খুঁজুন
                               
, ,
           

মগবাজারে ঢাবির ‘ক্ষণিকা’ বাস দুর্ঘটনা, আহত ৮ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
মগবাজারে ঢাবির ‘ক্ষণিকা’ বাস দুর্ঘটনা, আহত ৮ শিক্ষার্থী

মগবাজার এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবাহী ‘ক্ষণিকা’ বাস। এ ঘটনায় বাসে থাকা অন্তত ৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল প্রায় ৯টার দিকে কারওয়ান বাজার এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আহত শিক্ষার্থীদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

দুর্ঘটনাকবলিত বাসে থাকা শিক্ষার্থী নাইমুজ্জামান ইমন জানান, এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় হঠাৎ করেই বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে। তিনি বলেন, আমি বাসেই ছিলাম। আল্লাহর রহমতে বড় ধরনের বিপদ থেকে বেঁচে গেছি।

এ বিষয়ে ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে ৭ থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ডাকসু নেতারা হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ফিড-বাচ্চা-ওষুধের বাড়তি দামে সংকটে পোলট্রি শিল্প

মতলব (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ফিড-বাচ্চা-ওষুধের বাড়তি দামে সংকটে পোলট্রি শিল্প

মুরগির খাদ্য, ওষুধ ও বাচ্চার দাম বাড়ায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পোলট্রি খামারিরা চরম সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বাড়লেও সে তুলনায় ডিমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসান গুনছেন তারা। ইতোমধ্যে লোকসানের কারণে কয়েকটি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে পোলট্রি শিল্প টিকিয়ে রাখতে লেয়ার বাচ্চা, ফিড ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন খামারিরা।

খামারিদের অভিযোগ, মুরগির খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। ফলে বাজারে ডিমের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে খামারিদের আয় বাড়ছে না। উৎপাদন খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকার খামারি জাহিদ হোসেন বলেন, কোম্পানিভেদে পরিবহনসহ ৫০ কেজির এক বস্তা মুরগির খাবারের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা। এর সঙ্গে বেড়েছে ওষুধ ও বাচ্চার দাম। উৎপাদিত ডিম বিক্রি করে অনেক সময় খাবারের খরচও ওঠে না। ফলে কেউ কেউ খামার বন্ধ করে দিয়েছেন।

লুধুয়া এলাকার খামারি মইন উদ্দিন বলেন, গত ছয় মাসে প্রতি বস্তা খাদ্যের দাম প্রায় ৪৯৫ টাকা বেড়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হলেও সেই টাকা তুলতে পারছেন না তারা। প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে সব সময় পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কোম্পানি থেকে কিনতে গেলে বেশি দাম দিতে হয়।

আরেক খামারি মতিন বলেন, একটি লেয়ার মুরগিকে ডিম দেওয়ার উপযোগী করতে খাবার, ওষুধ ও পরিচর্যাসহ অন্তত ৭০০ টাকা খরচ হয়। ডিম দেওয়া শুরু করার পরও প্রতিদিন একটি মুরগির পেছনে প্রায় ৮ টাকা খাদ্য ব্যয় হয়। অথচ প্রতিটি মুরগি প্রতিদিন ডিম দেয় না। এর মধ্যে রোগে মুরগি মারা গেলে খামারিদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়।

মতলব উত্তর পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাসেল দেওয়ান বলেন, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নিম্নমানের খাদ্য ও বাচ্চা সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে। সরকারি নজরদারি বাড়ানো না হলে উপজেলার পোলট্রি শিল্প আরও সংকটে পড়বে।

মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, বাচ্চা, খাদ্য ও কাঁচামালের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিই বর্তমানে প্রান্তিক খামারিদের লোকসানের অন্যতম কারণ। এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা গেলে খামারিরা লাভবান হতে পারবেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় যে ভ্যাকসিন আসে, তা সরকারি মূল্যে খামারিদের কাছে বিক্রি করা হয় বলেও জানান তিনি।

খামারিরা বলছেন, দ্রুত খাদ্য, ওষুধ ও বাচ্চার দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মতলব উত্তরের শত শত পোলট্রি খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

তেলের দাম বাড়ল, বাসভাড়ায় নতুন ঝাঁকুনি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
তেলের দাম বাড়ল, বাসভাড়ায় নতুন ঝাঁকুনি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা এবার সরাসরি পড়ছে গণপরিবহনে। ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা হওয়ার পর বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। প্রস্তাব অনুযায়ী দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং নগর পরিবহনে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়তে পারে। তবে কাগজে এই বৃদ্ধি যতটা, বাস্তবে যাত্রীর খরচ বাড়তে পারে তার চেয়েও বেশি। কারণ সরকারি ভাড়া নির্ধারণের হিসাব করা হয় নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা ধরে।

  • ডিজেল ২০ টাকা বাড়তেই ভাড়া বাড়ানোর তোড়জোড়
  • প্রস্তাবের আগেই কোথাও কোথাও আদায় শুরু
  • আসন কম হলে বাড়বে ভাড়া আরও

বাস্তবে সেই আসনসংখ্যার চেয়ে কম যাত্রী নিয়ে চলা বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া স্বাভাবিকভাবেই বেশি পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেক বাস্তবতা—অনুমোদন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কয়েকটি রুটে বাড়তি ভাড়া নেওয়া শুরু হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের আগেই বাড়তি ভাড়া
রাজধানীর ফার্মগেট থেকে যাত্রাবাড়ী হয়ে সাইনবোর্ড পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার। সরকার নির্ধারিত কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা হিসাবে ভাড়া দাঁড়ায় প্রায় ৩৭ টাকা। কিন্তু লাব্বাইক পরিবহনে আগে থেকেই এ পথে ৪০-৪৫ টাকা নেওয়া হতো। ডিজেলের দাম বাড়ার পর সোমবার সেখানে নেওয়া হয়েছে ৫০ টাকা।

দূরপাল্লার পথেও একই চিত্র দেখা গেছে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী কয়েকটি বাসে যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ তখনও নতুন ভাড়ার সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

ফলে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের আগেই বাজারে তার প্রভাব পৌঁছে গেছে। প্রশ্ন উঠছে, নতুন ভাড়া অনুমোদনের পর যাত্রীর প্রকৃত ব্যয় কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।

কাগজের হিসাবে ১৮-২০ পয়সা, বাস্তবে কত?
বাস মালিকদের সংগঠন ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে ২ টাকা ৭৩ পয়সা এবং দূরপাল্লায় ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৩ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে। বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণ কমিটি অবশ্য নগর পরিবহনে ১৮ পয়সা এবং দূরপাল্লায় ২০ পয়সা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে মন্ত্রণালয় এই হার কিছুটা কমাতেও পারে।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। দূরপাল্লার বাসের ভাড়া নির্ধারণের ভিত্তি ৫২ আসন। বাস্তবে অনেক বাসে আসন থাকে ৪০টি, আর আরামদায়ক যাত্রার জন্য কোনো কোনো বাসে ৩২ থেকে ৩৬টি আসনও রাখা হয়।

ফলে ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা ভাড়া থাকলেও ৪০ আসনের বাসে তা দাঁড়ায় প্রায় ২ টাকা ৯০ পয়সা। নতুন প্রস্তাবিত ভাড়া ২ টাকা ৪৩ পয়সা হলে একই হিসাবে ৪০ আসনের বাসে তা প্রায় ৩ টাকা ১৬ পয়সায় পৌঁছাবে। অর্থাৎ ঘোষিত ভাড়া বৃদ্ধির চেয়ে যাত্রীর বাস্তব ব্যয় বাড়তে পারে বেশি।

ডিজেলের দামে রেকর্ড, পরিবহনে সরাসরি ধাক্কা
গত রোববার রাতে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। ডিজেলের নতুন দাম লিটারে ১৩৫ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে এপ্রিলে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা করা হয়েছিল।

পেট্রোলের দাম এবার লিটারে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা হয়েছে। তবে পরিবহন খাতে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করছে ডিজেলের দাম। বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত নৌযানের মতো বাণিজ্যিক পরিবহনের বড় অংশই ডিজেলনির্ভর। পরিবহন খাতে ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় ৯০ শতাংশই ডিজেল।

শুধু বাস নয়, বাড়ছে পণ্য পরিবহনের খরচও
জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব ইতোমধ্যে পণ্য পরিবহনেও পড়তে শুরু করেছে। বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ‘ফুয়েল সারচার্জ’ আরোপ করেছে।

এর অর্থ হলো জ্বালানির বাড়তি ব্যয় শুধু যাত্রী পরিবহনের ভাড়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে সরবরাহব্যবস্থা ও পণ্যের দামের ওপরও। নৌপথেও একই চাপ তৈরি হয়েছে। লঞ্চের সরকারি ভাড়া এখনো চূড়ান্ত না হলেও খেয়া ও নৌপথে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মালিকদের যুক্তি, যাত্রীর প্রশ্ন
বাস মালিকদের দাবি, ২০২২ সালের পর ভাড়া পুনর্নির্ধারণে জ্বালানি ছাড়া অন্যান্য ব্যয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তাদের হিসাবে, একই সময়ে ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা হওয়ায় বাসের যন্ত্রাংশ ও আমদানি ব্যয় বেড়েছে। তবে যাত্রীর দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নটি ভিন্ন। আয় না বাড়লে জ্বালানি, যন্ত্রাংশ ও পরিবহন ব্যয়ের সমন্বয় শেষ পর্যন্ত কতটা যাত্রী বহন করতে পারবেন?

এখন সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে চূড়ান্ত ভাড়া নির্ধারণের ওপর। কিন্তু তার আগেই যদি বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু হয়, তাহলে নতুন ভাড়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অর্থ শুধু পাম্পে অতিরিক্ত টাকা গোনা নয়। এর প্রভাব বাসের আসনে, ট্রাকের ভাড়ায়, নৌপথের খরচে এবং শেষ পর্যন্ত বাজারের পণ্যমূল্যেও পড়তে পারে। তাই এবার ভাড়া সমন্বয়ের আসল পরীক্ষা শুধু মালিকের বাড়তি ব্যয় মেটানো নয়—জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির পুরো চাপটি শেষ পর্যন্ত কতটা যাত্রীর ঘাড়ে চাপছে, সেটিই।

এম/এএইচ

গ্রিনল্যান্ডে নতুন ২ সামরিক ঘাঁটি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
গ্রিনল্যান্ডে নতুন ২ সামরিক ঘাঁটি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া একটি নতুন চুক্তির আওতায় দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে স্নায়ুযুদ্ধের আমলের একটি সাবেক সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু এবং পূর্ব উপকূলের একটি ঘাঁটিতে সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হতে যাওয়া দুইটি এলাকা হলো, নার্সারসুয়াক (Narsarsuaq) এবং মেস্টারসভিগ (Mestersvig)। ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘ব্লু ওয়েস্ট ওয়ান’ (Bluie West One) সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়ার পর নার্সারসুয়াকের জনসংখ্যা কমে মাত্র কয়েক ডজনে এসে ঠেকেছে। অন্যদিকে, মেস্টারসভিগ হলো একটি সামরিক আউটপোস্ট, যা বর্তমানে ডেনমার্কের স্পেশাল ফোর্সেস ইউনিট ‘সিরিয়াস ডগ স্লেড পেট্রোল’ (Sirius Dog Sled Patrol) ব্যবহার করে আসছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত আড়াইটায়) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চুক্তির মূল পাঠ এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত চূড়ান্ত নয়।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ডেনমার্ক জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা ডেনমার্কের ওপর না ছেড়ে বরং উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা ন্যাটোর (NATO) নজরদারির অধীনে আনা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্বায়ত্তশাসিত এই ড্যানিশ ভূখণ্ড অধিগ্রহণের জন্য সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও একসময় উড়িয়ে দেননি তিনি। ট্রাম্পের এই হুমকি গত জানুয়ারিতে চরমে পৌঁছায়, যার ফলে ন্যাটোর ভেতরে কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয় এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের ওপর থেকে চাপ কমাতে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়।

উল্লেখ্য, স্নায়ুযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল। তবে বর্তমানে সেখানে কেবল ‘পিটুফিক স্পেস বেস’ (Pituffik Space Base) টিকে আছে, যেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ