ১ হাজার ৪৭৭টি, গ্রেড-৬ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ই-শ্রেণিতে ১ হাজার ৪৭০টি বাসা রয়েছে।

এ ছাড়া ৭, ৮ ও ৯ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ডি-১ শ্রেণিতে ২ হাজার ৩৮২টি, ১০, ১১ ও ১২ গ্রেডের জন্য ডি-২ শ্রেণিতে ৪ হাজার ৪৭০টি এবং ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৭ হাজার ২৩২টি বাসা রয়েছে। এর বাইরে অস্থায়ী (পূর্ণ ও নির্ধারিত ভাড়া) এবং অস্থায়ী (একক আসন) শ্রেণির কিছু বাসাও রয়েছে।

অনলাইন পদ্ধতিতে সরকারি বাসা বরাদ্দের এ উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের প্রত্যাশা, নতুন ব্যবস্থায় বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি এরদোগানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি এরদোগানের

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিয়ে আবারও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ব্যাপক স্বীকৃতির আহ্বান জানিয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

এ সময় তিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখার মূল দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগও করেছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের প্রভাবশালী নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।

নিরাপত্তা পরিষদকে আরও বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় রূপান্তর করার জন্য বহু বছর ধরেই জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন এরদোগান।

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের এটি মেনে নেওয়া উচিত, ১৯০টিরও বেশি দেশের সার্বিক ইচ্ছাকে মাত্র ৫টি দেশের খেয়ালখুশির ওপর জিম্মি করে রাখার যে ব্যবস্থা, তা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না। এই ব্যবস্থা বিশ্বের মানুষের পূর্ণ আস্থা অর্জনেও পুরোপুরি ব্যর্থ।

এরদোয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল লক্ষ্য নিয়ে ৮১ বছর আগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সংস্থাটি সেই মিশন বা উদ্দেশ্য পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। সংস্থাটিকে কার্যত অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে।

গাজায় চলমান সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের কঠোর সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, যাদের হৃদয়ে বিন্দুমাত্র মনুষ্যত্ব, সমবেদনা ও দয়া রয়েছে এবং যাদের সামান্যতম ন্যায়বিচার ও বিবেকের বোধ রয়েছে, তাদের পক্ষে সেখানে যা ঘটছে তার প্রতি চোখ বন্ধ রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

ফিলিস্তিনি নেতাদের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের বাধার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস পর পর দুই বছর ধরে সাধারণ পরিষদের এই হলে নিজের নির্ধারিত আসনে বসতে পারেননি।

আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের ওপর চালানো এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবিচার পুরো বিশ্ববিবেককে গভীরভাবে আঘাত করে।

যেসব দেশ এখন পর্যন্ত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, সেগুলোকে অবিলম্বে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানান এরদোগান।

একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক আটক শিবির’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট।

ন্যাটো সদস্য দেশ তুরস্ক গাজায় হামলা ও আগ্রাসনের জন্য শুরু থেকেই ইসরায়েলের অন্যতম সমালোচক হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

আঙ্কারার অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান স্পষ্টতই গণহত্যার শামিল।

দেশটি বারবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে আসছে। যদিও গণহত্যার সব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে বর্বর  ইসরায়েল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ