খুঁজুন
                               
, ,
           

কদমবুসি সংস্কৃতিকে ‘না’, সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির চর্চা তারেক রহমানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
কদমবুসি সংস্কৃতিকে ‘না’, সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির চর্চা তারেক রহমানের

কালের আলো রিপোর্ট:

দেশের রাজনীতি থেকে সৌহার্দ্য সম্প্রীতি উবে গিয়েছিল। আদর্শ নীতি-নৈতিকতার বদলে ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ ও কাদা ছোড়ার রাজনীতির প্র্যাকটিস চালু করেছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু ১৭ বছরের যুক্তরাজ্যের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেই বিভিন্ন মত-পথের নেতাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির চর্চার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিভাজন আর হিংসা ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার। দেশে ফিরে কোটি জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মানুষের স্বার্থে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিলেন। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্যে দিয়ে দেশের মাটিতে নতুন বছরের যাত্রা শুরু করেন।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হিংসা ও বিদ্বেষ পরিহার করে তিনি সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এক সময়ের মিত্র থেকে রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে পাশাপাশি বসেছেন। মা তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে আসা জামায়াত আমিরকে নিজের পাশে বসিয়ে কথা বলেন। একজন দলীয় প্রধান হিসেবে নিজেকে কেন্দ্রস্থলে রাখার পরিবর্তে সমমর্যাদার পরিবেশ তৈরির এই আচরণ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একইভাবে, যে ডাকসু ছাত্র নেতারা তার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মিছিল করেছে, তাদের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের ঐক্যমত অটুট থাকতে হবে।’ দেশের স্বার্থে তিনি তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানিয়েছেন।

ডাকসু নেতাদের সঙ্গে এই সাক্ষাৎকালে তারেক রহমানের আচরণে রাজনৈতিক বদান্যতা ফুটে উঠেছে, যার প্রশংসা করেছেন বিশ্লেষকরা। একইভাবে, দেশের প্রথম সারির গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক আমার দেশের মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতকেও সবাই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এই সাক্ষাৎ তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও সংযমের প্রমাণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশে ফেরার একদিন পর যখন তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাচ্ছিলেন তখনও তিনি লাল-সবুজের বুলেটপ্রুফ বাসের ভেতরে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের কাছে হাতের ইশারায় দোয়া চেয়েছেন। সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ে দলটির দু’জন নেতা তাকে পা ছুঁয়ে সালাম করার জন্য এগিয়ে এলে তিনি হাত দিয়ে তাদের সরিয়ে দেন। বিষয়টিকে অনেকেই তোষামোদের রাজনীতির বিরুদ্ধে তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই অভিহিত করেছেন। ভাইরাল ভিডিও চিত্রে উভয় জায়গায় তারেক রহমানকে বেশ বিব্রত দেখা গেছে। পদরেণুপ্রার্থীদের হাত তাঁর পায়ে পৌঁছানোর আগেই তিনি পা সরিয়ে নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তারেক রহমান কদমবুসি সংস্কৃতিকে ‘না’ জানিয়ে দিয়েছেন।

তারেক রহমান ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কোন অহংবোধ তাকে স্পর্শ করেনি। মায়ের অন্তিম বিদায়ের দিনে কোটি মানুষের অংশগ্রহণের জানাজায় তিনি কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি। কাউকে দোষারোপ বা কারো প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করে কোন বক্তব্য রাখেননি। দেশ-বিদেশের কোটি কোটি মানুষ তাঁর এই বিনয়াবনত কণ্ঠকে পছন্দ করেছেন। দলের প্রতিটি অনুষ্ঠানে তিনি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যদেরও যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে মর্যাদা দিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশানের দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতারা আসেন তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। তিনি কার্যালয়ের নির্দিষ্ট সেই কক্ষে প্রবেশ করেই সবাইকে সালাম জানিয়ে হ্যান্ডশেক করে নিজের আসনে গিয়ে বসেন। তাঁর দু’পাশেই বসেছিলেন দলটির সিনিয়র নেতারা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতাদের কণ্ঠে বিনিয়োগ স্থবিরতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ ও হতাশার কথাই উঠে আসে। তারেক রহমান তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাঁদের সব সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দেশে আসার পাঁচদিনের মাথায় মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিরদিনের জন্য হারিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমান। মা হারানো শোকাহত সন্তানকে সান্ত্বনা দিতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আসছেন তাকে সমবেদনা জানাতে। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) তারেক রহমানকে সমবেদনা জানাতে আসা একজন বয়স্ক নারীর পরম মমতায় মাতৃস্নেহে তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেই বয়োবৃদ্ধ নারী বিএনপির প্রয়াত সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের সহধর্মিণী মাহমুদা সালাম। এমন একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন দৈনিক দিনকালের ফটো সাংবাদিক বাবুল তালুকদার। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ফেসবুকে শেয়ার করছেন।

পোস্টে বাবুল তালুকদার গুলশান কার্যালয়ের এমন ব্যতিক্রমী ঘটনার ছোট্ট বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন-‘সালাম তালুকদারের স্ত্রী তারেক রহমানকে বলেন, বাবা, আমি তোমাকে দোয়া করতে এসেছি, কিন্তু আমি তোমাকে কীভাবে ডাকবো?’ পরে প্রয়াত মহাসচিবের স্ত্রী বলেন, ‘তাহলে বাবা আমি তোমাকে আমি তুমি করেই বলছি।’ তারেক রহমান বললেন, ‘জি, আপনি বলেন।’ সালাম তালুকদার স্ত্রী তখন বলেন, ‘বাবা আমি তোমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিতে চাই।’ এমন আগ্রহের কথা শুনে তারেক রহমান বলেন, ‘নিশ্চয়ই!’ তারপর পরম মমতায় মা হারানো শোকাহত ছেলের মাথায় মাতৃস্নেহে হাত বুলিয়ে দিলেন মাহমুদা সালাম। বাবুল তালুকদার জানান, সোমবার বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী আবদুস সালাম তালুকদারের সহধর্মিণী মিসেস মাহমুদা সালাম গুলশান কার্যালয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোক বইতে স্বাক্ষর করেন। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মো. শামসুজ্জামান মেহেদী, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের একমাত্র কন্যা সালিমা তালুকদার আরুণী, জামাতা এম হাসান উপস্থিত ছিলেন।

আরও একটি ব্যস্ত দিন অতিবাহিত
দেশে ফেরার ৫ দিনের মাথায় মাকে হারিয়েছেন। বিমর্ষ ও শোকাহত তারেক রহমানকেই দেখেছেন সবাই। কিন্তু শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে প্রতিনিয়ত সময় দল ও দেশের জন্য ব্যয় করছেন। আগের দিনগুলোর মতো মঙ্গলবারও (০৬ জানুয়ারি) আরও একটি ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন তিনি। এদিন সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ও বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন অংশগ্রহণ করেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে ভোটযুদ্ধে অংশ নিবেন। তাঁরই প্রস্তুতি হিসেবে আগামী সপ্তাহে তিনি বগুড়া যাচ্ছেন। ভোটের প্রস্তুতি জোরদারে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভা করেন তিনি। এই সভা শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। ঢাকা-১৭ আসনের চারটি থানার মধ্যে তিনি মতবিনিময় করেন বনানী থানার নেতাকর্মীদের সঙ্গে। সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরসহ থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে নাছির উদ্দিন নাছির জানান, নির্বাচন নিয়ে এটি ছিল ধারাবাহিক বৈঠকেরই অংশ। তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে ভোটারদের কী কী সমস্যা আছে, তা চিহ্নিত করে সেই বিষয়ে ভোটারদের অঙ্গীকার দেবেন বলে জানান। আগামী সপ্তাহে তারেক রহমান রাজশাহী ও কক্সবাজার সফর করবেন। রাজশাহীতে শহীদ আবু সাঈদ ও কক্সবাজারে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

দেশের ৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:২১ পূর্বাহ্ণ
দেশের ৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় দেশের ৯টি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর (পুনঃ) সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে গতকাল রাতে প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসেও আজ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান

জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সুবিধার প্রসার এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য কর্মসূচি এবং অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’। এই প্রতিপাদ্যে হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করে সচেতনতা সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

একইসঙ্গে হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভয় ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রতিরোধ, পরীক্ষা এবং চিকিৎসা সবার জন্য সহজলভ্য করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, হেপাটাইটিস বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি-এর কারণে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন।

অথচ সময়মতো টিকাদান, পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবাপ্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা দূর করা এখন সময়ের দাবি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা-সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে দেশে উন্নত লিভার চিকিৎসার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন কমে।

একইসঙ্গে লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে রোগীর স্বাস্থ্য-তথ্য সংরক্ষণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ধারাবাহিক চিকিৎসা এবং সরকারি সহায়তা প্রদান আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ ব্যবস্থাও এতে আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য একটি আধুনিক, মানবিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ (প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম)-এই নীতিতে জনস্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

পাশাপাশি বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট, লিভার চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আরও সফল হব এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

২০২৫ সালে ৭৫৬ নারী খুন, নিরাপদ নয় শিশু থেকে বৃদ্ধাও: মহিলা পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
২০২৫ সালে ৭৫৬ নারী খুন, নিরাপদ নয় শিশু থেকে বৃদ্ধাও: মহিলা পরিষদ

হত্যা, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, আত্মহত্যা, যৌন হয়রানি, যৌতুক ও বাল্যবিয়ে- নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার প্রায় সব ধরনের ঘটনাই উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে দেশে। ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৫৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী।

অন্যদিকে দলবদ্ধ ধর্ষণ (১৪২), আত্মহত্যা (২০৩) এবং ধর্ষণের চেষ্টার (১১৭) ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী কন্যাশিশুরা।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বিচারহীনতা ও সামাজিক দায়মুক্তির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব নারী, কেউই এখন সহিংসতার ঝুঁকির বাইরে নন।

সোমবার (২৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মডারেটর ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

আরও পড়ুন

শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করতে আইন করছে ফ্রান্স

সমীক্ষার তথ্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। তিনি জানান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনার ভিত্তিতে এ সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৫৬ জন, যা অন্যান্য সহিংসতার তুলনায় সর্বোচ্চ। এছাড়া ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৭৬ জন এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১২৫ জন।

অন্যদিকে কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আত্মহত্যা ও ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায়। সমীক্ষায় দেখা যায়, দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৪২ জন, আত্মহত্যা করেছেন ২০৩ জন এবং ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে ১১৭ জন কন্যাশিশু।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শৈশবে যৌন সহিংসতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়ছে।

পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গৃহিণীরা হত্যার ৫৮ শতাংশ, আত্মহত্যার ৬৩ শতাংশ এবং যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতার ৯৪ শতাংশ ঘটনার শিকার। অন্যদিকে শিক্ষার্থী কন্যাশিশুরা ধর্ষণের চেষ্টার ৮০ শতাংশ, আত্মহত্যার ৬৭ শতাংশ, দলবদ্ধ ধর্ষণের ৩৯ শতাংশ এবং বাল্যবিবাহের শতভাগ ঘটনার ভুক্তভোগী।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, শুধু জনসমাগমস্থল নয়, বাড়ি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নারী ও কন্যাশিশুর জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, তদন্তে বিলম্ব, সাক্ষ্য-প্রমাণের দুর্বলতা এবং ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার সামাজিক প্রবণতা অপরাধীদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সমীক্ষার ফলাফল দেশের নারী নিরাপত্তার এক গভীর সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সহিংসতার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে নারীর কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ছয় বছরের কন্যাশিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব গৃহিণী পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে ছয় থেকে নয় বছর বয়সী শিশুকন্যাদের ধর্ষণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি হওয়া আমাদের সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, এ তথ্যই প্রমাণ করে, ধর্ষণের জন্য কখনোই ভুক্তভোগী দায়ী নয়। দায়ী অপরাধী এবং সেই সামাজিক মানসিকতা, যা অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার ঘটনাও বাড়ছে। ফলে নারী শুধু যৌন সহিংসতার শিকারই হচ্ছেন না, তার জীবনও ক্রমশ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এটি কেবল নারীর সমস্যা নয়; বরং সমাজের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্ন।

গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু ঘটনা প্রকাশ নয়, সহিংসতার সামাজিক ও কাঠামোগত কারণও তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশে সংবেদনশীলতা বজায় রেখে অপরাধীদের পরিচয় ও দায় সামনে আনারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ধর্ষণ, হত্যা ও এ ধরনের সহিংসতা ফৌজদারি অপরাধ। তাই এসব ঘটনায় স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে আপসের চেষ্টা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার হতে হবে আদালতে। অন্যথায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি