বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় ৪৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে ৪৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। গত দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি তৃতীয় বড় ধরনের হামলার ঘটনা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিএলএ মুখপাত্র জিয়ান্দ বালুচ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, কোয়েটা-করাচি হাইওয়ের মাস্তুং জেলার খাদকুচা এলাকায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী ১৫টিরও বেশি বাসের একটি কনভয় (সেনাবহর) লক্ষ্য করে বিএলএ-এর ‘ফতেহ স্কোয়াড’ এ হামলা চালায়।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামলায় অন্তত ৪৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে হতাহতদের উদ্ধারে আসা বাহিনীর সঙ্গেও বিএলএ যোদ্ধাদের তীব্র গোলাগুলি হয়। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
তবে একটি পাকিস্তানি সামরিক সূত্র প্রাথমিকভাবে ৩ জন সেনা নিহত এবং ২৫ জনেরও বেশি আহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর এলাকায় যৌথ বাহিনীর ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানায় সূত্রটি।
প্রসঙ্গত, বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) বেলুচিস্তান প্রদেশের স্বাধীনতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে। তারা অভিযোগ করছে, সরকার এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অন্যায়ভাবে শোষণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রদেশে তাদের হামলার তীব্রতা ও পরিধি ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে গোষ্ঠীটি। বিশেষ করে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী এবং ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রায় হামলা চালিয়ে আসছে বিএলএ।
এরআগে গত ৮ জুলাই প্রদেশের অন্যতম প্রধান যাতায়াত করিডোর এন-২৫ হাইওয়ের বেলা-উইন্ডার এলাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি কনভয় লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় বিএলএ।
পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, এই হামলায় একজন জুনিয়র কমিশনড অফিসারসহ মোট ১১ জন সেনা সদস্য নিহত হন। তবে বিএলএ দাবি করেছিল, তারা ১৭ জন সেনাকে হত্যা করেছে এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্র লুটে নিয়েছে।
এর একদিন আগেই বেলুচিস্তানের জিয়ারত জেলার মাঙ্গি বাঁধ এলাকায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ভারী অস্ত্রসহ হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। হামলার সময় ঘটনাস্থলেই ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এছাড়াও জঙ্গিরা ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তাদের সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর অন্যতম বড় জিম্মি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই হামলাগুলোর জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলে ‘অপারেশন শাবান’ নামে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ শতাধিক জঙ্গিকে হত্যার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান সরকার র্দীঘদির ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, ভারতের সমর্থনে টিটিপি ও বিএলএ জঙ্গিরা প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ভেতর থেকে তাদের তৎপরতা চালায়, যেখানে তারা যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয় এবং হামলার পরিকল্পনা করে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার ও নয়াদিল্লি এই অভিযোগ বারবারই অস্বীকার করেছে।
সূত্র: বেলুচিস্তান পোস্ট, দ্য প্রিন্ট
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ



আপনার মতামত লিখুন
Array