খুঁজুন
                               
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২৯ চৈত্র, ১৪৩২
           

সলিমপুরে সাঁড়াশি অভিযান: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
সলিমপুরে সাঁড়াশি অভিযান: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো এমন কিছু এলাকা, যেগুলো ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর তেমনই একটি এলাকার নাম হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছিল। পাহাড়ঘেরা দুর্গম ভৌগোলিক পরিবেশ, অনিয়ন্ত্রিত বসতি, এবং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি—এই সবকিছুর সম্মিলনে জঙ্গল সলিমপুর একসময় এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হয় যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল সীমিত, কিন্তু অপরাধী চক্রের প্রভাব ছিল প্রবল। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সম্প্রতি পরিচালিত “অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর” কেবল একটি আইনশৃঙ্খলা অভিযান নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই অভিযানটি বর্তমান সরকারের অন্যতম একটি সাফল্য।

অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক-
১. চট্টগ্রামে অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছিল। পাহাড়ি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি, অনিয়ন্ত্রিত বসতি এবং প্রশাসনিক নজরদারির সীমাবদ্ধতার কারণে এলাকাটি ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতায় পরিচালিত “অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর” ছিল মূলত রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অপরাধপ্রবণ কাঠামো ভেঙে দেওয়ার একটি সমন্বিত উদ্যোগ।

২. অভিযানে র‍্যাব কর্মকর্তার আত্মত্যাগ: সম্প্রতি অভিযান পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বের বাস্তবতাকেই প্রমাণ করে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক সময় তাদের জীবনকেও বাজি রাখতে হয়। সেই অর্থে এই কর্মকর্তার আত্মত্যাগ দেশের আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একটি বেদনাদায়ক কিন্তু গৌরবময় অধ্যায়।

৩. সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপট: দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করে। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় তারা কার্যত একটি সমান্তরাল ক্ষমতার কাঠামো গড়ে তোলে। এর ফলে স্থানীয় জনগণ নানা ধরনের ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হয়।

৪. অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে জঙ্গল সলিমপুর: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকাটি অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিতি পায়। পাহাড়ি পরিবেশ এবং অবৈধ বসতির বিস্তৃতি অপরাধীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

৫. সরকারের অভিযানে জনমনে আস্থার পুনর্জাগরণ: অপারেশন জঙ্গল সলিমপুর পরিচালনার মাধ্যমে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে যে,রাষ্ট্র কোনো এলাকাকে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেবে না। এই পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে। দীর্ঘদিন পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি অনেকের কাছে নিরাপত্তার নতুন অনুভূতি তৈরি করেছে।

৬. উল্লেখযোগ্য অস্ত্র উদ্ধার না হলেও অপরাধের অবকাঠামো ধ্বংস: অভিযানের সময় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র বা অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার না হওয়ায় কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন। তবে এই অভিযানের প্রকৃত সাফল্য লুকিয়ে আছে অপরাধীদের ব্যবহৃত অবকাঠামো ধ্বংস করার মধ্যে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অপরাধীদের আশ্রয়স্থল ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধী নেটওয়ার্কের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করা হয়েছে।

৭. নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ বাহিনীর দুটি ক্যাম্প স্থাপন: অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এলাকায় যৌথ বাহিনীর দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা। এর ফলে এলাকায় নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অনেক সময় দেখা যায় অভিযান শেষে বাহিনী সরে গেলে অপরাধীরা আবার ফিরে আসে, কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন সেই সম্ভাবনাকে অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

৮. বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল: অভিযানের পর বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। স্থানীয় জনগণও স্বস্তির অনুভূতি প্রকাশ করছেন। তবে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হলে প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ চালিয়ে যেতে হবে।

৯. দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন: শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। জঙ্গল সলিমপুরের মতো এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে হলে পরিকল্পিত বসতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। অপরাধের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো মোকাবিলা না করলে একই সমস্যা আবার ফিরে আসতে পারে।

১০. রাষ্ট্রের উপস্থিতি ও জনগণের সহযোগিতা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিতে আগ্রহী হন, তাহলে অপরাধ দমন অনেক সহজ হয়। অপারেশন জঙ্গল সলিমপুরের মাধ্যমে যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটিকে ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জঙ্গল সলিমপুরের অভিজ্ঞতা এটাই প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রের শাসন ও আইনশৃঙ্খলা তখনই কার্যকর হয় যখন তা শুধু অভিযানের মাধ্যমে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে পারলে জঙ্গল সলিমপুর শুধু একটি অভিযানের গল্প হয়ে থাকবে না; বরং এটি হয়ে উঠতে পারে রাষ্ট্রের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি সফল উদাহরণ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা।

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যা পায়নি, আলোচনায় তা চেয়েছে : ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যা পায়নি, আলোচনায় তা চেয়েছে : ইরান

ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক। কোনো শান্তি বা সমঝোতা চুক্তি ছড়াই ফিরে যাচ্ছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকের ব্যর্থতা নিয়ে ইরানের প্রতিনিধি দল এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সংবাদ সম্মেলন করেনি। তবে ইরানি প্রতিনিধি দলের সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদামাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে—হরমুজ প্রণালি, পরমাণু প্রকল্পসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মত পার্থক্যের কারণেই ব্যর্থ হয়েছে বৈঠক।

হরমুজ প্রণালি, ইরানের শান্তিপূর্ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষী শর্ত এ বৈঠকের ব্যর্থতার প্রধান কারন। যুদ্ধে তারা যা যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার মাধ্যমে সেসব তারা দখল করতে চেয়েছিল, ফার্স নিউজকে বলেছে ইরানি প্রতিনিধি দলের সূত্র।

উল্লেখ্য,ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১১ এপ্রিল সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা, যা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে।

সূত্র : আলজাজিরা

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তান ছাড়লেন ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তান ছাড়লেন ভ্যান্স

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার কথা জানানোর পরপরই পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। এয়ার ফোর্স টু বিমানে করে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ভ্যান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বিমানটি উড্ডয়নের আগে তিনি সিঁড়ির উপর থেকে হাত নাড়েন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ শুরু হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। এর পরেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পাকিস্তান ত্যাগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, আমরা ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেছি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাও করেছি, এটাই ভালো খবর। তবে ‘খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি,’ যোগ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ‘সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই এসেছিল’ উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নমনীয় মনোভাব এবং ‘সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই’ আলোচনায় এসেছিল, কিন্তু দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক।

সূত্র : বিবিসি, ডন

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সমঝোতা ছাড়াই ‘ভেস্তে গেল’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
সমঝোতা ছাড়াই ‘ভেস্তে গেল’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

শান্তি আলোচনায় ইরানের নেতৃত্ব দেন স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ আলোচনার পরও ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত ভেস্তে গেছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স জানান, আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল এখন পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। সূত্র: বিবিসি ও ডনের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা শুরু করে ইরান। একই সঙ্গে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে প্রায় সারা বিশ্বে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়। এতে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়।

এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এরপর ইরানও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর ধারাবাহিকতায় যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করতে গতকাল ইসলামাবাদে আলোচনায় বসে দুই পক্ষ। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি হোটেলে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি এ আলোচনা শুরু হয়।

আলোচনায় লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলা, হরমুজ প্রণালি পরিস্থিতি, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় দেওয়ার প্রসঙ্গসহ নানা বিষয় উঠে আসে। দীর্ঘ প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, দুই পক্ষের দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে মার্কিন প্রতিনিধি দল এখন পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বন্ধ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘সরল সত্য হলো, আমাদের এমন একটি স্পষ্ট অঙ্গীকার দেখতে হবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো উপায়ও অনুসরণ করবে না, যার মাধ্যমে দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা সম্ভব।’

এটিকে ট্রাম্পের ‘মূল লক্ষ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংস করা হয়েছে’, তবে ভবিষ্যতে তারা যেন পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরি করে এ বিষয়ে ‘সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ প্রয়োজন। কিন্তু এ ধরনের অঙ্গীকার আমরা এখনো দেখিনি। তবে আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে দেখব।’

যুক্তরাষ্ট্র ‘সদিচ্ছা নিয়েই’ আলোচনায় এসেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নমনীয়তা ও ‘সদিচ্ছা’ নিয়ে অংশ নিয়েছিল। আমরা একটি খুবই স্পষ্ট প্রস্তাব নিয়ে এখানে এসেছিলাম, এটিই আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। এখন দেখা যাক, ইরান এটি গ্রহণ করে কি না।’

কালের আলো/এসাআর/এএএন