খুঁজুন
                               
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৮ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

এক অনিঃশেষ দহনগাথা

আলমগীর মোহাম্মদ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
এক অনিঃশেষ দহনগাথা

বর্তমান সময়ের কথাসাহিত্যে মাসউদ আহমাদ এক উজ্জ্বল ও ব্যতিক্রমী নাম। আশির দশকে জন্ম নেওয়া এই লেখকের লেখায় মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, ইতিহাসের নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ এবং অস্তিত্বের সংকট অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে ওঠে। তার গদ্যশৈলী যেমন স্নিগ্ধ, তেমনি তীক্ষ্ণ। জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে লেখা তার আলোচিত উপন্যাস ‘লাবণ্যর মুখ’ পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। এছাড়া তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস ‘নিজের সঙ্গে একা’, ‘রুপচানের আশ্চর্য কান্না’, ‘তিতাসের বুনো হাঁস’ এবং তাঁর পুরস্কারজয়ী গল্পগ্রন্থ ‘দূর পৃথিবীর গন্ধে’। কেবল জীবনীমূলক আখ্যান নয়, বরং চরিত্রের গভীরে ঢুকে তাদের দহনকে মূর্ত করে তোলাই মাসউদ আহমাদের লেখনীর বিশেষত্ব।

মাসউদ আহমাদের উপন্যাস ‘লাবণ্যর মুখ’ বাংলা সাহিত্যের নির্জনতম কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনকে এক ভিন্ন আলোয় দেখার এক সাহসী ও নান্দনিক প্রয়াস। কবিকে নিয়ে বাংলা সাহিত্যে গবেষণার অন্ত নেই, কিন্তু তার স্ত্রী লাবণ্য দাশের দর্পণে কবির ব্যক্তিজীবন, দাম্পত্যের বিমূর্ত টানাপড়েন এবং তার ভেতরের নিঃশব্দ হাহাকারকে এমন নিপুণভাবে খুব কম লেখকই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। মাসউদ আহমাদ অত্যন্ত সংবেদনশীল গদ্যে এই উপন্যাসে কেবল একজন প্রবাদপ্রতিম কবিকে নয়, বরং একজন সাধারণ রক্ত-মাংসের মানুষ ও তার চারপাশের অবহেলিত বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন, যেখানে কবির আকাশ ছোঁয়া কল্পনা আর মাটির পৃথিবীর রূঢ় অভাব এক বিন্দুতে এসে মিলেছে।

‘লাবণ্যর মুখ’ উপন্যাসের মূল ভিত্তি লাবণ্য ও জীবনানন্দের এক অমীমাংসিত সম্পর্কের ওপর। খলিল জিবরানের ‘বিয়ে’ কবিতায় যে আদর্শিক দূরত্বের কথা বলা হয়েছে— যেখানে মন্দিরের পিলারগুলো আলাদা দাঁড়িয়ে থাকে—জীবনানন্দের জীবনে সেই দূরত্ব ছিল এক নিষ্ঠুর বিচ্ছিন্নতা বা ‘এলিনিয়েশন’। কার্ল মার্ক্স যেমন শ্রমিকের তার শ্রম ও সৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা বলেছিলেন, জীবনানন্দও তেমনি তার পারিপার্শ্বিক সমাজ, পরিবার এমনকি নিজের সত্তা থেকেও যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করতেন। লাবণ্যর চোখে জীবনানন্দ ছিলেন এক রহস্যময় ও দুর্বোধ্য সত্তা, যার হৃদয়ের কক্ষগুলো ছিল লাবণ্যর জন্য চিরকাল রুদ্ধ। লাবণ্য চেয়েছিলেন প্রথাগত এক ঘরোয়া জীবন, নিরাপত্তা আর সামাজিক মর্যাদা; কিন্তু কবির জগৎ ছিল নক্ষত্র, হিজল-বট, ঘাস আর এক গভীর বিষণ্নতার। এই যে বিপরীতধর্মী দুটি মানুষের এক ছাদের নিচে বছরের পর বছর বসবাস, তা উপন্যাসে এক অমোঘ ট্র্যাজেডি হিসেবে মূর্ত হয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে খলিল জিবরানের ‘কবি’ কবিতার অমর বৈশিষ্ট্যগুলো প্রবলভাবে বিদ্যমান। জিবরান কবিকে দেখেছেন ইহলোক ও পরলোকের যোগসূত্র হিসেবে, এক বিশুদ্ধ ঝরনা হিসেবে যা তৃষ্ণার্ত আত্মার তৃষ্ণা মেটায়। কিন্তু একই সাথে জিবরান বলেছিলেন, কবি তিনি যাকে মানুষ জীবদ্দশায় অবজ্ঞা করে কিন্তু মৃত্যুর পর স্বীকৃতি দেয়। মাসউদ আহমাদ তার উপন্যাসে এই রূঢ় ও তিক্ত সত্যটিকে তুলে ধরেছেন। জীবনানন্দ তার সমসাময়িক সাহিত্যিক মহলে ছিলেন ‘দুর্বোধ্য’। কর্মক্ষেত্রে বারবার পদচ্যুতি, বরিশাল থেকে কলকাতায় এসে উদ্‌বাস্তু হওয়ার মতো ‘ডায়াস্পোরিক ক্রাইসিস’ এবং সামাজিক লাঞ্ছনা তাকে তিলে তিলে কুরে খেয়েছে। ফ্রাঞ্জ কাফকার ‘দ্য হাঙ্গার আর্টিস্ট’-এর মতো জীবনানন্দও যেন তার শৈল্পিক তৃপ্তির জন্য এক আমৃত্যু উপবাস করেছেন। তার দারিদ্র্য কেবল অন্নের অভাব ছিল না, তা ছিল এক প্রকারের অস্তিত্বশীল রিক্ততা। মাসউদ আহমাদ এই দহনকে কেবল শব্দে নয়, অনুভবে চিত্রিত করেছেন।

উপন্যাসে কবির শিকড়হীনতার বেদনা এক বিশাল অনুষঙ্গ। দেশভাগ পরবর্তী সময়ে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে কলকাতায় আসার পর কবির যে মানসিক অস্থিরতা, তা তার ঘরোয়া জীবনেও বিষ ছড়াতো। লাবণ্যর সাথে তার সম্পর্কের যে উত্থান-পতন, তাতে প্রেম যেমন ছিল, তেমনি ছিল গভীর অপ্রেম ও মান-অভিমান। জিবরান বলেছিলেন, ‘ওক গাছ আর সাইপ্রাস একে অপরের ছায়ায় বেড়ে ওঠে না’। কিন্তু জীবনানন্দের ছায়ায় লাবণ্যর নিজস্ব সত্তা যেন ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। লাবণ্যর চাওয়া-পাওয়াগুলো ছিল অতি সাধারণ— স্বাভাবিক দাম্পত্য প্রেম, আর্থিক সচ্ছলতা ও একটু সামাজিক সম্মান। কিন্তু কবির কাছে ছিল কেবল কবিতার পাণ্ডুলিপি আর ট্রামের শব্দের মতো কিছু কর্কশ বাস্তবতা। এই পার্থিব আর অপার্থিবের দ্বন্দ্বে লাবণ্যর ‘মুখ’ হয়ে উঠেছে এক বিষণ্ন দর্পণ।

মাসউদ আহমাদ লাবণ্যর চরিত্রটিকে কেবল একজন রাগী বা অভিযোগকারী স্ত্রী হিসেবে আঁকেননি। তিনি দেখিয়েছেন লাবণ্যর ভেতরের সেই অবদমিত আকাঙ্ক্ষাগুলোকে। লাবণ্য জানতেন তার স্বামী একজন মহৎ কবি, কিন্তু সেই মহত্ত্বের জন্য যে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছিল, তা বইবার ক্ষমতা এক সাধারণ নারীর ছিল না। সন্তানদের প্রতি কবির মমতা থাকলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে সেই মমতা অনেক সময় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। আত্মীয়-পরিজনের বাঁকা কথা আর ‘অকর্মণ্য’ উপাধি কবির জীবনকে যেভাবে জর্জরিত করেছিল, তার ঢেউ আছড়ে পড়তো লাবণ্যর হৃদয়েও। লেখক অত্যন্ত মুনশিয়ানায় দেখিয়েছেন, কীভাবে একটি সুন্দর সম্পর্ক দারিদ্র্য আর অযত্নের পলিপড়ে ভরাট হয়ে যায়।

উপন্যাসের শেষ দিকে কবির রহস্যময় প্রস্থান বা ট্রাম দুর্ঘটনা পাঠককে নাড়া দেয় প্রবলভাবে। জীবনানন্দ কি স্বেচ্ছায় সেই অন্ধকারের পথে পা বাড়িয়েছিলেন? মাসউদ আহমাদ এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও কবির যে মনস্তাত্ত্বিক বিচ্ছিন্নতা এঁকেছেন, তাতে এক ধরনের নিয়তিবাদের ছোঁয়া পাওয়া যায়। জিবরানের ‘কবি’ যেমন শেষে লরেল পাতার মুকুট পায়, জীবনানন্দও তেমনি মরণোত্তর জয়গান পেয়েছেন। কিন্তু তার জীবদ্দশায় যে মানুষটি (লাবণ্য) তার সাথে আগুনের পথ হেঁটেছেন, তার স্বীকৃতি কোথায়?

শেষে বলা যায়, ‘লাবণ্যর মুখ’ উপন্যাসটি জীবনানন্দ দাশের জীবনের এক কাব্যিক ও মনস্তাত্ত্বিক পুনর্গঠন। মাসউদ আহমাদ ইতিহাস, কল্পনা এবং সাহিত্যের ব্যবচ্ছেদ করে এমন এক অনন্য আখ্যান তৈরি করেছেন, যেখানে জিবরানের দর্শন, কাফকার হাহাকার এবং মার্ক্সের বিচ্ছিন্নতাবোধ একসাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। গ্রন্থটি পাঠের পর পাঠক জীবনানন্দের নির্জন ব্যক্তিজীবনের রক্তক্ষরণ এবং লাবণ্যর মৌন আর্তনাদ দেখে ব্যথিত হবে। মাসউদ আহমাদের এই সৃষ্টি বাংলা জীবনীমূলক উপন্যাসের ধারায় এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা পাঠককে দীর্ঘকাল আচ্ছন্ন করে রাখবে।

আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকার নিরাপত্তায় ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকার নিরাপত্তায় ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন

রোববার (২১ জুন) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এসব তথ্য জানান।

নিয়াজ মেহেদী জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো নগরীতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগরের ২০০টির বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট বসানো হবে। পাশাপাশি ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট ডিবি ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সক্রিয় থাকবে। সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও আইএডি গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

তিনি আরও জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া ঢাকার চারটি প্রধান কন্ট্রোলরুমে পর্যাপ্ত ফোর্স রিজার্ভ রাখা হবে। নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকিতে কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

এদিকে জুন মাসের শুরু থেকে ২০ জুন পর্যন্ত রাজধানীতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় বিপুল সংখ্যক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। এর মধ্যে রাজনৈতিক মামলায় ৮২ জন, ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে ২৮ জন, চুরি সংক্রান্ত ঘটনায় ১২১ জন, দস্যুতার ঘটনায় ১১৩ জন এবং ডাকাতি মামলায় ১২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া ডিএমপির থানা, ডিবি ও সিটিটিসির অভিযানে জুন মাসে এখন পর্যন্ত ৫৫ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ রয়েছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, রাজধানীর শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রাজশাহীতে তায়কোয়ানদো দোজাং এর ২৬ তম বেল্ট বিতরণী অনুষ্ঠিত

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে তায়কোয়ানদো দোজাং এর ২৬ তম বেল্ট বিতরণী অনুষ্ঠিত

রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ‘তায়কোয়ানদো দোজাং এর ২৬তম বেল্ট বিতরণী অনুষ্ঠান ২০২৬’। রোববার (২১ জুন) বিকেলে নগরীর উপশহরস্থ শহীদ আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত  অনুষ্ঠানে শতাধিক তায়কোয়ানডো প্রশিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাং-এর সভাপতি মোঃ শরফুজ্জামান শামীম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা: আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর ও রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ মোজাম্মেল হক এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মোঃ সাইফুদ্দিন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাং-এর সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান প্রশিক্ষক মোঃ মোজাফফর হোসেন বুলু। তিনি বলেন, তায়কোয়ানডোর মাধ্যমে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মপ্রত্যয়ী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেই আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে তায়কোয়ানডো প্রশিক্ষনাথী, অভিভাবকবৃন্দ, রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাং-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে বেল্ট ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাং-এর নেতৃবৃন্দ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মা হচ্ছেন সামান্থা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
মা হচ্ছেন সামান্থা

গত বছরের ১ ডিসেম্বর ‘ফ্যামিলি ম্যান’ পরিচালক রাজ নিদিমরুকে বিয়ে করেন দক্ষিণি অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। তারকা দম্পতির সংসারে আসছে নতুন অতিথি। প্রথমবারের মতো মা হতে চলেছেন সামান্থা। সামান্থা বা রাজের কেউই খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

সম্প্রতি সামান্থার নতুন ছবি ‘মা ইনতি বানগারাম’-এর সাফল্য উদ্‌যাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে অভিনেত্রীর বেবি বাম্প স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। উদ্‌যাপনের ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সামান্থাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অনেক ভক্ত।

সামান্থা–রাজের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’-এর কাজের সময়। পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন বাড়তে থাকে।

সম্প্রতি সামান্থার নতুন ছবি ‘মা ইনতি বানগারাম’-এর সাফল্য উদ্‌যাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। কোলাজ

বিয়ের পর সামান্থার একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারও আবার ভাইরাল হয়। সেখানে রাজের পাঠানো একটি ভিডিও বার্তা দেখে সামান্থাকে লজ্জা পেতে দেখা যায়। বার্তায় রাজ তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও তামিল-তেলুগু দুই ইন্ডাস্ট্রিতে সমান দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার প্রশংসা করেছিলেন।

সম্প্রতি দুজন আবারও একসঙ্গে কাজ করেছেন ‘মা ইনতি বানগারাম’ ছবিতে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন নন্দিনী রেড্ডি। এর আগে ২০১৯ সালের ‘ওহ! বেবি’ ছবিতেও সামান্থা ও নন্দিনী রেড্ডির সফল জুটি দেখা গিয়েছিল। ছবিটির প্রযোজক রাজ।
সামান্থা আগে দক্ষিণি অভিনেতা নাগা চৈতন্যার সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। চার বছর পর তাঁদের বিচ্ছেদ হয়, পরে অভিনেত্রী সবিতা ধুলিপালাকে বিয়ে করেন নাগা।

এনডিটিভি অবলম্বনে

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি