সৃষ্টির জাদুতে অমর এক কথাশিল্পী, নন্দিত নরকে থেকে হিমু-মিসির আলি
বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাশিল্পী, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।
হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক। সহজ-সরল ভাষায় সাধারণ মানুষের জীবন, আবেগ ও অনুভূতি তুলে ধরে তিনি কোটি পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। উপন্যাস, গল্প, নাটক ও চলচ্চিত্র—সব ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন অনন্য সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর।
১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’। এরপর ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত ‘শঙ্খনীল কারাগার’ তাকে শক্তিশালী কথাশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। পরবর্তী সময়ে ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘হিমু’ ও ‘মিসির আলি’ সিরিজসহ অসংখ্য জনপ্রিয় সৃষ্টি পাঠকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে হুমায়ূন আহমেদ অর্জন করেছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননা।
সাহিত্যের পাশাপাশি নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণেও তিনি ছিলেন সফল। তাঁর নির্মিত নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’ এবং ‘আজ রবিবার’ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও তিনি প্রশংসিত হন। তাঁর নির্মিত ‘আগুনের পরশমণি’ ও ‘শ্যামল ছায়া’ চলচ্চিত্র দর্শক ও সমালোচকদের কাছে সমাদৃত হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রোববার সকালে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে হুমায়ূন আহমেদের হাতে গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, লেখকের অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক শোভাযাত্রা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, কোরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।
এ ছাড়া বিকেলে কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদে কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাব ও চর্চা সাহিত্য আড্ডার আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে জেলা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
ভক্ত, পাঠক ও সংস্কৃতিকর্মীদের কাছে হুমায়ূন আহমেদ শুধু একজন লেখক নন, তিনি ছিলেন বাংলা সংস্কৃতির এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর সৃষ্ট চরিত্র, গল্প ও ভাবনার জগৎ আজও নতুন প্রজন্মের পাঠকদের আকৃষ্ট করে চলেছে।
কালের আলো/এসএ


আপনার মতামত লিখুন
Array