খুঁজুন
                               
, ,
           

কদমবুসি সংস্কৃতিকে ‘না’, সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির চর্চা তারেক রহমানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
কদমবুসি সংস্কৃতিকে ‘না’, সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির চর্চা তারেক রহমানের

কালের আলো রিপোর্ট:

দেশের রাজনীতি থেকে সৌহার্দ্য সম্প্রীতি উবে গিয়েছিল। আদর্শ নীতি-নৈতিকতার বদলে ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ ও কাদা ছোড়ার রাজনীতির প্র্যাকটিস চালু করেছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু ১৭ বছরের যুক্তরাজ্যের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেই বিভিন্ন মত-পথের নেতাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির চর্চার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিভাজন আর হিংসা ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার। দেশে ফিরে কোটি জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মানুষের স্বার্থে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিলেন। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্যে দিয়ে দেশের মাটিতে নতুন বছরের যাত্রা শুরু করেন।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হিংসা ও বিদ্বেষ পরিহার করে তিনি সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এক সময়ের মিত্র থেকে রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে পাশাপাশি বসেছেন। মা তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে আসা জামায়াত আমিরকে নিজের পাশে বসিয়ে কথা বলেন। একজন দলীয় প্রধান হিসেবে নিজেকে কেন্দ্রস্থলে রাখার পরিবর্তে সমমর্যাদার পরিবেশ তৈরির এই আচরণ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একইভাবে, যে ডাকসু ছাত্র নেতারা তার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মিছিল করেছে, তাদের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের ঐক্যমত অটুট থাকতে হবে।’ দেশের স্বার্থে তিনি তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানিয়েছেন।

ডাকসু নেতাদের সঙ্গে এই সাক্ষাৎকালে তারেক রহমানের আচরণে রাজনৈতিক বদান্যতা ফুটে উঠেছে, যার প্রশংসা করেছেন বিশ্লেষকরা। একইভাবে, দেশের প্রথম সারির গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক আমার দেশের মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতকেও সবাই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এই সাক্ষাৎ তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও সংযমের প্রমাণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশে ফেরার একদিন পর যখন তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাচ্ছিলেন তখনও তিনি লাল-সবুজের বুলেটপ্রুফ বাসের ভেতরে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের কাছে হাতের ইশারায় দোয়া চেয়েছেন। সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ে দলটির দু’জন নেতা তাকে পা ছুঁয়ে সালাম করার জন্য এগিয়ে এলে তিনি হাত দিয়ে তাদের সরিয়ে দেন। বিষয়টিকে অনেকেই তোষামোদের রাজনীতির বিরুদ্ধে তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই অভিহিত করেছেন। ভাইরাল ভিডিও চিত্রে উভয় জায়গায় তারেক রহমানকে বেশ বিব্রত দেখা গেছে। পদরেণুপ্রার্থীদের হাত তাঁর পায়ে পৌঁছানোর আগেই তিনি পা সরিয়ে নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তারেক রহমান কদমবুসি সংস্কৃতিকে ‘না’ জানিয়ে দিয়েছেন।

তারেক রহমান ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কোন অহংবোধ তাকে স্পর্শ করেনি। মায়ের অন্তিম বিদায়ের দিনে কোটি মানুষের অংশগ্রহণের জানাজায় তিনি কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি। কাউকে দোষারোপ বা কারো প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করে কোন বক্তব্য রাখেননি। দেশ-বিদেশের কোটি কোটি মানুষ তাঁর এই বিনয়াবনত কণ্ঠকে পছন্দ করেছেন। দলের প্রতিটি অনুষ্ঠানে তিনি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যদেরও যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে মর্যাদা দিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশানের দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতারা আসেন তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। তিনি কার্যালয়ের নির্দিষ্ট সেই কক্ষে প্রবেশ করেই সবাইকে সালাম জানিয়ে হ্যান্ডশেক করে নিজের আসনে গিয়ে বসেন। তাঁর দু’পাশেই বসেছিলেন দলটির সিনিয়র নেতারা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতাদের কণ্ঠে বিনিয়োগ স্থবিরতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ ও হতাশার কথাই উঠে আসে। তারেক রহমান তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাঁদের সব সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দেশে আসার পাঁচদিনের মাথায় মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিরদিনের জন্য হারিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমান। মা হারানো শোকাহত সন্তানকে সান্ত্বনা দিতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আসছেন তাকে সমবেদনা জানাতে। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) তারেক রহমানকে সমবেদনা জানাতে আসা একজন বয়স্ক নারীর পরম মমতায় মাতৃস্নেহে তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেই বয়োবৃদ্ধ নারী বিএনপির প্রয়াত সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের সহধর্মিণী মাহমুদা সালাম। এমন একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন দৈনিক দিনকালের ফটো সাংবাদিক বাবুল তালুকদার। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ফেসবুকে শেয়ার করছেন।

পোস্টে বাবুল তালুকদার গুলশান কার্যালয়ের এমন ব্যতিক্রমী ঘটনার ছোট্ট বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন-‘সালাম তালুকদারের স্ত্রী তারেক রহমানকে বলেন, বাবা, আমি তোমাকে দোয়া করতে এসেছি, কিন্তু আমি তোমাকে কীভাবে ডাকবো?’ পরে প্রয়াত মহাসচিবের স্ত্রী বলেন, ‘তাহলে বাবা আমি তোমাকে আমি তুমি করেই বলছি।’ তারেক রহমান বললেন, ‘জি, আপনি বলেন।’ সালাম তালুকদার স্ত্রী তখন বলেন, ‘বাবা আমি তোমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিতে চাই।’ এমন আগ্রহের কথা শুনে তারেক রহমান বলেন, ‘নিশ্চয়ই!’ তারপর পরম মমতায় মা হারানো শোকাহত ছেলের মাথায় মাতৃস্নেহে হাত বুলিয়ে দিলেন মাহমুদা সালাম। বাবুল তালুকদার জানান, সোমবার বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী আবদুস সালাম তালুকদারের সহধর্মিণী মিসেস মাহমুদা সালাম গুলশান কার্যালয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোক বইতে স্বাক্ষর করেন। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মো. শামসুজ্জামান মেহেদী, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের একমাত্র কন্যা সালিমা তালুকদার আরুণী, জামাতা এম হাসান উপস্থিত ছিলেন।

আরও একটি ব্যস্ত দিন অতিবাহিত
দেশে ফেরার ৫ দিনের মাথায় মাকে হারিয়েছেন। বিমর্ষ ও শোকাহত তারেক রহমানকেই দেখেছেন সবাই। কিন্তু শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে প্রতিনিয়ত সময় দল ও দেশের জন্য ব্যয় করছেন। আগের দিনগুলোর মতো মঙ্গলবারও (০৬ জানুয়ারি) আরও একটি ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন তিনি। এদিন সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ও বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন অংশগ্রহণ করেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে ভোটযুদ্ধে অংশ নিবেন। তাঁরই প্রস্তুতি হিসেবে আগামী সপ্তাহে তিনি বগুড়া যাচ্ছেন। ভোটের প্রস্তুতি জোরদারে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভা করেন তিনি। এই সভা শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। ঢাকা-১৭ আসনের চারটি থানার মধ্যে তিনি মতবিনিময় করেন বনানী থানার নেতাকর্মীদের সঙ্গে। সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরসহ থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে নাছির উদ্দিন নাছির জানান, নির্বাচন নিয়ে এটি ছিল ধারাবাহিক বৈঠকেরই অংশ। তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে ভোটারদের কী কী সমস্যা আছে, তা চিহ্নিত করে সেই বিষয়ে ভোটারদের অঙ্গীকার দেবেন বলে জানান। আগামী সপ্তাহে তারেক রহমান রাজশাহী ও কক্সবাজার সফর করবেন। রাজশাহীতে শহীদ আবু সাঈদ ও কক্সবাজারে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

সালমানের মতো নয়, নিজের স্টাইলেই ‘বিগ বস বাংলা’ সঞ্চালনা করবেন সৌরভ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
সালমানের মতো নয়, নিজের স্টাইলেই ‘বিগ বস বাংলা’ সঞ্চালনা করবেন সৌরভ

‘বিগ বস বাংলা’র নতুন মৌসুমে সঞ্চালকের দায়িত্ব নিয়ে টেলিভিশনে নতুন ভূমিকায় হাজির হয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলি। দীর্ঘদিন ধরে হিন্দি ‘বিগ বস’ সঞ্চালনা করে আসছেন বলিউড তারকা সালমান খান। তাই বাংলা সংস্করণের সঞ্চালনায় সৌরভ সালমান খানের সঞ্চালনার ধরন অনুসরণ করবেন কি না, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ছিল কৌতূহল।

তবে সেই কৌতূহলের উত্তর নিজেই দিয়েছেন সৌরভ। স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সালমানের স্টাইল অনুসরণ করে নয়, নিজের স্বাভাবিক ধরন ও ব্যক্তিত্ব দিয়েই ‘বিগ বস বাংলা’ সঞ্চালনা করবেন তিনি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সৌরভ বলেন, তার নিজস্ব ধরন রয়েছে এবং তিনি অন্যদের থেকে আলাদা। সালমান খানের সঙ্গে তার তুলনা করাটাও তাই ঠিক হবে না বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, সালমান যেভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, তিনি সেভাবে একই কাজ করতে পারবেন না। কারণ দুজনের ব্যক্তিত্ব ও কাজের ধরন আলাদা। সালমান নিজের মতো করে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, আর সৌরভও নিজের ধরনেই তা করবেন।

সৌরভ আরও জানান, বিভিন্ন ভাষায় ‘বিগ বস’-এর সঞ্চালকদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। প্রত্যেক সঞ্চালকের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ও কথা বলার ধরন রয়েছে। সেই নিজস্বতাকেই কাজে লাগিয়ে তিনি নতুন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতে চান।

সালমানের সঙ্গে একবারই দেখা

সালমান খানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পরিচয়ের বিষয়েও কথা বলেছেন সৌরভ। তিনি জানান, জীবনে মাত্র একবার সালমানের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে তাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। ‘বিগ বস’-এর সেটে সালমানের সঙ্গে তার দেখা না হলেও টেলিভিশনে সালমানকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করতে দেখেছেন তিনি।

তবে এবার সেই একই ফরম্যাটের বাংলা সংস্করণে নিজের মতো করে কথা বলা এবং প্রতিযোগীদের সঙ্গে স্বতন্ত্র ভঙ্গিতে আচরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে সৌরভের। ক্রিকেটের মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার পর এবার টেলিভিশনের রিয়েলিটি শোতে সঞ্চালকের ভূমিকায় তার এই নতুন যাত্রা তাই দর্শকদের মধ্যেও তৈরি করেছে বাড়তি আগ্রহ।

‘দাদাগিরি’র পর নতুন চ্যালেঞ্জ

সৌরভ গাঙ্গুলির জন্য সঞ্চালনার কাজ অবশ্য একেবারে নতুন নয়। এর আগে প্রায় ১০ বছর ধরে ‘দাদাগিরি আনলিমিটেড’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় একই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সেটির সঙ্গে তার একটি স্বাভাবিক অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছিল।

তাই নতুন কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লেগেছিল বলে জানান সৌরভ। সুযোগ পেলেই মাঝেমধ্যে ‘বিগ বস’ দেখতেন তিনি। একসময় তার মনে হয়, এবার কাজের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার সময় এসেছে। সেই জায়গা থেকেই ‘বিগ বস বাংলা’কে নতুন কিছু করার সুযোগ হিসেবে দেখেন তিনি।

ক্রিকেটের কারণে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের সঙ্গেও তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক।

‘উইকেন্ড কা ভার’ নয়, ‘দাদার দরবার’

‘বিগ বস বাংলা’র সাপ্তাহিক বিশেষ পর্বের নামও রাখা হয়েছে সৌরভকে কেন্দ্র করে। হিন্দি সংস্করণের জনপ্রিয় ‘উইকেন্ড কা ভার’-এর পরিবর্তে বাংলা সংস্করণে সাপ্তাহিক বিশেষ পর্বের নাম দেওয়া হয়েছে ‘দাদার দরবার’।

গত ৩০ আগস্ট শুরু হয়েছে ‘বিগ বস বাংলা’র তৃতীয় মৌসুম। প্রথম মৌসুমে সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন প্রবীণ অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। দ্বিতীয় মৌসুমে এই দায়িত্ব পালন করেন জিতেন্দ্র মাদনানি। এবার তৃতীয় মৌসুমে সঞ্চালকের আসনে সৌরভ গাঙ্গুলি।

ফলে ক্রিকেটের মাঠের ‘দাদা’ এবার রিয়েলিটি শোর মঞ্চে কতটা নিজের আলাদা সঞ্চালনা-ধারা তৈরি করতে পারেন, সেটিই এখন দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম বিষয়।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/এসএ

‘মায়ের শরীর নিয়ে মন্তব্য নয়, সন্তানের ভালো থাকা নিয়ে কথা বলুন’: পরিণীতি

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
‘মায়ের শরীর নিয়ে মন্তব্য নয়, সন্তানের ভালো থাকা নিয়ে কথা বলুন’: পরিণীতি

সন্তান জন্মের পর নারীর শারীরিক গঠন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ও কটূক্তি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এবার সরব হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। নতুন মায়েদের শরীর নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি বলেছেন, মাতৃত্বের কারণে একজন নারীর শরীরে যে পরিবর্তন আসে, সেগুলোকে নেতিবাচকভাবে দেখার কোনো কারণ নেই।

পরিণীতির মতে, একজন নারী প্রায় নয় মাস সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন। এই দীর্ঘ সময়ে শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন আসা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। সন্তান জন্মের পর শরীরে দাগ, স্ট্রেচ মার্ক কিংবা ওজন বেড়ে গেলে সেগুলোকে লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখার পরিবর্তে মাতৃত্বের চিহ্ন হিসেবে দেখা উচিত।

অভিনেত্রী বলেন, একজন নারী তার শরীরের মধ্য দিয়ে একটি নতুন প্রাণকে পৃথিবীতে নিয়ে আসেন। তাই সেই শরীরের পরিবর্তনকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা কোনোভাবেই ঠিক নয়। বরং সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টিই সবার আগে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

পরিণীতি বলেন, কোনো গর্ভবতী নারীকে দেখলে তার ওজন কিংবা শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করার বদলে তার সন্তান এবং তার ভালো থাকা নিয়ে কথা বলা উচিত। একজন নারী মা হওয়ার পর তার শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সেটি নিয়ে আলোচনা বা কটূক্তি করা কোনোভাবেই প্রয়োজনীয় নয়।

নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করে যারা অন্যের সময় ও মানসিক শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেন, তাদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিণীতি। তার মতে, মা হওয়ার পর ওজন বৃদ্ধি, স্ট্রেচ মার্ক কিংবা শরীরের অন্যান্য পরিবর্তন খুবই স্বাভাবিক বিষয়। অথচ এসব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়—যা তার কাছে অত্যন্ত অদ্ভুত বলে মনে হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্যে গুরুত্ব দেন না

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে হওয়া নানা আলোচনা নিয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন পরিণীতি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে কী ধরনের আলোচনা চলছে, তা তিনি খুব একটা অনুসরণ করেন না। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি খুব কম সময় কাটান।

ফলে নেটিজেনরা তাকে নিয়ে কী লিখছেন, সেসব সম্পর্কে অনেক সময় জানতেই পারেন না বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। কখনো কোনো মন্তব্য বা আলোচনা তার চোখে পড়লেও সেটিকে নিজের ওপর প্রভাব ফেলতে দেন না তিনি।

পরিণীতির কাছে জীবনের অগ্রাধিকার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার জীবন, পরিবার এবং কাছের মানুষদের নিয়েই তার মূল মনোযোগ। অপরিচিত মানুষের মতামত নিয়ে ভাবার মতো সময় তার নেই বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক কী বলা হচ্ছে, তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে নিজের জীবন ও পরিবারের দিকেই মনোযোগ দিতে চান পরিণীতি। একইভাবে নতুন মায়েদের ক্ষেত্রেও সামাজিক মন্তব্যের বদলে তাদের মাতৃত্ব ও সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

কালের আলো/এসএ

‘আমার চোখে সবাই সেরা, আরেকজন আমি’-অপু বিশ্বাস

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
‘আমার চোখে সবাই সেরা, আরেকজন আমি’-অপু বিশ্বাস

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত সিনেমাটির বড় একটি অংশের শুটিং হয়েছে নেপালে। তবে সিনেমাটির বাকি কাজ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, সিনেমাটির নায়ক মর্তুজা পলাশ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

‘শিকার’ সিনেমায় অপু বিশ্বাস ও মর্তুজা পলাশের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, সুমন আনোয়ার, পশ্চিমবঙ্গের কৌতুক অভিনেতা খরাজ মুখার্জি, শক্তিমান অভিনেতা রজতাভ দত্ত ও শ্যাম ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে।

এদিকে অভিনয়ের পাশাপাশি সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের পছন্দের নায়ক-নায়িকাদের তালিকা নিয়ে কথা বলেছেন অপু বিশ্বাস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশের অনেক জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাই তার চোখে ঢালিউডের সেরা নায়ক ও নায়িকা কারা—এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।

জবাবে অপু বিশ্বাস প্রথমেই বলেন, ‘আমার চোখে সবাই সেরা।’ এরপর নায়িকাদের প্রসঙ্গ উঠলে কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর নাম উল্লেখ করেন তিনি। তার তালিকায় রয়েছেন মৌসুমী, পূর্ণিমা, শাবনূর ও পপি।

তবে এখানেই শেষ নয়। উপস্থাপিকা যখন উল্লেখ করেন যে চারজনের নাম হয়ে গেছে, তখন হাসতে হাসতে নিজের নামটিও সেই তালিকায় যোগ করেন অপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘আরেকজন আমি।’ নিজের নাম বলেই হেসে ওঠেন অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকারের এই মুহূর্তটি বেশ হাস্যরসের জন্ম দেয়।

নায়কদের তালিকায় পাঁচজন

নায়িকাদের পর অপু বিশ্বাসের কাছে জানতে চাওয়া হয় তার পছন্দের নায়কদের নাম। এবার তিনি পাঁচজনের নাম উল্লেখ করেন। তার তালিকায় রয়েছেন রিয়াজ, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিব খান ও শাকিল খান।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে এসব অভিনেতার অনেকের সঙ্গেই পর্দা ভাগ করেছেন অপু বিশ্বাস। ফলে তার পছন্দের তালিকায় ঢালিউডের একাধিক পরিচিত ও জনপ্রিয় তারকার নাম থাকাটা নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

তবে অপু বিশ্বাসের এই তালিকাকে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘সেরা’ নির্বাচন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের জায়গা থেকেই নায়ক-নায়িকাদের নাম উল্লেখ করেছেন। আর নিজের নাম তালিকায় যোগ করে হাস্যরসের যে মুহূর্ত তৈরি করেছেন, সেটিই সাক্ষাৎকারের অন্যতম আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ