খুঁজুন
                               
, ,
           

জামায়াত আমির

বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে

বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘হাজার চেষ্টা করেন ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না, দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন।’

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াত আয়োজিত এক সমাবেশে দলের আমির শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, সেই আওয়ামী লীগ যারা জাতিকে নিয়ে বিরোধী দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতো আজ তারা কোথায়? আর তারা (বিএনপি) একই কাজ শুরু করেছে। যে আওয়ামী লীগ তাদের পোষ্য লাঠিয়ালদের দিয়ে সমাজের বিভিন্ন জায়গায় কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল। সেই আওয়ামী লীগের পাশে তাদের দুঃখের দিনে কোনো লাঠিয়াল এসে দাঁড়াতে পারেনি।

সুশাসন কায়েমের জন্য রাষ্ট্রের মৌলিক যেসব জায়গায় পরিবর্তন করা দরকার, প্রত্যেকটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলছে বলে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। বিএনপি তাদের ৩১ দফা কর্মসূচি, দলীয় ইশতেহারেরও বিরোধিতা করছে। তারা যে বিরোধিতা করছে, সেই জ্ঞানটাও তারা হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দুইটা ভোট হয়েছে। একটা ভোট তাদের পক্ষে গেছে, সেটি তারা মেনে নিয়েছে। আরেকটা ভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি তারা মানে না, এটা লজ্জার। ৭০ শতাংশ ভোটের রায় যেদিন বাস্তবায়ন হবে, সেদিন দেশ থেকে সত্যিকার অর্থে ফ্যাসিবাদ বিদায় নেবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান না হলে, মানুষ জীবন না দিলে বিএনপি আজ ক্ষমতা উপভোগ করতে পারতো না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তারা এগুলো ভুলে গেছে। তবে তারা আগেই ভুলে গিয়েছিল। শহীদ পরিবার যখন বুকে কষ্ট নিয়ে কান্নাকাটি করছিল, শহীদ পরিবারের কাছে তাদের ছুটে দেওয়ার সময় ছিল না। তারা ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর ৭ আগস্ট নির্বাচনের দাবি তুলে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল।

বিএনপিকে জুলাই বিপ্লবের সুবিধাভোগী উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা বিদেশে ছিলেন, বিপ্লবের কারণে স্বদেশে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এই বিপ্লব না হলে তারা দেশে ফিরে আসার চিন্তা করতে পারতেন না।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখন কেউ কেউ দাবি করে অমুক আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড, অমুকের নেতৃত্বে এই আন্দোলন সফল হয়েছে। এগুলো সব ভুয়া। কারও ন্যায্য অবদানকে কখনো আমরা অস্বীকার করি না। আন্দোলন আমরা সবাই করেছি। কিন্তু আমরা তীরে ভিড়তে পারিনি। আমাদের তরী সমুদ্রে ভাসমান ছিল। জুলাই আন্দোলনের নায়কেরা এই তরী নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে, জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। তাদের সম্মান করতে ভালোবাসতে শিখুন। তাদের নিয়ে তুচ্চতাচ্ছিল্য করবেন না।

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি এখান থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে মানুষের আশ্রয়ের জায়গা, আইনি আশ্রয়ের জায়গা থানা, সেই থানার ভেতরে ঢুকে দুঃখজনকভাবে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপরে হামলা করা হয়েছে। বার্তা পরিষ্কার। যেদিন তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করেছে, আমি বলেছিলাম বিএনপি আজ থেকে ফ্যসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করল। এটা ফ্যাসিবাদ।

গতকাল নেত্রকোনায় জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার ওপরে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সমাবেশে উপস্থিতদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, এটা কোন বাংলাদেশ? এই বাংলাদেশ কি আপনারা চেয়েছিলেন? আপনাদের সন্তানদের আবার পায়ের গোড়ালি দুই টুকরা করা হোক, আপনারা চেয়েছেন? আপনাদের সন্তানদের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে দা-কিরিচ, কুড়াল আর হেলমেট দিয়ে আঘাত করা হোক আপনারা চেয়েছিলেন? এই বাংলাদেশকে আমরা ধিক্কার জানাই। এ বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ চাই।

শফিকুর রহমান বলেন, কোনো আদুভাই, দাদুভাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে আমাদের সন্তানদের ওপর ছড়ি ঘুরাক, আমরা এটা দেখতে চাই না। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যদি বন্ধ না করেন মনে রাখবেন, জুলাই শুধু ২৪ সালে ছিল না, জুলাই প্রত্যেক বছরে আছে। সে জুলাই আবার ফিরে আসবে ইনশা আল্লাহ এবং তখন ফাইনালি ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে।

সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা যেন জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান। ৭০ ভাগ মানুষের রায় মেনে নেয়। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিরোধী দলের লড়াই সংসদের ভিতরেও চলবে, খোলা ময়দানেও চলবে। এই লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে।

সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে ৫ কোটি মানুষ হ্যাঁ-তে ভোট দিয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণ রায় দিয়েছে, গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। সেটি না হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দলের সংগ্রাম দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে। রক্তাক্ত আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিলে এর পরিণতিও ভোগ করতে হবে।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান বলেন, জাতির রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার সংসদে দাঁড়িয়ে জুলাই শহীদদের অপমান করা হচ্ছে। জুলাই শহীদ পরিবারের আর্তনাদ তারা (বিএনপি) শুনতে পান না। ৭০ ভাগ মানুষের রায় মেনে না নিলে তারা আবার দেশে আন্দোলন হবে।

সমাবেশে শহীদ পরিবারের পক্ষে শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী রোকেয়া বেগম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শহীদ পরিবার ও গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দাবি। তিনি সংসদে গিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলবেন। জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন।

গণ-অভ্যুত্থানে হাত হারানো আহত জুলাই যোদ্ধা আতিকুল ইসলাম বলেন, ৭০ ভাগ মানুষের গণরায়কে অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই রায়কে গলা টিপে হত্যা করতে চাইলে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে হবে। তবে শেখ হাসিনা পালানোর পথ পেয়েছে, তারা সেই সুযোগও পাবেন না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, জামায়াতের ঢাকা দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসীম উদ্দিন সরকার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম।

কালের আলো/এসআর/এএএন

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

Oplus_131072

লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার এবং ত্রিপোলিস্থ তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৭৪ জন অনিয়মিত বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের ফ্লাইট যোগে তারা বাংলাদেশে ফিরেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এদের মধ্যে বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে মানবপাচারকারীদের দ্বারা অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচ, কিছু খাদ্য সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে

অর্থনীতির গতি বাড়াতে বিমা খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
অর্থনীতির গতি বাড়াতে বিমা খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে বিমা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিমা খাতকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনমুখী করে তুলতে পারলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে। একইসঙ্গে মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপত্তাবোধ ও উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহও বাড়বে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এখনও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পূর্ণমাত্রায় কার্যকরভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। বিমা খাত এমনই একটি ক্ষেত্র— যা মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনীতিকে গতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’’

তিনি বলেন, ‘‘এ খাতে সুশাসন, কার্যকর নীতিমালা ও শক্তিশালী আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে। বিমার প্রতি মানুষের বিশ্বাস তৈরি হলে ব্যক্তি ও পরিবার যেমন আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম হবে, তেমনই বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘‘একজন নাগরিক যখন নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিরাপদ বোধ করেন, তখন তিনি আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে অংশ নেন। বিমা সেই নিরাপত্তাবোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর প্রভাব পড়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শুধু গতানুগতিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ক্ষমতায় আসেনি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সংস্কার ও সমাধানের লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।’’

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন, রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা, অর্থ পাচার রোধ এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশের আরও বেশি মানুষকে বিমার আওতায় আনতে আইন, বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরও কার্যকর করতে হবে। একইসঙ্গে বিমা কোম্পানিগুলোর সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।’’

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিমা খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত অর্থমন্ত্রীর কাছে সুস্পষ্ট সুপারিশ দিতে হবে। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন নীতিগত ও আইনি কাঠামো প্রণয়নে কাজ করতে হবে, যা খাতটিকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করে তুলবে।’’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় ঢামেকের অবদান জাতীয় গর্বের বিষয়: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় ঢামেকের অবদান জাতীয় গর্বের বিষয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রাক্তন, বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর তার নিজেস্ব ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই শুভেচ্ছাবার্তা জানান।

পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একটি জাতির অগ্রগতি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; তা নির্ভর করে সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠীর ওপর। আর সেই ভিত্তি নির্মাণে মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ভূমিকা অপরিসীম।

তারেক রহমান বলেন, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিকাশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ আট দশক ধরে যে অনন্য অবদান রেখে চলেছে, তা জাতীয় গর্বের বিষয়। এ ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক চিকিৎসক তৈরি করেছে, যারা দেশে ও বিদেশে পেশাগত উৎকর্ষ, নেতৃত্ব এবং সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, জাতীয় সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চা এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি স্বাস্থ্যখাতকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, আমি বিশ্বাস করি ঢাকা মেডিকেল কলেজ তার গৌরবময় ঐতিহ্য ধারণ করে আগামী দিনেও বিশ্বমানের চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যনেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং স্বাস্থ্য গবেষণায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

তিনি বলেন, ৮০ বছরের গৌরবময় অভিজ্ঞতা এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাদিবসের প্রেরণাকে ধারণ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ভবিষ্যতেও জ্ঞান, মানবিকতা, গবেষণা ও সেবার ক্ষেত্রে উৎকর্ষের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

তিনি আরও বলেন, আমার বিশ্বাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ পরিবারের দেশে-বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসকগণ আগামী দিনেও দেশ ও জাতির কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আপনাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণ ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা সহায়তা ও জাতীয় ক্রান্তিলগ্নে রোগী সাধারণের কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনাদের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে।

কালের আলো/এসএকে