খুঁজুন
                               
, ,
           

সলিমপুরে সাঁড়াশি অভিযান: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
সলিমপুরে সাঁড়াশি অভিযান: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো এমন কিছু এলাকা, যেগুলো ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর তেমনই একটি এলাকার নাম হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছিল। পাহাড়ঘেরা দুর্গম ভৌগোলিক পরিবেশ, অনিয়ন্ত্রিত বসতি, এবং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি—এই সবকিছুর সম্মিলনে জঙ্গল সলিমপুর একসময় এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হয় যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল সীমিত, কিন্তু অপরাধী চক্রের প্রভাব ছিল প্রবল। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সম্প্রতি পরিচালিত “অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর” কেবল একটি আইনশৃঙ্খলা অভিযান নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই অভিযানটি বর্তমান সরকারের অন্যতম একটি সাফল্য।

অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক-
১. চট্টগ্রামে অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছিল। পাহাড়ি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি, অনিয়ন্ত্রিত বসতি এবং প্রশাসনিক নজরদারির সীমাবদ্ধতার কারণে এলাকাটি ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতায় পরিচালিত “অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর” ছিল মূলত রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অপরাধপ্রবণ কাঠামো ভেঙে দেওয়ার একটি সমন্বিত উদ্যোগ।

২. অভিযানে র‍্যাব কর্মকর্তার আত্মত্যাগ: সম্প্রতি অভিযান পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বের বাস্তবতাকেই প্রমাণ করে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক সময় তাদের জীবনকেও বাজি রাখতে হয়। সেই অর্থে এই কর্মকর্তার আত্মত্যাগ দেশের আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একটি বেদনাদায়ক কিন্তু গৌরবময় অধ্যায়।

৩. সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপট: দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করে। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় তারা কার্যত একটি সমান্তরাল ক্ষমতার কাঠামো গড়ে তোলে। এর ফলে স্থানীয় জনগণ নানা ধরনের ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হয়।

৪. অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে জঙ্গল সলিমপুর: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকাটি অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিতি পায়। পাহাড়ি পরিবেশ এবং অবৈধ বসতির বিস্তৃতি অপরাধীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

৫. সরকারের অভিযানে জনমনে আস্থার পুনর্জাগরণ: অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর পরিচালনার মাধ্যমে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে যে,রাষ্ট্র কোনো এলাকাকে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেবে না। এই পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে। দীর্ঘদিন পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি অনেকের কাছে নিরাপত্তার নতুন অনুভূতি তৈরি করেছে।

৬. উল্লেখযোগ্য অস্ত্র উদ্ধার না হলেও অপরাধের অবকাঠামো ধ্বংস: অভিযানের সময় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র বা অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার না হওয়ায় কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন। তবে এই অভিযানের প্রকৃত সাফল্য লুকিয়ে আছে অপরাধীদের ব্যবহৃত অবকাঠামো ধ্বংস করার মধ্যে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অপরাধীদের আশ্রয়স্থল ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধী নেটওয়ার্কের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করা হয়েছে।

৭. নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ বাহিনীর দুটি ক্যাম্প স্থাপন: অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এলাকায় যৌথ বাহিনীর দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা। এর ফলে এলাকায় নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অনেক সময় দেখা যায় অভিযান শেষে বাহিনী সরে গেলে অপরাধীরা আবার ফিরে আসে, কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন সেই সম্ভাবনাকে অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

৮. বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল: অভিযানের পর বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। স্থানীয় জনগণও স্বস্তির অনুভূতি প্রকাশ করছেন। তবে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হলে প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ চালিয়ে যেতে হবে।

৯. দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন: শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। জঙ্গল সলিমপুরের মতো এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে হলে পরিকল্পিত বসতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। অপরাধের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো মোকাবিলা না করলে একই সমস্যা আবার ফিরে আসতে পারে।

১০. রাষ্ট্রের উপস্থিতি ও জনগণের সহযোগিতা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিতে আগ্রহী হন, তাহলে অপরাধ দমন অনেক সহজ হয়। অপারেশন জঙ্গল সলিমপুরের মাধ্যমে যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটিকে ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জঙ্গল সলিমপুরের অভিজ্ঞতা এটাই প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রের শাসন ও আইনশৃঙ্খলা তখনই কার্যকর হয় যখন তা শুধু অভিযানের মাধ্যমে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে পারলে জঙ্গল সলিমপুর শুধু একটি অভিযানের গল্প হয়ে থাকবে না; বরং এটি হয়ে উঠতে পারে রাষ্ট্রের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি সফল উদাহরণ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা।

ক্রিকেটকে বিদায় বললেন অজিঙ্কা রাহানে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
ক্রিকেটকে বিদায় বললেন অজিঙ্কা রাহানে

দীর্ঘ ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটার অজিঙ্কা রাহানে। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

অবসরের ঘোষণায় ৩৮ বছর বয়সী রাহানে বলেন, “জীবনের সত্য এটাই যে, সবকিছুর শুরু এবং শেষ আছে। সময়কে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। ব্যাটিংয়ের সময় সবসময় ‘টাইমিং’-এর ওপর ভরসা রেখেছি। আজ আমার মনে হচ্ছে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার এটাই সঠিক সময়। তাই আন্তর্জাতিকসহ সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি।”

ভারতের হয়ে রাহানের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত টেস্ট। সেটিই শেষ পর্যন্ত তার জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ হয়ে রইল।

২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় রাহানের। পরে তিনি তিন সংস্করণেই ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। ৮৫টি টেস্টে ১২টি সেঞ্চুরি ও ২৬টি হাফসেঞ্চুরিসহ ৫,০৭৭ রান করেন তিনি। এছাড়া ৯০টি ওয়ানডেতে ২,৯৬২ রান এবং ২০টি টি-টোয়েন্টিতে ৩৭৫ রান করেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ায় তাকে আর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এও দেখা যাবে না। ফলে তার দল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে এখন নতুন অধিনায়কের সন্ধানে নামতে হবে।

ভারতীয় ক্রিকেটে নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে পরিচিত রাহানে বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে অসংখ্য স্মরণীয় ইনিংস উপহার দিয়েছেন। তার বিদায়ে ভারতীয় ক্রিকেটের একটি সফল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

কালের আলো/এসএ

ফরাসি ডিজে কাভিনস্কি আর নেই, মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ফরাসি ডিজে কাভিনস্কি আর নেই, মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত

ফ্রান্সের জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক সংগীতশিল্পী ও ডিজে ভিনসেন্ট বেলোরজে, যিনি ‘ডিজে কাভিনস্কি’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্যারিসে নিজ বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন। বুধবার দেশটির প্রসিকিউটররা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রাথমিকভাবে কোনো সন্দেহজনক আলামত পাওয়া যায়নি। এর আগে প্যারিসভিত্তিক দৈনিক Le Parisien প্রথম তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে।

আগামী ৩১ জুলাই তার ৫১তম জন্মদিন ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী ক্যাথরিন পেগার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, “কাভিনস্কির মৃত্যুতে ফ্রান্স একজন ব্যতিক্রমী শিল্পীকে হারাল। তার সংগীত নাচের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি স্মৃতি ও আবেগকে জীবন্ত করে তুলত। তাই তার সৃষ্টি প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।”

প্যারিসের উপকণ্ঠ সাঁ-দেনিতে বেড়ে ওঠা ভিনসেন্ট বেলোরজে ছোটবেলায় নিজ উদ্যোগে পিয়ানো শেখেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে সংগীতজগতে তার যাত্রা শুরু হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ফরাসি ইলেকট্রনিক সংগীত জুটি ডাফট পাঙ্কসহ বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে মঞ্চে পারফর্ম করেন এবং পরবর্তীতে সেবাস্তিয়াঁসহ আরও অনেক সংগীতশিল্পীর সঙ্গে কাজ করেন।

২০১০ সালে প্রকাশিত তার জনপ্রিয় গান ‘Nightcall’ তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। ২০১১ সালে হলিউডের আলোচিত চলচ্চিত্র Drive-এ গানটি ব্যবহারের পর বিশ্বজুড়ে নতুন শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের সমাপনী অনুষ্ঠানেও তিনি এই বিখ্যাত গান পরিবেশন করেন।

কাভিনস্কির সংগীতে ১৯৮০-এর দশকের সিনেমা, ভিডিও গেম এবং সিন্থ-ওয়েভ ঘরানার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। ‘কাভিনস্কি’ ছিল তারই সৃষ্ট একটি কাল্পনিক চরিত্র, যার মাধ্যমে তিনি নিজের শিল্পীসত্তাকে উপস্থাপন করতেন। ২০০৭ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নিজের বাস্তব পরিচয়ের পরিবর্তে এই রহস্যময় চরিত্রের মাধ্যমে সংগীত ও গল্প তুলে ধরতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

স্বতন্ত্র সংগীতধারা, সৃজনশীল চরিত্র নির্মাণ এবং অনন্য শিল্পীসত্তার জন্য কাভিনস্কি বিশ্ব ইলেকট্রনিক সংগীত অঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

কালের আলো/এসএ

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফিফার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফিফার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে পরাজয়ের পর খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষ ও টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ খেলোয়াড় ও আর্জেন্টিনা দলের ফুটবলার-কোচিং স্টাফদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে একজন বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছিল ফিফা। সপ্তাহব্যাপী তদন্ত শেষে তার সুপারিশের ভিত্তিতে ফিফা শৃঙ্খলা কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের নিজস্ব বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়া শেষে যথাসময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তদন্ত ও অভিযোগের মুখে যাঁরা:

প্রসিকিউটরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর ধারার আওতায় তদন্ত চলছে:

লিওনার্দো পারেদেস: তাঁর বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ফাইনাল শেষে স্পেনের বদলি খেলোয়াড়েরা মাঠে নামলে গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মুখে আঘাত করার পাশাপাশি স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকেও আঘাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

নাহুয়েল মলিনা: তাঁর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার একটি খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী অপরাধ।

রবার্তো আয়ালা (সহকারী কোচ): দানি ওলমোকে আঘাত করার দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্তাধীন।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংঘর্ষের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের অন্তত ১ থেকে ৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হতে পারে।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (AFA) ওপর অভিযোগ:

শুধু ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়দের ওপরই নয়, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটি ধারায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: খেলাধুলার চেতনাবিরোধী কার্যক্রম (ধারা ১৩),দলের অসদাচরণ (ধারা ১৪),বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ (ধারা ১৫),ম্যাচে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার নিয়ম ভঙ্গ (ধারা ১৭)

এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু করা, সমর্থকদের অনুপযুক্ত বার্তার ব্যানার প্রদর্শন এবং দর্শকদের মাঠে বস্তু নিক্ষেপের মতো অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের পর স্প্যানিশ ভাষায় “ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার” লেখা ব্যানার প্রদর্শনের বিষয়টিকে খেলাধুলার রাজনৈতিক ব্যবহারের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে ফিফা। এর আগে ২০১৪ সালেও একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনাকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছিল।

কালের আলো/এসএ