খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলের নেপথ্যে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলের নেপথ্যে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি তদারকি ও কৌশলী নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘প্রত্যাশিত’ ভূমিধস বিজয় পেয়ে পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞ এই রাজনৈতিক দলটির নিরঙ্কুশ বিজয় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করার পেছনে দলীয় কাণ্ডারি তারেক রহমানের দূরদর্শী পদক্ষেপ, তার সহনশীল আচরণ এবং নমনীয় ও সময়োপযোগী বক্তব্য ভোটারদের মন কাড়তে সক্ষম হওয়ার বিষয়টিকে মোটা দাগে প্রাসঙ্গিক করেছে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে ফিরে তারেক রহমানের ভিন্নধর্মী গণসংযোগ সাড়া ফেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটাতে সক্ষম হবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বিএনপির একক নির্বাচনী ফল নয়; বরং দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব, সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক কৌশলের বড় জয়।

তাদের ভাষ্য হচ্ছে- গত ১৭ বছরে দলের অনেক যোগ্য ও ত্যাগী নেতার সীমাহীন আত্মত্যাগ এবং কারাবরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি এক গভীর সহমর্মিতা তৈরি করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৃষ্ট দেশব্যাপী আবেগের এক বিশাল ঢেউ ব্যালট বিপ্লবে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে।

এছাড়াও সাধারণ ভোটারদের সামনে মূলধারার দল হিসেবে ভোটে বিএনপিই ছিল একমাত্র বিকল্প। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাংকের গতিপথ পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কেউ কেউ বলছেন, বিগত কয়েক বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া বিভিন্ন হামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এ নিয়ে সম্প্রদায়টির মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বার বার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস ও নিশ্চয়তা দেয়। এতে করে এই সম্প্রদায়টি বিএনপির প্রতি আশ্বস্ত হয়ে ভোট দিয়েছে।

তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে
সময়োচিত উল্লেখ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করার ফলে দলটির সাংগঠনিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি যেভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামলেছেন এবং যোগ্যদের মূল্যায়ন করেছেন, তা দলের ভেতরকার দীর্ঘদিনের কোন্দল নিরসনে জাদুর মতো কাজ করেছে। তারেক রহমানের এই পরিপক্ক ও নমনীয় নেতৃত্বই মূলত বিএনপিকে একটি আধুনিক ও জনমুখী দল হিসেবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। নিজের প্রতিটি বক্তব্যে তারেক রহমানের পরিমিত শব্দচয়ন ও প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীল আচরণ সাধারণ ভোটারদের মনে বিএনপির পুরনো ভাবমূর্তি বদলে দিয়েছে। এসবের প্রতিফলন ঘটেছে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একচেটিয়া জয় পেয়েছে।

বিএনপির এবারের বিজয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকাকে বড় করে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ‘তারেক রহমানের বৈচিত্র্যময় নির্বাচনী প্রচার, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং তৃণমূলকে বিবেচনায় নেওয়াসহ সময়োপযোগী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, যেমন—ফ্যামিলি কার্ড বা ফার্মার্স কার্ড, অথবা কৃষিঋণ মওকুফ করা ইত্যাদি মানুষকে বিএনপির ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলেছে। তারেক রহমানের পরিমিত শব্দচয়ন ও প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীল আচরণ ভোটারদের বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল করেছে। নিরঙ্কুশ জয়ে উল্লসিত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। সবমিলিয়ে বিএনপিতে এখন স্বস্তির সুবাতাস। এখন অপেক্ষা শুধু সরকার গঠন ও শপথ গ্রহণের। অপেক্ষা নতুন মন্ত্রিসভার।

কালের আলো/এম/এএইচ

স্প্যানিশ ক্লাবের মালিকানা কিনলেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
স্প্যানিশ ক্লাবের মালিকানা কিনলেন মেসি

কাতালানিয়ার ঐতিহাসিক ক্লাব ইউই কর্নেল্লার মালিকানা কিনেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্নেল্লা ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বার্সেলোনার সঙ্গে নিজের আজীবন আত্মিক সম্পর্ক এবং স্থানীয় প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যেই লিওনেল মেসির এই নতুন উদ্যোগ।

১৯৫১ সালে প্রতি প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি স্প্যানিশ প্রতিভা অন্বেষণের অন্যতম বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। মজার ব্যাপার হলো বর্তমান ও সাবেক অনেক সতীর্থই এই ক্লাবের একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জর্দি আলবা, জাভি পুয়াদো, ডেভিড রায়া এবং জেরার্ড মার্টিনের মতো তারকা ফুটবলাররা।

ফুটবলের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার আগ্রহ সবসময় ছিল লিওনেল মেসি। গত ডিসেম্বরে মিয়ামিতে অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে মেসি কাপ আয়োজন করে তিনি এর প্রমাণও দিয়েছিলেন। এবার সরাসরি একটি ক্লাব কিনে নেওয়ার মাধ্যমে সেই লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার।

মেসির এই প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্যই হলো স্থায়িত্ব এবং উচ্চাশার সমন্বয়ে শিকড়ের সাথে সংযোগ রেখে ক্লাবটিকে আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।

মালিকানায় মেসির আগমনে ইউই কর্নেল্লো তাদের ইতিহাসে এক নতুন যুগে পদার্পণ করল। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মেসির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং কৌশলগত দূরদর্শিতা ক্লাবটির ক্রীড়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটাবে।

কালের আলো/এসএকে

চুক্তির সময় আমিও ইসলামাবাদে যেতে পারি: ট্রাম্প 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
চুক্তির সময় আমিও ইসলামাবাদে যেতে পারি: ট্রাম্প 

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তা স্বাক্ষরের জন্য ইসলামাবাদে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকাল এ কথা বলেন ট্রাম্প। লাস ভেগাস সফরে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টারে ওঠার আগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’

চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তানে যেতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, যদি ইসলামাবাদে চুক্তি স্বাক্ষর হয়, তাহলে আমি যেতে পারি।’

চুক্তির বিষয়ে গত সপ্তাহান্তে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একটি মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে ইসলামাবাদে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে তিনি কোনো অগ্রগতি ছাড়াই ফিরে আসেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। এই আলোচনা আবার পাকিস্তানেই হতে পারে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

শিশুর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, গণপিটুনিতে নিহত ২

মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
শিশুর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, গণপিটুনিতে নিহত ২

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৮ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল (কান্দুরপার ব্রিজ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই এলাকার বাসিন্দা দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকা নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর রাত প্রায় ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার পরপরই উত্তেজিত এলাকাবাসী সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে পান্নু মিয়া (৩৮) ও মোহাম্মদ রনি (২৪) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাটিপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গণপিটুনির শিকার দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাদের মারধরের পর পানিতে ফেলে রাখা হয়। আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বনপারিল এলাকা থেকে একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় স্থানীয়রা কয়েকজনকে গণপিটুনি দিয়েছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিকেলে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর রাতে তার মরদেহ ভুট্টাক্ষেতে পাওয়া যায়। পরে সন্দেহভাজন তিনজনকে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় জনতা, এতে দুইজন নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হন।

কালের আলো/এসআর/এএএন