খুঁজুন
                               
, ,
           

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম রায় পরবর্তী এক ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলায় মোট ৩০ জন আসামি ছিলেন এবং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সবাইকে দণ্ডিত করেছেন।

তিনি বলেন, অপরাধের ধরন অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ জন আসামি হলেন– এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র। তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলি করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন– রবিউল ইসলাম নয়ন, বিভুতি ভূষন রায় ও আরিফুজ্জামান জীবন।

যাবজ্জীবনের পাশাপাশি অন্য অভিযোগে তাদের আরও ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রহমান বাচ্চু, সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, মো. মশিউর রহমান, আসাদুজ্জামান মন্ডল ও পোমেল বড়ুয়া।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– মারুফ হোসেন, শাহা নুর আলম পাটোয়ারি ওরফে সুমন, রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান তুফান, এমরান চৌধুরী আকাশ, মাসুদুল হাসান মাসুদ, মাহবুবুর রহমান বাবু, ড. সারোয়াত হোসেন চন্দন ও শরিফুল ইসলাম।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ৩ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– মনিরুজ্জামান পলাশ, মাহফুজুর রহমান শামিম, ফজলে রাব্বি, আতার হোসাইন, সেজান আহমেদ, ধনঞ্জয় ওরফে টগর, বাবুল হোসাইন, নূরনবী মন্ডল, নূর আলম মিয়া এবং আমির হোসেন আমু।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ও ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার পারভেজ আপেলকে তার হাজতবাসের সময়কালকেই দণ্ড হিসেবে গণ্য করে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, শহীদ আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দিয়ে বাংলাদেশকে স্বৈরাচারের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন। তার আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশে গণতন্ত্র ও নিয়মতান্ত্রিক শাসন কায়েম হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠদের মতোই তিনি আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। ঘটনার সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিডিও ফুটেজ ধারণ করায় এনটিভির সংবাদকর্মীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণার সময় কমন রেসপন্সিবিলিটি, এইড অ্যান্ড এমেন্ডমেন্ট এবং জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের উপাদানগুলো বিবেচনায় নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনাটি সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আজ সেই ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

কালের আলো/এম/এএইচ

ওয়াসার কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
ওয়াসার কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা ওয়াসার চলমান প্রকল্পগুলোতে আগামী দুই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। প্রকল্প অনুমোদনের পর বছরের পর বছর ধরে বাস্তবায়নে বিলম্বকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরবাসীর পানির চাহিদা পূরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে অসন্তোষ
সভায় ঢাকা ওয়াসার প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা ও সরবরাহের পরিমাণ ৩১৪ কোটি লিটার। তবে জনসংখ্যা ও বাসাবাড়ির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাহিদাও বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে ওয়াসার কার্যক্রমে গত সাত মাসে উল্লেখযোগ্য নতুন উদ্যোগ কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত গতি দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, পানির সংকট তৈরি হলে এর দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই বর্তায়। তাই নগরবাসীকে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহের জন্য চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করা জরুরি। প্রকল্প পরিচালকদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। আগামী দুই মাস পর আবার ওয়াসার কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

দাসেরকান্দি থেকে গুলশান-বনানীতে পাইপলাইন সংযোগের নির্দেশ
ঢাকা ওয়াসার চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় পাইপলাইন সংযোগ প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে পূর্বাচলে পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির নির্দেশ দেন তিনি। ভবিষ্যতে নগরীর পানির চাহিদা আরও বাড়বে বিবেচনায় নিয়ে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত
দেশের সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বর্তমান আইনে ওয়াসার বোর্ড গঠনের বিধান থাকলেও সরকার যেকোনো সময় বোর্ড গঠন বা ভেঙে দিতে পারে। মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ওয়াসার বোর্ড জনসেবামূলক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দাপ্তরিক কাজে গতি কমে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে আইন সংশোধন করে দেশের সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর নির্দেশ
ঢাকা ওয়াসার পানির উৎসের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরবরাহ করা পানির ৭৪ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। বাকি ২৬ শতাংশ আসে উপরিভাগের পানির উৎস থেকে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেন তিনি। এ জন্য উপরিভাগের পানিনির্ভর প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ঝুঁকি কমাতে বিকল্প উৎসের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে আর বিলম্ব না করার নির্দেশ দেন।

রাজস্ব আয় বাড়ানো ও বিলিংয়ে অটোমেশনের তাগিদ
ওয়াসার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেবার মান বজায় রেখে নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি মিটার রিডিং ও বিলিং কার্যক্রমে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বা অটোমেশন জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি। এতে বিলিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের লক্ষ্য। ২০৫০ সালের পানির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা ওয়াসাকে আধুনিকায়নের নির্দেশও দেন প্রতিমন্ত্রী। এ জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক জনবল কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলেন তিনি।

অবৈধ পানির সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
শহরের অবৈধ ও চোরাই পানির সংযোগ চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মীর শাহে আলম। এসব কর্মকাণ্ডে প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি। ওয়াসার মতো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা ব্যাহত করা যাবে না বলে কর্মচারী সংগঠনগুলোর নেতাদের সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী। সংস্থাটির কার্যক্রমে অনিয়ম বা অযাচিত প্রভাব বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তিনি।

পানির অপচয় রোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব
পানির অপচয় কমাতে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। দাঁত ব্রাশ করা কিংবা শেভ করার সময় অপ্রয়োজনে পানির কল খোলা না রাখা এবং দৈনন্দিন কাজে সচেতনভাবে পানি ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচার চালানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভা শেষে মীর শাহে আলম আবারও বলেন, দুই মাস পর তিনি ওয়াসার কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে আসবেন। এর মধ্যে সংস্থাটির কাজে দৃশ্যমান ও আমূল পরিবর্তন দেখতে চান তিনি, যাতে নগরবাসী পানি সরবরাহ নিয়ে স্বস্তি পায়। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি, ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন, সিবিএর নেতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

৬৩৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ, বাংলাদেশের শিল্পের নতুন মানচিত্র আঁকছে জাপান

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
৬৩৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ, বাংলাদেশের শিল্পের নতুন মানচিত্র আঁকছে জাপান

মাত্র পাঁচ বছরে ৬৩৫ কোটি ডলার—বাংলাদেশের শিল্প অর্থনীতিতে জাপানের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনার ব্যাপ্তি তুলে ধরছে এই অঙ্ক। জাপানি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন। অটোমোবাইল, জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শিল্প উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে এ বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘিরে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

  • দুই লাখ কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা, অটোমোবাইল, প্রযুক্তি ও বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পে অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা
  • দেশীয় উদ্যোক্তা, দক্ষ জনশক্তি ও রপ্তানিতে বাড়তে পারে নতুন গতি
  • বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার হাতছানি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন গতি পেয়েছে। দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত অংশীদারত্বের সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তি ও রপ্তানিমুখী বিনিয়োগের বিস্তৃত পরিকল্পনা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামনে শুধু নতুন কারখানা স্থাপনের সুযোগ নয়, বরং আন্তর্জাতিক উৎপাদনব্যবস্থায় আরও শক্ত অবস্থান তৈরির সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

এই পরিকল্পনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে তিনটি ক্ষেত্রে—দেশে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত করা এবং দক্ষ জনশক্তির জন্য কর্মসংস্থানের পরিসর বাড়ানো। জাপানের প্রযুক্তি ও শিল্প ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি ও উদ্যোক্তা সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানো গেলে বিনিয়োগের প্রভাব বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

শিল্প অর্থনীতিতে কী বদলাতে পারে?
আগামী পাঁচ বছরের ৬৩৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য বহুমুখী শিল্পায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। অটোমোবাইল উৎপাদন, জ্বালানি অবকাঠামো, প্রযুক্তি, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ সম্প্রসারিত হলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে নতুন উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিনিয়োগের সম্ভাব্য প্রভাব কেবল সরাসরি কারখানা স্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত যন্ত্রাংশ উৎপাদন, কাঁচামাল সরবরাহ, পরিবহণ, গুদামজাতকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রকৌশল সেবা ও বিপণনের মতো কার্যক্রমেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকারী হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। পরিকল্পনার সঙ্গে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা যুক্ত থাকায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিল্পভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্র পরিচালনা, মাননিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের তরুণেরা নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারবেন।

টয়োটার গাড়ি উৎপাদন, দেশীয় শিল্পের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক
জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে অটোমোবাইল শিল্প বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা টয়োটা বাংলাদেশে উৎপাদন কার্যক্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা সরকারকে জানিয়েছে। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে উন্নয়নকাজ শুরু করে ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কারখানাটির চূড়ান্ত বিনিয়োগের পরিমাণ, উৎপাদনক্ষমতা ও নির্দিষ্ট মডেলের বিষয়ে বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদের মতে, টয়োটার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের পাশাপাশি সহযোগী শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একটি গাড়ি তৈরিতে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ ধরনের যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হয়। এসব যন্ত্রাংশের একটি অংশ দেশে উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হলে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি হবে।

গাড়ি সংযোজনের পাশাপাশি যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক মোটর, ইলেকট্রনিকস ও প্রকৌশল সেবায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান যুক্ত হতে পারলে শিল্পটির অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে। জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও প্রকৌশলীরা উন্নত প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা জেট্রোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি কাজুইকি কাতাওকার তথ্য অনুযায়ী, টয়োটা সুসো করপোরেশন ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিক্রয়, সার্ভিস এবং খুচরা যন্ত্রাংশের দুটি কেন্দ্রে প্রায় চার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এসব কেন্দ্রের নির্মাণকাজ নভেম্বর মাসে শুরু হওয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়ি উৎপাদন ও যন্ত্রাংশ তৈরিতে স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে। এতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের আওতায় উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পপণ্যের পরিসর বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

শিল্প বিনিয়োগের ভৌগোলিক বিস্তার মাতারবাড়ী থেকে আড়াইহাজার
জাপানি বিনিয়োগ পরিকল্পনার সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সংযোগ রয়েছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকার সহায়তায় এগিয়ে চলা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে বড় জাহাজে পণ্য পরিবহণ, আমদানি-রপ্তানি সক্ষমতা এবং শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে সুযোগ বাড়তে পারে। বন্দরের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ, জ্বালানি সরবরাহ এবং শিল্পাঞ্চলের কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে সেখানে বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প, গুদামজাতকরণ ও লজিস্টিকস কার্যক্রম বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ও জাপান বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা বিগ-বি উদ্যোগকে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ হিসেবে সম্প্রসারণের বিষয়ে একমত হয়েছে। মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে বন্দর, জ্বালানি, শিল্প ও পণ্য পরিবহণের সমন্বিত কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য এ উদ্যোগের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানের সুমিতোমো করপোরেশনের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গড়ে উঠছে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন। এখানে অটোমোবাইলের পাশাপাশি ইলেকট্রনিকস, হালকা প্রকৌশল, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অন্যান্য উৎপাদনশিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান একই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কার্যক্রম শুরু করলে স্থানীয় সরবরাহকারী, পরিবহণ সেবা ও সহায়ক শিল্পের বিকাশ ঘটতে পারে।

পাঁচ খাতে বিনিয়োগে বহুমুখী উৎপাদনের সুযোগ
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। এগুলো হলো অটোমোবাইল ও উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি, প্রযুক্তি, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ।

অটোমোবাইল খাতে গাড়ি, যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস ও হালকা প্রকৌশল; জ্বালানি খাতে এলএনজি অবকাঠামো, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি; প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস, ইলেকট্রনিকস ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। আধুনিক রেল যোগাযোগ ও সমন্বিত লজিস্টিকস ব্যবস্থা পণ্য পরিবহণকে আরও কার্যকর করতে পারে। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বাড়লে ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন এবং রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারিত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দিয়েছেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাপানি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রযুক্তিবিদদের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে।

ইপিএ চুক্তিতে রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি বা ইপিএ দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের প্রথম এ ধরনের চুক্তির আওতায় ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যের জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, সেবা বাণিজ্য, ই-কমার্স, মেধাস্বত্ব ও বাণিজ্য সহজীকরণ নিয়েও বিধান রয়েছে।

গত অর্থবছরে বাংলাদেশ জাপানে প্রায় ১৩৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে জাপান থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ২১৬ কোটি ডলারের পণ্য। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং ইপিএর সুবিধা কাজে লাগানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিনিয়োগের সুফল ছড়িয়ে পড়বে দেশীয় শিল্পে
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫০টি জাপানি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে জাপানের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি ডলারের নিচে। ফলে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

জাতীয় অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহর মতে, জাপান ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণের ক্ষেত্রে অর্থায়নের পাশাপাশি তার অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করাও জরুরি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সহজ অনুমোদনপ্রক্রিয়া, পূর্বানুমানযোগ্য শুল্ক ও করনীতি, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং কার্যকর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত করা, দেশীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ বাড়ানো গেলে বিনিয়োগের সুফল দেশের শিল্প অর্থনীতিতে আরও বিস্তৃত হবে।

লক্ষ্য শুধু বিনিয়োগ নয়, উৎপাদন সক্ষমতার বিস্তার
পাঁচ বছরে ৬৩৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাংলাদেশের সামনে উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তুলে ধরেছে। এর সঙ্গে যুক্ত প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা শিল্পায়ন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

গাড়ি উৎপাদন থেকে শুরু করে যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ—প্রতিটি খাতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে বিনিয়োগের প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। জাপানি প্রযুক্তি ও বাংলাদেশের জনশক্তির সমন্বয় দেশীয় শিল্পকে আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে। এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি তাৎপর্য হবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচয়ে আরও বেশি পণ্য উৎপাদন, দেশীয় সরবরাহব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা। বিনিয়োগের পরিকল্পনাকে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের বাস্তব সুযোগে রূপ দিতে পারলে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাংলাদেশের শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

লিবিয়ায় অপহরণ-নির্যাতনের শিকার, ফিরলেন ১৭২ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
লিবিয়ায় অপহরণ-নির্যাতনের শিকার, ফিরলেন ১৭২ জন

লিবিয়ায় আটকে পড়া ১৭২ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে আগ্রহী এসব বাংলাদেশিকে লিবিয়া সরকার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহযোগিতায় দেশে ফেরানো হয়। তাঁদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, লিবিয়ার মিসরাতা থেকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ১৭২ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা।

মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় লিবিয়ায় প্রবেশ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় বিদেশে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা তাঁদের অনেকের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের অনেকে লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা জানাতে অনুরোধ
মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ফেরা ব্যক্তিদের তাঁদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে মানবপাচারকারীদের প্রলোভন ও অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে তাঁদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের লক্ষ্য।

ফেরত আসাদের সহায়তা দিচ্ছে আইওএম
প্রত্যাবাসিত ১৭২ জনের প্রত্যেককে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাঁদের যাতায়াত খরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দেশে ফেরার পর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এ সহায়তা তাঁদের কাজে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লিবিয়ায় আটক অন্য বাংলাদেশিদের ফেরাতে উদ্যোগ
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় আটক ব্যক্তিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। লিবিয়ায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর পাশাপাশি মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি