খুঁজুন
                               
, ,
           

‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ বাপ্পি ও তার সহযোগী ৭ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ বাপ্পি ও তার সহযোগী ৭ দিনের রিমান্ডে

ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার মতিঝিল এলাকার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

এদিন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মোমিনুর রহমান।

আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম ঠিকানা যাচাই, গুলি বর্ষণকারীসহ অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামিদের শনাক্তসহ সঠিক নাম ঠিকানা সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

একইসঙ্গে গ্রেপ্তার এবং ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র (পিস্তল) উদ্ধারে তদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের রিমান্ড দরকার।

সেই আবেদনের শুনানি শেষে তদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এর আগে শুক্রবার সকালে হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকা থেকে বাপ্পি এবং দুপুরে উত্তর কমলাপুর থেকে রাকিবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুইটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ইসমাইল হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি মতিঝিল থানাধীন ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের পাশে কোরবানির অস্থায়ী গরুর হাটের ইজারাদার। গত ১৫ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মতিঝিল থানাধীন এজিবি কলোনিতে অবস্থানকালে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল আসে। কল রিসিভ করার পর আসামি গরুর হাটে অংশীদার হিসেবে তার মনোনীত লোককে রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

এ সময় তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে এবং তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে দায়িত্বে না নিলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

তার চার দিন পর গত ১৯ মে সকাল ১০টার দিকে কোরবানির পশুর হাট-সংক্রান্ত একটি সভায় থাকা অবস্থায় তার ভাগনে হৃদয় মোবাইল ফোনে জানান, ভোরে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তার অফিসে গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন ২০ মে ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ‘শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিশ্বাস বা চেতনার কারণে অনেককে হয়রানি করা হয়েছে। অনেক মানুষ সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। অনেক রাজনৈতিককর্মী মিথ্যা মামলাকে আলিঙ্গন করে যখন সংগ্রাম করেছিলেন, তাদেরকে নাজেহাল করা হয়েছে। তারা যেন আইনী সুবিধা না পায়, সেজন্য বিধি ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আইনজীবী সমাজ সব সময় ন্যায়ের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আমরা মনে করি দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের সাথে সমিতি মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথীর বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার এসব কথা বলেন।

বিচার বিভাগ ও আইনজীবীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘বিগত দিনে অনেকেই আইনজীবী সমিতি ও আইনি কাঠামোকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছে। আমরা যেন সেসব বিষয় বাংলাদেশে পুনরাবৃত্তি না করি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিলাম। সেই আমরা যেন আইনি প্রথা নিজেরা ভঙ্গ না করি। আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বার ও বেঞ্চ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বার এবং বেঞ্চ যখন শোল্ডার টু শোল্ডার কাজ করবে, তখনই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। আপনার আমার ও আমাদের যেসব মৌলিক অধিকার আছে, সেগুলো আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’

জলাই শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘চব্বিশের মহান গনঅভ্যুথ্যান, রক্তক্ষয়ী যে গনঅভ্যুথ্যানের মাধ্যমে আমরা নতুন রাষ্ট্র পেয়েছি। যে প্রত্যাশা নিয়ে আমার ভাই, আপনার ভাই রক্ত দিয়েছেন, অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, আমরা যাতে সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে পারি সেজন্য সকলকে কাজ করার আহবান জানাই।’

বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাড. মো. মাহফুজুর রহমান লাহুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিষ্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, সদস্য সচিব অ্যাড. মোশাররফ হোসেন মন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. মাহবুব মোরশেদ লালন প্রমুখ।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিপরীত পাশে স্কিল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (স্কিল আইটি) নামের একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার। এ সময় দেশের প্রয়োজনে দক্ষ জনশক্তি তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

কালের আলো/এসএকে

বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জন

Oplus_131072

দেশের সাত জেলায় চলমান বন্যা, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে পৌঁছেছে। বর্তমানে ৫৬টি উপজেলা এবং ৩৭৪টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ২৯৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

এতে বলা হয়েছে, দুর্যোগে এখন পর্যন্ত রাঙামাটিতে তিনজন, বান্দরবানে সাতজন, কক্সবাজারে ৩২ জন (স্থানীয় ১৯ ও রোহিঙ্গা ১৩), চট্টগ্রামে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন মোট ৪০ জন। এর মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৫ জন (স্থানীয় ২০ ও রোহিঙ্গা পাঁচ) এবং চট্টগ্রামে ১২ জন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, গোখাদ্য, ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণ অনুদানসহ ব্যাপক ত্রাণ সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব ত্রাণের উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণও করা হয়েছে।

কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নগদ, ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল টিন, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা নগদ, এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল টিন, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য। বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা নগদ, ৪০০ মেট্রিক টন চাল, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, ঢেউটিন এবং গৃহ নির্মাণ অনুদান বরাদ্দ ও বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’ উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’ উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে রাজশাহীতে যাত্রা শুরু করল ‘নজরুল ভিলেজ’। নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও মানবিক দর্শনের চর্চা বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণের উদ্বোধন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, নজরুল কেবল আমাদের গর্ব নন, তিনি মুসলিম রেনেসাঁর এক অনন্য রূপকার। তার রচিত রণসঙ্গীত ‘চল চল চল’ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় ১১টি দেশে পরিবেশিত হয়। যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও ইরান অন্যতম।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজশাহীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষ্যে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবনির্মিত ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ফলক উন্মোচন উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’ স্থাপনের ফলে নজরুল গবেষকদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক চর্চা আরও বেগবান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নজরুল ভিলেজের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজশাহীতে নিয়ে এসে এর উদ্বোধন করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় তিনি জাতীয় কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটির জন্য প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে ২৫ লাখ টাকার একটি তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণের জন্য ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত স্থানে কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে না।

এটি সর্বসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। যেকোনো দল বা গোষ্ঠী এখানে এসে নজরুলের নাটক, পালাগান এবং সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার চর্চা করতে পারবেন। নজরুল চর্চাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনতে ইতোমধ্যে একটি ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরজুড়েই এখানে নিয়মিত নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুধীসমাজ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে দোয়া ও মোনাজাত শেষে ‘নজরুল ভিলেজ’ চত্বরে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপন করেন মন্ত্রী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি