রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলের নেপথ্যে তারেক রহমান
কালের আলো রিপোর্ট:
দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি তদারকি ও কৌশলী নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘প্রত্যাশিত’ ভূমিধস বিজয় পেয়ে পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞ এই রাজনৈতিক দলটির নিরঙ্কুশ বিজয় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করার পেছনে দলীয় কাণ্ডারি তারেক রহমানের দূরদর্শী পদক্ষেপ, তার সহনশীল আচরণ এবং নমনীয় ও সময়োপযোগী বক্তব্য ভোটারদের মন কাড়তে সক্ষম হওয়ার বিষয়টিকে মোটা দাগে প্রাসঙ্গিক করেছে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে ফিরে তারেক রহমানের ভিন্নধর্মী গণসংযোগ সাড়া ফেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটাতে সক্ষম হবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বিএনপির একক নির্বাচনী ফল নয়; বরং দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব, সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক কৌশলের বড় জয়।
তাদের ভাষ্য হচ্ছে- গত ১৭ বছরে দলের অনেক যোগ্য ও ত্যাগী নেতার সীমাহীন আত্মত্যাগ এবং কারাবরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি এক গভীর সহমর্মিতা তৈরি করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৃষ্ট দেশব্যাপী আবেগের এক বিশাল ঢেউ ব্যালট বিপ্লবে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে।
এছাড়াও সাধারণ ভোটারদের সামনে মূলধারার দল হিসেবে ভোটে বিএনপিই ছিল একমাত্র বিকল্প। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাংকের গতিপথ পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কেউ কেউ বলছেন, বিগত কয়েক বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া বিভিন্ন হামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এ নিয়ে সম্প্রদায়টির মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বার বার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস ও নিশ্চয়তা দেয়। এতে করে এই সম্প্রদায়টি বিএনপির প্রতি আশ্বস্ত হয়ে ভোট দিয়েছে।
তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে
সময়োচিত উল্লেখ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করার ফলে দলটির সাংগঠনিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি যেভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামলেছেন এবং যোগ্যদের মূল্যায়ন করেছেন, তা দলের ভেতরকার দীর্ঘদিনের কোন্দল নিরসনে জাদুর মতো কাজ করেছে। তারেক রহমানের এই পরিপক্ক ও নমনীয় নেতৃত্বই মূলত বিএনপিকে একটি আধুনিক ও জনমুখী দল হিসেবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। নিজের প্রতিটি বক্তব্যে তারেক রহমানের পরিমিত শব্দচয়ন ও প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীল আচরণ সাধারণ ভোটারদের মনে বিএনপির পুরনো ভাবমূর্তি বদলে দিয়েছে। এসবের প্রতিফলন ঘটেছে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একচেটিয়া জয় পেয়েছে।
বিএনপির এবারের বিজয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকাকে বড় করে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ‘তারেক রহমানের বৈচিত্র্যময় নির্বাচনী প্রচার, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং তৃণমূলকে বিবেচনায় নেওয়াসহ সময়োপযোগী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, যেমন—ফ্যামিলি কার্ড বা ফার্মার্স কার্ড, অথবা কৃষিঋণ মওকুফ করা ইত্যাদি মানুষকে বিএনপির ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলেছে। তারেক রহমানের পরিমিত শব্দচয়ন ও প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীল আচরণ ভোটারদের বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল করেছে। নিরঙ্কুশ জয়ে উল্লসিত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। সবমিলিয়ে বিএনপিতে এখন স্বস্তির সুবাতাস। এখন অপেক্ষা শুধু সরকার গঠন ও শপথ গ্রহণের। অপেক্ষা নতুন মন্ত্রিসভার।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array