খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রথম মাসে হত্যা শূন্য: সীমান্ত কূটনীতিতে সরকারের অভূতপূর্ব সাফল্য

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
প্রথম মাসে হত্যা শূন্য: সীমান্ত কূটনীতিতে সরকারের অভূতপূর্ব সাফল্য

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার প্রতীক—যেখানে মানবিকতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেয়ে বেশি প্রতিধ্বনিত হয়েছে গুলির শব্দ, লাশের মিছিল এবং অমানবিকতার করুণ চিত্র। বছরের পর বছর ধরে সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা যেন এক নির্মম নিয়মে পরিণত হয়েছিল। এমন এক প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মাসেই সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে আসা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন—যা শুধু পরিসংখ্যানগত সাফল্য নয়, বরং কূটনৈতিক দক্ষতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নির্ধারণের এক শক্তিশালী প্রতিফলন।

১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এক মাস পূর্ণ করেছে নতুন সরকার। এই স্বল্প সময়ের খতিয়ানে যদি একটি অর্জন আলাদাভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, সেটি হলো সীমান্তে শান্তির এই নজিরবিহীন পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের রক্তাক্ত বাস্তবতার বিপরীতে গত এক মাসে বিএসএফ-এর গুলিতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি—যা অতীতের ধারাবাহিকতার সঙ্গে তুলনা করলে একেবারেই ব্যতিক্রমী এবং গভীরভাবে আশাব্যঞ্জক।

সীমান্ত হত্যার বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকট, যার শিকড় বহু বছরের অব্যবস্থাপনা, দুর্বল কূটনীতি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে নিহিত। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে সীমান্তে নিহত বাংলাদেশিদের সংখ্যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

২০২৫ সালে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া ২০২৪ সালে প্রায় ২৮ জন, ২০২৩ সালে প্রায় ২০ জন, ২০২২ সালে ১৭ জন এবং ২০২১ সালে ১৬ জন নিহত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা স্পষ্ট করে যে, সীমান্ত হত্যা কোনো আকস্মিক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি কাঠামোগত সংকট, যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান ছিল।

এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; বরং প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন এবং একটি অসমাপ্ত জীবনের গল্প। বিশেষ করে ২০১১ সালের কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানীর নির্মম মৃত্যু—যেখানে তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা—বাংলাদেশের মানুষের চেতনায় এক গভীর ক্ষত তৈরি করে। সেই ঘটনার প্রতীকী গুরুত্ব আজও সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

শুধু অতীত নয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তিন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অর্থাৎ, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগ পর্যন্তও সীমান্ত পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক এবং অস্থির।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকারের প্রথম মাসেই সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে আসা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী সাফল্য। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং কার্যকর নেতৃত্ব, সুস্পষ্ট নীতিনির্ধারণ এবং দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থানের ফল। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে—সীমান্তে বিনা কারণে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এই বার্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের ব্যাপক জনসমর্থন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করেছে। ফলে বিএসএফ-এর আচরণে একটি দৃশ্যমান সংযম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আরও সতর্ক, সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। দুই পক্ষের এই পরিবর্তিত মনোভাব সীমান্ত পরিস্থিতিকে ইতিবাচক দিকে নিয়ে এসেছে।

নতুন সরকারের অন্যতম মূলনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতীয়মান হয়। রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকের জীবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, তখন সেই নীতির প্রতিফলন শুধু অভ্যন্তরীণ নীতিতে নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও দৃশ্যমান হয়। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সেই নীতিরই একটি বাস্তব ও কার্যকর প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কৌশলগত সঠিক পদক্ষেপের সমন্বয় ঘটলে দীর্ঘদিনের সমস্যারও সমাধান সম্ভব।

এই সাফল্যের পেছনে কেবল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নয়, বরং একটি সমন্বিত রাষ্ট্রযন্ত্র কাজ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিজিবি—সবাই একযোগে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে উত্তেজনা কমেছে এবং সহিংসতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বিজিবি শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং একটি প্রো-অ্যাকটিভ ভূমিকা গ্রহণ করেছে। গত এক মাসে তারা প্রায় দুই শত কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করেছে, ২০টি বিদেশি অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এবং মাদকসহ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে। এসব কার্যক্রম সীমান্তকে শুধু শান্তই করেনি, বরং অপরাধ দমনেও কার্যকর অবদান রেখেছে।

যদিও বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক, তবুও এখনই আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। সীমান্ত একটি জটিল ও সংবেদনশীল এলাকা, যেখানে যেকোনো সময় পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। বিজিবি ইতোমধ্যেই সীমান্ত এলাকার জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম, চোরাচালান কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো অপরিহার্য। কারণ অনেক সময় সাধারণ মানুষের অসচেতনতা বা অর্থনৈতিক প্রয়োজনে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়া শুধু একটি অভ্যন্তরীণ সাফল্য নয়; এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এই পরিস্থিতির উন্নতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং মানবাধিকার রক্ষায় দেশের অঙ্গীকারকে বিশ্বমঞ্চে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সীমান্ত কেবল একটি ভৌগোলিক বিভাজন নয়; এটি দুই দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ—সবকিছুর জন্য একটি শান্ত ও নিরাপদ সীমান্ত অপরিহার্য। বর্তমান পরিস্থিতি সেই সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এই ধারা অব্যাহত রাখা গেলে সীমান্ত আর সংঘাতের প্রতীক হবে না; বরং এটি সহযোগিতা, পারস্পরিক সম্মান এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।

শেষ কথা
বিএনপি সরকারের প্রথম মাসে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে আসা নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক নেতৃত্ব, দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান এবং সমন্বিত রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যারও কার্যকর সমাধান সম্ভব।
তবে এই সাফল্য ধরে রাখা আরও বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, সতর্কতা এবং একই মাত্রার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। সীমান্তে শান্তির এই নতুন অধ্যায় যেন ক্ষণস্থায়ী না হয়—সেটিই এখন সময়ের দাবি। আমাদের প্রত্যাশা একটাই—এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকুক; সীমান্ত হয়ে উঠুক শান্তির, নিরাপত্তার এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন আগ্রাসনের ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের ‘কঠোর জবাব’ দেবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী। হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ওয়াশিংটনকে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। বুধবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের’ কোনো জবাব না দিয়ে ছাড় দেওয়া হবে না। এই নৌপথের বিষয়ে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা ‘কোনো অবস্থাতেই’ মেনে নেওয়া হবে না।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র কর্তৃক নির্ধারিত পথ।

এতে আরও বলা হয়েছে, ইরানে এ ধরনের হামলা গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে থাকা ‘যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতি সম্পূর্ণ অবজ্ঞা’ প্রকাশ করে।

এর আগে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টি ও কেশম দ্বীপের কাছে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) জানিয়েছে, সিরিকের মৎস্য ও বাণিজ্যিক বন্দরে শত্রুপক্ষের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সবশেষ দফায় অন্তত ৮০টি হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে নিশানা করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা হ্রাসের লক্ষ্যে প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌকায়ও হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

জিএমপিতে ছয় মাসে ১৮৫৪ মামলা, গ্রেফতার ৩২১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
জিএমপিতে ছয় মাসে ১৮৫৪ মামলা, গ্রেফতার ৩২১৭

গাজীপুর মহানগর এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গত ছয় মাসে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মোট ১ হাজার ৮৫৪টি মামলা করা হয়েছে। একই সময়ে এসব মামলায় ৩ হাজার ২১৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে জিএমপি সদর দফতরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

পুলিশ কমিশনার জানান, গত ছয় মাসে রুজু হওয়া মামলার মধ্যে রয়েছে, হত্যা মামলা ২০টি, ডাকাতি ও ছিনতাই, ডাকাতি ৭টি এবং ছিনতাই ২৮টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৭৬টি, মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত মাদক ৮১২টি এবং অস্ত্র মামলা ৬০টি, অন্যান্য অপরাধ, সিঁধেল চুরি ১৬টি এবং অন্যান্য ধারায় ৭৩৫টি মামলা।

অভিযানে ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, একটি গুলির খোসা, ৪টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে ৫১,৫৬০ পিস ইয়াবা, ৩৫৭ কেজি ৩৬৫ গ্রাম গাঁজা, ১ কেজি ৯৬৫ গ্রাম হেরোইন, ৫৩০ পিস প্যাথেডিন, ৪৬ লিটার দেশীয় মদ, ১৫১ লিটার বিদেশি মদ এবং ২৭৬ বোতল ফেনসিডিল।

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, সম্প্রতি মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সদর, বাসন, কোনাবাড়ী, গাছা ও টঙ্গী পশ্চিম থানায় মোট ৭টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ইতোমধ্যে ৯৫ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণ, সহায়তা ও অর্থায়নের অভিযোগে আরও শতাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের প্রকাশ্য বা গোপন কার্যক্রম, অর্থায়ন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পক্ষে প্রচারণা চালানোও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অপরাধ। যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহানগরের মাজার বস্তি, কেরানীর টেক, ব্যাংকের মাঠ ও এরশাদ নগরসহ বিভিন্ন মাদকপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সম্পদের অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ চেকপোস্ট, টহল এবং ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া অধিকাংশ ছিনতাইকারীই পুনরায় একই অপরাধে জড়ানোর কারণে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কিশোর গ্যাং দমনে সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করে তথ্যভিত্তিক সমন্বিত অভিযান পরিচালনার কথা জানানো হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার পাগাড় বিসিক মার্কেট এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মহড়ার ঘটনায় একটি মামলা করে এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া অন্যদের শনাক্তের কাজ চলছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও পুলিশি তৎপরতায় অপহরণ ও ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ মরদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনাও নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

খুনের মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে পুলিশ কমিশনার জানান, ২০২৩ সালে ৯৪টি, ২০২৪ সালে ৯৬টি এবং ২০২৫ সালে ৮১টি হত্যা মামলা হলেও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তা কমে ২০টিতে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে মাত্র একটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

তিনি বলেন, জিএমপি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া (পিপিএম), এস এম আশরাফুল আলম (পিপিএম), মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম, সাহেব আলী পাঠান, অশোক কুমার পাল (পিপিএম), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইয়াসমীন সাইকা পাশা, স্টাফ অফিসার খন্দকার জালাল উদ্দিন মাহমুদ এবং বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহা. হারুন-অর-রশিদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, হাতেনাতে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, হাতেনাতে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী

রাজধানীর মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে গুলি করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৭জুলাই) রাত সোয়া ৯ টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের ফলপট্টি-সংলগ্ন চৌরঙ্গী মার্কেটের দক্ষিণ পাশের একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম সিজু (৪০) মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী সাইদুল জানান, রাতে মুন্সি বাড়ি রোডে সাইফুল ইসলাম সিজু তার নিজ অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ জাকির হোসেনের শান্তর (২৭) নেতৃত্বে ৩/৫জন এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে সাইফুলের কোমরে এবং দুই পায়ে গুলি লাগে।

সিজু গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ​গোলাগুলির শব্দে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। তবে ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কিছু জনতা ধাওয়া করে এক যুবককে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করে। পরবর্তীতে তাকে মিরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, পূর্বশত্রুতার জেরে শান্ত ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সাইফুল ইসলাম সিজুকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্ত ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি