খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

ভ্যানচালক, গৃহিণী ও শিক্ষার্থীকে মঞ্চে ডেকে কথা শুনলেন তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
ভ্যানচালক, গৃহিণী ও শিক্ষার্থীকে মঞ্চে ডেকে কথা শুনলেন তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

সিলেট নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের মনোভাব বুঝতে তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা শুরু করেছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক প্রচারের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে নিজ আসন ঢাকা-১৭-তে ভ্যানচালক, গৃহিণী ও শিক্ষার্থীকে মঞ্চে ডেকে তাদের সমস্যার কথা শুনেছেন তিনি। তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন মাইক। মঞ্চে নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চেয়ারে বসাচ্ছেন। বক্তৃতার মঞ্চে রাজনৈতিক নেতারা চিরকাল বক্তব্য রেখে, নরম-গরম কথা বলে সমাবেশের দাঁড়ি টানলেও ভিন্ন পথ অবলম্বন করছেন দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী। প্রথাগত সাধারণ সমাবেশ তো বটেই নির্বাচনী সমাবেশেও এমন দৃশ্য আর কখনও দেখেনি জনসাধারণ। ভোট রাজনীতিতেও নতুন ধারার সূচনা করলেন।

একজন পরিণত রাজনীতিক তারেক রহমান যেভাবে প্রতিনিয়ত নিজেকে উপস্থাপন করছেন হাল রাজনীতিতে তাঁর দ্বিতীয় কোন নজির নেই। জনসমাগম থেকে বাড়ির ড্রয়িং রুম, স্কুল-কলেজ থেকে অফিসপাড়া, চায়ের স্টল-সর্বত্রই তারেক রহমানের রাজনৈতিক স্টাইল নিয়ে আলোচনা। এমন একজন রাজনৈতিক নেতাকেই সম্ভবত প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ। ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-উক্তিতে মানুষকে স্বপ্ন দেখানো তারেক রহমানও শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর ভাষানটেকের বিআরবি ময়দানে নির্বাচনী জনসভা করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তাসহ সামগ্রিক উন্নয়নের। সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এসময় উপস্থিত সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে তিনি বলেন, ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমস্যাগুলো জেনে তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি আপনাদেরই সন্তান। এই এলাকায় বড় হয়েছি। তাই এই এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট, প্রত্যাশা ও সমস্যার দায় আমি নিতেই চাই। সুযোগ পেলে ইনশাআল্লাহ এসব সমস্যার সমাধান করব।’ এর আগে এই জনসভায় অংশ নিতে দুপুরের পর থেকেই ভাষানটেক ও আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপির হাজারো সমর্থক বিআরবি ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা করতালি ও স্লোগানে তাঁকে স্বাগত জানান। মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করার আগে দর্শকসারিতে থাকা কয়েকজনকে কাছে ডাকেন তারেক রহমান। তাঁদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শোনার মধ্য দিয়ে তিনি এলাকার সমস্যা সম্পর্কে ভোটারদের কাছ থেকেই জানতে চান। বক্তব্যের সময় তারেক রহমান ডেকে ডেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মঞ্চে নিয়ে চেয়ারে বসান। পরে ভ্যানচালক জুয়েলকে ডেকে মাইক তুলে দিয়ে নাম, পরিচয়, কতদিন ঢাকায় থাকেন, বাড়ি কোথায়, কী কাজ করেন এবং এই এলাকার সমস্যা সম্পর্কে জানতে চান। বলেন, আমিও এই এলাকার ভোটার। বলেন আপনাদের কী সমস্যা? বিএনপি ক্ষমতায় এলে কী করতে হবে আপনাদের জন্য?

মাইক হাতে নিয়ে কথা বলতে শুরুতে কিছুটা দ্বিধাবোধ করলেও পিঠ চাপড়ে ভ্যানচালক জুয়েল মিয়াকে অভয় দেন তারেক রহমান। পরে তিনি বলেন, আমরা এখানে বস্তিতে থাকি। আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তখন তারেক রহমান সমাবেশে থাকা অন্যদের কাছে জানতে ভ্যান চালকের দাবির সঙ্গে তারাও একমত কি না। পরে সবাই সমস্বরে হ্যাঁ বলে জবাব দেন। এরপর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের পাশেই ক্যান্টনমেন্ট এলাকা-সুশৃঙ্খল ও সুন্দর। কিন্তু ভাষানটেক খুব অনুন্নত। আমরা চাই, এই এলাকার উন্নয়ন হোক।’ লিলি নামের এক বস্তিবাসী নারী বলেন, ‘আমাদের কিছুই নাই। পুনর্বাসন চাই, ফ্যামিলি কার্ড চাই।’ শান্তা নামের আরেকজন বলেন, নারীদের কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ নেই।’

সমস্যা ও প্রত্যাশাগুলো শুনে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা যেসব সমস্যার কথা বলেছেনÑপুনর্বাসন, ফ্যামিলি কার্ড, কর্মসংস্থান-ইনশাআল্লাহ, বিএনপি সরকার গঠন করলে এগুলো আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করব।’ অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এবার দেশের প্রতিটি খাতকে পুনর্গঠন করতে হবে। সে দায়িত্ব জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই নিতে পারে।

আসছে নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণ যতবার ধানের শীষকে ভোট দিয়েছে, ততবারই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। আপনারা আমাকে আপনাদের এলাকার সন্তান হিসেবে ধানের শীষে ভোট দিন। আপনাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, যাঁরা সারা দেশে ছড়িয়ে আছেন, তাঁদের অনুরোধ করুন, ১২ তারিখে ধানের শীষকে ভোট দিতে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমান বলেছেন, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন আমাদের দেশ গড়তে হবে। দেশের প্রতিটি সেক্টর বিগত ১৬ বছরে ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। সেগুলোকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। আর পুনর্নির্মাণ করতে হলে এই দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়। কী পরিবর্তন চায় এমন প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, মানুষ চায় তাদের সমস্যার সমাধান, চলাফেরায় নিরাপত্তা, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, দেশের শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায়, তরুণ ও যুব সমাজের লক্ষ লক্ষ কর্মহীন আছে, এই বেকার সমস্যা সমাধান চায়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটে দুই ওলীর মাজার জিয়ারত ও জনসভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর টানা দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার জার্নিতে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুট্টাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, নরসিংদী ও নারায়গঞ্জের আড়াইহাজারে জনসভায় বক্তব্য দিয়ে ভোররাতে বাসায় ফিরেন তিনি। আগামী রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যের মাধ্যমে ফের প্রচার শুরু করবেন তারেক রহমান। এরপর ফেনী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে বেশ কয়েকটি নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।

এদিকে ভাসানটেকের জনসভায় বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান একজন ভ্যানচালক, একজন নারী শ্রমিক, একজন কলেজছাত্রীকে ডেকে স্টেজে আনেন। একে একে তাদের কাছে জানতে চান ভাসানটেক এলাকায় কী কী সমস্যা আছে। এই এলাকার কী কী উন্নয়ন করতে হবে।

তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমিও এই এলাকায় বড় হয়েছি। আমি আপনাদেরই একজন। আমি এই এলাকায় প্রার্থী হয়েছি। আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে এবং ধানের শীষ সরকার গঠন করলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যে সমস্যার কথা বলে গেছেন, পুনর্বাসনসহ সব সমস্যার সমাধান করবো। এই এলাকার সন্তান হিসেবে এইটুকু ওয়াদা করে গেলাম।

তারেক রহমান বলেন, এক বোন বলে গেছেন তার সঙ্গে কী হয়েছে। আমরা অতীতে যেতে চাই না। গত ১৬ বছর কী হয়েছে দেশে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, উপস্থিত এই জনসভার মানুষ নয়, সমগ্র বাংলাদেশে মানুষ একটি পরিবর্তন চায়। কী পরিবর্তন চায় এমন প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, মানুষের সমস্যার সমাধান হোক, মানুষের চলাফেরায় নিরাপত্তা চায়, দেশে যাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, দেশের শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায়, তরুণ ও যুব সমাজের লক্ষ লক্ষ কর্মহীন আছে, এই বেকার সমস্যা সমাধান চায়। এই যে কয়জন মানুষ আপনাদের হয়ে কথা বলেছেন তাদের কথায় বেরিয়ে এসেছে কর্মসংস্থান দরকার। আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি আমাদের দেশের বহু মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যায়। এই মানুষগুলো দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যায় না। এই লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দেব যাতে তারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। যাতে স্বাবলম্বী হয়ে দাঁড়াতে পারে।

একটি ফ্যামিলি কার্ডের নমুনা পকেট থেকে বের করে উপস্থিত জনতাকে দেখিয়ে তিনি বলেন, এরকম একটি ফ্যামিলি কার্ড প্রতিটি মায়ের কাছে আমরা পৌঁছে দিতে চাই। যে নারী একটি সংসার আছে সেই নারীর কাছে আমরা কার্ডটি পৌঁছে দিতে চাই। আমরা একই সাথে বাংলাদেশের কৃষকদের আমরা একটি কৃষি কার্ড দিতে চাই। যেটার মাধ্যমে সহজে তারা কৃষি ঋণ পাবে। কৃষি ইন্সুরেন্স থাকবে, যার মধ্যে সার বীজ পাবে।

পাশের বসা সাবেক ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হককে দেখিয়ে তিনি বলেন, এখানে আমিনুল হককে চেনেন। ফুটবল খেলতো। আমাদের দেশের তরুণ যুবক যারা আছেন সবাই আর ব্যারিস্টার, উকিল, ডাক্তার হবে না। এখানে অনেকে আছে খেলোয়াড় হতে চায়। আমরা দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাটাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই যাতে আমদের দেশের ছেলে মেয়েরা প্রফেশনাল খেলোয়াড় হতে পারে। খেলা দিয়ে যাতে জীবিকা অর্জন করতে পারে। সেই প্রতিভাগুলো খুঁজে বের করে নিয়ে আসতে চাই।

ভাসানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদির মাহমুদের সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দীন আলম, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দীন জুয়েল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, জাগপা নেতা খন্দকার লুৎফর রহমান বক্তব্য দেন। এছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রেজাউল করিম পল, ছাত্রদল পশ্চিমের সভাপতি রবিন খানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী সিল্ক শুধু রাজশাহীর নয়, এটি সারা বাংলাদেশের সম্পদ এবং আমাদের ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে আধুনিকায়ন এবং এর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রেশম শিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং একে আরও উন্নত করার রূপরেখা তৈরি করতে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই বোর্ডের উন্নয়নে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই শিল্পকে আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে রেশমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও উৎপাদন তলানিতে। এ প্রসঙ্গে শরীফুল আলম জানান, দেশে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে; তবে এর প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয় কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া বা পিছিয়ে পড়ার কারণেই মূলত এই পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে।

এই সংকট কাটাতে পলু চাষ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বৃদ্ধিতে গবেষণার ওপর সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

রেশম শিল্পের প্রাণ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী কারিগর বা ‘বোসনি’দের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এই দক্ষ কারিগরদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি রয়েছেন। বয়সের কারণে তাদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বোসনিদের পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা না গেলে এই শিল্পের ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে এবং সিল্কের প্রসার ঘটাতে নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। চীন ও জাপানের মতো বড় দেশগুলোতে দেশীয় সিল্ক পণ্যের বাজার তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব শিগগিরই সমন্বিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে, পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে বোর্ডের সার্বিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশাসহ রেশম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কালের আলো/ইএম

জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে রাজধানীর জিয়া সরণি খালকে যুক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জিয়া সরণি খাল, কোনাপাড়া খাল ও কুতুবখালী খাল পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়া সরণি নাম হওয়ায় মানুষের কল্যাণে এই খাল নিয়ে কিছুই করেনি অবৈধ সরকার। আপাতত সিটি করপোরেশনের অর্থে খালটিতে অবৈধ স্থাপনাসহ সব কাজ চলছে।

সব খাল দখলমুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত হয় বিএনপি সরকার। যেহেতু বিনাভোটে নির্বাচিত হইনি সেক্ষেত্রে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কাজ করা হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি সরকার। গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষি সেচ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় চলবে এই কর্মসূচি।

কালের আলো/এসএকে

সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সারাদেশের মতো সিরাজগঞ্জে বেড়েছে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে ১৭ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।

হামের টিকা দেওয়ার আগেই এ রোগে অধিকাংশ শিশুরা আক্রান্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবক ও স্বজনেরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য বিভাগের।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, চলতি মাসের ২৯ মার্চ থেকে হাম রোগী কাউন্ট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। এসব রোগী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ৭০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

বর্তমানে মনসুর আলী মেডিকেলে ১৫ জন, সদর জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, উল্লাপাড়ায় ২ জন ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি রয়েছে। এদিকে, সারাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শহীদ এম মনসুর আলী হাসপাতালেও খোলা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম সিরাজগঞ্জে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ইএম