খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের ভূমিকা ঐতিহাসিক। বিরল সম্মানের পাশাপাশি খ্যাতিরও শীর্ষে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশের প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান। তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার আগেই জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে শীর্ষে। এবার রাজনীতিতে অভিষেক ঘটছে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তারেক রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তাঁর মাঝে সবাই দেখছেন দাদি বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি।

রাজনীতিতে তাঁর অভিসিক্ত হওয়ার আলোচনার পালে নতুন করে হাওয়া লেগেছে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) ‘ঢাকা ফোরাম’ আয়োজিত ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তাঁর বক্তব্য প্রদানের মধ্যে দিয়ে। গত ২৫ ডিসেম্বর বাবার সঙ্গে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর এটিই জনপরিসরে বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এটি তাঁর প্রথম বক্তব্য। এই বক্তব্যে রীতিমতো মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন তারেক রহমানের এই উত্তরসূরী। জনসংখ্যার অর্ধেক অংশকে পেছনে রেখে বাংলাদেশ বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, ‘নিজের ছোট্ট জায়গা থেকেও দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা আমাদের সবার থাকা উচিত।’

অনেক দিন যাবতই গুঞ্জন চলছে রাজনীতিতে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এই আলোচনা আরও জোরালো হয়। অবশ্য বাবা তারেক রহমানের সঙ্গে বা তার প্রতিনিধি হয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান এই আলোচনার জন্ম দিয়েছে আরও আগেই। গত বছর বাবার প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়েছিলেন জাইমা রহমান। বিশ্লেষকরা বলছেন, তার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার প্রথম ইঙ্গিত পাওয়া যায় ওই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। তার এই অংশগ্রহণকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণও বলেও উল্লেখ করেছেন তারা। এরপর প্রবাসী ভোট নিয়ে বিএনপির এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার নাতনি। সর্বশেষ দাদি, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শোক জানাতে আসা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বাবার সঙ্গে ছিলেন জাইমা রহমান। এসব কারণেই অনেকে বলছেন, পারিবারিক ঐতিহ্য আর ধারাবাহিকতার জন্য জাইমা রহমানের রাজনীতিতে আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

দাদি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকাহত পরিবারের পাশে ছায়াসঙ্গীর মতো দাঁড়িয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় জাইমা রহমানকে। জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের এই প্রতিনিধিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে অদম্য কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাবার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী হিসেবে জাইমাকে বারবার দেখা যাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন আরও প্রবল হয়।

জাইমা রহমানের জন্ম ২৬ অক্টোবর ১৯৯৫। তিনি ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল হোসেন রোডের বাসভবনে বেড়ে ওঠেন। ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। এরপর ২০০৮ সালে বাবা-মায়ের সঙ্গে লন্ডন যান। সেখানে বিখ্যাত কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৯ সালে লন্ডনের ঐতিহাসিক লিংকনস ইন থেকে তিনি ‘বার অ্যাট ল’ সনদ লাভ করেন এবং একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পান।

গত ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফেরার দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাশে থাকার কথা জানান। পাশাপাশি বাবা তারেক রহমানকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথা বলেন। পোস্টে উঠে আসে দাদির সঙ্গে কাটানো শৈশবের স্মৃতি, প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা এবং দেশের সেবায় নিজেকে যুক্ত করার প্রত্যয়। নিজের ফেসবুক পোস্টে তার দাদিকে নিয়ে লিখছেন। তার অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন পোস্টে। করেন নিজের স্মৃতিচারণ। জাইমা রহমান লেখেন, অনেক বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির অনন্য সংমিশ্রণ। ইনশাআল্লাহ, দেশে ফিরে দাদির পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। তিনি লেখেন, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে বাংলাদেশকে নতুন করে দেখতে চাই।

এদিকে খালেদা জিয়া মারা যাওয়ার পরদিন সকালে তার লাশ গুলশানের বাসভবনে নিয়ে আসা হলে সেখানে বসে কোরআন তিলাওয়াত করেন তারেক রহমান। অন্য স্বজনরা মোনাজাত করেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে এ সময় শোকাহত বাবার ঠিক পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় জাইমা রহমানকে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলছেন। জাইমার চোখে-মুখেও তখন দাদিকে হারানোর গভীর বেদনা স্পষ্ট। এরপর গুলশান থেকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার জন্য মরদেহ নেওয়া হয়। পরে তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ বাসে জানাজাস্থলে যান। জাইমা রহমানসহ পরিবারের নারী সদস্যরা নির্ধারিত স্থানে জানাজা আদায় করেন। জানাজা ও দাফনে জিয়া পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি, মেয়ে জাহিয়া ও জাফিয়া রহমানসহ স্বজনরা। দাফন শেষে তারা দোয়া করে বিদায় নেন।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) ‘ঢাকা ফোরাম’ আয়োজিত ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বলেন, ‘আজ আমরা এখানে যারা উপস্থিত হয়েছি, আমাদের সবার আদর্শ, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। তা সত্ত্বেও আমরা একসঙ্গে বসেছি এবং আলোচনা করছি। কারণ আমরা সবাই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ভাবছি। এই ভিন্নতা নিয়ে একসঙ্গে কথা বলা এবং একে অপরের কথা শোনাÑএটাই গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য।’

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তারেক-কন্যা বলেন, ‘ভিন্ন এক অনুভূতি ও আবেগ নিয়ে আজ এখানে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশের কোনও পলিসি লেভেলে এটিই আমার প্রথম বক্তব্য। আমি এমন কেউ নই, যার কাছে সব প্রশ্নের উত্তর আছে বা সব সমস্যার সমাধান জানা আছে।’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১০ টাকা নিয়ে বিরোধে চাচিকে হত্যায় ভাতিজা গ্রেফতার

মময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
১০ টাকা নিয়ে বিরোধে চাচিকে হত্যায় ভাতিজা গ্রেফতার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় মাত্র ১০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে চাচিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভাতিজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ৭নং বাকতা ইউনিয়নের কৈয়ারচালা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আয়েশা (৪৮) একই গ্রামের বাসিন্দা ও তারা মিয়ার স্ত্রী। অভিযুক্ত তৌহিদ (১৯) নিহতের আপন ভাতিজা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাওনা ১০ টাকা নিয়ে চাচি-ভাতিজার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা উত্তেজনায় রূপ নেয়। এ সময় তৌহিদ তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আয়েশার বুকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পালানোর সময় ফুলবাড়িয়া বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন।

পুলিশ জানায়, আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালের আলো/এম/এএইচ

বিমানবন্দর থেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আটক

নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
বিমানবন্দর থেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আটক

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লায়ন স্বপনকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর তাকে আটক করা হয়। আটক লায়ন স্বপন চাটখিল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফতেহপুর গ্রামের মৃত আবুল কালাম আজাদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই লায়ন স্বপন কিছুদিন পলাতক ছিলেন। এরপর তিনি সৌদি আরবে তার দুই ভাইয়ের কাছে চলে যান। দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান করার পর মঙ্গলবার বিকেলে দেশে ফেরার পর শাহজালাল বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে।

স্বপনের বিরুদ্ধে চাটখিল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলাও রয়েছে।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিকেলের দিকে বিমানবন্দর পুলিশ স্বপনকে আটক করার পর চাটখিল থানাকে অবহিত করে। এরপর চাটখিল থানা পুলিশ তাকে গ্রহণ করতে ঢাকা রওনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চাটখিল থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিমানবন্দর থানার পুলিশ চাটখিল থানার কাছে হস্তান্তর করবে। তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নববর্ষ আমাদের জাতীয় চেতনা, ঐতিহ্য ও ঐক্যের প্রতীক: প্রিন্স

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
নববর্ষ আমাদের জাতীয় চেতনা, ঐতিহ্য ও ঐক্যের প্রতীক: প্রিন্স

বাংলা নববর্ষের সাংস্কৃতিক, সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, এই উৎসব আমাদের জাতীয় চেতনা, ঐতিহ্য ও ঐক্যের প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ জনপদের প্রাণের এই উৎসব মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। এই দিনে আমরা পুরনো সকল গ্লানি, দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনার পথে যাত্রা শুরু করি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা সদরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বর্ষবরণ উদযাপন কমিটি হালুয়াঘাটের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রিন্স।

তিনি বলেন, আজকের এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, এটি আমাদের জন্য একটি অঙ্গীকারের দিনও বটে। আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমাদের সমাজে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।

প্রিন্স বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি— অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক অস্থিরতা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় আমাদের সমাজকেও প্রভাবিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদেরকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তভাবে ধারণ করতে হবে। বিএনপি নেতা তার বক্তব্যে সমসাময়িক জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক আজ টাঙ্গাইলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করে প্রিন্স বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারের বয়স দুই মাস যেতে না যেতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বে জাতির কাছে প্রদত্ত অঙ্গীকার একের পর এক বাস্তবায়ন করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন এবং গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য জামায়াত- এনসিপির নেতৃত্বে কয়েকটি দল অহেতুক উস্কানিমূলক ও অসত্য বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে। এসময় একাত্তর ও বিএনপি নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন প্রিন্স।

তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নয়, জমায়াত ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ। জামায়াত ছাড়া একাত্তরের চেতনা দেশের সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের মাঝে বিদ্যমান। বিএনপি সেই চেতনাকে ধারণ করে।

প্রিন্স বলেন, জামায়তের মধ্যে সেই চেতনা নেই বলে তারা বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। জামায়াতের রাজনীতি একাত্তরের চেতনা ও আবেগের বিরোধী। এজন্য একাত্তরের প্রসঙ্গ এলেই তারা নার্ভাস হয়ে পড়ে। তাদের মুখে একাত্তর শোভা পায় না।

তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে এবং সেই চেতনা থেকেই গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেয়।

প্রিন্স তার বক্তব্যে বিএনপিকে আন্দোলনের সুবিধাভোগী উল্লেখ করে এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলামের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন। বলেন, বিএনপি কোনো আন্দোলনের সুবিধাভোগী নয়, বরং দেশের সকল গণঅভ্যুত্থান ও আন্দোলনের রূপকার এবং নেতৃত্বদানকারী শক্তি।

তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত ও এনসিপির জোটের নেতারা অসংলগ্ন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। অন্তর্র্বতী সরকারের সময় নির্বাচন বিলম্বিত করে দীর্ঘমেয়াদী অনির্বাচিত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে পরিকল্পনা তারা করেছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে তা ব্যর্থ হওয়ায় এখন তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।

প্রিন্স বলেন, জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক সরকার এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে লড়াই তারেক রহমান শুরু করেছেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। কিন্তু এ ধরনের অপচেষ্টা জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।

অনুষ্ঠানে লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন পরিবেশনা ও নাটক মঞ্চস্থ হয়। সেখানে আরও বক্তব্য দেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, নাট্যকার আব্দুস সামাদ, লোকজ শিল্পী হাবিবুর রহমান, বিএনপি নেতা আবদুল জলিল ও যুবদল নেতা তারিকুল ইসলাম চঞ্চল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ