খুঁজুন
                               
, ,
           

এক অনিঃশেষ দহনগাথা

আলমগীর মোহাম্মদ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
এক অনিঃশেষ দহনগাথা

বর্তমান সময়ের কথাসাহিত্যে মাসউদ আহমাদ এক উজ্জ্বল ও ব্যতিক্রমী নাম। আশির দশকে জন্ম নেওয়া এই লেখকের লেখায় মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, ইতিহাসের নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ এবং অস্তিত্বের সংকট অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে ওঠে। তার গদ্যশৈলী যেমন স্নিগ্ধ, তেমনি তীক্ষ্ণ। জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে লেখা তার আলোচিত উপন্যাস ‘লাবণ্যর মুখ’ পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। এছাড়া তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস ‘নিজের সঙ্গে একা’, ‘রুপচানের আশ্চর্য কান্না’, ‘তিতাসের বুনো হাঁস’ এবং তাঁর পুরস্কারজয়ী গল্পগ্রন্থ ‘দূর পৃথিবীর গন্ধে’। কেবল জীবনীমূলক আখ্যান নয়, বরং চরিত্রের গভীরে ঢুকে তাদের দহনকে মূর্ত করে তোলাই মাসউদ আহমাদের লেখনীর বিশেষত্ব।

মাসউদ আহমাদের উপন্যাস ‘লাবণ্যর মুখ’ বাংলা সাহিত্যের নির্জনতম কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনকে এক ভিন্ন আলোয় দেখার এক সাহসী ও নান্দনিক প্রয়াস। কবিকে নিয়ে বাংলা সাহিত্যে গবেষণার অন্ত নেই, কিন্তু তার স্ত্রী লাবণ্য দাশের দর্পণে কবির ব্যক্তিজীবন, দাম্পত্যের বিমূর্ত টানাপড়েন এবং তার ভেতরের নিঃশব্দ হাহাকারকে এমন নিপুণভাবে খুব কম লেখকই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। মাসউদ আহমাদ অত্যন্ত সংবেদনশীল গদ্যে এই উপন্যাসে কেবল একজন প্রবাদপ্রতিম কবিকে নয়, বরং একজন সাধারণ রক্ত-মাংসের মানুষ ও তার চারপাশের অবহেলিত বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন, যেখানে কবির আকাশ ছোঁয়া কল্পনা আর মাটির পৃথিবীর রূঢ় অভাব এক বিন্দুতে এসে মিলেছে।

‘লাবণ্যর মুখ’ উপন্যাসের মূল ভিত্তি লাবণ্য ও জীবনানন্দের এক অমীমাংসিত সম্পর্কের ওপর। খলিল জিবরানের ‘বিয়ে’ কবিতায় যে আদর্শিক দূরত্বের কথা বলা হয়েছে— যেখানে মন্দিরের পিলারগুলো আলাদা দাঁড়িয়ে থাকে—জীবনানন্দের জীবনে সেই দূরত্ব ছিল এক নিষ্ঠুর বিচ্ছিন্নতা বা ‘এলিনিয়েশন’। কার্ল মার্ক্স যেমন শ্রমিকের তার শ্রম ও সৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা বলেছিলেন, জীবনানন্দও তেমনি তার পারিপার্শ্বিক সমাজ, পরিবার এমনকি নিজের সত্তা থেকেও যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করতেন। লাবণ্যর চোখে জীবনানন্দ ছিলেন এক রহস্যময় ও দুর্বোধ্য সত্তা, যার হৃদয়ের কক্ষগুলো ছিল লাবণ্যর জন্য চিরকাল রুদ্ধ। লাবণ্য চেয়েছিলেন প্রথাগত এক ঘরোয়া জীবন, নিরাপত্তা আর সামাজিক মর্যাদা; কিন্তু কবির জগৎ ছিল নক্ষত্র, হিজল-বট, ঘাস আর এক গভীর বিষণ্নতার। এই যে বিপরীতধর্মী দুটি মানুষের এক ছাদের নিচে বছরের পর বছর বসবাস, তা উপন্যাসে এক অমোঘ ট্র্যাজেডি হিসেবে মূর্ত হয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে খলিল জিবরানের ‘কবি’ কবিতার অমর বৈশিষ্ট্যগুলো প্রবলভাবে বিদ্যমান। জিবরান কবিকে দেখেছেন ইহলোক ও পরলোকের যোগসূত্র হিসেবে, এক বিশুদ্ধ ঝরনা হিসেবে যা তৃষ্ণার্ত আত্মার তৃষ্ণা মেটায়। কিন্তু একই সাথে জিবরান বলেছিলেন, কবি তিনি যাকে মানুষ জীবদ্দশায় অবজ্ঞা করে কিন্তু মৃত্যুর পর স্বীকৃতি দেয়। মাসউদ আহমাদ তার উপন্যাসে এই রূঢ় ও তিক্ত সত্যটিকে তুলে ধরেছেন। জীবনানন্দ তার সমসাময়িক সাহিত্যিক মহলে ছিলেন ‘দুর্বোধ্য’। কর্মক্ষেত্রে বারবার পদচ্যুতি, বরিশাল থেকে কলকাতায় এসে উদ্‌বাস্তু হওয়ার মতো ‘ডায়াস্পোরিক ক্রাইসিস’ এবং সামাজিক লাঞ্ছনা তাকে তিলে তিলে কুরে খেয়েছে। ফ্রাঞ্জ কাফকার ‘দ্য হাঙ্গার আর্টিস্ট’-এর মতো জীবনানন্দও যেন তার শৈল্পিক তৃপ্তির জন্য এক আমৃত্যু উপবাস করেছেন। তার দারিদ্র্য কেবল অন্নের অভাব ছিল না, তা ছিল এক প্রকারের অস্তিত্বশীল রিক্ততা। মাসউদ আহমাদ এই দহনকে কেবল শব্দে নয়, অনুভবে চিত্রিত করেছেন।

উপন্যাসে কবির শিকড়হীনতার বেদনা এক বিশাল অনুষঙ্গ। দেশভাগ পরবর্তী সময়ে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে কলকাতায় আসার পর কবির যে মানসিক অস্থিরতা, তা তার ঘরোয়া জীবনেও বিষ ছড়াতো। লাবণ্যর সাথে তার সম্পর্কের যে উত্থান-পতন, তাতে প্রেম যেমন ছিল, তেমনি ছিল গভীর অপ্রেম ও মান-অভিমান। জিবরান বলেছিলেন, ‘ওক গাছ আর সাইপ্রাস একে অপরের ছায়ায় বেড়ে ওঠে না’। কিন্তু জীবনানন্দের ছায়ায় লাবণ্যর নিজস্ব সত্তা যেন ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। লাবণ্যর চাওয়া-পাওয়াগুলো ছিল অতি সাধারণ— স্বাভাবিক দাম্পত্য প্রেম, আর্থিক সচ্ছলতা ও একটু সামাজিক সম্মান। কিন্তু কবির কাছে ছিল কেবল কবিতার পাণ্ডুলিপি আর ট্রামের শব্দের মতো কিছু কর্কশ বাস্তবতা। এই পার্থিব আর অপার্থিবের দ্বন্দ্বে লাবণ্যর ‘মুখ’ হয়ে উঠেছে এক বিষণ্ন দর্পণ।

মাসউদ আহমাদ লাবণ্যর চরিত্রটিকে কেবল একজন রাগী বা অভিযোগকারী স্ত্রী হিসেবে আঁকেননি। তিনি দেখিয়েছেন লাবণ্যর ভেতরের সেই অবদমিত আকাঙ্ক্ষাগুলোকে। লাবণ্য জানতেন তার স্বামী একজন মহৎ কবি, কিন্তু সেই মহত্ত্বের জন্য যে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছিল, তা বইবার ক্ষমতা এক সাধারণ নারীর ছিল না। সন্তানদের প্রতি কবির মমতা থাকলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে সেই মমতা অনেক সময় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। আত্মীয়-পরিজনের বাঁকা কথা আর ‘অকর্মণ্য’ উপাধি কবির জীবনকে যেভাবে জর্জরিত করেছিল, তার ঢেউ আছড়ে পড়তো লাবণ্যর হৃদয়েও। লেখক অত্যন্ত মুনশিয়ানায় দেখিয়েছেন, কীভাবে একটি সুন্দর সম্পর্ক দারিদ্র্য আর অযত্নের পলিপড়ে ভরাট হয়ে যায়।

উপন্যাসের শেষ দিকে কবির রহস্যময় প্রস্থান বা ট্রাম দুর্ঘটনা পাঠককে নাড়া দেয় প্রবলভাবে। জীবনানন্দ কি স্বেচ্ছায় সেই অন্ধকারের পথে পা বাড়িয়েছিলেন? মাসউদ আহমাদ এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও কবির যে মনস্তাত্ত্বিক বিচ্ছিন্নতা এঁকেছেন, তাতে এক ধরনের নিয়তিবাদের ছোঁয়া পাওয়া যায়। জিবরানের ‘কবি’ যেমন শেষে লরেল পাতার মুকুট পায়, জীবনানন্দও তেমনি মরণোত্তর জয়গান পেয়েছেন। কিন্তু তার জীবদ্দশায় যে মানুষটি (লাবণ্য) তার সাথে আগুনের পথ হেঁটেছেন, তার স্বীকৃতি কোথায়?

শেষে বলা যায়, ‘লাবণ্যর মুখ’ উপন্যাসটি জীবনানন্দ দাশের জীবনের এক কাব্যিক ও মনস্তাত্ত্বিক পুনর্গঠন। মাসউদ আহমাদ ইতিহাস, কল্পনা এবং সাহিত্যের ব্যবচ্ছেদ করে এমন এক অনন্য আখ্যান তৈরি করেছেন, যেখানে জিবরানের দর্শন, কাফকার হাহাকার এবং মার্ক্সের বিচ্ছিন্নতাবোধ একসাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। গ্রন্থটি পাঠের পর পাঠক জীবনানন্দের নির্জন ব্যক্তিজীবনের রক্তক্ষরণ এবং লাবণ্যর মৌন আর্তনাদ দেখে ব্যথিত হবে। মাসউদ আহমাদের এই সৃষ্টি বাংলা জীবনীমূলক উপন্যাসের ধারায় এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা পাঠককে দীর্ঘকাল আচ্ছন্ন করে রাখবে।

সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও চড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রীষ্মকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামে তার প্রভাব পড়েনি। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারে। অধিকাংশ মাছ ও মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তালতলা ও আগারগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে বর্তমানে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২০ টাকা বেশি। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পেঁপে ও আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। বটবটি ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক হালি লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি ধনেপাতা কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮৯০ থেকে ২০০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্য মাছের মধ্যে চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও সবজির বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচও বেড়ে গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বার্থে বিশেষ এই অভিযান নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অভিযানের আওতায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি