খুঁজুন
                               
, ,
           

খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তনে ফুটো গুজবের ফানুস, প্রমাণিত রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ নেই সেনাবাহিনীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ মে, ২০২৫, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তনে ফুটো গুজবের ফানুস, প্রমাণিত রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ নেই সেনাবাহিনীর

কালের আলো রিপোর্ট:

ছয় বছর পর কারামুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যখন চার মাস আগে চিকিৎসার জন্য বিদেশ গেলেন তখন থেকেই ফের ‘মাইনাস টু’ নিয়ে চর্চা শুরু হয় দেশ-বিদেশে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করেন। ফরমায়েশি মামলা থেকে কারামুক্ত হন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপসহীন লড়াকু নেত্রী বেগম জিয়া। নিজের কারামুক্তির প্রায় ৫ মাস পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি গত ৮ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যে যান। ঠিক ৬ দিন আগে অসুস্থ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে সহধর্মিণী বেগম সারাহনাজ কামালিকা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার (০২ জানুয়ারি) সরাসরি তাঁর বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সাবেক কোন প্রধানমন্ত্রীর বাসায় একজন রানিং সেনাপ্রধানের আগমনের এই ঘটনা ছিল দেশের ইতিহাসে প্রথম।

রাজনীতিতে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হওয়া এই বিষয়টিকে অনেকেই ‘বিরল ঘটনা’ ও ‘এই সময়ের জন্য ইতিবাচক’ বলেও মন্তব্য করেন। খালেদার বিদেশ যাত্রার মধ্যে দিয়ে পাঁচ দশক পর বাংলাদেশে একই সময় দুই দলের দু’শীর্ষ নেত্রীর অনুপস্থিতি দেখা যায়। ওয়ান ইলেভেনে মঈন-মাসুদ-ফখরুদ্দিন সরকার দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে ‘মাইনাস’ করার ষড়যন্ত্র করেও সফল হতে পারেননি। এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও সেই ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ প্রয়োগের আশঙ্কায় কথার তুবড়ি ছুটতে থাকে। জনতার রোষে টিকতে না পেরে শেখ হাসিনা যেহেতু আগেই দেশ ছাড়েন আবার বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম জিয়াও চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন; ফলত অনুমানে দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানোর বয়ান দিতে থাকেন গুটিকয়েক রাজনীতিক থেকে শুরু করে ইউটিউবাররাও। অর্থাৎ, রাজনীতি থেকে খালেদা জিয়ার চিরবিদায়। সহজ ভাষায় বললে, খালেদাকে রাজনীতি থেকেই বাদ! কেউ আবার মাত্রা বাড়িয়ে বলেন, খালেদা জিয়া নিজেই আর ফিরে আসবেন না।

আর এই প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নকারী হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতায় মাঠে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়েও নানান গুজব-গুঞ্জন ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন কল্পকাহিনী ফাঁদার এজেন্ডা বাস্তবায়নে কসরত চালাতে দৈত্যের ভূমিকায় মহৎ কর্ম নৈপুণ্য প্রদর্শনে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েন কেউ কেউ। তির্যক বাক্যে আক্রমণ বা দুষ্কীর্তির আস্ফালন বাদ যায়নি কিছুই। আদতে ‘মাইনাস টু’ বা ‘মাইনাস খালেদা’ যে ওই শ্রেণিটির উর্বর মস্তিষ্কের বালখিল্যতার নামান্তর ছিল তাঁর প্রমাণ মেলে গত মঙ্গলবার (০৬ মে) সব গুজব, সন্দেহ-সংশয় আর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিমির হননের রাজনীতিক, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার মধ্যে দিয়ে। ভুল প্রমাণিত হয় নেতিবাচক সব পূর্বাভাস, অপপ্রচার। লক্ষ জনতার জোয়ারে ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন এই ‘আদর্শের বাতিঘর’। ‘রাজনীতির হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’ বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশের মাটি স্পর্শ করেন তখন তাকে একনজর দেখতে লাখ লাখ জনতা রাজপথে নানা স্লোগানে ঢাকাকে করে তুলেন মুখর। আরও কী দেখা গেলো অবিস্মরণীয়, অভাবনীয় ও অনির্বচনীয় আনন্দের দিনটিতে? সেনাবাহিনী নজিরবিহীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করলো। বিএনপি’র চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজার নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। এতে ফুটো হলো গুজবের ফানুস। কিন্তু এতোদিন ‘মাইনাস খালেদা জিয়া’ বুলি নিয়ে যে নির্লজ্জ মিথ্যাচার চললো এখন তাঁর কী জবাব দেবেন বানোয়াট কুতর্কে লম্ফঝম্ফকারী কুশীলবরা?

গণতন্ত্রচর্চার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল বা নেতাদের অপরিহার্য ভূমিকা আর অত্যাবশ্যকতা সর্বজনবিদিত। দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও বহুমাত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা এবং দলীয় কর্মকাণ্ড নাগরিক জীবনকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চালিকাশক্তি হচ্ছে রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক ক্ষমতার মূল হাতিয়ার তাঁরাই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও এই নীতিতে বিশ্বাস করেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া সাক্ষাতকারেও তিনি সর্বজনীন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে অঙ্গীকারের বার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘সেনাপ্রধান হিসেবে নিজের মেয়াদকালে আমি রাজনীতিতে নাক গলাব না। আমি সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে হস্তক্ষেপ করতে দেব না। এটাই আমার স্পষ্ট অঙ্গীকার।’ দেশের সঙ্কটময় এই মুহুর্তে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলকে পৃষ্ঠপোষকতা দেননি। রাজনীতিকদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার মতো অগণতান্ত্রিক কোন আচরণ করেননি। বরং বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন-‘রাজনীতিবিদের বিকল্প রাজনীতিবিদেরাই। তাদের বিকল্প সেনাবাহিনী নয়।’ তিনি মনেপ্রাণে যেটি বিশ্বাস করেন সেটিই অবলীলায় উচ্চারণ করেছেন।

দেশের ও জনগণের স্বার্থই তাঁর কাছে মূল উপজীব্য বলেই গত বছরের ৫ আগস্টেও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সেনাপ্রধান ছাত্র-জনতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর ‘নো ফায়ার’ নির্দেশনা পাল্টে দেয় সামগ্রিক পরিস্থিতি। একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে অগ্রসর হয় দেশ। একইভাবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে চললেও কোথাও হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অবশ্যম্ভাবী সমস্যা তৈরি করেননি। সব সময়ই তিনি বলে এসেছেন-‘আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে সহায়তা করছি। তারা আমাদের কাছ থেকে যে ধরনের সহায়তা চাইছে, সেভাবেই সহায়তা দিচ্ছি এবং দেব। যে দিন অন্তর্বর্তী সরকার বলবে, ‘আপনাদের অনেক ধন্যবাদ, আপনারা আপনাদের কাজটা সম্পন্ন করেছেন, এখন পুলিশ আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব নেবে।’ আমরা তখন সানন্দে সেনানিবাসে ফিরে যাব।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারেও তিনি তাগিদ দিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকেই তিনি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়েছিলেন। সেই অবস্থান থেকে এক বিন্দুও নড়েননি। অন্তর্বর্তী সরকারও চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী বছরের জুনের মধ্যে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগোচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা আলোচনায় এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতি ও পেশাদার সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর দুটি আলাদা জগত হওয়ার কথা। নব্বইয়ের পর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও সেনাবাহিনী তৎকালীন সরকারকে সমর্থন করেনি। আবার নিজেরাও ক্ষমতা গ্রহণ করেননি বা ক্ষমতায় ভাগ বসাননি। তবে ওয়ান ইলেভেনের অধ্যায়টিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুরু থেকেই এসব বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশ ছিল সরকারবিহীন। এই তিন দিন আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছে সেনাবাহিনীকে। এখনও ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতায় দেশের জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার প্রতিটি দায়িত্ব সূচারূভাবে পালন করে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কারও প্রতি চড়াও না হয়ে ধৈর্য্যরে সঙ্গেই সব কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। কোথাও বাক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করেনি। ঘটেনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও। দীর্ঘ সময় সেনাবাহিনী মাঠে থাকার বিষয়টিকে অবশ্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানও। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলার দেখভাল করছি। কিন্তু আমাদের ১/১১-এর অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়। সেনাসদস্যদের মাঠে দীর্ঘদিনের উপস্থিতি উচ্ছৃঙ্খল কাজে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করে। যদিও সংখ্যাটা খুবই কম। শৃঙ্খলাজনিত ঘটনার জন্য আমরা সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শেষে শাস্তিও দিই। এরপরও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর। আমাদের তো এ ধরনের কাজে যুক্ততা কিংবা রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার জন্য তৈরি করা হয়নি।’ জেনারেল ওয়াকার নিজের প্রতিটি সুচিন্তিত পদক্ষেপ, বুদ্ধি-বোধে, মর্মে-কর্মে প্রমাণ করেছেন এক এগারো’র সময়কার সেনাবাহিনী ও তাঁর সময়কার সেনাবাহিনী এক নয় মোটেও।

চব্বিশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশে বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কারে সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। টেকসই সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, সুশাসন ও সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড.মুহাম্মদ ইউনূস এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। গণতন্ত্রের নতুন যাত্রায় সরকারকে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকায় রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রের উৎকর্ষতা ও সঙ্কটময় সময়ে সেনাবাহিনীর এই নিয়ামক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা বিশ্বাস করেন- গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হলো জনগণ। জনগণই রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থার প্রকৃত মালিক এবং তাদের ইচ্ছা, মতামত ও অংশগ্রহণই শাসনব্যবস্থার বৈধতা নির্ধারণ করে। এটি কেবল একটি তত্ত্ব নয়, বরং একক কর্তৃত্ববাদের থেকে সর্বজনীন ব্যবস্থার রূপান্তর।

এক্ষেত্রে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের চিন্তার দৃঢ়তা ও ইনসাফ অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যার একটি অত্যুজ্জ্বল উদাহরণ ছিল গত বছরের ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিমন্ত্রণ ও তাঁর হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি। দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রীয় এই অনুষ্ঠানে বেগম জিয়া উপস্থিত হলে সেনাকুঞ্জে তাকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। নতুন ইতিহাসের যাত্রাপথে এ নিয়ে গর্বিত উচ্চারণ ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস এর কণ্ঠেও। তিনি সেদিন বলেছিলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখানে এসেছেন। একযুগ তিনি আসার সুযোগ পাননি। আমরা গর্বিত এই সুযোগ দিতে পেরে।’

সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠান শেষে বেগম জিয়া বাসায় ফেরার পর সেখানে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সেনাকুঞ্জে যাওয়ার এই ঘটনা গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে ‘ইতিবাচক ভূমিকা’ রাখবে।’ ওই সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই, বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে- সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীর যারা প্রধান আছেন তাদেরকে, যারা অধিকর্তা আছেন তাদেরকে। ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে- আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য।’

কালের আলো/এমএএএমকে

অবরোধের জেরে সাজেক বন্ধ, পর্যটকদের জন্য সময় বেঁধে দিল প্রশাসন

রাঙামাটি সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ পূর্বাহ্ণ
অবরোধের জেরে সাজেক বন্ধ, পর্যটকদের জন্য সময় বেঁধে দিল প্রশাসন

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় রাঙামাটির  জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ সাজেক
জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। বর্তমানে পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিরাপদে গন্তব্যে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের এই নির্দেশের ফলে সাজেকে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকদের আপাতত সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পর্যটনকেন্দ্রটি পুনরায় চালুর বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকতে হবে।

সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা
এদিকে বুধবার বিকেলে সাজেক সড়কে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। সংগঠন দুটি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বুধবারের মধ্যেই পর্যটকদের সাজেক ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

জরুরি যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত
সংগঠন দুটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। তবে অবরোধের সময় জরুরি ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন এবং সংবাদপত্র বহনকারী যান চলাচলের ক্ষেত্রে ছাড় থাকবে। সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সাংবাদিকদের গাড়িও অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। সাজেক সড়কে নতুন করে অবরোধের ঘোষণার পরই পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধের সিদ্ধান্ত জানাল প্রশাসন। ফলে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ভোটার তালিকায় মৃত ঘোষণা, অথচ প্রতিবছর ভোট দিচ্ছেন তিনি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
ভোটার তালিকায় মৃত ঘোষণা, অথচ প্রতিবছর ভোট দিচ্ছেন তিনি!

ভারতের ভোটার তালিকায় মৃত হিসেবে নাম উঠেছে ৫৩ বছর বয়সী কামতা প্রসাদের। অথচ তিনি বেঁচে আছেন, নিয়মিত কাজ করছেন এবং বছরের পর বছর ভোটও দিয়েছেন। জীবিত থাকা সত্ত্বেও সরকারি নথিতে মৃত হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এবার নিজের অস্তিত্ব ও ভোটাধিকার প্রমাণ করতে সরকারি দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে দিল্লির এই দর্জিকে।

ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রম ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে কামতা প্রসাদের ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রক্রিয়া নিয়ে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তার এই ভোগান্তির কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে দিল্লিতেই বাদ পড়েছেন প্রায় ৪২ লাখ ভোটার।

নাম ও পরিচয়ে ভুল, তালিকায় মৃত কামতা
কামতা প্রসাদের নাম ভোটার তালিকায় ‘কান্তা প্রসাদ’ হিসেবে লেখা হয়েছে। নতুন তালিকায় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের ভোটার হওয়া সত্ত্বেও নিজের পরিচয় সংশোধন এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে পেতে তাকে প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। একজন জীবিত নাগরিককে সরকারি নথিতে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করার ঘটনা ভোটার তালিকা সংশোধনের নির্ভুলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নামের ভুল, তথ্য যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতা কিংবা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনো ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লে তাকে নিজের পরিচয় প্রমাণের জন্য দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।

১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়ে বিতর্ক
ভারতে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। দিল্লিতেও বাদ পড়েছেন প্রায় ৪২ লাখ ভোটার। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ায় প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিজেপি নির্বাচনে সুবিধা পেতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষ
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বিশেষভাবে সামনে এসেছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব, ঠিকানা যাচাই এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেকের পক্ষে নিজেদের ভোটার পরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কার পাশাপাশি সরকারি রেশন ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের সামর্থ্য সীমিত, তাদের জন্য সরকারি দপ্তরে বারবার যাতায়াত করা বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

নাম ফেরানোর সুযোগ থাকলেও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ভোগান্তি
বিতর্কের মধ্যে বাদ পড়া ভোটারদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে, তারা আবেদন করে নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে আবেদন, নথিপত্র সংগ্রহ এবং পরিচয় যাচাইয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনেকের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কামতা প্রসাদের ঘটনাও সেই বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। জীবিত একজন নাগরিককে নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে, অথচ তার ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত হওয়ার কথা ছিল নির্ভুল সরকারি নথির মাধ্যমেই।

ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন
কামতা প্রসাদের ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তির নাম ভুলভাবে নথিভুক্ত হওয়ার বিষয় নয়। এটি ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষার প্রশ্ন সামনে এনেছে।নির্বাচন পরিচালনার জন্য ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম ভুলবশত বাদ পড়লে তার দায় ও ভোগান্তি শেষ পর্যন্ত সাধারণ নাগরিককেই বহন করতে হয়। তাই তালিকা সংশোধনের পাশাপাশি বাদ পড়া ভোটারদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কামতা প্রসাদের মতো কেউ যেন জীবিত থেকেও সরকারি নথিতে মৃত হয়ে না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় নির্ভুলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

লাল সিঁদুরে রাঙা মুখ, বিদায়ের অশ্রু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
লাল সিঁদুরে রাঙা মুখ, বিদায়ের অশ্রু

ঢাকের বোল, শঙ্খের ধ্বনি আর উলুধ্বনিতে চারপাশ মুখর। কারও মুখ সিঁদুরে রাঙা, কারও চোখে বিদায়ের অশ্রু। আনন্দ আর বিষাদের এমন মায়াবী মেলবন্ধনের মধ্য দিয়েই বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা। পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা, উৎসব আর মিলনমেলার পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।

দেবীকে শেষবারের মতো প্রণাম জানাতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভিড় করেন ভক্তরা। দশমীর আনুষ্ঠানিকতা, দেবীবরণ ও সিঁদুর খেলা ঘিরে মণ্ডপগুলোতে ছিল উৎসবের আমেজ। তবে বিদায়ের মুহূর্ত ঘনিয়ে আসতেই আনন্দের আড়ালে অনুভূত হয় বিচ্ছেদের বেদনা।

  • ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বুড়িগঙ্গার ঘাট—দেবীবরণ
  • সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনে শেষ শারদীয় দুর্গোৎসব
  • দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়ে আগামী বছরের অপেক্ষায় ভক্তরা

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিশেষ পূজা ও অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তরা ধূপ, দীপ, বেলপাতা ও নানা পূজাসামগ্রী দিয়ে দেবীর চরণে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন করেন। প্রার্থনায় উঠে আসে পরিবার-পরিজনের মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য, দেশ ও জাতির শান্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রত্যাশা।

সিঁদুরে রাঙা উৎসব, চোখে বিদায়ের জল
পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন হয় দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জন। এরপর শুরু হয় দেবীবরণ ও ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা। বিবাহিত নারীরা দেবী দুর্গার কপাল ও চরণে সিঁদুর ছুঁইয়ে প্রণাম করেন। পান ও মিষ্টি নিবেদনের মধ্য দিয়ে জানান বিদায়ী শ্রদ্ধা।

পরে একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন তাঁরা। কারও মুখে হাসি, কারও চোখে জল—লাল সিঁদুরে রাঙা মন্দির প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আবেগের এক অনন্য দৃশ্যপট। উৎসবের শেষ দিনের এই আচার ঘিরে নারীদের মধ্যে দেখা যায় আন্তরিকতা, শুভকামনা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির প্রকাশ। ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি তাপস কুমার পাল জানান, দশমীর পূজা ও অঞ্জলি শেষে নিয়ম অনুযায়ী দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে শাস্ত্রীয় পূজার সমাপ্তি হয়। এরপর ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুকুরে ঘট বিসর্জন দেওয়া হয় এবং সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় সিঁদুর খেলা।

তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সপ্তমীতে চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে প্রতিমায় দেবীর উপস্থিতি আহ্বান করা হয়। আর দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে। সিঁদুর খেলা বিজয়া দশমীর একটি ঐতিহ্যবাহী আচার, যার সঙ্গে স্বামীর দীর্ঘায়ু ও পরিবারের কল্যাণ কামনার বিশ্বাস জড়িয়ে আছে।

ঢাকের তালে শোভাযাত্রা, গন্তব্য ওয়াইজঘাট
মন্দিরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে শুরু হয় বিজয়া শোভাযাত্রা। ঢাকের বাদ্য আর ভক্তদের জয়ধ্বনিতে মুখর শোভাযাত্রা বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটের দিকে এগিয়ে যায়।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় অংশ নেন অসংখ্য ভক্ত। নদীঘাটে পৌঁছে ধর্মীয় আচার মেনে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। জলে প্রতিমা বিলীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আয়োজন। বিসর্জনের সময় অনেক ভক্তকে দেবীর উদ্দেশে প্রণাম জানাতে এবং আগামী বছর আবার ফিরে আসার প্রার্থনা করতে দেখা যায়। তাঁদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা কৈলাসে ফিরে গেলেও তাঁর আশীর্বাদ ও কল্যাণের প্রত্যাশা থেকে যায় মানুষের মনে।

রাজধানীতে ২৫৮ মণ্ডপে দুর্গোৎসব
সনাতন পঞ্জিকা ও উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাজধানীতে ২৫৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ঢাকার নির্ধারিত ১১টি ঘাটে ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পাঁচ দিনের এই উৎসবকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপে পূজা, অঞ্জলি, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সেই ব্যস্ততা ও আনন্দের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।

বিদায়ের সুরে আগামী বছরের প্রতীক্ষা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসে, দুর্গাপূজা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। দেবী দুর্গার আগমন মানুষের মনে জাগায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, কল্যাণ ও ন্যায়ের প্রত্যাশা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মণ্ডপের আলো নিভলেও ভক্তদের মনে রয়ে যায় উৎসবের স্মৃতি। সিঁদুরের রং মুছে যাবে, ঢাকের আওয়াজ থেমে যাবে, কিন্তু দেবীকে ঘিরে প্রার্থনা ও বিশ্বাস থেকে যাবে অটুট। তাই বিজয়া দশমী শুধু বিদায়ের দিন নয়, এটি আবার ফিরে পাওয়ার আশারও দিন। বিষাদমাখা কণ্ঠে ভক্তদের প্রার্থনা—আগামী বছর আবার এসো মা, শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে।

কালের আলো/জেএন/এমকে