খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলের নেপথ্যে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলের নেপথ্যে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি তদারকি ও কৌশলী নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘প্রত্যাশিত’ ভূমিধস বিজয় পেয়ে পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞ এই রাজনৈতিক দলটির নিরঙ্কুশ বিজয় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করার পেছনে দলীয় কাণ্ডারি তারেক রহমানের দূরদর্শী পদক্ষেপ, তার সহনশীল আচরণ এবং নমনীয় ও সময়োপযোগী বক্তব্য ভোটারদের মন কাড়তে সক্ষম হওয়ার বিষয়টিকে মোটা দাগে প্রাসঙ্গিক করেছে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে ফিরে তারেক রহমানের ভিন্নধর্মী গণসংযোগ সাড়া ফেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটাতে সক্ষম হবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বিএনপির একক নির্বাচনী ফল নয়; বরং দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব, সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক কৌশলের বড় জয়।

তাদের ভাষ্য হচ্ছে- গত ১৭ বছরে দলের অনেক যোগ্য ও ত্যাগী নেতার সীমাহীন আত্মত্যাগ এবং কারাবরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি এক গভীর সহমর্মিতা তৈরি করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৃষ্ট দেশব্যাপী আবেগের এক বিশাল ঢেউ ব্যালট বিপ্লবে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে।

এছাড়াও সাধারণ ভোটারদের সামনে মূলধারার দল হিসেবে ভোটে বিএনপিই ছিল একমাত্র বিকল্প। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাংকের গতিপথ পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কেউ কেউ বলছেন, বিগত কয়েক বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া বিভিন্ন হামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এ নিয়ে সম্প্রদায়টির মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বার বার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস ও নিশ্চয়তা দেয়। এতে করে এই সম্প্রদায়টি বিএনপির প্রতি আশ্বস্ত হয়ে ভোট দিয়েছে।

তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে
সময়োচিত উল্লেখ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করার ফলে দলটির সাংগঠনিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি যেভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামলেছেন এবং যোগ্যদের মূল্যায়ন করেছেন, তা দলের ভেতরকার দীর্ঘদিনের কোন্দল নিরসনে জাদুর মতো কাজ করেছে। তারেক রহমানের এই পরিপক্ক ও নমনীয় নেতৃত্বই মূলত বিএনপিকে একটি আধুনিক ও জনমুখী দল হিসেবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। নিজের প্রতিটি বক্তব্যে তারেক রহমানের পরিমিত শব্দচয়ন ও প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীল আচরণ সাধারণ ভোটারদের মনে বিএনপির পুরনো ভাবমূর্তি বদলে দিয়েছে। এসবের প্রতিফলন ঘটেছে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একচেটিয়া জয় পেয়েছে।

বিএনপির এবারের বিজয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকাকে বড় করে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ‘তারেক রহমানের বৈচিত্র্যময় নির্বাচনী প্রচার, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং তৃণমূলকে বিবেচনায় নেওয়াসহ সময়োপযোগী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, যেমন—ফ্যামিলি কার্ড বা ফার্মার্স কার্ড, অথবা কৃষিঋণ মওকুফ করা ইত্যাদি মানুষকে বিএনপির ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলেছে। তারেক রহমানের পরিমিত শব্দচয়ন ও প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীল আচরণ ভোটারদের বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল করেছে। নিরঙ্কুশ জয়ে উল্লসিত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। সবমিলিয়ে বিএনপিতে এখন স্বস্তির সুবাতাস। এখন অপেক্ষা শুধু সরকার গঠন ও শপথ গ্রহণের। অপেক্ষা নতুন মন্ত্রিসভার।

কালের আলো/এম/এএইচ

হরমুজে ট্যাংকারে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
হরমুজে ট্যাংকারে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় ট্যাংকারটির নাবিকেরা নিরাপদে রয়েছেন। তবে জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হামলার পেছনে কারা ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ও নৌসদস্য পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরিও ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। এতে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করতে পারে।

হরমুজে ট্যাংকারে আগুন

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানে। এর পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। নাবিকেরা নিরাপদে আছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ট্যাংকারটি কোন দেশের পতাকা বহন করছিল, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি। জাহাজটিতে অপরিশোধিত তেল নাকি এলএনজি ছিল, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। সাম্প্রতিক সময়ে এ জলপথে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে ৯ হাজার মার্কিন সেনা

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৯ হাজার সেনা, নাবিক ও মেরিন সদস্য নিয়ে একটি নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠাচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এই বাহিনীতে ৭ হাজারের বেশি নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার মেরিন সদস্য রয়েছেন। তাদের বহনকারী নৌবহরে রয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ।

থিওডোর রুজভেল্টের সঙ্গে রয়েছে ইউএসএস চোসিন ক্রুজার। অন্যদিকে মাকিন আইল্যান্ড গ্রুপে রয়েছে উভচর অবতরণকারী জাহাজ ইউএসএস জন পি. মার্থা ও ইউএসএস অ্যাঙ্কোরেজ।

অক্টোবরের শেষে তিন বিমানবাহী রণতরি

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছালে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরির সংখ্যা তিনটিতে দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে রয়েছে।

নতুন মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়বে। এ পদক্ষেপের সময় ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক উত্তেজনা—দুই দিকই সামনে রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে টানাপোড়েন

এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব তাঁর কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। একই সঙ্গে তিনি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

এদিকে সাম্প্রতিক একটি বিমান-সংক্রান্ত ঘটনার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়ার দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগের বিষয়ে পাল্টা বক্তব্যও এসেছে।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা, ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন—তিনটি ঘটনাই অঞ্চলটির সামরিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসএ

 

অরাজকতা সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর হবে: নুরুল ইসলাম মনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
অরাজকতা সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর হবে: নুরুল ইসলাম মনি

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সরকারের সরলতাকে দুর্বলতা ভাবার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজন হলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন ক্লাব প্রতিযোগিতা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার সবার সঙ্গে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে। তবে কেউ এই সুযোগের অপব্যবহার করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলের একজন সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। দেশের স্বার্থের বাইরে কোনো কার্যক্রমে কেউ জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, দেশের বিভিন্ন সমস্যা সংসদে আলোচনা করে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। তাই রাস্তায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে সংসদে এসে আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। বিরোধী দলের সদস্যদেরও সংসদে এসে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান নুরুল ইসলাম মনি।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হলে সরকার অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লংমার্চ ও আন্দোলন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, আন্দোলনের নামে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা কাম্য নয়। তার ভাষ্য, কোনো পক্ষ যদি পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করে, সরকার তা মোকাবিলা করবে।

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বসহ কোনো অনিয়মকে সরকার বৈধতা দেয় না। প্রয়োজন হলে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষকদের জন্য কৃষিঋণ মওকুফ এবং কৃষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, দেশের তরুণদের স্বাস্থ্য ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে খেলাধুলার গুরুত্ব রয়েছে। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের নিজেদের গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে নুরুল ইসলাম মনি তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন ক্লাব প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নাসার নতুন মিশন, আইএসএসে চার নভোচারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
নাসার নতুন মিশন, আইএসএসে চার নভোচারী

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছেছে চার সদস্যের নতুন একটি মহাকাশচারী দল। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে করে তারা মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে ডকিং সম্পন্ন করেন। সেখানে তারা প্রায় ছয় মাস অবস্থান করবেন।

নতুন ক্রু সদস্যরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা ওয়াটকিন্স ও লুক ডেলানি, কানাডার জোশুয়া কুটরিক এবং রাশিয়ার সের্গেই তেরেতিয়াতনিকভ।

৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে আইএসএসে পৌঁছাল ক্যাপসুল

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে ক্রু-১৩ মিশনের চার সদস্যকে নিয়ে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়।

উৎক্ষেপণের ৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট পর স্পেসএক্সের ‘গ্রেস’ নামের ড্রাগন ক্যাপসুলটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের একটি ডকিং পোর্টে যুক্ত হয়।

নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো মার্কিন মহাকাশযানের আইএসএসে পৌঁছানোর সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের রেকর্ড।

নাসা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, ঘণ্টায় প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ মাইল বা ২৮ হাজার ১৬৩ কিলোমিটার বেগে মহাকাশে ছুটতে থাকা ক্যাপসুলটি ধীরে ধীরে আইএসএসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ডকিং সম্পন্ন হওয়ার পর মাটিতে থাকা নিয়ন্ত্রণকক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, ড্রাগনের ‘হার্ড ক্যাপচার’ সম্পন্ন হয়েছে।

এরপর ক্যাপসুলের হ্যাচ বা দরজা খুলে নতুন চার সদস্য চাপ-নিয়ন্ত্রিত সংযোগপথ দিয়ে মহাকাশ স্টেশনে প্রবেশ করবেন।

লিকের কারণে পিছিয়েছিল উৎক্ষেপণ

ক্রু-১৩ দলের মূলত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আইএসএসে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ড্রাগন ক্যাপসুলে একটি লিক ধরা পড়ায় তাদের উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেওয়া হয়।

মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পর আইএসএসে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, তা মহাকাশ স্টেশনের অবস্থান ও উৎক্ষেপণের সময় ক্যাপসুলটি স্টেশন থেকে কতটা দূরে ছিল—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে উৎক্ষেপণ করা সর্বশেষ একটি ক্রুকে আইএসএসে পৌঁছাতে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল।

পুরোনো ক্রুর কাছ থেকে দায়িত্ব নেবে নতুন দল

ক্রু-১৩ দল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা বর্তমান ক্রু-১২ দলের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবে।

ক্রু-১২ দলের সদস্যরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা মেয়ার ও জ্যাক হ্যাথাওয়ে, ফ্রান্সের সোফি আদেনো এবং রাশিয়ার আন্দ্রেই ফেদায়েভ।

আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ক্রু-১২ দলের সদস্যরা আগামী সোমবারের মধ্যে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেন।

২০৩০ সালের দিকে শেষ হতে পারে আইএসএসের যাত্রা

প্রায় ২৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটিতে নিয়মিতভাবে মানুষের বসবাস ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা চলছে। তবে পুরোনো হয়ে যাওয়া এই মহাকাশ স্টেশনকে ২০৩০ সালের দিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে পৃথিবীর কোনো একটি মহাসাগরে পতন করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চুক্তিতে টানাপোড়েন তৈরি হলেও আইএসএসকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও অন্যান্য অংশীদার দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

নতুন ক্রু-১৩ দলের ছয় মাসের মিশনেও মহাকাশ গবেষণা ও স্টেশনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এসএ