খুঁজুন
                               
, ,
           

রাতে মিরপুর-১০ ঘুরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
রাতে মিরপুর-১০ ঘুরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ প্রশাসকের

হকার উচ্ছেদ-পরবর্তী পরিস্থিতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ডেঙ্গু পরিস্থিতি, বৃক্ষরোপণ ও ড্রেন ব্যবস্থার অবস্থা দেখতে গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে মিরপুর-১০ এলাকায় যান তিনি। পরে বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা ঘুরে নাগরিক সুবিধা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে হকার উচ্ছেদের পর নেওয়া কিছু অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেখতে পান ডিএনসিসি প্রশাসক। এসব অবৈধ লাইন দ্রুত বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

হকারদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর উদ্ধার হওয়া জায়গায় চলমান বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন প্রশাসক। এসব জায়গা যাতে পুনরায় দখল না হয় এবং যথাযথভাবে নাগরিক কাজে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।

এ সময় বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলমান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতির খোঁজ নেন মো. শফিকুল ইসলাম খান। পাশাপাশি ড্রেন সংস্কার, ডাস্টবিন স্থাপন এবং নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে নেওয়া কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

মিরপুর-১০ থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলার ও আশপাশের দেয়ালে থাকা অবৈধ পোস্টার-লিফলেট অপসারণের পর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গ্রাফিতি অঙ্কনের বিষয়েও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে মিরপুর-১০ এলাকার সড়ক, ফুটপাত, ড্রেন, পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ এবং নাগরিক সুবিধার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।

হকার উচ্ছেদের পর উদ্ধার হওয়া জায়গাগুলো যাতে পুনরায় দখল না হয় এবং পথচারীদের চলাচলে কোনো ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

মিরপুর-১০ এলাকাকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগর এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন ডিএনসিসি প্রশাসক। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, ড্রেন ব্যবস্থার উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ এবং অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত নজরদারি চালানোর নির্দেশনা দেন তিনি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

বাদ পড়া ৩৫ লাখ শিশু পাবে হাম-রুবেলার টিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বাদ পড়া ৩৫ লাখ শিশু পাবে হাম-রুবেলার টিকা

আগের কর্মসূচিতে টিকা থেকে বাদ পড়া আরও প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে আগামী এক মাসের মধ্যে হাম-রুবেলার টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন কারণে বাদ পড়া কোনো শিশুকেই টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কড়াইল টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে বিশেষ হাম-রুবেলা ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের কর্মসূচিতে যেসব শিশু টিকা নিতে পারেনি, তাদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনতে বিশেষ ক্যাচ-আপ বা মপ-আপ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সারাদেশে প্রায় দুই কোটি শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী এক মাসে আরও প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছে তাদের স্বাস্থ্য ও জীবন সুরক্ষিত করতে সরকার কাজ করছে।

ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিশুদের প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এরিক গিলান উপস্থিত ছিলেন।

ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগের ক্যাম্পেইনের ধারাবাহিকতায় এবারও টিকাদান কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাসায় বাসায় গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ক্যাম্পেইনের শেষ পর্যায়ে বাকি শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে ডিএনসিসি।

ক্যাম্পেইনে সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার, গ্যাভি ও ইউনিসেফের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি ডিএনসিসি ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘরবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। শুধু রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় নয়, সারা বছর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মাদক নির্মূলে কঠোর সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্বও মাঠে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
মাদক নির্মূলে কঠোর সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্বও মাঠে

মাদকের বিরুদ্ধে এবার শুধু অভিযান নয়, মাঠে নেমেছেন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বও। সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন, জনসচেতনতা কর্মসূচি, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাটি আসছে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেই—মাদক ব্যবসা বা সেবনের সঙ্গে যুক্ত হলে দলীয় পরিচয় কোনোভাবেই সুরক্ষা দেবে না।

বছরের পর বছর মাদক পরিবার ও সমাজে যে ক্ষত তৈরি করেছে, তার বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ মাদক নির্মূলের লড়াই শুধু পুলিশের হাতে থাকলে কারবারিদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ভাঙা কঠিন। জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি মাঠে থাকলে প্রশাসনিক উদ্যোগের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততাও বাড়ে।

  • রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধ দেখেই ব্যবস্থা
  • সীমান্ত থেকে অনলাইন, সরবরাহ বন্ধে বাড়ছে নজরদারি
  • সরকারের কঠোর বার্তার সঙ্গে এমপিদের সরাসরি তৎপরতা

‘নিজ দলের হলেও আগে ব্যবস্থা’

সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হক তাঁর এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষক, ইমাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সমাজের সজ্জন ব্যক্তি এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে মাদকবিরোধী কমিটি করা হচ্ছে। ইউনিয়নে ৫১ জন এবং ওয়ার্ডে ২১ সদস্যের কমিটি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কমিটির সদস্যদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতি মাসে দুটি সভা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আইনুল হকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—নিজ দলের কেউ মাদক কারবার বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেই আগে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে বলা হয়েছে। মাদকবিরোধী লড়াইয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে আইন প্রয়োগের এই অবস্থানই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। কারণ কারবারিরা রাজনৈতিক আশ্রয় হারালে তাদের স্থানীয় প্রভাবও কমে আসবে।

ময়মনসিংহে প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি

গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের চরকালীবাড়ী যুব স্পোর্টিং ক্লাব আয়োজিত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকবিরোধী সমাবেশে বক্তব্য দেন সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ দলীয় নেতাকর্মীদেরও সতর্ক করে ওয়াহাব আকন্দ আরও বলেন, আত্মীয়তা বা রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ মাদক কারবারির পক্ষে কথা বললেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ২১ জুন ময়মনসিংহে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অর্থাৎ রাজনৈতিক বক্তব্য এখন শুধু মঞ্চে সীমাবদ্ধ নেই; স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি, সভা ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে সেটিকে কার্যকর করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

রামগঞ্জে সচেতনতা ও প্রশাসনিক কঠোরতার আহ্বান

গত ৩০ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কচুয়া আহমদিয়া ফাজিল মাদরাসার অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, তাঁর এলাকায় মাদকের ভয়াবহতা রয়েছে। এ কারণে জনসচেতনতা তৈরি, মিছিল-শোভাযাত্রা এবং সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জামিনে বেরিয়ে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী ওমর ফারুক তুষার লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেও মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট।

পরিবারকেও প্রতিরোধের অংশ করছেন এমপিরা

সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিমের উদ্যোগে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পরিবারকে যুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি জানান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, সমাজকর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রশাসনের সদস্যদের নিয়ে থানাভিত্তিক ‘মাদক নিয়ন্ত্রক সমন্বয় কমিটি’ করা হয়েছে।

মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের শনাক্ত করার পর তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের সহায়তা। এই উদ্যোগ মাদকবিরোধী লড়াইকে শুধু শাস্তিমূলক অবস্থান থেকে প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কারণ একজন আসক্তকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাও জরুরি।

৬২ হাজার কোটি টাকার বাজারে আঘাত

অপরাধ বিশ্লেষকদের ধারণা, দেশে বছরে ৬০ থেকে ৬২ হাজার কোটি টাকার মাদক বাণিজ্য হয়। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল ও আইসসহ বিভিন্ন মাদক সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও কক্সবাজারের সীমান্তকে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মু. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে বড় অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। সীমান্ত থেকে রাজধানী পর্যন্ত মাদক পৌঁছাতে একাধিক চেকপোস্ট অতিক্রম করতে হয়। তাই পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে নজরদারিতে আনতে হবে।

তাঁর মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব যুক্ত হলে অভিযান আরও কার্যকর হবে।

অনলাইন কারবারেও বাড়ছে সক্ষমতা

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াই এখন ডিজিটাল পরিসরেও বিস্তৃত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচার প্রবণতা ঠেকাতে সাইবার নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সাইবার সিকিউরিটি ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, অনলাইনে অপরাধ হলেও প্রযুক্তির মাধ্যমেই অপরাধী শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে অনলাইনে মাদক বিক্রির মতো অপরাধ শনাক্ত ও তদন্তের সক্ষমতাও বাড়ছে।

কঠোরতার সঙ্গে মানবিক সমাধান

মাদক নির্মূলে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং এমপিদের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করছে। এখন এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে তিনটি পথে—মাদকের সরবরাহ বন্ধ, কারবারিদের অর্থের উৎস শনাক্ত এবং আসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সমাজকে যুক্ত করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে যে কমিটিগুলো গড়ে উঠছে, সেগুলো যদি নিয়মিতভাবে কাজ করে এবং প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় রাখে, তাহলে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও স্থায়ী রূপ পেতে পারে।

সবচেয়ে বড় ইতিবাচক বার্তা হলো—মাদকের বিরুদ্ধে এখন কঠোরতার কথা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বলছে না; রাজনৈতিক নেতৃত্বও প্রকাশ্যে বলছে, ‘নিজ দলের হলেও ছাড় নয়।’ এই অবস্থান কার্যকর হলে মাদক কারবারিদের রাজনৈতিক ও সামাজিক আশ্রয়ের জায়গা সংকুচিত হবে। আর সেই জায়গাটিই হতে পারে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লড়াইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

কালের আলো/জেএন/এমকে

পড়াশোনা নয়, প্রতিভা-পরিশ্রমেই আলিয়ার সাম্রাজ্য

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
পড়াশোনা নয়, প্রতিভা-পরিশ্রমেই আলিয়ার সাম্রাজ্য

বলিউডে প্রতিষ্ঠা পেতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই শেষ কথা নয়—নিজের ক্যারিয়ার দিয়ে সেই কথাই যেন বারবার প্রমাণ করেছেন আলিয়া ভাট। পড়াশোনা শেষ করে প্রচলিত পথে এগোনোর বদলে অল্প বয়সেই অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে করণ জোহরের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক; এরপর এক দশকের কিছু বেশি সময়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভারতের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী হিসেবে।

তবে আলিয়ার গল্পটা শুধু তারকা পরিবারের মেয়ে থেকে নায়িকা হয়ে ওঠার গল্প নয়। বরং গ্ল্যামার, পারিবারিক পরিচয় ও সুযোগের বাইরে নিজের অভিনয়ক্ষমতা দিয়ে জায়গা করে নেওয়ার গল্পও এটি। ‘হাইওয়ে’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘রাজি’, ‘গলি বয়’, ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ কিংবা ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’—বিভিন্ন ঘরানার চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে হাজির করেছেন তিনি।

১৯ বছরেই শুরু, এরপর বদলে গেল পথ

২০১২ সালে মুক্তি পায় ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’। সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে অভিনয় করা সেই ছবিতে আলিয়া ছিলেন একেবারেই নতুন মুখ। কিন্তু অভিষেকের পর খুব বেশি সময় নেননি নিজেকে প্রমাণ করতে।

‘হাইওয়ে’তে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান তিনি। এরপর ‘টু স্টেটস’, ‘হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া’, ‘কাপুর অ্যান্ড সন্স’, ‘ডিয়ার জিন্দেগি’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’—একটির পর একটি ছবিতে চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিজের আলাদা স্বাক্ষর তৈরি করেন।

২০১৬ সালের ‘উড়তা পাঞ্জাব’-এর জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পাওয়ার পর তার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে আর সংশয়ের খুব একটা জায়গা থাকেনি। পরে ‘রাজি’, ‘গলি বয়’ ও ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’র মতো সিনেমায় পুরস্কারজয়ী পারফরম্যান্স তার অবস্থান আরও শক্ত করে। ফিল্মফেয়ারের হিসাবে এখন পর্যন্ত আলিয়ার ছয়টি জয় রয়েছে, যার মধ্যে ‘হাইওয়ে’র জন্য ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডও রয়েছে।

‘গাঙ্গুবাই’ থেকে ‘রানি’—চরিত্র বদলেছে, বেড়েছে স্বীকৃতি

সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ আলিয়ার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। গঙ্গা থেকে গাঙ্গুবাই হয়ে ওঠার জটিল চরিত্রে তার অভিনয় দর্শক-সমালোচক উভয়ের নজর কাড়ে। এই ছবির জন্য ২০২৩ সালের ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারও পান তিনি।

এর পর ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’তে একেবারে ভিন্ন মেজাজের চরিত্রে দেখা যায় তাকে। বাঙালি সাংবাদিক রানি চ্যাটার্জির চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০২৪ সালের ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান আলিয়া।

এভাবেই ক্যারিয়ারের প্রতিটি পর্যায়ে নিজেকে একই ছাঁচে আটকে না রেখে চরিত্রের সঙ্গে বদলে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক

আলিয়ার সাফল্যের গল্প এখন আর শুধু অভিনয়ে সীমাবদ্ধ নেই। সময়ের সঙ্গে তিনি প্রযোজনাতেও পা রেখেছেন। ‘ইটারনাল সানশাইন প্রোডাকশনস’ নামের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে গল্প বলার অন্য দিকেও নিজের উপস্থিতি তৈরি করেছেন।

‘ডার্লিংস’ ও ‘জিগরা’র মতো প্রকল্পে প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। অর্থাৎ ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের পাশাপাশি ক্যামেরার পেছনের সৃজনশীল সিদ্ধান্তেও নিজের জায়গা তৈরি করছেন আলিয়া।

ব্যবসায়ও বাড়ছে সাম্রাজ্য

আলিয়ার পরিচয় এখন শুধু বলিউড অভিনেত্রী হিসেবে নয়। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে তার পরিধি। শিশুদের পোশাক ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘Ed-a-Mamma’র সঙ্গে তার উদ্যোক্তা হিসেবে সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাশাপাশি Phool.co-তেও তার ইক্যুইটি অংশীদারিত্ব রয়েছে বলে ফর্চুন ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্যাশন দুনিয়াতেও তার প্রভাব ক্রমেই আন্তর্জাতিক হয়েছে। তিনি গুচির প্রথম ভারতীয় গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালে ফর্চুন ইন্ডিয়ার ‘Most Powerful Women’ তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন আলিয়া।

পরিবারও সিনেমার, কিন্তু পরিচয় নিজের

আলিয়ার জন্মই হয়েছে চলচ্চিত্র-ঘনিষ্ঠ পরিবারে। বাবা মহেশ ভাট পরিচালক ও প্রযোজক, মা সোনি রাজদান অভিনেত্রী। বোন পূজা ভাটও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। পরে স্বামী হিসেবে জীবনে এসেছেন আরেক তারকা রণবীর কাপুর।

ফলে বলিউডে প্রবেশের দরজা তার জন্য তুলনামূলকভাবে পরিচিত ছিল—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু সেই দরজা দিয়ে ঢুকে দীর্ঘদিন টিকে থাকা এবং শীর্ষ সারির অভিনেত্রী হয়ে ওঠা সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। আলিয়ার ক্যারিয়ার দেখলে বোঝা যায়, সময়ের সঙ্গে নিজের জায়গাটি তিনি শুধু পারিবারিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে রাখেননি।

ব্যক্তিজীবনেও আলোচনার কেন্দ্রে

ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনও বহুবার খবরের শিরোনাম হয়েছে আলিয়ার। রণবীর কাপুরের সঙ্গে প্রেম, ২০২২ সালে বিয়ে এবং একই বছর কন্যাসন্তান রাহার জন্ম—সবকিছু নিয়েই ভক্তদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।

তবে মাতৃত্বের পরও কাজ থেকে দূরে সরে যাননি তিনি। বরং অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা, ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড—সব ক্ষেত্রেই নিজের ব্যস্ততা ধরে রেখেছেন।

নতুন দশকে আরও বড় ঝুঁকি

আলিয়ার সাম্প্রতিক ক্যারিয়ারও দেখাচ্ছে, নিরাপদ চরিত্রের মধ্যে আটকে থাকার ইচ্ছা তার নেই। ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আলফা’তে তাকে দেখা গেছে YRF Spy Universe-এর প্রথম নারী-নেতৃত্বাধীন অ্যাকশন ছবির কেন্দ্রে। ছবিতে তার সঙ্গে ছিলেন শর্বরী, অনিল কাপুর ও ববি দেওল।

সামনেও তার হাতে রয়েছে বড় প্রকল্প। ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এ রণবীর কাপুর ও ভিকি কৌশলের সঙ্গে তাকে দেখা যাবে; ছবিটির মুক্তির তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২৭ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

৪ হাজার ৬০০ কোটির সম্পদ—কতটা সত্য?

আলিয়ার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা—এমন দাবি বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়। তবে এ ধরনের সেলিব্রিটি ‘নেট ওয়ার্থ’ হিসাব সাধারণত বিভিন্ন সম্পদ, ব্র্যান্ড চুক্তি, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগের আনুমানিক হিসাবের ওপর নির্ভর করে; তাই নির্দিষ্ট অঙ্কটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অভিনয়ের পারিশ্রমিকের বাইরেও এখন তার আয় ও প্রভাবের ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত। সিনেমা, প্রযোজনা, ব্যবসা, ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট ও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন—সব মিলিয়ে আলিয়া নিজেকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন-ব্যবসায়িক ব্র্যান্ডে পরিণত করেছেন।

অসম্পূর্ণ পড়াশোনা নয়, সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের গল্প

আলিয়ার গল্পকে তাই শুধু ‘পড়াশোনা শেষ না করেও সফল’—এই একটি বাক্যে আটকে রাখলে তার ক্যারিয়ারের বড় অংশই বাদ পড়ে যায়। তার আসল গল্প হলো অল্প বয়সে সিদ্ধান্ত নেওয়া, একের পর এক কঠিন চরিত্র গ্রহণ করা, ব্যর্থতা ও সমালোচনা সামলে নিজেকে বদলানো এবং অভিনয়ের বাইরেও নিজের সাম্রাজ্য তৈরি করা।

১৯ বছর বয়সে যে মেয়েটি ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ দিয়ে বলিউডে পা রেখেছিলেন, আজ তিনি অভিনেত্রী, প্রযোজক, উদ্যোক্তা ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মুখ। আর এই দীর্ঘ পথচলাই দেখিয়েছে—তারকা পরিবার দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু সেই দরজার ওপারে নিজের জায়গা ধরে রাখতে লাগে প্রতিভা, পরিশ্রম এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়ার সাহস।

কালের আলো/জেএন