খুঁজুন
                               
, ,
           

জুনে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬৩ জন: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
জুনে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬৩ জন: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

দেশে গত জুন মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৫৯০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫১৩ জন। এর মধ্যে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাতেই প্রাণ গেছে ৪৬৩ জনের। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহন খাতের দায়িত্ব বিশেষজ্ঞদের হাতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে দেশে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৪৬৩ জন নিহত এবং এক হাজার ৩২৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও আটজন আহত হন। এ ছাড়া নৌপথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে তিনটি খাতে ৫৯০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১৩ জন এবং আহত হয়েছেন এক হাজার ৩৩৬ জন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সংগঠনের দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তবে সংগঠনটির দাবি, অনেক দুর্ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়ায় প্রকৃত হতাহত এর চেয়ে আরও বেশি হতে পারে।

মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় হাজারো মানুষের প্রাণহানি রোধে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএকে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ই-প্রসিকিউশন চালু এবং যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় নিহতের হার ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং আহতের হার ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত ও ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সেখানে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ২২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১১৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক, ৫২ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, একজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং ১০ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্য, একজন সেনাবাহিনীর সদস্য, একজন প্রকৌশলী, ১১১ জন চালক, ৭১ জন পথচারী, ৪৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০ জন শিক্ষক এবং নয়জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় জড়িত ৭৯৫টি যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল মোটরসাইকেল, যার হার ২৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ ছাড়া ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরির হার ২৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, বাস ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং বাকি অংশ অন্যান্য যানবাহন।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৩ দশমিক ২৩ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষে, ২৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কার কারণে, ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বিভিন্ন কারণে, শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে এবং ১ দশমিক ১২ শতাংশ ট্রেন ও যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

অন্যদিকে, মোট দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ফিডার সড়কে, ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ১ দশমিক ১২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও রোড মার্কিংয়ের ঘাটতি, সড়কবাতির অভাব, মিডিয়ান না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টোপথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া ও বিরামহীন গাড়ি চালানো, বৃষ্টিতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বাস-ট্রাকের ছাদে যাত্রী পরিবহনকে দায়ী করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ১১ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএকে পরিবহন বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা, দক্ষ চালক তৈরিতে উন্নত প্রশিক্ষণ, জাতীয় মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট, ফিটনেস সনদ প্রদানের আধুনিক ব্যবস্থা, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক ট্রেনিং অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং পরিবহন খাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

পাঁচ দিনের সফরে দক্ষিণ সুদান ও আবেই গেলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ দিনের সফরে দক্ষিণ সুদান ও আবেই গেলেন সেনাপ্রধান

পাঁচ দিনের দিনের সফরে দক্ষিণ সুদান ও আবেই গেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

শনিবার (৮ আগস্ট) তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আইএসপিআর জানায়, সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান দক্ষিণ সুদান ও আবেইতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েনরত বাংলাদেশি কন্টিনজেন্ট পরিদর্শন করবেন।

এছাড়া উভয় স্থানের রাষ্ট্রীয় এবং মিশনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন সেনাপ্রধান।

কালের আলো/এম/এএইচ

‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণ: জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণ: জামায়াত

পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে ‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে প্রতিযোগিতা তৈরির নামে শেষ পর্যন্ত কয়েকটি প্রভাবশালী বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে জ্বালানি তেলের বাজার তুলে দেওয়া হতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট)  বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের নতুন জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ’ নিয়ে দলটির বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, জ্বালানি খাত সংস্কারের পরিবর্তে এর নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর খরচ শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ খসড়া নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন বিপিসি চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার চার দিনের মধ্যে এ খসড়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি সংস্কার নয়, এটি হস্তান্তর। এটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি দুর্নীতি ও লুটপাটের লাইসেন্স।’

বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দিলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দাম কমবে—সরকারের এমন যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি তেলের ব্যবসায় গভীর সমুদ্রবন্দর, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং, বড় ট্যাংক টার্মিনাল, পাইপলাইন এবং বিপুল ব্যাংকিং সক্ষমতা প্রয়োজন। ফলে বাস্তবে হাতেগোনা কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষেই এ বাজারে প্রবেশ করা সম্ভব। এতে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে বেসরকারি একচেটিয়া তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিপিসিকে অদক্ষ ও লোকসানি দেখিয়ে বেসরকারিকরণের যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর আগে ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি যথাক্রমে ১ হাজার ৯৮৩ কোটি ও ৭ হাজার ৮৭ কোটি টাকা লোকসান করেছিল।

জামায়াতের দাবি, বর্তমান জ্বালানি সংকট বিপিসির ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার কারণে নয়; বরং এটি বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক সংকটের ফল। গোলাম পরওয়ার বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশের ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে দাম না বাড়ানোর কারণে বিপিসি প্রতিদিন প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে বলে জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকটকে কাজে লাগিয়ে সরকার তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এতে বড় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ কমে গিয়ে দরদাতা সংকট, বেশি দামে জ্বালানি তেল কেনা এবং সিন্ডিকেটের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দ্রুততা আর স্বচ্ছতা পরস্পরবিরোধী নয়। কিন্তু এখানে দ্রুততার নামে স্বচ্ছতাই বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেলের বাজার কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে চলে গেলে প্রতি লিটারে সামান্য বাড়তি মুনাফাও বছরে হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আয়ে পরিণত হতে পারে।

জ্বালানি তেলকে সাধারণ পণ্য নয়, বরং কৃষি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, বিমান চলাচল ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। বাংলাদেশে একটি মাত্র শোধনাগার—ইস্টার্ন রিফাইনারি—এবং সীমিত মজুত সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুদ্ধ বা দুর্যোগের সময় বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্র কীভাবে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে নির্দেশ দেবে।

অলাভজনক ও দুর্গম এলাকায় জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব বেসরকারি কোম্পানিগুলো নেবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনের আইনি সুরক্ষা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, শ্রম আইনের ১৮৭ ধারা জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ক্ষেত্রে রহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এটি শুধু বিরোধী দলের রাজনৈতিক বক্তব্য নয় দাবি করে গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি, ক্যাব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, জ্বালানি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হওয়ায় এটিকে মুনাফার খাত না করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে সীমিত মুনাফায় পরিচালনা করাই জনস্বার্থসম্মত।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম জ্বালানিকে মুনাফার পরিবর্তে সেবাখাত হিসেবে বিবেচনার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি খাত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলে এলপিজি খাতের মতো সিন্ডিকেট তৈরি হতে পারে।

জামায়াতের দাবি, গত ২ আগস্ট বাঙ্কারিং নীতিমালায় পরিবর্তন এনে মেরিন ফুয়েল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। একই সঙ্গে খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করে অন্তত ৬০ দিনের জনমত গ্রহণ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানির দাবি জানিয়েছে দলটি। বেসরকারিকরণের পরিবর্তে বিপিসির সংস্কারেরও দাবি করা হয়েছে।

দলটির দাবির মধ্যে আরও রয়েছে বিপিসির স্বাধীন নিরীক্ষা, পরিচালনা পর্ষদে পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ, জ্বালানি তেল ক্রয়ে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতি ত্রৈমাসিকে আমদানি মূল্য ও পরিমাণ প্রকাশ করা। পাশাপাশি ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা খর্বের সব সুপারিশ প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছে জামায়াত।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত বাজার অর্থনীতি বা বেসরকারি বিনিয়োগের বিরোধী নয়। তাদের বিরোধিতা জবাবদিহিহীন হস্তান্তরের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতা মানে একচেটিয়া হাতবদল নয়। সংস্কার মানে প্রতিষ্ঠান মেরামত, প্রতিষ্ঠান বিক্রি নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা মানে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ, গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে পাবনা-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বেসরকারি জ্বালানি তেল আমদানি নীতিমালায় বিশেষ সুবিধা নেই: মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
বেসরকারি জ্বালানি তেল আমদানি নীতিমালায় বিশেষ সুবিধা নেই: মন্ত্রণালয়

বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন নিয়ে প্রস্তাবিত নীতিমালা ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমাননির্ভর ও অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় বলছে, ‘জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। এতে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।’

শনিবার (৮ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখাই প্রস্তাবিত নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলে জরুরি বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের পর এটি চূড়ান্ত করা হবে। জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই এ ধরনের নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ফলে প্রস্তাবিত নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।

সম্প্রতি প্রস্তাবিত নীতিমালাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমাননির্ভর এবং অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে জ্বালানি বিভাগ। এ ধরনের তথ্য প্রচার অনভিপ্রেত উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে বিভাগটি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ