খুঁজুন
                               
, ,
           

সলিমপুরে সাঁড়াশি অভিযান: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
সলিমপুরে সাঁড়াশি অভিযান: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো এমন কিছু এলাকা, যেগুলো ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর তেমনই একটি এলাকার নাম হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছিল। পাহাড়ঘেরা দুর্গম ভৌগোলিক পরিবেশ, অনিয়ন্ত্রিত বসতি, এবং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি—এই সবকিছুর সম্মিলনে জঙ্গল সলিমপুর একসময় এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হয় যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল সীমিত, কিন্তু অপরাধী চক্রের প্রভাব ছিল প্রবল। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সম্প্রতি পরিচালিত “অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর” কেবল একটি আইনশৃঙ্খলা অভিযান নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই অভিযানটি বর্তমান সরকারের অন্যতম একটি সাফল্য।

অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক-
১. চট্টগ্রামে অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছিল। পাহাড়ি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি, অনিয়ন্ত্রিত বসতি এবং প্রশাসনিক নজরদারির সীমাবদ্ধতার কারণে এলাকাটি ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতায় পরিচালিত “অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর” ছিল মূলত রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অপরাধপ্রবণ কাঠামো ভেঙে দেওয়ার একটি সমন্বিত উদ্যোগ।

২. অভিযানে র‍্যাব কর্মকর্তার আত্মত্যাগ: সম্প্রতি অভিযান পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বের বাস্তবতাকেই প্রমাণ করে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক সময় তাদের জীবনকেও বাজি রাখতে হয়। সেই অর্থে এই কর্মকর্তার আত্মত্যাগ দেশের আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একটি বেদনাদায়ক কিন্তু গৌরবময় অধ্যায়।

৩. সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপট: দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করে। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় তারা কার্যত একটি সমান্তরাল ক্ষমতার কাঠামো গড়ে তোলে। এর ফলে স্থানীয় জনগণ নানা ধরনের ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হয়।

৪. অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে জঙ্গল সলিমপুর: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকাটি অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিতি পায়। পাহাড়ি পরিবেশ এবং অবৈধ বসতির বিস্তৃতি অপরাধীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

৫. সরকারের অভিযানে জনমনে আস্থার পুনর্জাগরণ: অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর পরিচালনার মাধ্যমে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে যে,রাষ্ট্র কোনো এলাকাকে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেবে না। এই পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে। দীর্ঘদিন পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি অনেকের কাছে নিরাপত্তার নতুন অনুভূতি তৈরি করেছে।

৬. উল্লেখযোগ্য অস্ত্র উদ্ধার না হলেও অপরাধের অবকাঠামো ধ্বংস: অভিযানের সময় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র বা অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার না হওয়ায় কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন। তবে এই অভিযানের প্রকৃত সাফল্য লুকিয়ে আছে অপরাধীদের ব্যবহৃত অবকাঠামো ধ্বংস করার মধ্যে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অপরাধীদের আশ্রয়স্থল ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধী নেটওয়ার্কের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করা হয়েছে।

৭. নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ বাহিনীর দুটি ক্যাম্প স্থাপন: অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এলাকায় যৌথ বাহিনীর দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা। এর ফলে এলাকায় নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অনেক সময় দেখা যায় অভিযান শেষে বাহিনী সরে গেলে অপরাধীরা আবার ফিরে আসে, কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন সেই সম্ভাবনাকে অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

৮. বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল: অভিযানের পর বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। স্থানীয় জনগণও স্বস্তির অনুভূতি প্রকাশ করছেন। তবে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হলে প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ চালিয়ে যেতে হবে।

৯. দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন: শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। জঙ্গল সলিমপুরের মতো এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে হলে পরিকল্পিত বসতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। অপরাধের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো মোকাবিলা না করলে একই সমস্যা আবার ফিরে আসতে পারে।

১০. রাষ্ট্রের উপস্থিতি ও জনগণের সহযোগিতা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিতে আগ্রহী হন, তাহলে অপরাধ দমন অনেক সহজ হয়। অপারেশন জঙ্গল সলিমপুরের মাধ্যমে যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটিকে ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জঙ্গল সলিমপুরের অভিজ্ঞতা এটাই প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রের শাসন ও আইনশৃঙ্খলা তখনই কার্যকর হয় যখন তা শুধু অভিযানের মাধ্যমে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে পারলে জঙ্গল সলিমপুর শুধু একটি অভিযানের গল্প হয়ে থাকবে না; বরং এটি হয়ে উঠতে পারে রাষ্ট্রের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি সফল উদাহরণ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা।

খুন-ধর্ষণ-নারী নির্যাতনে উদ্বেগ, কুমিল্লায় ৯ মাসে ১১১ প্রাণহানি

কুমিল্লা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
খুন-ধর্ষণ-নারী নির্যাতনে উদ্বেগ, কুমিল্লায় ৯ মাসে ১১১ প্রাণহানি

কুমিল্লায় খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী ও স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর সম্প্রতি সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জেলাজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কুমিল্লায় ১১১টি খুন ও ১৩৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ২৩২টি।

জেলার ১৮টি থানার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নয় মাসে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে মোট চার হাজার ৯৬৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অপহরণের ১৪টি ও ডাকাতির ৩৬টি ঘটনা রয়েছে। এ ছাড়া দাঙ্গা, দস্যুতা, চুরি, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশের দাবি, হত্যা ও ধর্ষণসহ প্রতিটি ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তারা সক্ষম হয়েছে। তবে ধারাবাহিক অপরাধের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদেরা। তাঁদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে অপরাধের চিত্র

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে কুমিল্লায় ১৪টি খুন, ১৬টি ধর্ষণ ও ১৭টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মোট ৪৯১টি অপরাধের মামলা হয়। ফেব্রুয়ারিতে ১২টি খুন, ৮টি ধর্ষণ ও ১৯টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মামলা হয় ৪০৭টি।

মার্চে ১১টি খুন, ৯টি ধর্ষণ ও ১৮টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মোট মামলার সংখ্যা ছিল ৫১৭। এপ্রিলে ১০টি খুন, ২০টি ধর্ষণ ও ২৮টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মামলা হয় ৫৮৪টি। মে মাসে খুনের সংখ্যা বেড়ে ১৭টিতে দাঁড়ায়, যা উল্লেখিত মাসগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এ মাসে ১২টি ধর্ষণ ও ২৪টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মোট ৬১২টি অপরাধের মামলা হয়। জুনে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৪১টি, যা ওই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ মাসে ১০টি খুন ও ২১টি ধর্ষণের ঘটনাসহ মামলা হয় ৫৭৭টি।

জুলাইয়ে ১০টি খুন, ২২টি ধর্ষণ ও ৩০টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মোট ৫০৯টি মামলা হয়। আগস্টে ১১টি খুন, ১৭টি ধর্ষণ ও ২১টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মামলা হয় ৫৮৫টি। সেপ্টেম্বর মাসে খুনের সংখ্যা বেড়ে ১৬টিতে দাঁড়ায়। এ মাসে ১৪টি ধর্ষণ ও ৩৪টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনাসহ মোট ৬৮১টি অপরাধের মামলা নথিভুক্ত হয়।

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা

এপ্রিল মাসের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা। ২৫ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে বাসে এসে কুমিল্লার ঝাগুরঝুলি এলাকায় মহাসড়কে নামার পর তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন এবং নিহত হন। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সোহাগ, এমরান, রাহাত ও সুজন নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।

আইফোনের জন্য স্কুলছাত্র অপ্রতিমকে হত্যা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের বরাতে জানা যায়, অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। একটি মুঠোফোনের জন্য স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনা কিশোর অপরাধ, অপরাধী চক্রের তৎপরতা এবং শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

সর্বশেষ আলোচিত ঘটনাটি ঘটে অক্টোবরে। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসা থেকে বের হয় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। এরপর তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনাটি শিশু-কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং যৌন সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে।

দেবিদ্বারে বৃদ্ধা হত্যার পর মরদেহ টুকরো করার ঘটনা

গত ৭ আগস্ট রাতে দেবিদ্বার উপজেলা সদরে ফরিদা ইয়াসমিন নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরদিন পাশের একটি ডোবা থেকে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের খণ্ডগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তার ও তাঁর সহযোগী আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডও জেলার অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

‘শুধু অভিযান চালিয়ে অপরাধ বন্ধ করা যাবে না’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান বলেন, কিশোর অপরাধসহ সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বেড়েছে। শুধু অভিযান চালিয়ে এসব অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, গতানুগতিক পদ্ধতিতে এখন আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। এ জন্য রাষ্ট্রকে নতুন করে ভাবতে হবে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার থেকেই উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শিশু-কিশোরেরা যেন মুঠোফোনে অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সজাগ থাকার পরামর্শও দেন এই শিক্ষাবিদ।

ধর্ষণ মামলার বিচার বিলম্বের কারণ

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুহাম্মদ বদিউল আলম বলেন, ধর্ষণ মামলার তদন্তে ধীরগতি, একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন, ডাক্তারি পরীক্ষা ও ডিএনএ প্রতিবেদন পেতে দেরি এবং সাক্ষী পাওয়া নিয়ে জটিলতার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষী সময়মতো না পাওয়াও বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে অনেক ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. শারমিন সুলতানা বলেন, অনেক সময় আলামত নষ্ট হওয়ার পর ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আনা হয়। পোশাকসহ অন্যান্য আলামতও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে অপরাধের তদন্তের পাশাপাশি আলামত সংরক্ষণ, দ্রুত ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের গুরুত্ব উঠে এসেছে। বিশেষ করে ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের মামলায় দ্রুত ও নির্ভুল তদন্ত বিচারপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পুলিশের দাবি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলছে অভিযান

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, হত্যা ও ধর্ষণসহ প্রতিটি ঘটনার রহস্য স্বল্প সময়ের মধ্যে উদ্‌ঘাটনে পুলিশ সক্ষম হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগ, এসআরবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। নানা ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

হাতি-ঘোড়া-পুতুল গড়তে নির্ঘুম কনিকা রানী, পূজার মেলায় ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

কুড়িগ্রাম,সংবাদদাতা কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
হাতি-ঘোড়া-পুতুল গড়তে নির্ঘুম কনিকা রানী, পূজার মেলায় ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

সকাল থেকে রাত—দম ফেলার ফুরসত নেই কনিকা রানী পালের। দুর্গাপূজার মেলা সামনে রেখে মাটির হাতি, ঘোড়া, বাঘ, পুতুল ও নানা ধরনের তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁর। দোকানিদের কাছ থেকে আগেই পাওয়া পাইকারি অর্ডার নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করতে দিন-রাত কাজ করছেন তিনি। এক হাতে কাদামাটি, অন্য হাতে রংতুলি—এভাবেই চলছে তাঁর কর্মযজ্ঞ। মাটির তৈরি এসব পণ্য বিক্রির আয়েই চলে তাঁর ছয় সদস্যের পরিবারের সংসার।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মামাবাড়ি কালীর মেলা গ্রামের বাসিন্দা কনিকা রানী পাল। বংশপরম্পরায় মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত তাঁর পরিবার। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মাটির পণ্যের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় বছরের এই সময়টিতে কাজের চাপও বেড়ে যায়। তবে বাড়তি চাহিদার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও প্লাস্টিকের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নিয়ে দুশ্চিন্তাও রয়েছে তাঁদের।

পূজার মৌসুমে বাড়ে কাজ, রাতদিন পরিশ্রম

কনিকা রানীর পরিবার সারা বছরই কমবেশি মাটির পণ্য তৈরি করে। তবে দুর্গাপূজার মৌসুম তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় বিভিন্ন মেলার দোকানিরা আগে থেকেই যোগাযোগ করে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের অর্ডার দেন। অল্প সময়ের মধ্যে সেই অর্ডার পূরণ করতে পরিবারের সবাইকে ব্যস্ত থাকতে হয়। কনিকা রানীর স্বামী শিবু চন্দ্র পাল ও শ্বশুর খগেন্দ্রনাথ পাল মেলায় এবং বিভিন্ন হাটবাজারে মাটির তৈরি পণ্য বিক্রি করেন। অন্যদিকে, বাড়িতে বসে কাদামাটি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আকৃতির পণ্য তৈরির প্রধান কাজটি করেন কনিকা রানী। পরিবারের অন্য নারী-পুরুষেরাও তাঁকে সহযোগিতা করেন।

কনিকা রানীর শ্বশুর খগেন্দ্রনাথ পাল বলেন, ‘সারাবছর কমবেশি মাটির কাজ হলেও দুর্গাপূজার এই সময়ের জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকি। এ সময় মাটির পণ্যের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দোকানিরা আগে যোগাযোগ করে চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার দেন। আমাদেরও অল্প সময়ের মধ্যে সেই কাজ তুলতে হয়।’

মাটির হাতি-ঘোড়া থেকে হাঁড়ি-পাতিল, উঠানজুড়ে কর্মযজ্ঞ

কনিকা রানীর বাড়ির উঠানজুড়ে এখন মাটির ঘ্রাণ আর রঙের সমারোহ। শিশুদের জন্য তৈরি হচ্ছে মাটির হাতি, ঘোড়া, বাঘ, পুতুল ও টাকা জমানোর ব্যাংক। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে হাঁড়ি, পাতিল, কলস, কুলা, ধূপদানি, সানকি ও সানাইসহ নানা ধরনের সামগ্রী। প্রথমে কাদামাটি দিয়ে পছন্দমতো আকৃতি তৈরি করা হয়। এরপর সেগুলো শুকিয়ে চুল্লিতে পুড়িয়ে শক্ত করা হয়। সবশেষে পণ্যের গায়ে লাল, নীল, হলুদ ও সবুজসহ বিভিন্ন রঙের ছোঁয়া দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়। প্রতিটি ধাপেই প্রয়োজন হয় সময়, শ্রম ও দক্ষতার। রাজারহাটের পাশাপাশি কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর ও চিলমারীর বিভিন্ন পালপাড়াতেও এখন একই ব্যস্ততা। দুর্গাপূজার মেলাকে সামনে রেখে এসব এলাকার মৃৎশিল্পীরাও অর্ডার অনুযায়ী পণ্য তৈরিতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন।

পূজার আয়েই মেটে সংসারের বড় অংশের খরচ

কনিকা রানীর কাছে মৃৎশিল্প শুধু বংশপরম্পরায় পাওয়া একটি পেশা নয়, পরিবারের জীবিকা নির্বাহেরও প্রধান অবলম্বন। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় পূজার মৌসুমে কাজ ও বিক্রির সুযোগ বাড়ে। এ সময়ের আয় দিয়ে সংসারের বার্ষিক খরচের বড় একটি অংশ মেটাতে হয়। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে কনিকা রানী পাল বলেন, ‘আমার বাবার বাড়িতেও মৃৎশিল্পের কাজ করতাম। বিয়ে হওয়ার পর স্বামীর বাড়িতেও করি। পূজার মৌসুমের আয় দিয়ে বছরের সংসার খরচের বড় একটি অংশ মেটাতে হয়।’ তাই মেলার আগে অর্ডার পাওয়া তাঁদের জন্য যেমন কাজের চাপ বাড়ায়, তেমনি সংসারের প্রয়োজন মেটানোর আশাও তৈরি করে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য তৈরি ও সরবরাহ করতে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।

মাটি-লাকড়ি-রঙের দাম বাড়ায় বাড়ছে উৎপাদন খরচ

উৎসবের মৌসুমে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা বাড়লেও তাঁদের দুশ্চিন্তা কম নয়। মাটি, লাকড়ি ও রঙের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্য তৈরির খরচও বেড়েছে। কিন্তু মেলার বাজারে সব সময় শ্রম ও উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের দাম পাওয়া যায় না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তুলনামূলক কম দামের প্লাস্টিকের পণ্যের প্রতিযোগিতা। কুড়িগ্রাম সদরের কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামেও মৃৎশিল্পীরা দিন-রাত পণ্য তৈরিতে ব্যস্ত। তবে বাড়তি ব্যয়ের কারণে তাঁদের লাভের পরিমাণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্থানীয় মৃৎশিল্পের প্রবীণ কারিগর ব্রজেন্দ্র নাথ পাল বলেন, ‘প্লাস্টিকের জিনিস যদি বন্ধ হয়ে যায় আবার এই মাটির কাজ ভালোভাবে চলবে। আমরা ভালোভাবে চলতে পারব।’

তাঁর বক্তব্যে মাটির তৈরি ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সঙ্গে প্লাস্টিকের সামগ্রীর প্রতিযোগিতা নিয়ে কারিগরদের উদ্বেগ উঠে এসেছে। মৃৎশিল্পীদের মতে, ঐতিহ্যবাহী এ পেশাকে টিকিয়ে রাখতে তাঁদের তৈরি পণ্যের বাজার ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।

সহযোগিতার আশ্বাস বিসিকের

মৃৎশিল্পীদের কাজের সুযোগ বাড়ানো এবং তাঁদের সহায়তার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন, কনিকা রানী পাল আবেদন করলে বিসিক থেকে তাঁকে সহযোগিতা করা হবে। এ ধরনের সহযোগিতা মৃৎশিল্পীদের উৎপাদন ও বিপণনের সুযোগ বাড়াতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নির্ভর করবে সহায়তার ধরন ও বাস্তবায়নের ওপর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারা, ডিএসইএক্স বাড়ল ২৬ পয়েন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারা, ডিএসইএক্স বাড়ল ২৬ পয়েন্ট

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু হয়েছে। দিনের প্রথম আধা ঘণ্টায় ডিএসইতে ৫৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এ সময়ে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দামও বেড়েছে।ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করে। এ সময় ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ডিএসইতে মোট ৫৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এ সময়ে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৩৮টির কমেছে এবং ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে সার্প ইন্ডাস্ট্রি, মতিন স্পিনিং, ফার কেমিক্যাল, এশিয়াটিক ল্যাব, আইসিবি এমসিএল সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স, ব্র্যাক ব্যাংক, ইভেন্সি টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ও প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড।দিনের লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে যায়। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সূচক আগের অবস্থান থেকে আরও ৩ পয়েন্ট বাড়ে। এরপরও সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। লেনদেন শুরুর ২০ মিনিট পর, সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৫২ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় সূচকটি ৫ হাজার ৪৪৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই আগের অবস্থানের তুলনায় ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৫৪৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এ সময় পর্যন্ত সিএসইতে ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৪টির কমেছে এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি