খুঁজুন
                               
, ,
           

এক অনিঃশেষ দহনগাথা

আলমগীর মোহাম্মদ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
এক অনিঃশেষ দহনগাথা

বর্তমান সময়ের কথাসাহিত্যে মাসউদ আহমাদ এক উজ্জ্বল ও ব্যতিক্রমী নাম। আশির দশকে জন্ম নেওয়া এই লেখকের লেখায় মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, ইতিহাসের নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ এবং অস্তিত্বের সংকট অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে ওঠে। তার গদ্যশৈলী যেমন স্নিগ্ধ, তেমনি তীক্ষ্ণ। জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে লেখা তার আলোচিত উপন্যাস ‘লাবণ্যর মুখ’ পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। এছাড়া তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস ‘নিজের সঙ্গে একা’, ‘রুপচানের আশ্চর্য কান্না’, ‘তিতাসের বুনো হাঁস’ এবং তাঁর পুরস্কারজয়ী গল্পগ্রন্থ ‘দূর পৃথিবীর গন্ধে’। কেবল জীবনীমূলক আখ্যান নয়, বরং চরিত্রের গভীরে ঢুকে তাদের দহনকে মূর্ত করে তোলাই মাসউদ আহমাদের লেখনীর বিশেষত্ব।

মাসউদ আহমাদের উপন্যাস ‘লাবণ্যর মুখ’ বাংলা সাহিত্যের নির্জনতম কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনকে এক ভিন্ন আলোয় দেখার এক সাহসী ও নান্দনিক প্রয়াস। কবিকে নিয়ে বাংলা সাহিত্যে গবেষণার অন্ত নেই, কিন্তু তার স্ত্রী লাবণ্য দাশের দর্পণে কবির ব্যক্তিজীবন, দাম্পত্যের বিমূর্ত টানাপড়েন এবং তার ভেতরের নিঃশব্দ হাহাকারকে এমন নিপুণভাবে খুব কম লেখকই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। মাসউদ আহমাদ অত্যন্ত সংবেদনশীল গদ্যে এই উপন্যাসে কেবল একজন প্রবাদপ্রতিম কবিকে নয়, বরং একজন সাধারণ রক্ত-মাংসের মানুষ ও তার চারপাশের অবহেলিত বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন, যেখানে কবির আকাশ ছোঁয়া কল্পনা আর মাটির পৃথিবীর রূঢ় অভাব এক বিন্দুতে এসে মিলেছে।

‘লাবণ্যর মুখ’ উপন্যাসের মূল ভিত্তি লাবণ্য ও জীবনানন্দের এক অমীমাংসিত সম্পর্কের ওপর। খলিল জিবরানের ‘বিয়ে’ কবিতায় যে আদর্শিক দূরত্বের কথা বলা হয়েছে— যেখানে মন্দিরের পিলারগুলো আলাদা দাঁড়িয়ে থাকে—জীবনানন্দের জীবনে সেই দূরত্ব ছিল এক নিষ্ঠুর বিচ্ছিন্নতা বা ‘এলিনিয়েশন’। কার্ল মার্ক্স যেমন শ্রমিকের তার শ্রম ও সৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা বলেছিলেন, জীবনানন্দও তেমনি তার পারিপার্শ্বিক সমাজ, পরিবার এমনকি নিজের সত্তা থেকেও যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করতেন। লাবণ্যর চোখে জীবনানন্দ ছিলেন এক রহস্যময় ও দুর্বোধ্য সত্তা, যার হৃদয়ের কক্ষগুলো ছিল লাবণ্যর জন্য চিরকাল রুদ্ধ। লাবণ্য চেয়েছিলেন প্রথাগত এক ঘরোয়া জীবন, নিরাপত্তা আর সামাজিক মর্যাদা; কিন্তু কবির জগৎ ছিল নক্ষত্র, হিজল-বট, ঘাস আর এক গভীর বিষণ্নতার। এই যে বিপরীতধর্মী দুটি মানুষের এক ছাদের নিচে বছরের পর বছর বসবাস, তা উপন্যাসে এক অমোঘ ট্র্যাজেডি হিসেবে মূর্ত হয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে খলিল জিবরানের ‘কবি’ কবিতার অমর বৈশিষ্ট্যগুলো প্রবলভাবে বিদ্যমান। জিবরান কবিকে দেখেছেন ইহলোক ও পরলোকের যোগসূত্র হিসেবে, এক বিশুদ্ধ ঝরনা হিসেবে যা তৃষ্ণার্ত আত্মার তৃষ্ণা মেটায়। কিন্তু একই সাথে জিবরান বলেছিলেন, কবি তিনি যাকে মানুষ জীবদ্দশায় অবজ্ঞা করে কিন্তু মৃত্যুর পর স্বীকৃতি দেয়। মাসউদ আহমাদ তার উপন্যাসে এই রূঢ় ও তিক্ত সত্যটিকে তুলে ধরেছেন। জীবনানন্দ তার সমসাময়িক সাহিত্যিক মহলে ছিলেন ‘দুর্বোধ্য’। কর্মক্ষেত্রে বারবার পদচ্যুতি, বরিশাল থেকে কলকাতায় এসে উদ্‌বাস্তু হওয়ার মতো ‘ডায়াস্পোরিক ক্রাইসিস’ এবং সামাজিক লাঞ্ছনা তাকে তিলে তিলে কুরে খেয়েছে। ফ্রাঞ্জ কাফকার ‘দ্য হাঙ্গার আর্টিস্ট’-এর মতো জীবনানন্দও যেন তার শৈল্পিক তৃপ্তির জন্য এক আমৃত্যু উপবাস করেছেন। তার দারিদ্র্য কেবল অন্নের অভাব ছিল না, তা ছিল এক প্রকারের অস্তিত্বশীল রিক্ততা। মাসউদ আহমাদ এই দহনকে কেবল শব্দে নয়, অনুভবে চিত্রিত করেছেন।

উপন্যাসে কবির শিকড়হীনতার বেদনা এক বিশাল অনুষঙ্গ। দেশভাগ পরবর্তী সময়ে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে কলকাতায় আসার পর কবির যে মানসিক অস্থিরতা, তা তার ঘরোয়া জীবনেও বিষ ছড়াতো। লাবণ্যর সাথে তার সম্পর্কের যে উত্থান-পতন, তাতে প্রেম যেমন ছিল, তেমনি ছিল গভীর অপ্রেম ও মান-অভিমান। জিবরান বলেছিলেন, ‘ওক গাছ আর সাইপ্রাস একে অপরের ছায়ায় বেড়ে ওঠে না’। কিন্তু জীবনানন্দের ছায়ায় লাবণ্যর নিজস্ব সত্তা যেন ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। লাবণ্যর চাওয়া-পাওয়াগুলো ছিল অতি সাধারণ— স্বাভাবিক দাম্পত্য প্রেম, আর্থিক সচ্ছলতা ও একটু সামাজিক সম্মান। কিন্তু কবির কাছে ছিল কেবল কবিতার পাণ্ডুলিপি আর ট্রামের শব্দের মতো কিছু কর্কশ বাস্তবতা। এই পার্থিব আর অপার্থিবের দ্বন্দ্বে লাবণ্যর ‘মুখ’ হয়ে উঠেছে এক বিষণ্ন দর্পণ।

মাসউদ আহমাদ লাবণ্যর চরিত্রটিকে কেবল একজন রাগী বা অভিযোগকারী স্ত্রী হিসেবে আঁকেননি। তিনি দেখিয়েছেন লাবণ্যর ভেতরের সেই অবদমিত আকাঙ্ক্ষাগুলোকে। লাবণ্য জানতেন তার স্বামী একজন মহৎ কবি, কিন্তু সেই মহত্ত্বের জন্য যে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছিল, তা বইবার ক্ষমতা এক সাধারণ নারীর ছিল না। সন্তানদের প্রতি কবির মমতা থাকলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে সেই মমতা অনেক সময় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। আত্মীয়-পরিজনের বাঁকা কথা আর ‘অকর্মণ্য’ উপাধি কবির জীবনকে যেভাবে জর্জরিত করেছিল, তার ঢেউ আছড়ে পড়তো লাবণ্যর হৃদয়েও। লেখক অত্যন্ত মুনশিয়ানায় দেখিয়েছেন, কীভাবে একটি সুন্দর সম্পর্ক দারিদ্র্য আর অযত্নের পলিপড়ে ভরাট হয়ে যায়।

উপন্যাসের শেষ দিকে কবির রহস্যময় প্রস্থান বা ট্রাম দুর্ঘটনা পাঠককে নাড়া দেয় প্রবলভাবে। জীবনানন্দ কি স্বেচ্ছায় সেই অন্ধকারের পথে পা বাড়িয়েছিলেন? মাসউদ আহমাদ এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও কবির যে মনস্তাত্ত্বিক বিচ্ছিন্নতা এঁকেছেন, তাতে এক ধরনের নিয়তিবাদের ছোঁয়া পাওয়া যায়। জিবরানের ‘কবি’ যেমন শেষে লরেল পাতার মুকুট পায়, জীবনানন্দও তেমনি মরণোত্তর জয়গান পেয়েছেন। কিন্তু তার জীবদ্দশায় যে মানুষটি (লাবণ্য) তার সাথে আগুনের পথ হেঁটেছেন, তার স্বীকৃতি কোথায়?

শেষে বলা যায়, ‘লাবণ্যর মুখ’ উপন্যাসটি জীবনানন্দ দাশের জীবনের এক কাব্যিক ও মনস্তাত্ত্বিক পুনর্গঠন। মাসউদ আহমাদ ইতিহাস, কল্পনা এবং সাহিত্যের ব্যবচ্ছেদ করে এমন এক অনন্য আখ্যান তৈরি করেছেন, যেখানে জিবরানের দর্শন, কাফকার হাহাকার এবং মার্ক্সের বিচ্ছিন্নতাবোধ একসাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। গ্রন্থটি পাঠের পর পাঠক জীবনানন্দের নির্জন ব্যক্তিজীবনের রক্তক্ষরণ এবং লাবণ্যর মৌন আর্তনাদ দেখে ব্যথিত হবে। মাসউদ আহমাদের এই সৃষ্টি বাংলা জীবনীমূলক উপন্যাসের ধারায় এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা পাঠককে দীর্ঘকাল আচ্ছন্ন করে রাখবে।

গোলাপি সাজে মুগ্ধতা ছড়ালেন জয়া আহসান

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
গোলাপি সাজে মুগ্ধতা ছড়ালেন জয়া আহসান

অভিনয়ে যেমন সাবলীল, ফ্যাশনেও তেমনি স্বতন্ত্র জয়া আহসান। কখনো ঐতিহ্যবাহী শাড়িতে, কখনো আধুনিক পশ্চিমা পোশাকে—নিজের রুচি ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে ভক্তদের নজর কাড়েন এই অভিনেত্রী। এবার শ্যাম্পেন পিংক রঙের স্যাটিন ম্যাক্সি গাউনে ধরা দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। আর সেই ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ‘প্রেমে পড়া বারণ’ ক্যাপশনটি বাড়িয়েছে ভক্তদের কৌতূহল।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন জয়া আহসান। গোলাপি ও বেইজের মিশেলে তৈরি স্যাটিন গাউনে তাঁর সাজে ছিল আধুনিকতার ছাপ। ছবিগুলো প্রকাশের পরই অভিনেত্রীর রূপ ও ফ্যাশন নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন ভক্তরা।

গোলাপি সাজে জয়ার নজরকাড়া উপস্থিতি
ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো প্রকাশ করে জয়া ক্যাপশনে লেখেন, ‘সেক্সি অ্যাজ পিংক’। অন্যদিকে, ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘প্রেমে পড়া বারণ’। আরেকটি ক্যাপশনে তাঁর মন্তব্য, ‘গোলাপির ছোঁয়া, ঝামেলার শেষ নেই।’

জয়ার এই ব্যতিক্রমী ক্যাপশন ও ফ্যাশনেবল উপস্থিতি অনুসারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাঁর সৌন্দর্য ও সাজের প্রশংসা করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘ছবি যখন কথা বলে।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘আপনি দিন দিন আরও সুন্দর হয়ে যাচ্ছেন।’

দুই বাংলার পর্দায় জয়ার ব্যস্ততা
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন জয়া আহসান। দুই বাংলার সিনেমায় বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে তাঁকে সবশেষ দেখা গেছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমায়। এটি ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার পরবর্তী অধ্যায়। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ছবিটিতে জয়ার সঙ্গে অভিনয় করেছেন কৌশিক সেন, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ও অম্বরীশ ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে।

এবার নতুন ভূমিকায়
অভিনয়ের পাশাপাশি এবার রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সেরা রাঁধুনী’র বিচারকের আসনেও দেখা যাবে জয়া আহসানকে। এর আগে বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করলেও রান্নাবিষয়ক এই অনুষ্ঠানে এবারই প্রথম বিচারক হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি।

একদিকে পর্দার কাজ, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ—সব মিলিয়ে নানা কারণে আলোচনায় থাকছেন জয়া আহসান। এবার গোলাপি গাউনের সঙ্গে ‘প্রেমে পড়া বারণ’ ক্যাপশনটি যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

কালের আলো/এএইচ/জেএন

জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষ চান সাফা কবির?

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষ চান সাফা কবির?

বিয়ে নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশা কিংবা মানুষের নানা প্রশ্ন—কোনোটিকেই নিজের জীবনের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলতে দিতে চান না ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। বিয়ে করা কিংবা একা থাকা, দুটিই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন তিনি। নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট এই অভিনেত্রী এবার জানিয়েছেন, জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষকে পছন্দ তাঁর।

সম্প্রতি এক আড্ডায় নিজের জীবনযাপন, অভিনয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন সাফা কবির। সেখানে উঠে আসে বিয়ে ও একক জীবন নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও। অভিনেত্রীর মতে, প্রত্যেক মানুষেরই নিজের মতো করে জীবন সাজানোর স্বাধীনতা থাকা উচিত।

নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট সাফা
সাফা কবিরের সমসাময়িক অনেক অভিনয়শিল্পী ইতোমধ্যে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন। কেউ কেউ সংসার সামলানোর পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সাফার বিয়ে নিয়ে প্রায়ই নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তবে এসব সামাজিক প্রত্যাশার চেয়ে নিজের ভালো থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

বিয়ে নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘নিজের জীবন নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সুন্দর একটি জীবন কাটছে আমার।’ তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যের প্রত্যাশার চেয়ে নিজের পছন্দ ও মানসিক স্বস্তিকে প্রাধান্য দিতে চান তিনি।

যেমন জীবনসঙ্গী চান অভিনেত্রী
জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের কথাও জানিয়েছেন সাফা কবির। শিক্ষিত, রসবোধসম্পন্ন ও ভালো মনের একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চান তিনি। অর্থাৎ, তাঁর কাছে জীবনসঙ্গী নির্বাচনে শুধু বাহ্যিক পরিচয় নয়, ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতারও গুরুত্ব রয়েছে।

অভিনেত্রীর এই ভাবনার পাশাপাশি উঠে এসেছে বিয়ে নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, একজন মানুষ বিয়ে করবেন কি না, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে কাউকে অযথা প্রশ্নের মুখে ফেলা কিংবা সামাজিক চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

তারকারাও চান ব্যক্তিগত পরিসর
সাফা কবির মনে করেন, মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে মানুষের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। তারকারাও সাধারণ মানুষের মতোই ব্যক্তিগত জীবন, নিজস্ব সময় এবং নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখেন। তাঁদের জীবন নিয়েও অন্যদের এই বাস্তবতা বোঝা জরুরি।

অভিনয়জীবন নিয়েও নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন সাফা। তাঁর ভাষ্য, নিজের অভিনীত কাজ নিয়ে কখনোই শতভাগ সন্তুষ্ট হতে পারেন না তিনি। একজন শিল্পীর মধ্যে নিজের কাজ নিয়ে কিছুটা অতৃপ্তি থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করেন এই অভিনেত্রী। কারণ, সেই অতৃপ্তিই আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

সব মিলিয়ে বিয়ে নিয়ে সামাজিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিজের পছন্দ, আত্মনির্ভরশীলতা ও মানসিক ভালো থাকাকে গুরুত্ব দিতে চান সাফা কবির। তাঁর মতে, জীবনের সিদ্ধান্ত প্রত্যেকের নিজের মতো করে নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক

৫০ কিলোমিটার সড়কে গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
৫০ কিলোমিটার সড়কে গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটারজুড়ে বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, উঠে যাওয়া কার্পেটিং ও খানাখন্দের কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। বিশেষ করে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা অংশে পরিস্থিতি শোচনীয়। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র সংস্কারের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। মহাসড়কের দুটি টোল প্লাজার আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন টোল আদায় হলেও সড়কের দুরবস্থা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

নবীগঞ্জের শেরপুর এলাকা থেকে আউশকান্দি বাজার, মিনাজপুর, জালালপুর, সৈয়দপুর, গোপলার বাজার, দেবপাড়া বাজার, ফুলতলী বাজার, পানিউমদা বাজার, বড়চর, বাহুবল ও মীরপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ দেখা গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের পিচ উঠে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মালবাহী ট্রাক, লরি, দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকিতে।

হানিফ বাসের চালক রহিম আলী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ঝুঁকি নিয়ে বাস চালাতে হয়। সড়কের গর্তের কারণে যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকেন।

ট্রাকচালক কদর আলী বলেন, মালবাহী ট্রাক নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে অনীহা থাকলেও জীবিকার প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে চলতে হয়। বৃষ্টির পর গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় কতটা গভীর গর্ত রয়েছে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

যাত্রী আব্দুল আলী বলেন, ভাঙা সড়কে ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে নবীগঞ্জ অংশ দিয়ে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

সড়কের বড় গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন অনেক সময় পথচারীদের ব্যবহৃত অংশ দিয়ে চলাচল করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সড়কের পাশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ সরকার জানান, মহাসড়কের বর্তমান অবস্থা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সংস্কারকাজে অনিয়মের বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় আউশকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন বলেন, জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে দ্রুত মহাসড়কের সংস্কারকাজ শুরু করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি সড়ক, সেতু ও পরিবহনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকার সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, জনস্বার্থে মহাসড়কের দুরবস্থার বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরবেন। প্রয়োজনে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ দিয়ে সড়ক, সেতু ও পরিবহনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ কমাতে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার, কাজের মান নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি