খুঁজুন
                               
, ,
           

নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও অপারেশনাল সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করলো বিএনএফসি ‘বলীয়ান’ 

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও অপারেশনাল সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করলো বিএনএফসি ‘বলীয়ান’ 

নানা কারণে ২০০২ সালে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দেশের প্রথম ডকইয়ার্ড, নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড (ডিইডব্লিউ)। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের সবচেয়ে লাভজনক ডকইয়ার্ডগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে এটি। ভারতীয় উপমহাদেশে জাহাজ নির্মাণশিল্পের অন্যতম প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এবার ডিইডব্লিউ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মাণ করেছে ৭০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন বিএনএফসি ‘বলীয়ান’। বিএনএফসি ‘বলীয়ান’ নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও অপারেশনাল সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের (ডিইডব্লিউ) নির্মিত এই ক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘প্রতিরক্ষা শিল্পে নিজস্ব কারিগরি দক্ষতায় বাংলাদেশ বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করছে।’ তিনি বলেন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতিতে দেশীয় শিল্প গড়ে তোলার যে কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, এই ফ্লোটিং ক্রেন প্রকল্প তারই একটি সফল অংশ। ডিইডব্লিউ লিমিটেডকে একটি স্বনির্ভর শিপইয়ার্ডে রূপান্তর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

জানা যায়, প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জের বাণিজ্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ডিইডব্লিউ’র ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯২২ সালে ব্রিটিশ সরকার নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দা এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতীরে ডকইয়ার্ডটি গড়ে তোলে। শুরুতে নামকরণ হয় নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড। স্থানীয়ভাবে সোনাকান্দা ডকইয়ার্ড নামে পরিচিত। ১৯৫৬ সালে ডকইয়ার্ডটির নাম পাল্টে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার ওয়ার্কস লিমিটেড করা হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো এই ডকইয়ার্ড ২০২২ সালে শতবর্ষপূর্তি উদযাপন করে। ‘নিরাপত্তাই প্রথম’ স্লোগান নিয়ে কাজ করা ডিইডব্লিউ আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করে সব ধরনের নৌযান তৈরি করছে। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস বইয়ের তথ্যমতে, ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে কুয়েতে চারটি মালবাহী জাহাজ রপ্তানির মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে জাহাজ রপ্তানি শুরু করেছিল শতবর্ষী ডিইডব্লিউ।’

বাংলাদেশকে জাহাজ নির্মাণে স্বনির্ভর করতে  সরকার আন্তরিক

জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিদেশি নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে জাহাজ নির্মাণে স্বনির্ভর করেত সরকার আন্তরিক বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তরের (ট্রান্সফার অব টেকনোলজি) মাধ্যমে যৌথভাবে জাহাজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি দেশে উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারকে অবহিত করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নৌবাহিনীর সার্বিক অপারেশনাল ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই এই ফ্লোটিং ক্রেন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। এর সংযোজনের মাধ্যমে নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজের মেরামত, উদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

ফ্লোটিং ক্রেনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম 

নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের (ডিইডব্লিউ) এই ইয়ার্ডে ভবিষ্যতে বড় আকারের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। এটি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্য, ১৫ মিটার প্রস্থ এবং ৩ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট এই ফ্লোটিং ক্রেনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। ৭০ টন ওজন উত্তোলন ক্ষমতার এই ক্রেনটি জেটি এবং সমুদ্রে অবস্থানরত নৌবাহিনীর জাহাজসমূহের জটিল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে বৈপ্লবিক সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি এটি ভারী যন্ত্রপাতি ও নৌ-উপকরণ স্থানান্তরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করবে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৩০ জুন এই নির্মাণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্মিত এই ক্রেনটি দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। অনুষ্ঠানে ডিইডব্লিউ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়জুল হক, নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসও এবং ডিইডব্লিউ ও নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

 

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়েও ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে তারা।

ইংল্যান্ডের কাছে গোল হজমের পর একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো করেন সমতা ফেরানো গোল। তারপর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করলেন। ৯২ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বদলি নেমেই ম্যাচে ছাপ রাখেন গঞ্জালেজ। পরের মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি লম্বা বল হেড করেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড বিপদমুক্ত করে।

৬৯ মিনিটে ডানদিক থেকে মেসির ক্রসে দারুণ এক হেড করেছিলেন গঞ্জালেজ। কিন্তু পিকফোর্ড নিচু ডাইভে অবিশ্বাস্য সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন।

৭২ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিনটি পরিবর্তন আনে। সিমিওনে,  মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে উঠিয়ে দে পল, মোন্তিয়েল ও ওতামেন্দিকে নামান স্কালোনি।

চার মিনিট পর দে পলের বাড়ানো ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে গঞ্জালেজের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। লাইন্সম্যান ততক্ষণে অফসাইডের পতাকা ওড়ান।

৮৪ মিনিটে এনজোর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান পিকফোর্ড। পরের মিনিটে কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন তিনি। বল পিকফোর্ডের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।

কালের আলো/এম/এএইচ

২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:০২ পূর্বাহ্ণ
২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা

অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দেখা মিলেছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিতে ৫৫ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোলটি করেন অ্যান্থনি গর্ডন। তবে ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। তার পর ৯০+২ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের গোলে স্কোর ২-১ করেছে আর্জেন্টিনা।

দলীয় আক্রমণের মাধ্যমে যার সূচনা করেন হ্যারি কেইন। মাঝমাঠে নেমে মরগান রজার্সকে বল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক ক্লিয়ারেন্সে তা প্রতিহত করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে বিপদ কাটাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফিরতি বল কুড়িয়ে নিয়ে ডেকলান রাইস সেটি বাড়ান রজার্সের কাছে। ইংলিশ উইঙ্গারের নিখুঁত ক্রসে বক্সে দারুণভাবে জায়গা করে নেন অ্যান্থনি গর্ডন। এরপর এক ছোঁয়ায় এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে দেন জালে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টিনা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল করেছে ইংল্যান্ডই।

প্রথমার্ধ গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৪৭ মিনিটে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের লম্বা ক্লিয়ারেন্স থেকে দুর্দান্তভাবে বল নামিয়ে দেন জুলিয়ানো সিমিওনে। সেখান থেকে বল পেয়ে ডিজেড স্পেন্সকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন হুলিয়ান আলভারেজ।

তার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে বিপদ তখনও কাটেনি। ফিরতি বল আবারও পেয়ে যান আলভারেজ। কিন্তু তার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ইংল্যান্ডের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় থ্রি লায়ন্স।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ইংল্যান্ডকে গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইংল্যান্ডকে গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা

স্রেফ মারামারির একটি খেলা প্রত্যক্ষ করছে ফুটবল সমর্থকরা। যে ম্যাচে প্রথমার্ধে কোনো গোল হলো না। তবে দ্বিতীয়ার্দের ১০ মিনিট যেতে না যেতেই আর্জেন্টিনার জালে বল প্রবশে করালো ইংল্যান্ড। ডানপ্রান্ত থেকে মরগ্যান রজার্সের দারুণ একটি ক্রস বাম কোন দিয়ে আলতো টোকায় আর্জেন্টিনার জালে জড়ান অ্যান্থোনি গর্ডন।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রত্যাশিতভাবেই জমে উঠেছে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার মহারণ। তবে গোলের দেখা মেলেনি প্রথম ৪৫ মিনিটে। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গোলশূন্য প্রথমার্ধে দুই দলই একে অপরকে চাপে রাখলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ভাঙতে পারেনি কেউ।

বরং প্রথমার্ধজুড়ে আলোচনায় ছিল একের পর এক শক্ত ট্যাকল, উত্তেজনা, হলুদ কার্ড এবং লিওনেল মেসিকে ঘিরে ইংল্যান্ডের কড়া মার্কিং।

খেলা শুরুর পর থেকেই দুই দল শারীরিক লড়াইয়ে নেমে পড়ে। মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই জুদ বেলিংহ্যামকে ট্যাকল করে ফাউল করেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। এরপর মেসি, বেলিংহ্যাম, অ্যান্ডারসন ও এনজো ফার্নান্দেজকে ঘিরে মাঝমাঠে কয়েকবার উত্তেজনা তৈরি হয়।

 

প্রথম ১০ মিনিটেই আর্জেন্টিনা চারটি ফাউল করে, যা চলতি বিশ্বকাপে কোনো দলের প্রথম ১০ মিনিটে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফাউলের রেকর্ড।

প্রথমার্ধের বড় একটি সময় দুই দলই একে অপরকে আটকে রাখে মাঝমাঠে। ২০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও কোনো দলই উল্লেখযোগ্য শট নিতে পারেনি।

 

ইংল্যান্ড কিছুটা বেশি সংগঠিত ফুটবল খেললেও হ্যারি কেইন কার্যত ম্যাচের বাইরে ছিলেন। প্রথম ২৮ মিনিটে ইংলিশ অধিনায়কের বল স্পর্শের সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি, যা মাঠের সব খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে কম।

ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন পুরো প্রথমার্ধে মেসিকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেন। কয়েকবার বল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি শক্ত ট্যাকলও করেন তিনি।

৩৭ মিনিটে মেসি ড্রিবল করে কয়েকজনকে কাটিয়ে এগোতেই অ্যান্ডারসনের করা ট্যাকলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের খেলোয়াড়রা রেফারিকে ঘিরে ধরেন। কিছুক্ষণ উত্তেজনা চললেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন রেফারি ইসমাইল এলফাথ। এই ফাউলের জন্য ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন অ্যান্ডারসন।

৩২ মিনিটে জুদ বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত দৌড়ে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে ইংল্যান্ড প্রায় এগিয়েই গিয়েছিল। ডেকলান রাইসের দারুণ ভাসানো বলে জন স্টোনস লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে হেড করেন। তবে বল জালের পাশ ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

অন্যদিকে ৩৯ মিনিটে আর্জেন্টিনার সেরা সুযোগ আসে মেসির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক থেকে। ছোট পাসে খেলা শুরু করে পারেদেসের কাছ থেকে বল ফেরত পান মেসি। তার শট হ্যারি কেইনের গায়ে লেগে ফিরে আসে এনজো ফার্নান্দেজের কাছে। দূরপাল্লার জোরালো শটে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান তিনি, কিন্তু বল অল্পের জন্য পোস্টের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৪২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উঠতে থাকা মর্গান রজার্সকে টেনে থামিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। এতে ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হলুদ কার্ড দেখেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার।

প্রথমার্ধে গোল না হলেও উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। দুই দলই রক্ষণে ছিল দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ, তবে আক্রমণে শেষ মুহূর্তের ধারালো স্পর্শের অভাব ছিল স্পষ্ট। রেফারি তিন মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করলেও সেই সময়েও গোলের দেখা মেলেনি। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই বিশ্বশক্তি।

এখন দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোলই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য, আর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারে যে কোনো দল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি