ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটারজুড়ে বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, উঠে যাওয়া কার্পেটিং ও খানাখন্দের কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। বিশেষ করে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা অংশে পরিস্থিতি শোচনীয়। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র সংস্কারের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। মহাসড়কের দুটি টোল প্লাজার আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন টোল আদায় হলেও সড়কের দুরবস্থা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
নবীগঞ্জের শেরপুর এলাকা থেকে আউশকান্দি বাজার, মিনাজপুর, জালালপুর, সৈয়দপুর, গোপলার বাজার, দেবপাড়া বাজার, ফুলতলী বাজার, পানিউমদা বাজার, বড়চর, বাহুবল ও মীরপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ দেখা গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের পিচ উঠে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মালবাহী ট্রাক, লরি, দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকিতে।
হানিফ বাসের চালক রহিম আলী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ঝুঁকি নিয়ে বাস চালাতে হয়। সড়কের গর্তের কারণে যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকেন।
ট্রাকচালক কদর আলী বলেন, মালবাহী ট্রাক নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে অনীহা থাকলেও জীবিকার প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে চলতে হয়। বৃষ্টির পর গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় কতটা গভীর গর্ত রয়েছে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
যাত্রী আব্দুল আলী বলেন, ভাঙা সড়কে ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে নবীগঞ্জ অংশ দিয়ে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
সড়কের বড় গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন অনেক সময় পথচারীদের ব্যবহৃত অংশ দিয়ে চলাচল করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সড়কের পাশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ সরকার জানান, মহাসড়কের বর্তমান অবস্থা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সংস্কারকাজে অনিয়মের বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় আউশকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন বলেন, জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে দ্রুত মহাসড়কের সংস্কারকাজ শুরু করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি সড়ক, সেতু ও পরিবহনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকার সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, জনস্বার্থে মহাসড়কের দুরবস্থার বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরবেন। প্রয়োজনে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ দিয়ে সড়ক, সেতু ও পরিবহনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ কমাতে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার, কাজের মান নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]