দুর্নীতি ইস্যুতে জামায়াতকে সমুচিত জবাব তারেক রহমানের
বিশেষ সংবাদদাতা/ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো:
‘দুর্নীতি’ ইস্যুতে গরম রাজনীতির মাঠ। আলোচনার সূত্রপাত জামায়াত নেতাদের বিএনপিকে ইঙ্গিত করার মধ্যে দিয়েই। একটি দল দুর্নীতিতে চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল-উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির ডা.শফিকুর রহমানের বিস্ফোরক বক্তব্যের পর ‘সমুচিত’ জবাব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরের সার্কিট হাউস ময়দানে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতকে ইঙ্গিত করে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক প্রশ্ন ছুঁড়েছেন। স্পষ্টত অভিযোগ করে বলেছেন, ‘একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তারা আমাদেরকে বলে আমরা নাকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন! অথচ বিএনপি সরকারের সময়ে তাদেরই দুজন নেতা মন্ত্রিসভায় ছিলেন। আমরা যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হতাম, তবে তারা তখন পদত্যাগ করলেন না কেন? আসলে তাদের কোনো রাজনৈতিক জনভিত্তি নেই বলেই তারা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে।’
ইতিহাস-ঐতিহ্যের নগরী ময়মনসিংহের বিশাল রাজনৈতিক ময়দানে কারও নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমানের এই বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌশলী বক্তব্য সাধারণ মানুষ ও সচেতন ভোটারদের নতুন ভাবনা-চিন্তার দ্বার উন্মোচন করেছে। যার মাধ্যমে তিনি জামায়াতের প্রয়াত দু’শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ এর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মন্ত্রীসভায় যুক্ত থাকার বিষয়টিকেও সামনে এনেছেন। ২০০১-২০০৬ জোট সরকারে পূর্ণ সময় মতিউর রহমান নিজামী প্রথমে কৃষিমন্ত্রী ও পরে শিল্প মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দলটির তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদ ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
রাজনৈতিক দূরদর্শীতা ও প্রজ্ঞায় তারেক রহমান জনসভায় বলেছেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকায় দেখেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল যেই স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপিরই বিরুদ্ধে। ঠিক সেই স্বৈরাচার যেভাবে বলতো, বিএনপি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। তারাও সেভাবে বলছে। তো আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও তো দুই জন সদস্য (নিজামী ও মুজাহিদ) বিএনপির সরকারে ছিল, ছিল না? ছিল। তো বিএনপি যদি অতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে যাননি?’
জামায়াতকে তোপ দেগে দেশের ভবিষ্যৎ এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? এই জন্য পদত্যাগ করে তারা আসেনি, তারা সরকারে ছিল এবং তারা ভালো করেই জানত যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করেছে। যেই দলটি এখন এই কথা বলছে, তাদের যে দুই সদস্য বিএনপি সরকারের অংশ ছিল; তারা ভালো করেই জানতেন যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না।’
২০০১-২০০৬ সাল মেয়াদে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশকে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে, খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতিতে নিম্নমুখী ছিল। খালেদা জিয়া যখন ২০০১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করলো। যেই দল এই কথা বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করে, তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যে কথা তারা বলছে।’
নিজের ২৫ মিনিটের দীর্ঘ বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আগামী নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় মঞ্চে তার পাশে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান। সরকার পরিচালনায় যেভাবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বেগম জিয়ার কর্মপ্রয়াসকে তুলে এনেছেন তেমনি দেশ গঠনে প্রয়াত বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়েছেন। ভোটের পর আবার ময়মনসিংহবাসীর সঙ্গে দেখা হওয়ার আকাক্সক্ষার কথাও বলে গেলেন। তিনি বলেন, ‘কৃষিতে পানির অভাব দূর করতে খাল পুনর্খনন করা হবে।’ তারেক রহমান স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘ভোটের পর আপনাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে খাল খনন কর্মসূচিতে। সবাই কোদাল নিয়ে আসবেন, সেদিন আমিও থাকব।’
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা থেকে সড়কপথে এসে বেলা ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহ নগরের সার্কিট হাউস ময়দানে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় জনসভার মঞ্চে উপস্থিত হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঞ্চে ওঠার আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যুদ্ধে আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর বিকেল ৪টায় তিনি সভামঞ্চে উঠলে স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ বক্তব্যে আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন নির্মাতা তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আগামী নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪ জন বিএনপি প্রার্থীকে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ভোটারদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে ফজর বাদ ভোটকেন্দ্রে যাবেন। শুধু ভোট দিয়ে চলে আসলে হবে না। বিগত দিনে আমাদের ভোট লুটপাট হয়েছে। তাই এবার ভোট দিয়ে কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ছাড়া যাবে না।’

মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ
বক্তব্যের শুরুতেই বিএনপি চেয়ারম্যান মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘মানুষের কথা বলার অধিকার তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে যখন তাদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হবে। বিগত ১৭ বছর এ দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। দিনের ভোট রাতে হয়েছে। দেশের মানুষ আজ একজন যোগ্য অভিভাবক চায়, যারা তাদের সন্তানদের সুশিক্ষিত করবে এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।’
‘গিবতের’ সমালোচনা করেছেন
এক দলের নির্বাচনী জনসভায় অন্য দল সম্পর্কে ‘গিবতের’ সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমারা রাজনীতি করি বাংলাদেশের মানুষের জন্য। নির্বাচনী জনসভায় দেখি অনেক দল এসে অন্য দল সম্পর্কে বিভিন্ন রকমের কথাবার্তা বলে। আজকে যদি আমি এখানে দাঁড়িয়ে অন্য দল সম্পর্কে অন্য রকম কথা বলি, তাদের সম্পর্কে গিবত গাই, তাদের সমালোচনা করি, তাতে কি জনগণের কোনো লাভ হবে? হবে না। কারণ, জনগণ তাকেই ভোট দেবে, যারা জনগণের জন্য কাজ করবে। জনগণের জন্য যদি কাজ করতে হয় তাহলে একটি রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা থাকতে হবে কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে। কীভাবে কী কী কাজ করবে জনগণে জন্য, সেই পরিকল্পনাগুলো থাকতে হবে।’
আগামী দিনে দেশকে কীভাবে পরিচালনা করা হবে তার পরিকল্পনা বিএনপির রয়েছে বলে জনসভায় জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এই দলটির অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে দেশে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হয়, জেলায় জেলায়, উপজেলায়, ইউনিয়ন, গ্রাম পর্যায়ে রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে হয়। বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে শিক্ষার আলো এ দেশের সন্তানদের কাছে পৌঁছে দিতে হয়, কীভাবে বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদে রাখতে হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়।’
মাদক সমস্যার সমাধান, তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি
জনসভায় ময়মনসিংহসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়েও জনসভায় কথা বলেন তারেক রহমান। নেত্রকোনা, শেরপুরসহ বিভিন্ন জায়গার মাদক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এই মাদক সমস্যার সমাধান করতে চাই। মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদেরকে সেই তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষের যখন কাজ থাকবে, চাকরি থাকবে, ব্যবসা–বাণিজ্য থাকবে, তখন মানুষ এগুলোর মধ্যে যাবে না। আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই। আমরা চাই দেশে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট বেশি করে তৈরি করব। যাতে করে আমরা আমাদের তরুণ ও যুবসমাজের সদস্যদের বিভিন্ন রকম ট্রেনিং (প্রশিক্ষণ) দেব। যেই ট্রেনিংয়ের বিনিময়ে তারা বিদেশে যেমন যেতে পারবে একইভাবে দেশে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে। যারা আইটিতে কাজ করে তাদের জন্য বিভিন্ন রকমের আইটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছি, যাতে করে তারা ঘরে বসে আয় বাড়াতে পারে।’
উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থার অঙ্গীকার
চিকিৎসা খাতের বিষয়ে বলতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই চার জেলার আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে মানুষের চিকিৎসা সমস্যা। আমরা ময়মনসিংহসহ চার জেলার জেলা হাসপাতালগুলোকে আরও বড় করতে চাই, একইভাবে হেলথকেয়ার অ্যাপয়েন্ট (নিয়োগ) করতে চাই। শহীদ জিয়ার সময় পল্লি চিকিৎসকেরা গ্রামে গ্রামে ঘরে ঘরে গিয়ে চিকিৎসা দিতেন। আমার ঠিক একইভাবে ঘরে ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে চাই। মা-বোন ও শিশুদের চিকিৎসায় অনেক সমস্যা হয়, তারা হাসপাতালে যেতে পারে না। তারা যেন ঘরে বসে চিকিৎসা পায়, সে জন্য আমরা চিকিৎসাব্যবস্থাকে উন্নত করতে চাই।’

ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মাছ চাষকে শিল্পে রূপান্তরের ঘোষণা
ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ময়মনসিংহে মাছ চাষকে শিল্পে রূপান্তরের দৃঢ় অঙ্গীকার করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি ময়মনসিংহ ও জামালপুর অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলোও তুলে ধরেন। তারেক রহমান বলেন, ‘এই এলাকায় দীর্ঘদিন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষি খাতে স্থবিরতা নেমে এসেছে।’ তিনি ঘোষণা করেন, এই অঞ্চলে মাছ চাষকে শিল্পে রূপান্তর করা হবে; যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। কৃষকদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, তাদেরকে সরাসরি সেবা দিতে ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই কৃষক সরাসরি সরকারি সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ হাতে পাবেন।
নারীদের অভাব অনটন দূর করার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’
নারীদের বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘খালেদা জিয়া মেয়েদের প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা সেই ধারা বজায় রেখে নারীদের অভাব অনটন দূর করার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করবো, যা প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’ তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মাদকের অভিশাপ থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে হলে কর্মসংস্থান জরুরি। আমরা আইটি সেক্টরে ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো; যাতে আমাদের তরুণরা ঘরে বসেই বিশ্ব জয় করতে পারে।’ স্বাস্থ্যসেবা ও মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, জেলা হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে ইউনিয়ন পর্যায়ে পল্লী চিকিৎসকদের মাধ্যমে উন্নত সেবার ব্যবস্থা করা হবে। শিশু ও মা-বোনদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ঘরে ঘরে হেলথকেয়ার সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সম্মানজনক বেতনের ব্যবস্থা করবে বিএনপি সরকার।

ময়মনসিংহের ইতিহাসে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ-৫ মুক্তাগাছা আসনে বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলু। জনসভা পরিচালনা করেন বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার ও উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। জনসভায় ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- ময়মনসিংহ-১ আসনের সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ-২ আসনের মোতাহার হোসেন তালুকদার, ময়মনসিংহ-৩ আসনের এম ইকবাল হোসেইন, ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ আসনের মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু, ময়মনসিংহ-৬ আসনের আখতারুল আলম, ময়মনসিংহ-৭ আসনের মাহাবুবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, ময়মনসিংহ-৯ আসনের ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১০ আসনের মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, ময়মনসিংহ-১১ আসনের ফখর উদ্দিন আহমেদ। জামালপুরের প্রার্থীরা হলেন-জামালপুর-১ আসনের এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামালপুর-২ আসনের এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, জামালপুর-৩ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামালপুর-৪ আসনের ফরিদুল কবীর তালুকদার এবং জামালপুর-৫ আসনের শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। নেত্রকোনার প্রার্থীরা হলেন-নেত্রকোনা-১ আসনের কায়সার কামাল, নেত্রকোনা-২ আসনের আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ আসনের রফিকুল ইসলাম হিলালী, নেত্রকোনা-৪ আসনের লুৎফুজ্জামান বাবর এবং নেত্রকোনা-৫ আসনের আবু তাহের তালুকদার। শেরপুরের প্রার্থীরা হলেন-শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, শেরপুর-২ আসনের মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এবং শেরপুর-৩ আসনে মাহমুদুল হক রুবেল।
কালের আলো/এমএএএমক


আপনার মতামত লিখুন
Array