খুঁজুন
                               
, ,
           

আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ হবে বিদ্যুতের দাম: অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ হবে বিদ্যুতের দাম: অর্থ উপদেষ্টা

গ্রাহকের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে নতুন মূল্য কাঠামো তৈরিতে কাজ করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

রোববার (১৭ মে) রাজধানীতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত প্রাক্-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের মূল্য কাঠামো তৈরি করা হবে। তবে এখানে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে বিইআরসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

তিনি জানান, আগামী জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের পাঁচটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে শুধু বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভর করা হবে না। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, পতিত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে কিছু গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে। ২০ থেকে ২৫ বছর মেয়াদি বিভিন্ন চুক্তির কারণে বর্তমান সরকারকে আর্থিক চাপ সামলাতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর কার্যকর কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের সম্ভাব্য চাহিদার কথা বলে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে, যা জনগণের অর্থের অপচয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ এবার ঢাকায় বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ এবার ঢাকায় বদলি

তৎকালীন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ মন্তব্যের পর আলোচনায় আসা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ বদলি ও পদায়নের তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) পদে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে একই পদে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ফলে চট্টগ্রামে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন শফিকুজ্জামান ভূঞা।

এর আগে বিআরটিএর অনিয়ম ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মো. মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওই মন্তব্য করেছিলেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনায় আসেন বিআরটিএর এই কর্মকর্তা।

এবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলির খবর প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ মন্তব্যটি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

কালো ধোঁয়ার গাড়িতে এবার ডিএমপির কড়া নজর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
কালো ধোঁয়ার গাড়িতে এবার ডিএমপির কড়া নজর

রাজধানীর সড়কে কালো ধোঁয়া ছড়ানো যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী কোনো গাড়ি চোখে পড়লেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, শুধু মামলা ও জরিমানা নয়, দূষণ কমাতে গাড়ির মালিকদের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান জানান, গত জুলাই মাসে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ৯১৫টি মামলা করা হয়েছে। এসব গাড়ির বড় অংশ বাস ও কাভার্ডভ্যান। তার ভাষ্য, কালো ধোঁয়া নির্গমন দৃশ্যমান হওয়ায় তা শনাক্ত করতে আলাদা কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না। সড়কে কোনো গাড়িকে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া ছাড়তে দেখা গেলেই সড়ক পরিবহন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে এখানেই সমস্যার মূল সমাধান হচ্ছে না। কারণ, অনেক গাড়ির বিরুদ্ধে একাধিকবার মামলা হলেও মালিকরা যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করছেন না। ফলে জরিমানা দেওয়ার পরও একই গাড়ি আবার দূষণ ছড়াচ্ছে। এমনকি কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করার পর সেটি পুনরায় একই অপরাধ করতে দেখা গেলে দ্বিগুণ জরিমানার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

ডিএমপির বক্তব্যে উঠে এসেছে সমস্যাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—দায়িত্বের বিভাজন। গাড়ির ফিটনেস বা মান নিশ্চিত করা ট্রাফিক পুলিশের সরাসরি দায়িত্ব নয়। যানবাহনগুলো প্রতি বছর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছ থেকে ফিটনেস সনদ নেয়। কিন্তু বাস্তবে ফিটনেস সনদ পাওয়ার পরও কোনো কোনো গাড়ি রাস্তায় কালো ধোঁয়া ছড়াচ্ছে। এতে ফিটনেস পরীক্ষার কার্যকারিতা, গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং মালিকদের দায়বদ্ধতা—তিনটিই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

সাধারণত ইঞ্জিনে ত্রুটি থাকলে কালো ধোঁয়া তৈরি হয়। নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারেও ইঞ্জিন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দূষণ বাড়তে পারে। অর্থাৎ সড়কে একটি কালো ধোঁয়ার গাড়ি ধরা পড়া মূলত বৃহত্তর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতারও ইঙ্গিত দেয়।

পরিবেশের পাশাপাশি এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। সাধারণ মানুষ কিছু সময় পর দূষিত সড়ক থেকে সরে যেতে পারলেও দায়িত্ব পালনের কারণে ট্রাফিক পুলিশকে দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকতে হয়। কালো ধোঁয়ার কারণে চোখে জ্বালাপোড়া এবং শ্বাসের সঙ্গে দূষিত কণা ফুসফুসে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি বিআরটিএ ও পরিবেশ অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ চেকপোস্টও পরিচালনা করছে। কিন্তু এখানেও রয়েছে বাস্তব সমস্যা। চেকপোস্টের খবর পেয়ে অনেক দূষণকারী যানবাহন সাময়িকভাবে রাস্তায় চলাচল বন্ধ রেখে আড়ালে চলে যায়। অভিযান শেষ হলে আবার সড়কে নামে। পুলিশের প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ি পরীক্ষা বা মামলা করার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতাও নেই।

তাই ডিএমপির এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার মান বাড়ানো, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা, নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের বিরুদ্ধে নজরদারি এবং মালিক-শ্রমিকদের জবাবদিহির আওতায় আনা—সবকিছুকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।

কালো ধোঁয়ার মতো দৃশ্যমান দূষণ শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশের প্রশ্ন। ফলে মামলা-জরিমানার পাশাপাশি দূষণের উৎস বন্ধ করাই এখন ডিএমপি, বিআরটিএ ও পরিবেশ অধিদফতরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

একই সঙ্গে অতিরিক্ত হর্ন ও শব্দদূষণের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছে ডিএমপি। রাজধানীর নীরব এলাকায় সাইনবোর্ড থাকলেও তা অমান্য করে নিয়মিত হর্ন বাজানোর অভিযোগ রয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। উন্নত বিশ্বে ব্যবহৃত ‘হর্ন পি’ প্রযুক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত হর্ন বাজানো যান শনাক্ত করার উদ্যোগ ভবিষ্যতে ঢাকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

মার্কিন নির্বাচনের সময় ইরান হামলা চালাতে পারে: সাবেক রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন নির্বাচনের সময় ইরান হামলা চালাতে পারে: সাবেক রাষ্ট্রদূত

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান আকস্মিক কোনো হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিউনিশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জোয়ে হুড। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়কে ইরান সম্ভাব্য হামলার জন্য বেছে নিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আশঙ্কার কথা জানান সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক।

জোয়ে হুড বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার ক্ষেত্রে ইরানের একটি ইতিহাস রয়েছে। অতীতের বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসনের সময়ও নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তেহরান এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করাকে ইরান একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।

সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের মতে, মার্কিন ভোটাররা পেট্রোলের দামের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে না। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জোয়ে হুড। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো কার্যকর উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা যদি চমকপ্রদ কোনো উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে না পারে, তাহলে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার কার্যকারিতা খুব বেশি হবে না।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা কমাতেও তৃতীয় পক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষ্য, মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো তাদের নৌশক্তি নিয়ে উপসাগর ও উত্তর আরব সাগরে উপস্থিত হয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। এতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের প্রয়োজনীয়তাও কমতে পারে।

তবে জোয়ে হুডের বক্তব্যটি একটি আশঙ্কা ও বিশ্লেষণ, ইরানের হামলার নিশ্চিত ঘোষণা নয়।

সূত্র: আলজাজিরা

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি