খুঁজুন
                               
, ,
           

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম রায় পরবর্তী এক ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলায় মোট ৩০ জন আসামি ছিলেন এবং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সবাইকে দণ্ডিত করেছেন।

তিনি বলেন, অপরাধের ধরন অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ জন আসামি হলেন– এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র। তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলি করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন– রবিউল ইসলাম নয়ন, বিভুতি ভূষন রায় ও আরিফুজ্জামান জীবন।

যাবজ্জীবনের পাশাপাশি অন্য অভিযোগে তাদের আরও ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রহমান বাচ্চু, সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, মো. মশিউর রহমান, আসাদুজ্জামান মন্ডল ও পোমেল বড়ুয়া।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– মারুফ হোসেন, শাহা নুর আলম পাটোয়ারি ওরফে সুমন, রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান তুফান, এমরান চৌধুরী আকাশ, মাসুদুল হাসান মাসুদ, মাহবুবুর রহমান বাবু, ড. সারোয়াত হোসেন চন্দন ও শরিফুল ইসলাম।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ৩ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– মনিরুজ্জামান পলাশ, মাহফুজুর রহমান শামিম, ফজলে রাব্বি, আতার হোসাইন, সেজান আহমেদ, ধনঞ্জয় ওরফে টগর, বাবুল হোসাইন, নূরনবী মন্ডল, নূর আলম মিয়া এবং আমির হোসেন আমু।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ও ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার পারভেজ আপেলকে তার হাজতবাসের সময়কালকেই দণ্ড হিসেবে গণ্য করে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, শহীদ আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দিয়ে বাংলাদেশকে স্বৈরাচারের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন। তার আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশে গণতন্ত্র ও নিয়মতান্ত্রিক শাসন কায়েম হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠদের মতোই তিনি আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। ঘটনার সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিডিও ফুটেজ ধারণ করায় এনটিভির সংবাদকর্মীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণার সময় কমন রেসপন্সিবিলিটি, এইড অ্যান্ড এমেন্ডমেন্ট এবং জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের উপাদানগুলো বিবেচনায় নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনাটি সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আজ সেই ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

কালের আলো/এম/এএইচ

দুর্যোগ সচিব সাইদুরকে দুদকে বদলি, সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
দুর্যোগ সচিব সাইদুরকে দুদকে বদলি, সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন ফজলুর রহমান

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খানকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফজলুর রহমানকে সচিব পদে পদোন্নতির পর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এছাড়া অন্য আদেশে বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. রাশিদুল ইসলামকে বদলি করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব

বাংলাদেশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া অনুবিভাগ-১ এর অতিরিক্ত সচিব আমেনা বেগম রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল , জিমনেসিয়ামসহ অন্যান্য স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, সমস্ত স্থপনা সংস্কার করা খুব জরুরী। সরকার স্থাপনা নির্মাণ করবে কিন্ত তার দেখভাল করার জন্য কমিটিকে সক্রিয় ভুমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার যেসব দোকান আছে তাদের নিকট  চিঠি দিয়ে ভাড়া আদাযের পদক্ষেপ নিতে হবে।

এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনী পন্থায় দোকানদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ দোকানের বরাদ্দ বাতিল করতে হবে।

কারণ আপনাদের নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে স্টেডিয়াম পরিচালনা করতে হবে। এ সময় তিনি জেলা ক্রীড়া অফিসারগনকে দিক নির্দেশনা দেন।এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাঃ সবুর আলী, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ মোজাম্মেল হক।

জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ক্রীড়া অফিসার আবু জাফর মাহামুদুজ্জামান, নাটোর জেলা ক্রীড়া অফিসার রাকিবুল হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

তিন মামলায় উচ্চ আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
তিন মামলায় উচ্চ আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের জামিন

রাজধানীর মুগদা ও খিলগাঁও থানার পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

একইসঙ্গে চুনারুঘাট থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত।

বুধবার (২৯ জুলাই) মুগদা থানার হত্যাচেষ্টা ও খিলগাঁও থানার একটি হত্যা মামলায় আগে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে ব্যারিস্টার সুমনকে জামিন দেন বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

সুমনের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। তবে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় এখনই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইছা।

আইনজীবী লিটন আহমেদ জানান, ‘খিলগাঁও থানার হত্যা মামলা এবং মুগদা থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় আগে রুল জারি করা হয়েছিল। আজ সেই রুল অ্যাবসুলেট (চূড়ান্ত) করে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।’

এদিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গত ২২ জুলাই হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে বিচারপতি রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আজ কোনো স্থগিতাদেশ না দিয়ে জামিন বহাল রাখার আদেশ দেন।

সাবেক এই সংসদ সদস্যের কারামুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, ‘ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর ও চুনারুঘাট  থানার মামলাসহ দুটিতে তার জামিন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। তবে বাকি আরও পাঁচটি মামলায় হাইকোর্টে রুল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে এই মামলাগুলোতে জামিন না পাওয়া পর্যন্ত তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।’

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাত দেড়টায় রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনকে। প্রথমে তাকে মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।

পরবর্তীতে গত বছরের ২১ মে থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর খিলগাঁও, আদাবর এবং নিজ এলাকা চুনারুঘাট থানায় দায়ের হওয়া হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট সাতটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়

গত ৭ এপ্রিল চুনারুঘাট থানার মামলায় সুমনের জামিন আবেদন নাকচ করেছিলেন হবিগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত, যার প্রেক্ষিতে তিনি উচ্চ আদালতে আবেদন করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ