খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

ভ্যানচালক, গৃহিণী ও শিক্ষার্থীকে মঞ্চে ডেকে কথা শুনলেন তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
ভ্যানচালক, গৃহিণী ও শিক্ষার্থীকে মঞ্চে ডেকে কথা শুনলেন তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

সিলেট নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের মনোভাব বুঝতে তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা শুরু করেছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক প্রচারের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে নিজ আসন ঢাকা-১৭-তে ভ্যানচালক, গৃহিণী ও শিক্ষার্থীকে মঞ্চে ডেকে তাদের সমস্যার কথা শুনেছেন তিনি। তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন মাইক। মঞ্চে নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চেয়ারে বসাচ্ছেন। বক্তৃতার মঞ্চে রাজনৈতিক নেতারা চিরকাল বক্তব্য রেখে, নরম-গরম কথা বলে সমাবেশের দাঁড়ি টানলেও ভিন্ন পথ অবলম্বন করছেন দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী। প্রথাগত সাধারণ সমাবেশ তো বটেই নির্বাচনী সমাবেশেও এমন দৃশ্য আর কখনও দেখেনি জনসাধারণ। ভোট রাজনীতিতেও নতুন ধারার সূচনা করলেন।

একজন পরিণত রাজনীতিক তারেক রহমান যেভাবে প্রতিনিয়ত নিজেকে উপস্থাপন করছেন হাল রাজনীতিতে তাঁর দ্বিতীয় কোন নজির নেই। জনসমাগম থেকে বাড়ির ড্রয়িং রুম, স্কুল-কলেজ থেকে অফিসপাড়া, চায়ের স্টল-সর্বত্রই তারেক রহমানের রাজনৈতিক স্টাইল নিয়ে আলোচনা। এমন একজন রাজনৈতিক নেতাকেই সম্ভবত প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ। ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-উক্তিতে মানুষকে স্বপ্ন দেখানো তারেক রহমানও শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর ভাষানটেকের বিআরবি ময়দানে নির্বাচনী জনসভা করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তাসহ সামগ্রিক উন্নয়নের। সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এসময় উপস্থিত সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে তিনি বলেন, ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমস্যাগুলো জেনে তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি আপনাদেরই সন্তান। এই এলাকায় বড় হয়েছি। তাই এই এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট, প্রত্যাশা ও সমস্যার দায় আমি নিতেই চাই। সুযোগ পেলে ইনশাআল্লাহ এসব সমস্যার সমাধান করব।’ এর আগে এই জনসভায় অংশ নিতে দুপুরের পর থেকেই ভাষানটেক ও আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপির হাজারো সমর্থক বিআরবি ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা করতালি ও স্লোগানে তাঁকে স্বাগত জানান। মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করার আগে দর্শকসারিতে থাকা কয়েকজনকে কাছে ডাকেন তারেক রহমান। তাঁদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শোনার মধ্য দিয়ে তিনি এলাকার সমস্যা সম্পর্কে ভোটারদের কাছ থেকেই জানতে চান। বক্তব্যের সময় তারেক রহমান ডেকে ডেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মঞ্চে নিয়ে চেয়ারে বসান। পরে ভ্যানচালক জুয়েলকে ডেকে মাইক তুলে দিয়ে নাম, পরিচয়, কতদিন ঢাকায় থাকেন, বাড়ি কোথায়, কী কাজ করেন এবং এই এলাকার সমস্যা সম্পর্কে জানতে চান। বলেন, আমিও এই এলাকার ভোটার। বলেন আপনাদের কী সমস্যা? বিএনপি ক্ষমতায় এলে কী করতে হবে আপনাদের জন্য?

মাইক হাতে নিয়ে কথা বলতে শুরুতে কিছুটা দ্বিধাবোধ করলেও পিঠ চাপড়ে ভ্যানচালক জুয়েল মিয়াকে অভয় দেন তারেক রহমান। পরে তিনি বলেন, আমরা এখানে বস্তিতে থাকি। আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তখন তারেক রহমান সমাবেশে থাকা অন্যদের কাছে জানতে ভ্যান চালকের দাবির সঙ্গে তারাও একমত কি না। পরে সবাই সমস্বরে হ্যাঁ বলে জবাব দেন। এরপর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের পাশেই ক্যান্টনমেন্ট এলাকা-সুশৃঙ্খল ও সুন্দর। কিন্তু ভাষানটেক খুব অনুন্নত। আমরা চাই, এই এলাকার উন্নয়ন হোক।’ লিলি নামের এক বস্তিবাসী নারী বলেন, ‘আমাদের কিছুই নাই। পুনর্বাসন চাই, ফ্যামিলি কার্ড চাই।’ শান্তা নামের আরেকজন বলেন, নারীদের কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ নেই।’

সমস্যা ও প্রত্যাশাগুলো শুনে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা যেসব সমস্যার কথা বলেছেনÑপুনর্বাসন, ফ্যামিলি কার্ড, কর্মসংস্থান-ইনশাআল্লাহ, বিএনপি সরকার গঠন করলে এগুলো আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করব।’ অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এবার দেশের প্রতিটি খাতকে পুনর্গঠন করতে হবে। সে দায়িত্ব জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই নিতে পারে।

আসছে নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণ যতবার ধানের শীষকে ভোট দিয়েছে, ততবারই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। আপনারা আমাকে আপনাদের এলাকার সন্তান হিসেবে ধানের শীষে ভোট দিন। আপনাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, যাঁরা সারা দেশে ছড়িয়ে আছেন, তাঁদের অনুরোধ করুন, ১২ তারিখে ধানের শীষকে ভোট দিতে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমান বলেছেন, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন আমাদের দেশ গড়তে হবে। দেশের প্রতিটি সেক্টর বিগত ১৬ বছরে ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। সেগুলোকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। আর পুনর্নির্মাণ করতে হলে এই দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়। কী পরিবর্তন চায় এমন প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, মানুষ চায় তাদের সমস্যার সমাধান, চলাফেরায় নিরাপত্তা, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, দেশের শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায়, তরুণ ও যুব সমাজের লক্ষ লক্ষ কর্মহীন আছে, এই বেকার সমস্যা সমাধান চায়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটে দুই ওলীর মাজার জিয়ারত ও জনসভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর টানা দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার জার্নিতে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুট্টাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, নরসিংদী ও নারায়গঞ্জের আড়াইহাজারে জনসভায় বক্তব্য দিয়ে ভোররাতে বাসায় ফিরেন তিনি। আগামী রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যের মাধ্যমে ফের প্রচার শুরু করবেন তারেক রহমান। এরপর ফেনী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে বেশ কয়েকটি নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।

এদিকে ভাসানটেকের জনসভায় বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান একজন ভ্যানচালক, একজন নারী শ্রমিক, একজন কলেজছাত্রীকে ডেকে স্টেজে আনেন। একে একে তাদের কাছে জানতে চান ভাসানটেক এলাকায় কী কী সমস্যা আছে। এই এলাকার কী কী উন্নয়ন করতে হবে।

তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমিও এই এলাকায় বড় হয়েছি। আমি আপনাদেরই একজন। আমি এই এলাকায় প্রার্থী হয়েছি। আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে এবং ধানের শীষ সরকার গঠন করলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যে সমস্যার কথা বলে গেছেন, পুনর্বাসনসহ সব সমস্যার সমাধান করবো। এই এলাকার সন্তান হিসেবে এইটুকু ওয়াদা করে গেলাম।

তারেক রহমান বলেন, এক বোন বলে গেছেন তার সঙ্গে কী হয়েছে। আমরা অতীতে যেতে চাই না। গত ১৬ বছর কী হয়েছে দেশে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, উপস্থিত এই জনসভার মানুষ নয়, সমগ্র বাংলাদেশে মানুষ একটি পরিবর্তন চায়। কী পরিবর্তন চায় এমন প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, মানুষের সমস্যার সমাধান হোক, মানুষের চলাফেরায় নিরাপত্তা চায়, দেশে যাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, দেশের শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায়, তরুণ ও যুব সমাজের লক্ষ লক্ষ কর্মহীন আছে, এই বেকার সমস্যা সমাধান চায়। এই যে কয়জন মানুষ আপনাদের হয়ে কথা বলেছেন তাদের কথায় বেরিয়ে এসেছে কর্মসংস্থান দরকার। আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি আমাদের দেশের বহু মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যায়। এই মানুষগুলো দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যায় না। এই লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দেব যাতে তারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। যাতে স্বাবলম্বী হয়ে দাঁড়াতে পারে।

একটি ফ্যামিলি কার্ডের নমুনা পকেট থেকে বের করে উপস্থিত জনতাকে দেখিয়ে তিনি বলেন, এরকম একটি ফ্যামিলি কার্ড প্রতিটি মায়ের কাছে আমরা পৌঁছে দিতে চাই। যে নারী একটি সংসার আছে সেই নারীর কাছে আমরা কার্ডটি পৌঁছে দিতে চাই। আমরা একই সাথে বাংলাদেশের কৃষকদের আমরা একটি কৃষি কার্ড দিতে চাই। যেটার মাধ্যমে সহজে তারা কৃষি ঋণ পাবে। কৃষি ইন্সুরেন্স থাকবে, যার মধ্যে সার বীজ পাবে।

পাশের বসা সাবেক ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হককে দেখিয়ে তিনি বলেন, এখানে আমিনুল হককে চেনেন। ফুটবল খেলতো। আমাদের দেশের তরুণ যুবক যারা আছেন সবাই আর ব্যারিস্টার, উকিল, ডাক্তার হবে না। এখানে অনেকে আছে খেলোয়াড় হতে চায়। আমরা দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাটাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই যাতে আমদের দেশের ছেলে মেয়েরা প্রফেশনাল খেলোয়াড় হতে পারে। খেলা দিয়ে যাতে জীবিকা অর্জন করতে পারে। সেই প্রতিভাগুলো খুঁজে বের করে নিয়ে আসতে চাই।

ভাসানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদির মাহমুদের সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দীন আলম, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দীন জুয়েল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, জাগপা নেতা খন্দকার লুৎফর রহমান বক্তব্য দেন। এছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রেজাউল করিম পল, ছাত্রদল পশ্চিমের সভাপতি রবিন খানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৪ বছর পর মাঠে নামল সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই অঘটনের স্মৃতি অনুপ্রাণিত রেখেছিল তাদের। প্রথমার্ধে তারাই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারল না। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য।

নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

গত দুইবারের ফাইনালিস্ট কোনো ধরনের অঘটনে না পড়তে চাইলে দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম-১২ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দেওয়া অনুদান বণ্টনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত এ তহবিলের অর্থ একই এলাকার বাসিন্দা, সংসদ সদস্যের আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরির প্রস্তাব করা হয়। তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং তারা একে অপরের সঙ্গে পারিবারিক ও আত্মীয়তাসহ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।

তালিকায় থাকা বুলু আকতার (স্বামী: আহমদুল হক), হাসনা খাতুন (পিতা: আজিজুর রহমান), হোসনেরা বেগম (পিতা: আহমদ মিয়া), মুছাৎ হোসনেরা বেগম (পিতা: মোহাম্মদ ইউনুছ মিয়া), রাজিয়া আকতার (স্বামী: আমিরুল হক), হানিফাতুল মোজাহেবা (স্বামী: হাফেজ আজগর হোসেন), আজিজুল হক (পিতা: আব্দুল হক) এবং মরিয়ম বেগম (পিতা: মোহাম্মদ মুছা) একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে তাদের অনেককে সংসদ সদস্যের আত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তালিকায় এমপি এনামের চাকতাই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলম ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মচারীর নামও রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— জসিম উদ্দিন (পিতা: মোহাম্মদ ছৈয়দ), মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ (পিতা: নুরুল ইসলাম), মোহাম্মদ শাকেল (পিতা: মোহাম্মদ সেলিম), মো. ওমর ফারুক (পিতা: মো. নূরুল ইসলাম) এবং পিকলু চৌধুরী (পিতা: রতন চৌধুরী)।

এ ছাড়া, সংসদ সদস্যের বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর (পিতা: মোহাম্মদ আবুল কালাম) এবং বাড়ির টি-বয় তানজিমুল হক আহাদকে (পিতা: আহমদুল হক) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। একই গ্রাম ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অধিকাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক ও পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া  বলেন, আমি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। তাছাড়া এটা আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি