খুঁজুন
                               
, ,
           

তিন দেশ থেকে সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
তিন দেশ থেকে সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা

দেশের কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে মরক্কো, সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন (এমটি) সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সার আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৩৬ কোটি ৪২ লাখ ৩১ হাজার ৩২ টাকা।

বুধবার (১৫ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির (সিসিজিপি) বৈঠকে এ সংক্রান্ত তিনটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে দুই ধাপে মোট ৬০ হাজার মেট্রিক টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার আমদানি করা হবে।

এর মধ্যে প্রথম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন (±১০ শতাংশ) টিএসপি সার কেনা হবে প্রায় ২৫৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে।

প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৮ মার্কিন ডলার। একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দ্বিতীয় লটে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন (±১০ শতাংশ) টিএসপি সার আমদানি করা হবে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এ চালানের প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ৭২৬ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় মোট ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এই দুই চালান মিলিয়ে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ১১৩ কোটি টাকার বেশি।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আসন্ন আমন ও রবি মৌসুমে কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার মজুত নিশ্চিত করতেই এ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা সত্ত্বেও কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকার সময়মতো সার সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সারের চাহিদা থাকায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানির ওপরও নির্ভর করতে হয়। তাই সময়মতো সার আমদানি নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা নির্ধারিত মৌসুমে নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে পারবেন এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আপত্তির মুখে কনসার্ট বন্ধ নিয়ে কি বলছেন শিল্পীরা?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
আপত্তির মুখে কনসার্ট বন্ধ নিয়ে কি বলছেন  শিল্পীরা?

দুই দিনের ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে কনসার্ট বাতিলের ঘটনায় দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কোনো পক্ষের আপত্তি বা হুমকির মুখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়াকে শিল্পীরা দেখছেন সংস্কৃতিচর্চার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত হিসেবে।

শিল্পীদের মতে, কোনো অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি থাকলে আলোচনা ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সমাধান করা যেতে পারে। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগে সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর তা বাতিল করা হলে শিল্পী, আয়োজক, যন্ত্রশিল্পী ও সংশ্লিষ্ট সবার আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো সংগীতসমৃদ্ধ এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের ঘটনা সেখানকার ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর মতে, শব্দ নিয়ে আপত্তি থাকলে শব্দ কমিয়ে অনুষ্ঠান করার ব্যবস্থা করা উচিত, অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া নয়।

তিনি বলেন, সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। তাই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কোনো গোষ্ঠী বা মহলের উগ্র আচরণের সুযোগ থাকা উচিত নয়। সরকারের প্রতি তাঁর আহ্বান, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায় থেকে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দেওয়া হোক।

কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনও ঘটনাগুলোকে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন। তাঁর ভাষায়, একটি অনুষ্ঠান কারও পছন্দ না হলে সেটি না দেখার অধিকার তাঁর রয়েছে; কিন্তু পছন্দ না হওয়ার কারণে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।

সাবিনা বলেন, কোনো সরকারি সংস্থার আপত্তি থাকলে অনুষ্ঠান আয়োজনের আগেই তা জানানো উচিত। সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর হঠাৎ অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিলে শুধু শিল্পী নয়, আয়োজকসহ সংশ্লিষ্ট সবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়। এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে শিল্পীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে বলেও মনে করেন তিনি।

ব্যান্ড তারকা হামিন আহমেদ মনে করেন, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; গত কয়েক বছরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে বেড়েছে। তাঁর মতে, অতীতে এ ধরনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই একটি গোষ্ঠী আরও উৎসাহিত হয়েছে।

হামিনের দাবি, দুই জেলার সাম্প্রতিক ঘটনা দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। কোনো গোষ্ঠী আপত্তি বা হুমকি দিলেই প্রশাসনের দায়িত্ব অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া নয়; বরং শিল্পী, আয়োজক ও দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই প্রশাসনের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ও সংগীতপ্রেমী। তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো সংগীতের ঐতিহ্যবাহী এলাকায় কনসার্টকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনও মনে করেন, কনসার্ট বন্ধের ঘটনা শিল্পীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাঁর মতে, একজন শিল্পী, খেলোয়াড়, কবি বা অন্য যেকোনো পেশার মানুষ যেন নিরাপদে নিজের কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বেবী নাজনীন বলেন, শিল্পীদের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস হলো কনসার্ট। তাই বারবার অনুষ্ঠান বাতিল হলে তাঁদের পেশাগত ও আর্থিক ক্ষতি হবে। তিনি প্রতিটি ঘটনার গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সির মতে, কোনো একটি পক্ষ আপত্তি করলেই প্রশাসনের অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া উচিত নয়। কোনো আপত্তি যৌক্তিক কি না, তা যাচাই করে নিয়মশৃঙ্খলা মেনে সমাধান করতে হবে।

তিনি বলেন, একজনের ব্যক্তিগত অপছন্দের কারণে অন্যদের সাংস্কৃতিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। নাচ, গান, আবৃত্তি, অভিনয় ও যাত্রাপালার মতো শিল্পমাধ্যম দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তাই এগুলোকে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

ন্যান্‌সির মতে, কোনো অনুষ্ঠানে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা বা হুমকি তৈরি হলে তা মোকাবিলা করে শিল্পী ও দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের দায়িত্ব। নিরাপত্তার অজুহাতে বৈধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর।

পাঁচ শিল্পীই মূলত একটি বিষয়ে একমত—কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আপত্তির কারণে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেমে থাকা উচিত নয়। বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাঁদের প্রত্যাশা, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে আপত্তি বা হুমকির মুখে কনসার্ট বন্ধ করার প্রবণতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

কালের আলো/এসএ

ইরান সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান,আলোচনায় যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ইরান সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান,আলোচনায় যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে আজ সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। অঞ্চলটিতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আসিম মুনিরের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তান সরকারের দুটি সূত্রও রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবেই এ সফর হচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সংঘাত শুরু হয়।

পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, আসিম মুনিরের বৈঠকে যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানের নেওয়া উদ্যোগ, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষাচুক্তি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার মধ্যেই আসিম মুনিরের তেহরান সফর হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এটি হতে পারে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’।

ইরান অবশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তার জবাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তেহরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। কোনো দেশ ইরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরও কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তেহরান জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো তেলবাহী জাহাজ এই জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেটির ওপর হামলা চালানো হতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যেই আসিম মুনিরের ইরান সফরকে সংঘাত প্রশমনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

গ্রিন ফাইন্যান্সে বদলাচ্ছে অর্থনীতির বিনিয়োগচিত্র

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
গ্রিন ফাইন্যান্সে বদলাচ্ছে অর্থনীতির বিনিয়োগচিত্র

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্ব বাড়ছে গ্রিন ফাইন্যান্সের। পরিবেশবান্ধব শিল্প, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও গ্রিন বিল্ডিংয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে টেকসই করার চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন ও তহবিল এ পরিবর্তনে অর্থের জোগান বাড়াচ্ছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া ৫ হাজার কোটি টাকার স্থানীয় মুদ্রার গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২৫টি ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৬ গ্রাহককে ২ হাজার ৫২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা বিতরণ হয়েছে। একই সময়ে প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ১ হাজার কোটি টাকার টিডিএফ থেকে বিতরণ হয়েছে ১ হাজার ১০৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৩ হাজার ৩৯৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা সবুজ অর্থায়ন করেছে। অর্থের এই প্রবাহ দেখাচ্ছে, পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ এখন আর প্রান্তিক কোনো অর্থনৈতিক উদ্যোগ নয়; শিল্পের আধুনিকায়নের সঙ্গেও এর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য এর গুরুত্ব বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের চাহিদা বাড়ায় পোশাক, চামড়া, টেক্সটাইল ও সিরামিকসহ বিভিন্ন খাতকে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত মান নিশ্চিত করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের পোশাক খাতে ইতোমধ্যে ২৮৪টি লিড সার্টিফায়েড কারখানা থাকা এই পরিবর্তনের একটি বড় উদাহরণ।

তবে সবুজ শিল্পে রূপান্তর সহজ নয়। পরিবেশবান্ধব কারখানা নির্মাণে সাধারণ কারখানার তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি ব্যয় হতে পারে। বিনিয়োগের সুফলও তাৎক্ষণিক পাওয়া যায় না। ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন প্রযুক্তি ও দক্ষতার সক্ষমতা।

নতুন গ্রিন ফান্ডে পরিবেশবান্ধব শিল্প ও গ্রিন বিল্ডিংয়ে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের সুযোগ রাখা হয়েছে। সুদহার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ, মেয়াদ ৩ থেকে ১০ বছর এবং উদ্যোক্তার নিজস্ব অর্থায়ন থাকতে হবে অন্তত ৩০ শতাংশ। এসব সুবিধা বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে মূল বিষয়।

কারণ শুধু কোনো প্রকল্পে একটি পরিবেশবান্ধব উপাদান থাকলেই সেটিকে গ্রিন প্রকল্প বলা যায় না। জ্বালানি ও পানি ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্পের সামগ্রিক পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিতে হয়। তাই অর্থায়নের পাশাপাশি নজরদারি ও প্রকল্প মূল্যায়নের মানও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন অর্থনীতিতে রূপান্তরের দায়িত্ব শুধু ব্যাংকের নয়। সরকারের নীতি সহায়তা, ব্যাংকের অর্থায়ন, উদ্যোক্তার বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা—এই চারটি ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে এগোতে হবে। তবেই গ্রিন ফাইন্যান্স পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের শিল্প, রপ্তানি ও উৎপাদনশীলতার দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি শক্ত করতে পারবে।

কালের আলো/এম/এএইচ