খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

জামায়াত আমির

বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে

বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘হাজার চেষ্টা করেন ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না, দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন।’

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াত আয়োজিত এক সমাবেশে দলের আমির শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, সেই আওয়ামী লীগ যারা জাতিকে নিয়ে বিরোধী দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতো আজ তারা কোথায়? আর তারা (বিএনপি) একই কাজ শুরু করেছে। যে আওয়ামী লীগ তাদের পোষ্য লাঠিয়ালদের দিয়ে সমাজের বিভিন্ন জায়গায় কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল। সেই আওয়ামী লীগের পাশে তাদের দুঃখের দিনে কোনো লাঠিয়াল এসে দাঁড়াতে পারেনি।

সুশাসন কায়েমের জন্য রাষ্ট্রের মৌলিক যেসব জায়গায় পরিবর্তন করা দরকার, প্রত্যেকটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলছে বলে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। বিএনপি তাদের ৩১ দফা কর্মসূচি, দলীয় ইশতেহারেরও বিরোধিতা করছে। তারা যে বিরোধিতা করছে, সেই জ্ঞানটাও তারা হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দুইটা ভোট হয়েছে। একটা ভোট তাদের পক্ষে গেছে, সেটি তারা মেনে নিয়েছে। আরেকটা ভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি তারা মানে না, এটা লজ্জার। ৭০ শতাংশ ভোটের রায় যেদিন বাস্তবায়ন হবে, সেদিন দেশ থেকে সত্যিকার অর্থে ফ্যাসিবাদ বিদায় নেবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান না হলে, মানুষ জীবন না দিলে বিএনপি আজ ক্ষমতা উপভোগ করতে পারতো না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তারা এগুলো ভুলে গেছে। তবে তারা আগেই ভুলে গিয়েছিল। শহীদ পরিবার যখন বুকে কষ্ট নিয়ে কান্নাকাটি করছিল, শহীদ পরিবারের কাছে তাদের ছুটে দেওয়ার সময় ছিল না। তারা ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর ৭ আগস্ট নির্বাচনের দাবি তুলে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল।

বিএনপিকে জুলাই বিপ্লবের সুবিধাভোগী উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা বিদেশে ছিলেন, বিপ্লবের কারণে স্বদেশে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এই বিপ্লব না হলে তারা দেশে ফিরে আসার চিন্তা করতে পারতেন না।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখন কেউ কেউ দাবি করে অমুক আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড, অমুকের নেতৃত্বে এই আন্দোলন সফল হয়েছে। এগুলো সব ভুয়া। কারও ন্যায্য অবদানকে কখনো আমরা অস্বীকার করি না। আন্দোলন আমরা সবাই করেছি। কিন্তু আমরা তীরে ভিড়তে পারিনি। আমাদের তরী সমুদ্রে ভাসমান ছিল। জুলাই আন্দোলনের নায়কেরা এই তরী নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে, জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। তাদের সম্মান করতে ভালোবাসতে শিখুন। তাদের নিয়ে তুচ্চতাচ্ছিল্য করবেন না।

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি এখান থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে মানুষের আশ্রয়ের জায়গা, আইনি আশ্রয়ের জায়গা থানা, সেই থানার ভেতরে ঢুকে দুঃখজনকভাবে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপরে হামলা করা হয়েছে। বার্তা পরিষ্কার। যেদিন তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করেছে, আমি বলেছিলাম বিএনপি আজ থেকে ফ্যসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করল। এটা ফ্যাসিবাদ।

গতকাল নেত্রকোনায় জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার ওপরে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সমাবেশে উপস্থিতদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, এটা কোন বাংলাদেশ? এই বাংলাদেশ কি আপনারা চেয়েছিলেন? আপনাদের সন্তানদের আবার পায়ের গোড়ালি দুই টুকরা করা হোক, আপনারা চেয়েছেন? আপনাদের সন্তানদের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে দা-কিরিচ, কুড়াল আর হেলমেট দিয়ে আঘাত করা হোক আপনারা চেয়েছিলেন? এই বাংলাদেশকে আমরা ধিক্কার জানাই। এ বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ চাই।

শফিকুর রহমান বলেন, কোনো আদুভাই, দাদুভাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে আমাদের সন্তানদের ওপর ছড়ি ঘুরাক, আমরা এটা দেখতে চাই না। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যদি বন্ধ না করেন মনে রাখবেন, জুলাই শুধু ২৪ সালে ছিল না, জুলাই প্রত্যেক বছরে আছে। সে জুলাই আবার ফিরে আসবে ইনশা আল্লাহ এবং তখন ফাইনালি ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে।

সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা যেন জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান। ৭০ ভাগ মানুষের রায় মেনে নেয়। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিরোধী দলের লড়াই সংসদের ভিতরেও চলবে, খোলা ময়দানেও চলবে। এই লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে।

সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে ৫ কোটি মানুষ হ্যাঁ-তে ভোট দিয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণ রায় দিয়েছে, গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। সেটি না হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দলের সংগ্রাম দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে। রক্তাক্ত আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিলে এর পরিণতিও ভোগ করতে হবে।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান বলেন, জাতির রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার সংসদে দাঁড়িয়ে জুলাই শহীদদের অপমান করা হচ্ছে। জুলাই শহীদ পরিবারের আর্তনাদ তারা (বিএনপি) শুনতে পান না। ৭০ ভাগ মানুষের রায় মেনে না নিলে তারা আবার দেশে আন্দোলন হবে।

সমাবেশে শহীদ পরিবারের পক্ষে শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী রোকেয়া বেগম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শহীদ পরিবার ও গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দাবি। তিনি সংসদে গিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলবেন। জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন।

গণ-অভ্যুত্থানে হাত হারানো আহত জুলাই যোদ্ধা আতিকুল ইসলাম বলেন, ৭০ ভাগ মানুষের গণরায়কে অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই রায়কে গলা টিপে হত্যা করতে চাইলে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে হবে। তবে শেখ হাসিনা পালানোর পথ পেয়েছে, তারা সেই সুযোগও পাবেন না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, জামায়াতের ঢাকা দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসীম উদ্দিন সরকার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রাজশাহীতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে ১২ লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ১

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে ১২ লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ১

রাজশাহীর দুর্গাপুরে প্রাইভেট কারের গ্লাস ভেঙে চুরি হওয়া ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাহফুজ আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামসংলগ্ন পাচুবাড়ি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মাহফুজ আহম্মেদ দুর্গাপুর উপজেলার গোপিনাথপুর খাঁস খামার গ্রামের বাসিন্দা।রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম দুর্গাপুর উপজেলার বখতিয়ারপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। পাশাপাশি তিনি মাছ চাষের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গাপুর জনতা ব্যাংক শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন তিনি। পরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে বাড়ির নিচতলার গ্যারেজে রাখা ব্যক্তিগত গাড়ির ভেতরে টাকাগুলো রেখে গাড়িতে তালা লাগিয়ে দ্বিতীয় তলায় যান।

সে সময় তার বাড়িতে নির্মাণকাজ চলছিল। পরে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে নিচে নেমে এসে তিনি দেখতে পান, গাড়ির ভেতরে রাখা টাকাগুলো নেই। একই সঙ্গে গাড়ির বাম পাশের দরজার গ্লাস ভাঙা দেখতে পান তিনি।

এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে পাচুবাড়ি বাজার এলাকা থেকে মাহফুজ আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির সিঁড়ির নিচে সিমেন্টের বস্তার ভেতরে রাখা একটি শপিং ব্যাগ থেকে চুরি হওয়া ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মাহফুজ আহম্মেদকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এসআইপি

 

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য চালু হচ্ছে ‘শিশু স্বর্গ’ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য চালু হচ্ছে ‘শিশু স্বর্গ’ 

প্রাথমিকভাবে ১০ জেলার ১০ উপজেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন সেবা নিশ্চিত করতে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্প চালু করা হবে। দ্রুত এ কার্যক্রম শুরু হবে।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতে করণীয় ঠিক করতে এই সভা হয়।

বৈঠকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো স্থাপন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজের প্রতিটি স্তরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। এমন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের সব কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।’

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা এবং অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধার বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবন নির্মাণ নীতিমালায় হাসপাতাল, রেস্টুরেন্টসহ সরকারি ও বেসরকারি সব স্থাপনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যাতায়াতের উপযোগী অবকাঠামো ও টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। কক্ষের দরজা এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে, যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সহজেই প্রবেশ করতে পারেন।’

নারীদের জন্য চালুর পরিকল্পনায় থাকা ইলেকট্রিক বাসেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর জোর দেন তিনি।

এছাড়া সারা দেশে পরিচালিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য করা স্কুলগুলো সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলালও সভায় অংশ নেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই: এ্যানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই: এ্যানি

Oplus_131072

পদ্মা ব্যারেজ আমাদের স্বার্থের ব্যাপার, এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে শুরু হওয়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদনের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ দেশের মোট আয়তনের এক তৃতীয়াংশ ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ উপকার পাবে। ৫ বছরের প্রতি বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা করে সম্ভাব্য ৩৪ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়ন হবে প্রকল্পটি।

এ্যানি বলেন, খালখননের মাধ্যমে পানি আনা প্রাথমিক পরিকল্পনা। প্রকল্পের মাধ্যমে পানি মজুদে কারিগরি দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা চুক্তি বাস্তবায়নে কারিগরি দল কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে সেটা কাটিয়ে উঠতে রাজবাড়ীতে ব্যারেজের যে অংশ হবে সেখানে পানি মজুদ করা হবে। ৫৪টি নদীর হিস্যা এখানে নয়।

কালের আলো/এসএকে