খুঁজুন
                               
, ,
           

স্মার্টওয়াচের বিকল্প স্মার্ট রিং, যেভাবে কাজ করে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
স্মার্টওয়াচের বিকল্প স্মার্ট রিং, যেভাবে কাজ করে

প্রযুক্তির দুনিয়ায় প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন ওয়্যারেবল ডিভাইস। স্মার্ট ডিভাইসগুলোর মধ্যে একসময় স্মার্টওয়াচ ছিল স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্যাজেট। তবে এখন ধীরে ধীরে আলোচনায় উঠে আসছে ‘স্মার্ট রিং’। দেখতে সাধারণ আংটির মতো হলেও ছোট এই ডিভাইসের ভেতরে লুকিয়ে আছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা সবসময় বড় স্মার্টওয়াচ পরে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাদের জন্য স্মার্ট রিং হতে পারে আরও আরামদায়ক ও কার্যকর বিকল্প।

স্মার্ট রিং হলো আঙুলে পরার জন্য তৈরি ছোট আকারের ওয়্যারেবল ডিভাইস। এটি দেখতে অনেকটা সাধারণ আংটির মতো হলেও এর ভেতরে থাকে সেন্সর, মাইক্রোপ্রসেসর, ব্যাটারি এবং ওয়্যারলেস কানেক্টিভিটি প্রযুক্তি। এই ডিভাইস স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর শরীরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে পারে। ফলে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কার্যকলাপ ট্র্যাক করা পর্যন্ত নানা সুবিধা পাওয়া যায়।

কী কী সেন্সর থাকে স্মার্ট রিংয়ে?

বর্তমানের আধুনিক স্মার্ট রিংগুলোতে সাধারণত কয়েক ধরনের উন্নত সেন্সর ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-

হার্ট রেট সেন্সর

ব্লাড অক্সিজেন বা SpO2 সেন্সর

শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপক সেন্সর

অ্যাক্সিলেরোমিটার

ঘুম পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি

আঙুলে রক্তপ্রবাহ তুলনামূলক বেশি থাকায় স্মার্ট রিং অনেক ক্ষেত্রেই বেশ নির্ভুল তথ্য দিতে সক্ষম হয়।

কী কী তথ্য জানা যায়?

স্মার্ট রিং ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা সহজেই জানতে পারেন-

হৃদস্পন্দনের হার

ঘুমের মান

স্ট্রেসের মাত্রা

শরীরের তাপমাত্রা

দৈনিক হাঁটা বা স্টেপ কাউন্ট

ক্যালোরি খরচ

শরীরের রিকভারি স্কোর

এসব তথ্য স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাফ ও রিপোর্ট আকারে দেখা যায়। ফলে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়।

শুধু স্বাস্থ্য নয়, আরও যেসব সুবিধা

কিছু উন্নত স্মার্ট রিংয়ে এনএফসি (নিকটবর্তী যোগাযোগ) প্রযুক্তিও থাকে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কনট্যাক্টলেস পেমেন্ট, স্মার্ট দরজা আনলক কিংবা ডিজিটাল পরিচয় যাচাইয়ের মতো কাজ করতে পারেন। বিশেষ করে ভবিষ্যতের স্মার্ট হোম প্রযুক্তির সঙ্গে স্মার্ট রিংয়ের ব্যবহার আরও বাড়বে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে স্মার্ট রিং?

স্মার্টওয়াচের তুলনায় স্মার্ট রিং অনেক ছোট, হালকা এবং দীর্ঘসময় পরে থাকলেও অস্বস্তি হয় না। এমনকি ঘুমানোর সময়ও সহজে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ব্যাটারি ব্যাকআপও তুলনামূলক বেশি হওয়ায় চার্জ নিয়ে ঝামেলা কম।

তাই যারা সাদামাটা ডিজাইনের মধ্যে স্মার্ট প্রযুক্তি চান, তাদের কাছে স্মার্ট রিং দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী কয়েক বছরে ওয়্যারেবল প্রযুক্তির বাজারে স্মার্ট রিং বড় জায়গা দখল করতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ডিএমপির অভিযানে আওয়ামী লীগের ৪০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
ডিএমপির অভিযানে আওয়ামী লীগের ৪০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

রাজধানীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪০ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডিএমপির পৃথক অভিযানে আওয়ামী লীগের ৪০ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ও কোন কোন মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

ডিএমপি জানিয়েছে, এ বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

১৪ বছরেও শেষ হয়নি রামু সহিংসতার বিচার

কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
১৪ বছরেও শেষ হয়নি রামু সহিংসতার বিচার

কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধ পল্লীতে ভয়াবহ সহিংসতার ১৪ বছর পূর্ণ হলেও এখনও শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের সেই তাণ্ডবের ক্ষত অনেকটাই মুছে গেছে। পুড়ে যাওয়া বিহারগুলোর জায়গায় গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, ফিরেছে ধর্মীয় সম্প্রীতিও। তবে বিচার না হওয়ায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ।

২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রামুর ১২টি বৌদ্ধবিহার ও ৩০টি বসতঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরদিন উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার সদরে আরও সাতটি বিহার ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকশ বছরের পুরোনো বৌদ্ধ পুরাকীর্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়।

ঘটনার পর রামু, কক্সবাজার, উখিয়া ও টেকনাফে মোট ১৯টি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা বাদী প্রত্যাহার করে নেন। বাকি ১৮টি মামলার বাদী ছিল পুলিশ। এসব মামলায় ৩৮৫ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৫ হাজার ১৮২ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ ১৮টি মামলায় ৯৯৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

তবে দীর্ঘ ১৪ বছরেও মামলাগুলোর বিচার শেষ হয়নি। বর্তমানে ১৪টি মামলা চলমান রয়েছে। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি মোহাম্মদ ইউনূস জানান, কোনো কোনো মামলায় পাঁচজন এবং কোনো কোনো মামলায় সাত থেকে ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মূলত সাক্ষীদের অনাগ্রহের কারণে বিচারকাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদ, কক্সবাজারের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, বৌদ্ধরা নতুন করে দৃষ্টিনন্দন বিহার পেয়েছেন এবং হারানো সম্পদের অনেক কিছু পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এলাকায় সম্প্রীতি ফিরেছে। তবে মামলাগুলোর বিচার এগিয়ে না যাওয়ায় বৌদ্ধদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হচ্ছে।

রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের পরিচালক শীলপ্রিয় থের বলেন, সেই রাতে বৌদ্ধবিহারগুলো ধ্বংস করা হয়েছিল। হারানো সম্পদ আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। এখনও সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে চোখে পানি আসে। বর্তমানে রামুর মানুষ সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করছে উল্লেখ করে তিনি এই সম্প্রীতি ধরে রাখার পাশাপাশি দ্রুত বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ পুলিশের করা মামলায় নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট সুমথ বড়ুয়া বলেন, প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে স্বাধীন তদন্ত বা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। এতে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি নিরীহ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

ঘটনার সঙ্গে ফেসবুক পোস্টের অভিযোগে আলোচিত উত্তম বড়ুয়া বর্তমানে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করে নিজের অবস্থানের জানান দেন তিনি।

১৪ বছর পর রামুর বৌদ্ধবিহারগুলো এখন পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম স্থান। তবে নতুন স্থাপনা ও ফিরে আসা সম্প্রীতির আড়ালে এখনও রয়ে গেছে সেই রাতের স্মৃতি এবং বিচার না পাওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিমানের ডানায় এবার ৩৫ নতুন শক্তি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
বিমানের ডানায় এবার  ৩৫ নতুন শক্তি

বহর সম্প্রসারণের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বোয়িংয়ের ২৫টি উড়োজাহাজের পর এবার আরও ১০টি এয়ারবাস কেনার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই সংস্থার জন্য আন্তর্জাতিক আকাশে বড় পরিসরে বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। নতুন প্রজন্মের ৩৫টি উড়োজাহাজের সরবরাহ পাইপলাইন শুধু বহরের আকারই বদলাবে না, বদলে দিতে পারে বিমানের রুট নেটওয়ার্ক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতার কাঠামোও।

  • দীর্ঘপথে এ৩৫০, মাঝারি রুটে এ৩২১নিও
  • এয়ারবাস-বোয়িংয়ের আধুনিক বহরে বাড়ছে রুট
  • সক্ষমতা ও সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সম্ভাবনা

একসঙ্গে ৩৫ নতুন উড়োজাহাজ
আগামী অক্টোবরে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। প্রস্তাবিত বহরে থাকছে চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও। ২০৩৩ সাল থেকে এগুলো দেশে আসা শুরু হয়ে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সরবরাহ হওয়ার কথা।

এর আগে ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং ১০টি ৭৩৭-৮। সব মিলিয়ে ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হওয়ায় বিমানের বহর পরিকল্পনা পাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি। এটি একই সঙ্গে বহর আধুনিকীকরণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে অবস্থান শক্ত করার বড় সুযোগ।

দীর্ঘপথের আকাশ খুলবে এ৩৫০-এ
চারটি এ৩৫০-৯০০ বিমানের জন্য সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার জায়গা হতে পারে দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুট। প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ যাত্রী বহনের সক্ষমতা এবং প্রায় ৮ হাজার ৬০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত উড়তে পারার কারণে উড়োজাহাজটি দূরবর্তী গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়াবে। সিডনি কিংবা ভবিষ্যতের নিউইয়র্ক রুটের মতো দীর্ঘপথের বাজারে এই সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

দীর্ঘ সময় আকাশে থাকার উপযোগী আধুনিক প্রযুক্তি ও তুলনামূলক জ্বালানি দক্ষতার কারণে এ৩৫০ বিমানের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, ছয়টি এ৩২১নিও অপেক্ষাকৃত ছোট বাজারে সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ দেবে। দুই শ্রেণির বিন্যাসে ১৮০ থেকে ২২০ যাত্রী বহন করতে পারা এই উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী মাঝারি দূরত্বের রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

শুধু বহর নয়, বাড়বে রুটের শক্তি
বিমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা রুট সম্প্রসারণে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি সিডনিতে নতুন করে ফ্লাইট চালু, জাপানে দ্বিতীয় ফ্লাইট এবং প্রয়োজনীয় অ্যাভিয়েশন অডিট সম্পন্ন হলে নিউইয়র্ক রুটে ফেরার পরিকল্পনাও রয়েছে।

নতুন উড়োজাহাজ হাতে এলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি হবে। যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন আকারের উড়োজাহাজ ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে বেশি চাহিদার রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়ে বাজারের বড় অংশ ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থাৎ নতুন বহরের মূল শক্তি শুধু উড়োজাহাজের সংখ্যা নয়; একই বহরের মধ্যে বিভিন্ন সক্ষমতার উড়োজাহাজ থাকায় রুট পরিকল্পনায়ও বাড়বে নমনীয়তা।

বোয়িং-এয়ারবাসে ভারসাম্যের বহর
বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাস যুক্ত হওয়ায় বিমানের বহর আরও বৈচিত্র্যময় হবে। এর ফলে একটি নির্মাতার সরবরাহ বা অপারেশনাল সমস্যায় বিকল্প বহর ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। দীর্ঘমেয়াদি রুট পরিকল্পনাতেও বিভিন্ন মডেলের সক্ষমতা কাজে লাগানো যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈচিত্র্য যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ বাড়াবে। ফলে কোনো রুটে বড় উড়োজাহাজ, আবার অন্য রুটে তুলনামূলক ছোট উড়োজাহাজ ব্যবহার করে আসন সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

সামনে দক্ষতার বড় সুযোগ
বড় বহর পরিচালনার সঙ্গে বাড়বে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন। এ৩৫০-৯০০, এ৩২১নিও, ৭৮৭-৯, ৭৮৭-১০ ও ৭৩৭-৮—নতুন পাঁচ ধরনের মডেলের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। তবে এটিকে কেবল ব্যয়ের চাপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নতুন উড়োজাহাজের সঙ্গে নতুন দক্ষতা, প্রশিক্ষণ অবকাঠামো এবং প্রকৌশল সক্ষমতা গড়ে উঠলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি অপারেশনাল শক্তিও বাড়বে। অর্থাৎ বহর সম্প্রসারণ একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করছে।

যাত্রী আছে, এবার সেবার পালা
অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বিমানের সাবেক পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, দেশে বিমানযাত্রীর অভাব নেই; প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ার কারণে অনেক যাত্রী বিদেশি এয়ারলাইন্সে চলে যাচ্ছেন। তাঁর মতে, নতুন উড়োজাহাজের পাশাপাশি দক্ষ জনবল, অবকাঠামো ও কার্যকর পরিকল্পনা নিশ্চিত করা জরুরি।

এই জায়গাটিই বিমানের সামনে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা তৈরি করছে। দেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজার, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় বাজার এবং নতুন নতুন গন্তব্যে সরাসরি যোগাযোগের চাহিদা কাজে লাগাতে পারলে নতুন বহর দ্রুতই ব্যবসায়িক শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

বিনিয়োগ থেকে প্রবৃদ্ধির পথে
৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ মানে বড় বিনিয়োগ। সঙ্গে থাকবে জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও পরিচালন ব্যয়। কিন্তু একই সঙ্গে এটি রাজস্ব বাড়ানোরও বড় সুযোগ। সঠিক রুট নির্বাচন, যাত্রী চাহিদার সঙ্গে আসন সক্ষমতার সমন্বয়, প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে পারলে নতুন বহর বিমানের আয় বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে। বহর সম্প্রসারণ শুধু বিমানের আকারই বাড়াবে না—দেশের পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের জন্য খুলে দিতে পারে প্রবৃদ্ধির নতুন আকাশ।

কালের আলো/টিই/এমকে